শূন্য দুপুরে একাকী আমি ব্যথাতুর ক্লান্ত প্রাণ এক
আর আকাশে উড়ন্ত উদাস নিঃসঙ্গ এক চিল; কি যেন
কি সুখে কিংবা দুখে অসীমে মেলেছে ডানা পেছন
ফেলে চির চেনা পৃথিবীর মৃত্তিকা, অরণ্য সাগর সবকিছু;
শুধু যেন আমার শূন্য হৃদয় আচ্ছন্ন করে রেখেছে সে।

আমার চারপাশ যেন ধূসর শূন্যতা, টুকরো টুকরো
মৃত স্বপ্নের কালো দেহাবশেষ আর পরাজয়ের গ্লানিময়
করুণ আর্তনাদ। সেই বিষণ্ণ বাতাসে ভেসে আছি
বিদগ্ধ আমি; সেই দূর আকাশে ভেসে বেড়ানো
উড়ন্ত নিঃসঙ্গ চিলের মত।

ফুলের হাসিতে বিহ্বল প্রজাপতি, দখিনা হাওয়ায়
নাচছে সবুজ পাতা সুখে, পাখিদের সেকি উচ্ছ্বসিত গান
এদিক ওদিক কতশত মানুষের উল্লসিত আনাগোনা।
এসব আমার বিকাশমান কষ্টের পৃথিবীতে বড় বিবর্ণ,
বড় অর্থহীন সব অসহ্য যাতনার কোলাহলে।

আগুন ঝরা রুদ্রের উত্তাপ আর দিগন্ত ছাওয়া নীল
কুয়াশা যেন আমার পৃথিবীকে করে তুলেছে বন্ধ খাঁচা।
অসহায় অন্তরের সাধ্যে কি তার সেই অদৃশ্য খাঁচা ভেঙ্গে
পালায় সবকিছু ছেড়ে ঐ শূন্যতায়, ঐ নিমগ্ন নিঃসঙ্গ
উড়ন্ত চিলের মত নির্মল শান্তির অন্বেষণে।