লোকমান মিয়া বিশ্বাস করেন সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ,
মানুষের সামনে ভুত,পেত্নী, জীন,পরী হয় বেহুশ.
অসংখ্য রাত কাটিয়েছেন তিনি মাছ ধরে কেচুরি বিলে,
রাতের পর রাত কাটিয়েছেন নৌকায় ঘুমিয়ে নদীর জলে.
ভুত,পেত্নী,জীন,পরী কোন দিন তার কাছে আসেনি.
ভৌতিক গল্প শুনে তাই মনে হয় সব কল্প কাহিনী,
লোকমান মিয়া খিরু নদীর তীরে শিমুল গাছে নৌকা বেধে ঘুমিয়ে ছিলেন,
মাঝ রাতে ঘুম থেকে জেগে নদীর জলে ছায়া দেখে ভয় পেলেন.
তেষট্টি বছর বয়সে জীবনের প্রথম ভয় লাগলো মনে,
ভয়ার্ত চোখে তাকালো লুকমান মিয়া শিমুল গাছের পানে.
বিশাল আকৃতির এক অদ্ভুত প্রাণী বসে আছে শিমুল গাছের ডালে,
দুই হাত তার আকাশে আর দুই পা নদীর দুই কূলে.
ভয়ে পানির তৃষ্ণায় তার কলিজা শুকিয়ে গেল,
দুই হাত তুলে সে স্রষ্টাকে ডাকতে লাগলো.
হঠাত তাকিয়ে দেখল কিছু নেই গাছে,
ভয়টা তবু তার মনের মাঝেই আছে.
লোকমান মিয়া বিছানায় শুয়ে পড়লেন বাড়ি গিয়ে,
বিছানা ছেড়ে আর ওঠলেন না সুস্থ হয়ে.
এক মুহুর্তে হারিয়ে গেল এক জীবনের অর্জিত বিশ্বাস,
ভৌতিক ভয় নিয়েই তিনি ত্যাগ করলেন শেষ নিশ্বাস.