কোনো এক গভীর রাত্রিতে নক্ষত্রের তলে বসে
গভীর ধ্যানে লিখছি এ চিঠি চন্দ্রমলি্লকার পাশে
প্রকৃতির নতজানু পরিবেশ_ ওরা পড়তে চায় লেখা
মোমের আলো নেই মনের আলোয়ই লিখছি একা

কোনো মাছরাঙা শালিখ হলদে পাখি আসেনি এখনো
প্রকৃতির শ্মশানের নীরবতা ওরা সক্রিয় নয় কেনো?
একাকী বসে রচি বন্ধু তোমাদের প্রতি শেষ উপহার
অবিচ্ছিন্ন নিমগ্নতায় ভরপুর এ ঘূর্ণমান জগত সংসার

নির্জন নিরালায় বসে শুধু কলমের আশ্রয় আজ
কাগজের বুকে খসখস শব্দ অস্পষ্ট ধোঁয়াশার কারুকাজ
তবুও লিখছি কারণ কাল ভোরে বন্ধু যখন তুমি
বকুলতলে আসবে তখন দেখবে আমার নিষপ্রাণ শবদেহখানি

তারপর চলে যাবে ঘৃণাভরে_ চন্দনের কাঠ অপচয়
চলে যাওয়া-আসা অনুজ্জ্বল প্রাণের সুবিশাল ক্ষয়
দেহ থেকে আত্মা চিরশান্তির পরশে মেঘের ওপারে
পেয়েছে খোঁজ অনন্তের_ পায়নি পৃথিবীর ময়দান-সমরে

এরপর চলে যাবে পৃথিবীর কতশত হাজার বছর
আমাদের এই বন্ধুত্ব-মন-প্রেম-স্মৃতি-বিচ্ছিন্নতার খবর
যাদুঘরে সযত্নে চিঠিখানা দেখবে উত্তরসূরী আগ্রহী নবসন্তানরা
হয়তো ভালোবাসার অশ্রু নির্গমণে মেতে উঠবে তারা

গল্প-কবিতার সম-সাময়িক লিখিয়ে বন্ধুরা
পাবে কি এই প্রেমময় পৃথিবী_ অবিকৃত আকাশ গ্রহ-তারা?
পাবে কি সংযম প্রেম-বিরহ পিপাসার ক্ষোভ অমলিন
চাঁদিনীতে জেগে কেটেছিলো যেভাবে এই আমাদের দিন

রেখে গেলাম হৃদয় কংকাল শীতল প্রবহমান দীর্ঘশ্বাস
বন্ধু তবুও শেষ চিঠি ভালোবেসে তোমাকে লিখে গেলাম আজ।