লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ২৪টি

সমন্বিত স্কোর

৪.২৮

বিচারক স্কোরঃ ২.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকৈশোর (মার্চ ২০১৪)

হাত বাড়ালেই বন্ধু
কৈশোর

সংখ্যা

মোট ভোট ২৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.২৮

সালমা সিদ্দিকা

comment ২২  favorite ১  import_contacts ২,১১১
কলেজের প্রথম দিনে যেরকম উত্তেজিত থাকার কথা, অপু মোটেই সেরকম উত্তেজিত না। তার ইচ্ছা ছিলো ঢাকার নামীদামী কলেজে ভর্তি হওয়ার, সেরকম রেজাল্টও ওর আছে। কিন্তু অপুর বাবা এই শহরে ডিসি হয়ে এসেছেন, আর তিনি তাঁর একমাত্র ছেলেকে কিছুতেই একা ঢাকায় থাকতে দেবেন না। শেষ পর্যন্ত বাবার কাছে হার মানতেই হলো। ভর্তি হতে হলো এই গেঁয়ো মার্কা কলেজে।
অপু চুপচাপ ক্লাসে ঢোকে, কারও দিকে তাকাতেই ইচ্ছা করে না ওর। আশেপাশের কথোপকথন কিছুটা ওর কানে আসে, সবাই কথা বলছে টেনে টেনে। এখানকার লোকজন টেনে কথা বলে। যেটা দুই সেকেন্ডে বলা যায় সেটা বলে দুই মিনিটে। এইসব ছেলেপিলের মধ্যে কারও সাথে বন্ধুত্ব হবে বলে কোনো আশা নেই।
ক্লাসরুমের অবস্থাও ভালো না। দেয়ালের রং ঝরে পড়ছে, নোংরা পুরোনো টেবিল, বেন্চ। ব্লাকবোর্ডে কে যেন বিশাল একটা হার্ট-এর ছবি এঁকেছে। আর সেই হার্ট-এ এফোড়-ওফোড় করে চলে গেছে একটা তীর। হার্ট-এর আবার বড় বড় চোখমুখও আছে। বুকের মধ্যে দিয়ে তীর চলে গেলেও হার্ট-এর মুখ হাসিহাসি। কি সুন্দর শিল্পকর্ম!
কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লাস শুরু হবে। অপু ক্লাসে মন দেয়। এমনিতে পড়ালেখায় প্রচন্ড সিরিয়াস ও। বরাবর ভালো রেজাল্ট করেছে। ভালো রেজাল্ট করার জন্য যা যা দরকার সেই সব গুণ ওর মধ্যে আছে। অপুর জীবনের প্রতিটা কাজ রুটিনে বাঁধা। পড়ার সময়, টিভি দেখার সময়, গল্পের বই পড়ার সময় (আজেবাজে উপন্যাস না, বড় বড় লেখকদের বই), সব ছকে বাঁধা। অপু প্রতিটা কাজ করে খুব বুঝেশুনে। ওর স্কুলের প্রতিটা টিচার ওকে পছন্দ করতেন, কারণ টিচারদের কার কি পছন্দ অপু খুব অল্প সময়ে বুঝে ফেলতো। যেমন ওর বাংলা টিচার শাহানা ম্যাডাম পছন্দ করতেন রচনার মধ্যে কবিতার লাইন দেয়া। অপু ঠিক সেটাই করতো। অনেক কবিতার লাইন পরীক্ষার হল-এ বসেই বানিয়ে বানিয়ে লিখেছে অপু, ম্যাডাম টের পাননি। অংকের মিহির স্যার পছন্দ করতেন সিনেমার মাগাজিন, অপু সেটার যোগান দিতো। ফলাফল অংক খাতায় ১০০ নম্বর। অপুর খাতায় ছোটখাটো ভুল মিহির স্যার আমলে আনতেন না । বই-এ মুখ গুজে শুধু পড়ালেখা করলেই হয় না, একটু টেকনিকও জানতে হয়। এসব টেকনিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে অনেক কাজে দেয়। পৃথিবীর সবকিছু চলে অংকের হিসাবের মতো। হিসাব না মিললেই শুন্য। হিসাব মিলতেই হবে। সোজা উপায়ে অংক না মিললে একটু বুদ্ধি করে বাকা পথে অংক মিলাতে হয়।
ক্লাসের ডানদিকের বেঞ্চগুলোতে মেয়েরা বসে। ওদিকে হঠাত চোখ আটকে গেলো অপুর। এমনিতে মেয়েদের দিকে হ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকার ছেলে অপু না, কিন্তু যেই মেয়েটাকে দেখছে তার মতো সুন্দর মেয়ে এর আগে ও দেখেনি। এই গেঁয়ো কলেজে এরকম পরীর মতো সুন্দর মেয়ে আসলো কোত্থেকে ? কি সুন্দর করে হাসে মেয়েটা! কি মিষ্টি চেহারা!
কখন ওর পাশের সিটে একটা ছেলে এসে বসেছে টের পায়নি অপু। ছেলেটা কালো, দাঁত উঁচু, কড়া নিল দেয়া সাদা স্কুল ইউনিফর্ম থেকে ন্যাপথলিনের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
‘এই, তোমার সাথে তো পরিচয় হয় নাই। কি নাম তোমার ? কোন স্কুল থেকে এসেছো ?’ সেই একইভাবে টেনে টেনে প্রশ্ন করে ছেলেটা। নিজের পরিচয় আর স্কুলের নাম বলে অপু।
‘ওহ, তুমি তো তাহলে নতুন এখানে, তার উপর ডিসির ছেলে, তুমি তো ভিআইপি। তোমাকে তো বেশি খাতির করতে হবে। আমার নাম মান্না। তোমার কোনো হেল্প লাগলে আমাকে বলবা, কোনো সমস্যা নাই।‘ দাঁত বের করে হাসে ছেলেটা।
অপুর মান্নার সাথে কথা আগানোর আগ্রহ নাই, ওর সমস্ত মনোযোগ মেয়েটার দিকে। স্যার কি বলে কানে ঢোকে না, আড়চোখে খালি ওই মেয়েকেই দেখে। মেয়েটা আবার টের পেয়ে গেলো কি না কে জানে, একটু লজ্জাও লাগে।
পড়ালেখার ব্যাপারে স্মার্ট হলেও মেয়েদের ব্যাপারে খুবই বোকা অপু। এতোদিন বয়েজ স্কুলে পড়েছে, মেয়েদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়, কি বলতে হয়, এই ব্যাপারে ওর কোনো ধারণা নেই। ক্লাসের অন্য ছেলেগুলো কি সুন্দর মেয়েদের সাথে হাহা হিহি করতে থাকে, অপু অসহায়ের মতো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।
পড়তে বসলে অপুর খালি রিমির কথা মনে পড়ে। এই কয়দিনে ও যেসব তথ্য জানতে পেরেছে তার মধ্যে একটা হচ্ছে মেয়েটার নাম রিমি। হাসলে গালে টোল পড়ে, কলেজ ছুটি হলে অরেঞ্জ ফ্লেভার আইসক্রিম খায়, গোলাপী রং-এর পেন্সিল ব্যাগে কলম রাখে, ক্লাসে লুকিয়ে গল্পের বই পড়ে, আর সবার মত টেনে টেনে কথা বলে না। রিমি প্রতিদিন তার বান্ধবীর সাথে কলেজে আসে, আবার ছুটির পরে বান্ধবীর সাথেই বাসায় যায়। দূর থেকে রিমিকে লক্ষ্য করেই দিন চলে যাচ্ছে, অপু কোনোভাবেই সাহস করে রিমির সামনে গিয়ে কথা বলতে পারছে না।
অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু এমন নার্ভাস হয়ে যায় অপু! মাথা ঠিক মতো কাজ করে না, কেমন জানি হাঁটু ঠকঠক কাঁপতে থাকে, গলার ভিতর কি জানি দলা পাকিয়ে যায়, আর কানের ভিতর স স শব্দ শোনা যায়। নিজের উপর খুব রাগ হয়। এতো বড় গবেট হয়ে যাবে একটা মেয়ের জন্য, সেটা ও চিন্তাই করতে পারে না। ক্লাসে এমন কোনো ঘনিষ্ট বন্ধু হয়নি যে এসব ব্যাপার শেয়ার করা যায়। কিন্তু অপু অবাক হয়ে যায় যে মান্না কি সহজে সবার বন্ধু হয়ে গেলো! এই কালো ছেলেটা কি সুন্দর মেয়েদের মাঝে টেবিলের উপরে বসে দাঁত কেলিয়ে অর্থহীন সব গল্প করে যাচ্ছে, আর মেয়েগুলো হা করে সব শুনছে। সব মেয়েদের কথা বাদ দেয়া যায়, কিন্তু রিমির সমস্যা কি ? ও কেন মান্নার মতো একটা খ্যাত ছেলের সাথে এতো মিশবে ? ছেলেটার নাম থেকে শুরু করে কথাবার্তা চালচলন সব গাইয়া মার্কা। রিমিকে প্রায়ই দেখা যায় মান্নার সাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে হেসে হেসে কথা বলছে। আর ছেলেটাও কম না। এতো হ্যাংলা হতে পারে কিভাবে একটা ছেলে ? মেয়ে দেখলেই কি ঢলাঢলি করতে হবে ? রাগে গা জ্বলে অপুর।
রাগের কারণে একটা লাভ হলো, একদিন সাহস করে রিমির সামনে গিয়ে অপু বললো, ‘হাই, আমার নাম অপু’। নিজের গলার স্বর শুনে নিজেরই স্টুপিড লাগছিলো।
রিমি একটা গল্পের বই পড়ছিলো, মুখ তুলে বললো, ‘জানি তো’। তারপর আবার মহা মনোযোগে বই পড়তে লাগলো। অপু এটা আশা করেনি। মেয়েটা তো নিজের নামটা বলতে পারতো, তারপর না কথা আগানো যায়! ধুত, নিজের সিট-এ গিয়ে বসলো অপু। নিজের উপর রাগে নিজের মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছে। এতোদিনে সব টিচারদের সাথে ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছে, কিন্তু এই মেয়ের সাথে একটা কথাও হলো না এই পর্যন্ত।
ফিজিক্স স্যার ক্লাসে ঘোষণা দিলেন যে গ্রুপ সায়েন্স প্রজেক্ট করতে হবে। দুইজনের গ্রুপ হবে এবং দুইজন মিলে একটা প্রজেক্ট তৈরী করতে হবে। গ্রুপগুলো তৈরী হবে লটারির মাধ্যমে। সবার নাম লেখা থাকবে চিরকুটে, একেকজন করে একটা চিরকুট তুলতে হবে এবং যার নাম তুলবে সে হবে তার প্রজেক্ট মেম্বার। সব প্রজেক্ট থেকে সেরা প্রজেক্ট জেলা সায়েন্স ফেয়ারে যাবে। অপু যখন নিজের গ্রুপ মেট-এর নাম তুলতে যাবে তখন ওর মন বলছিলো রিমির নাম উঠবে, এই একটা সুযোগ রিমির সাথে বন্ধুত্ব করার। অপু কাঁপা হাতে একটা ভাজ করা কাগজ তুললো। ভিতরে নাম লেখা মান্না।
অপু ঠিক বিশ্বাস করতে পারে না। ওর এতো বেশি মনে হচ্ছিলো রিমির নাম উঠবে, আর উঠলো কি না এই অসহ্য ছেলেটার নাম!
মান্না হেহে করতে করতে এগিয়ে আসে, ‘দোস্ত, দেখবি আমরা এমন প্রজেক্ট করবো যে সবার হালুয়া টাইট হয়ে যাবে, হেহেহেহে’।
কষে একটা চড় মারতে পারলে ভালো লাগতো অপুর। প্রজেক্ট করার জন্য তোর মতো গাধার দরকার নাই আমার, মনে মনে ভাবে ও।
‘কবে থেকে কাজ শুরু করবি ? কাল আমার বাসায় আয়। বসে চিন্তা করি কি করা যায়’, মান্না বলে।
ইচ্ছা না থাকলেও এই মান্নার সাথেই কাজ করতে হবে।
পরদিন অপু মান্নার বাসায় গেলো। শহর থেকে একটু বাইরের দিকে থাকে মান্না। গাছপালা ঘেরা একটা টিনশেড সাদা বাড়ি, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার, মা-বাবা ছোট দুই বোন আর ওর দাদী থাকেন। বসার ঘরে একটা সিঙ্গেল বিছানায় থাকে মান্না। ওখানেই বসলো ওরা। মান্নার মা ওদেরকে চা আর নেতানো মুড়ি খেতে দিলেন। ঘরে নতুন মেহমান এসেছে বলে মান্নার দুই বোন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকলো পুরো সময়।
অপু প্ল্যান করেছে একটা সোলার পাওয়ার মোটর বানাবে। শুনে মান্না খুব আগ্রহ দেখালো।
‘প্রতি শুক্রবার আমরা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করবো, কারণ কলেজ-এর পরে কোচিং থাকে, সময় থাকে না’। অপু বলে।
‘শুক্রবার সকাল দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত আমি পারব না'’, মান্না বললো।
‘কেন? পারবে না কেন ? এই প্রজেক্টটা আমাদের ভালোভাবে করতে হবে। সায়েন্স ফেয়ারে ফার্স্ট প্রাইজ কি জানো ? দশ হাজার টাকা’।
‘কিন্তু শুক্রবার ওই সময়টা আমি একটা বস্তির বাচ্চাদের স্কুলে পড়াই’।
অপুর কি যে রাগ লাগে শুনে! এ কোন জনসেবকের পাল্লায় পড়া গেল! মান্নাকে পারলে অপু আজকেই বাদ দেয়। অপু একাই এই প্রজেক্ট আরামসে করতে পারবে, কিন্তু মান্নাকে বাদ দেয়া যাবে না। স্যার গ্রুপ ওয়ার্কের উপর অনেক জোর দিয়েছেন। ওকে বাদ দিলে ঝামেলা হতে পারে।
‘কেন ? তুমি পলিটিক্স করবা নাকি’?
‘ধুর, কি যে বলিস! শুক্রবারে তো ফ্রি বসে থাকি, তাই কাজটা করি’, অপুর খোঁচাটা আমলে আনে না মান্না।
‘শুক্রবার আমাদের কাজ করতেই হবে। এটা একটা জটিল কাজ। আর আমার বাসায় কাজ হবে, তোমার বাসায় না’।
‘বুঝেছি, আমার বাসায় তোর ভালো লাগে নাই। ভালো লাগার কথাও না। অসুবিধা নাই, আমি শুক্রবার তোর বাসায় প্রজেক্টের কাজ করতে আসবো। কিন্তু ওই সময়টা আমি পারবো না, বস্তির গরিব বাচ্চাগুলা স্কুলে পড়তে আসে অনেক আগ্রহ নিয়ে’।
অপু সব গুছিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিলো। কখন যে মান্নার দাদী পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, ও খেয়ালও করেনি।
‘এইডা কেডা রে মান্না ? এইডা কেমুন চুলের ইস্টাইল ? চুলে তেল-পানি দেয় না’? ফোকলা মুখে হেসে হেসে বলে মান্নার দাদী। অপুর জেল দেয়া খাড়া খাড়া চুল দেখে অবাক হয়েছে বুড়ি।
মান্না গাধাটা হেহে করে হাসতে থাকে। অসহ্য অসহ্য! এখান থেকে বের হতে পারলে বাঁচে অপু।
প্রজেক্টের কাজ মোটামুটি ভালোই চলছে ওদের। ডায়াগ্রাম থেকে মেশিন বানানোর কাজটা কঠিন। কিন্তু অপু পারবে। মান্না আসে, কাজ দেখে, টুকটাক সাহায্য করে, দুই-একটা জঘন্য জোক বলে যেটা শুনলে অপুর রাগ আরো বাড়ে।
‘এই জানিস, ক্লাসে সবাই তোকে কি নামে ডাকে’? মান্না বলে।
‘না’। অপু জবাব দেয়। যদিও জানার কোনো আগ্রহ ওর নেই।
‘তোর নাম হচ্ছে পিছলা অপু। কেউ কেউ তোকে ভেঁপুও ডাকে, তোর সামনে বলে না হেহেহেহে’।
অপু বুঝে গেছে যে মান্নার লেখাপড়া নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নাই। সারাদিন টো টো করে ঘুরে বেড়ায়। 'জনসেবক বাবাজি, তোমার খবর আছে। পরীক্ষায় ডাব্বা খাবা', মনে মনে ভাবে অপু।
সমস্যা হচ্ছে যে ইদানিং ওর মনে হয় রিমি অনেক বেশি সময় মান্নার সাথে কথা বলে। ওদের দুইজনকে একসাথে দেখা যায় সব জায়গায়। এতো কিসের কথা ? দুইজনের মধ্যে অন্যকিছু হয়ে গেলো নাকি ? প্রজেক্টের কাজের ফাঁকে ইনিয়ে বিনিয়ে অপু রিমির সাথে মান্নার ব্যাপারটা কি বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু মান্না কেমন জানি পাশ কাটিয়ে যায়। মাথার মধ্যে পাথরের মতো একটা ভয় কাজ করে অপুর। কিছু কি লুকাচ্ছে মান্না ? এইরকম একটা ছেলের কাছে হেরে যাবে ও সেটা ভাবতেই পারে না। আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে দেখে, কোনদিকে খারাপ ও? বেশি পাওয়ারের একটা চশমা পরে, কিন্তু ওর চেহারা মান্নার চেয়ে হাজারগুণ ভালো। তাহলে কেন মান্না যেটা পারে ও সেটা পারে না ? একটা ভয়ংকর হতাশা চেপে ধরে অপুকে।

একদিকে প্রজেক্টের কাজ, আরেকদিকে কলেজের ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসছে। ডাবল প্রেসার। প্রজেক্টের একটা জটিল কাজে আটকে গেলো অপু। সোলার ইঞ্জিনের মোটর কানেক্ট হচ্ছে না। মান্না দেখে বললো, ‘আমার পরিচিত একটা ভাইয়া আছে, এই ব্যাপারে বস। চল, ওর কাছে যাই’।
ভাইয়ার নাম শিমুল। যদিও দুইদিন পরেই ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে, তারপরও প্রজেক্টটা নিয়ে শিমুল ভাই-এর বাসায় গেলো অপু আর মান্না। কোনো কাজে আটকে গেলে অপুর খুব অস্থির লাগে।
শিমুল ভাই সার্কিট দেখে বললেন যে একটা ছোট পার্টস কিনতে হবে, আর পুরো ব্যাপারটা ঠিক করতে একটু সময় লাগবে।
‘কিন্তু পরশু আমাদের অংক পরীক্ষা, এখনও ঠিকমতো প্রিপারেশন নেই নাই’, মান্না বলে।
‘তোমাদের অংক জামিল স্যার করান, তাই না? চিন্তা কোরো না। গত চার বছরের জামিল স্যারের নেয়া পরীক্ষার প্রশ্ন আমার কাছে আছে, তোমাকে দিয়ে দিচ্ছি। স্যার একই টাইপ প্রশ্ন করে প্রতি বছর, এই প্রশ্নগুলো পড়লেই আশি পারসেন্ট কমন পাবা’।
মান্না মহাখুশি হয়ে যায়। প্রশ্নগুলো হাতে পেয়ে এমন একটা হাসি দেয় যেন ডায়মন্ড পেয়েছে। অপুর অবশ্য তেমন আনন্দিত লাগে না। ওর অংক প্রিপারেশন নেয়া শেষ অনেক আগেই। ওদের কাজ শেষ হয়ে যায় চার ঘন্টায়।
‘ভাইয়া আজকে ডাবল হেল্প করলেন। অনেক থ্যাংকস’, মান্না বলে শিমুল ভাইকে।
‘আরে কিছুই না, তুমি আমার জন্য যা করছো তার কাছে কিছুই না’।
এর মানে হচ্ছে জনদরদী মান্না এখানেও কিছু জনসেবা করেছেন। বেশ ভালো। হেহেহে করতে থাকে মান্না। ‘কি যে বলেন ভাইয়া, কি আর করলাম’।
ওরা দুইজন বের হয়ে রাস্তায় হাঁটতে থাকে।
‘বুঝলি, প্রশ্নগুলা পেয়ে কিন্তু খুব ভালো হলো। আমাদের ক্লাসে অনেকেরই ভালো প্রিপারেশন নাই। প্রশ্নগুলা পেলে সবার কাজে লাগবে, কি বলিস’?
গাধাটা বলে কি! মনে মনে ভাবে অপু।
‘কেন প্রশ্ন দিবা? তুমি প্রশ্ন পেয়েছো তুমি ভালো প্রিপারেশন নাও, সবাইকে দিলে সবাই না পড়েই ভালো নম্বর পেয়ে যাবে। খবরদার প্রশ্ন দিবা না’। অনেকটা আদেশ দেয়ার ভঙ্গিতে কথাগুলো বলে অপু।
মান্না অদ্ভূত চোখে তাকিয়ে থাকে।
‘আচ্ছা আমি যাই, আমার জরুরি কাজ আছে’। তড়িঘড়ি করে চলে যায় মান্না।
অপুর মায়ের শরীর ভালো না, একটা ওষুধ নিতে বলেছেন। এই শহরে একটাই বড় মার্কেট, ওখানে বড় একটা ফার্মেসি আছে। ওখান থেকেই সবসময় ওষুধ নেয় অপু। ফার্মেসি থেকে বের হয়ে রিকশা খুঁজতে থাকে ও। ঠিক তখনই চোখে পড়ে কালো কাঁচে ঘেরা একটা ফাস্ট ফুডের দোকানে মান্না আর রিমি ফুচকা খাচ্ছে। রিমি হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে কি যেন বলছে, মান্না হাহা করে হাসছে। এটাই তাহলে মান্নার জরুরি কাজ! অপু বুকভরা হতাশা, রাগ আর ঈর্ষা নিয়ে একটু আড়াল থেকে ওদেরকে দেখতে থাকে। খাওয়া শেষে ওরা দুইজন বের হয়ে একই রিকশায় চড়ে অপুর সামনে দিয়ে কোথায় যেন চলে গেলো।
সেদিন রাতে অপু ঠিক করলো মান্নার সাথে আর কাজ করবে না ও। এরকম ওর আগে লাগেনি। অপু কখনও হারে না, এই প্রথম হারলো। জীবনে প্রথম যেই মেয়েটাকে ভালো লাগলো তার সাথে ঠিক মতো কথা বলার আগেই মান্নার মতো একটা উদ্ভট গেঁয়ো ভূত রিমিকে ওর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিলো। অপু এখনও পুরো ব্যাপারটা ঠিক হজম করতে পারছে না।
পরদিন সকালে ক্লাসে গিয়ে অপু দেখলো সবার হাতে হাতে অংক প্রশ্নের কপি। মাথায় আগুন উঠে গেলো ওর। রাত জেগে অংক করেছে ও, আর এরা সব আগের প্রশ্ন দেখে দুইদিন অংক করে ওর সমান নম্বর পাবে ? কখনও না। তবে ও মান্নাকে কিচ্ছু বললো না। মান্না কয়েকবার অপুর সাথে কথা বলতে আসে একটা আমতা আমতা ভাব নিয়ে। অপু পাত্তা দেয় না। মান্নার চেহারাও আর দেখতে চায় না ও।
অংক পরীক্ষার ঠিক আগেরদিন অপু জামিল স্যারকে বলেই দিলো যে সবাই স্যারের আগের প্রশ্ন পেয়ে গেছে, আর সবাই জানে যে স্যার একই টাইপ প্রশ্ন করে প্রতিবছর। তাই সবাই শুধু ওই প্রশ্নের অংকগুলো করেছে।
পরীক্ষার দিন অপু চারপাশে সবার অসহায় চেহারা দেখে। ভিতরে ভিতরে একটা নিষিদ্ধ আনন্দ লাগে। স্যার পুরো প্রশ্ন বদলে দিয়েছেন। এখন দেখো তোমাদের জনসেবক মান্না তোমাদেরকে কেমন শিক্ষা দিলো! সবাইকে বলেছিলো বড় গলা করে, এই প্রশ্ন দেখে অংক করলেই হবে। এখন কেমন লাগে? পড়ালেখা না করার মজা দেখো এখন। অপুর নিজেকে কেমন জয়ী জয়ী মনে হয়।
পরীক্ষার সময়টায় কারও সাথে তেমন কথা হয় না অপুর। ইচ্ছাও নেই কারও সাথে কথা বলার ... বিশেষ করে মান্নার সাথে।
বায়োলজি প্র্যাক্টিকাল পরীক্ষার সকালে অপু কমনরুমে বসে ভাইভার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এমন সময় মান্না এসে হাজির।
‘আরে তুই এখানে, আমি সব জায়গায় খুঁজছি! একটা হেল্প করবি দোস্ত ... রাসেল একটু ঝামেলায় পড়েছে, প্র্যাক্টিকাল খাতায় ব্যাঙ-এর শিরাতন্ত্রটা আঁকে নাই। তুই তো অনেক ভালো আঁকিস। তাড়াতাড়ি করে একটু এঁকে দে না প্লিজ। ম্যাডাম একটু পরেই সবার খাতা নিয়ে নিবে’।
‘আমি ভালো আঁকতে পারি বলে কি সবার খাতায় ছবি এঁকে বেড়াবো’? ঠান্ডা স্বরে বলে অপু।
‘একমাত্র তুই-ই অল্প সময়ে ছবিটা এঁকে দিতে পারবি। দে না প্লিজ, রাসেল বিপদে পড়েছে, দে না একটু এঁকে’, বলতেই থাকে মান্না। ‘একটা মেয়ে বললে তো ঠিকই করে দিতি’, হাসতে হাসতে মান্না বললো।
কথাটা শুনে হঠাত একেবারে তেলেবেগুণে জ্বলে উঠলো অপু। ‘সবাইকে নিজের মতো ভাবো? মেয়ে দেখলেই ছ্যাবলামি করা তোমার স্বভাব, আমার না। আর এতো বাজে কথা বলার সাহস হয় কিভাবে তোমার’! প্রায় চিত্কার করেই কথাগুলো বলে অপু।
অপুর এই ব্যবহারের জন্য ঠিক তৈরী ছিলো না মান্না। ‘আরে আমি তোর সাথে জোক করছিলাম’, অপ্রস্তুত মান্না বলে।
‘তোমার এইসব জোক মেয়েদের জন্য রেখে দাও’, ধমকে উঠে অপু।
‘কিন্তু আমি বুঝলাম না তোর প্রবলেমটা কি! একটা মানুষকে সামান্য হেল্প করতে তোর কেন এতো সমস্যা? অংক প্রশ্নের ব্যাপারটা আমি জানি, তুই স্যারকে বলেছিস। কিন্তু একবারও ভাবলি না তোর জন্য সবার পরীক্ষা খারাপ হবে’?
‘কি’? চিত্কার করে বলে অপু। ‘আমার জন্য সবার পরীক্ষা খারাপ হয়েছে? তুমি সবাইকে প্রশ্ন দিয়ে মিসগাইড করেছো, এখন আমার দোষ দিচ্ছো? খুব গায়ে লাগছে, না? সবার কাছে হিরো হতে গিয়ে ভিলেন হয়ে গেলা এটা সহ্য হচ্ছে না? পড়ালেখা না করে ভালো নম্বর পায়নি দেখে এখন দোষ আমার? তোমার জঘন্য বকবকানি শুনেছি, আর কোনোদিন আমার সাথে কোনো কথা বলতে আসবা না’, রাগে ফস ফস করতে থাকে অপু।
মান্না অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। অপুর এরকম আচরণ ও চিন্তাও করতে পারেনি।
‘তোকে আমি অন্যরকম ভেবেছিলাম’, মান্না মাথা নিচু করে চলে যায়।
রাগের জ্বলুনি সহজে যায় না অপুর মন থেকে। রাতে পড়ার টেবিলে বসে এসব চিন্তা ওর মাথায় ঘুরতে থাকে। ঠিক কথাগুলোই বলা হয়েছে মান্নাকে।
‘শরীরটা খুব খারাপ লাগছে বাবা, এদিকে আয়’। মায়ের ডাক শুনে ঘোর ভাঙে অপুর। মায়ের ঘরে গিয়ে ধ্বক করে উঠে অপুর বুক। মা মেঝেতে পড়ে আছে, মুখ নীলচে, বুক চেপে ধরে রেখেছেন। ‘খুব ব্যথা বুকে, বাবা, ডাক্তারকে খবর দে’, কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে মায়ের।
অপুর হাত কাঁপতে থাকে। ওর বাবা দেশের বাইরে, কাকে খবর দেবে ? ওর কেমন জানি মায়ের সব কথা দুর্বোধ্য লাগে। এই শহরে ওদের আত্বীয় কেউ নেই। ওর ছোটমামা থাকেন কাছাকাছি। কাঁপা হাতে ফোন তুলে মামার নম্বর খুঁজতে থাকে। ‘মামা, মা-র শরীর খুব খারাপ, তাড়াতাড়ি আসেন। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। কোন হসপিটালে ফোন করবো’? কোনোরকমে কথাগুলো বলে অপু।
‘অপু, এমন করছিস কেন? কি হয়েছে? আমি এক্ষুণি আসছি, তুই চিন্তা করিস না’, ফোনের ওই প্রান্তে মান্নার কণ্ঠ। মামার নম্বর খুঁজতে গিয়ে ভুলে মান্নার নম্বরে ফোন করেছে। নার্ভাস হলে এরকম উল্টাপাল্টা কাজ করে ফেলে অপু।
মান্না অল্প সময়ে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলে আসে। পাশেই ভালো একটা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সবকিছু এতো অল্প সময়ে হয়ে গেলো যে অপুর মনে হলো ও পুরো ঘটনায় নেই, মান্নাই সব তদারকি করছে। নিজেকে ভীষণ ছোট মনে হয় অপুর, একই বয়সী মান্না যেন ওর চেয়ে কতো বড়!
গভীর রাতে ডাক্তার বললেন মা এখন বিপদমুক্ত। অপু দেখলো ওর মা শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছেন। মায়ের শান্ত মুখটা দেখে হঠাত চোখে পানি এসে গেলো।
‘আরে কাঁদিস কেন! আন্টি তো এখন ভালো আছেন। চিন্তা করিস না’। মান্না চায়ের কাপ এগিয়ে দেয়। ‘চল, চা খাই একসাথে বসে’।
‘তুমি এতো রাত পর্যন্ত আছো ..... সকালে তোমাকে এতো কিছু বলেছি’। ...... চোখ মুছতে থাকে অপু।
‘কি যে বলিস, বন্ধুদের মধ্যে কতো ঝগড়া হয়! আমি এসব মনে রাখি না’। হাসতে থাকে মান্না।
অপু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে মান্নার দিকে। কতো সহজে ওর কুতসিত কথাগুলো ভুলে গেছে মান্না! অপুর অনেক কথা বলতে ইচ্ছা করে মান্নাকে, কিন্তু কিছুই বলে না। ওরা হসপিটালের বারান্দায় বসে চুপচাপ চা খেতে থাকে।
‘আমি কিন্তু তোর একটা সেক্রেট জানি’।
‘কিসের সিক্রেট’? অবাক হয়ে জানতে চায় অপু।
‘তুই রিমিকে পছন্দ করিস, তাই না’?
খুব অবাক হয় অপু, কিছু বলে না।
‘কিভাবে জানলাম শুনবি না? যেই খাতায় প্রজেক্টের কাজ করিস, সেই খাতার পিছনে অনেকবার রিমির নামটা লিখেছিস, আমি দেখেছি’।
‘পছন্দ করে লাভ কি? রিমি তো তোকে পছন্দ করে’।
‘আমাকে’? ভীষণ অবাক হয় মান্না। ‘কে বললো এই কথা’!
‘কেউ বলে নাই, তোরা সবসময় একসাথে থাকিস, আরেকদিন তোদেরকে একসাথে রিকশাতে দেখলাম, তাই মনে হলো তোদের মধ্যে প্রেম হয়েছে’।
হা হা করে হেসে ফেলে মান্না। ‘আরে বোকা, রিমি কেন আমাকে পছন্দ করবে? ওর ভাই-এর বিয়ে সামনে, গায়ে হলুদের সব কাজ আমাকে করে দিতে রিকোয়েস্ট করেছে ও। এইসব প্ল্যানিং নিয়ে কথা বলি। সেইদিন রিকশায় করে গায়ে হলুদের কিছু জিনিস কিনতে গিয়েছিলাম, আর কিছুই না’।
‘সত্যি’?
‘জ্বি হ্যাঁ, সত্যি। রিমি কিন্তু জানে যে তুই ওকে পছন্দ করিস’।
‘ধুর, ও কিভাবে জানবে! আমি ওর সাথে কথাই বলতে পারি নাই ঠিকমতো। তুই বলেছিস‘?
‘আমি কেন বলতে যাবো? মেয়েরা অনেক কিছু বুঝতে পারে। তুই ক্লাসে সবসময় হা করে একটা মেয়ের দিয়ে তাকিয়ে থাকবি, আর মেয়েটা বুঝবে না? আর ... রিমিও কিন্তু তোকে পছন্দ করে’।
‘কি বলিস? সত্যি নাকি ফাইজলামি’?
‘আরে সত্যি দোস্ত’।
একটু চুপ করে থাকে মান্না। অপু খেয়াল করে না কিন্তু মান্না খেয়াল করে যে অনেকক্ষণ ধরে অপু ওকে তুই তুই করে হাসিমুখে কথা বলছে, এই প্রথম।
গভীর রাতে হাসপাতালের বারান্দায় ওরা দুইজন চুপচাপ বসে থাকে।
ওদের দুইজনেরই মনে হয় আজকের দিনটা বড় আনন্দের।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ এ নাইস কেরেকটার অফ মা্ন্না ডিপিক্টেড...খুব সুন্দর চিত্রায়ণ..এমন কিছূ মানুষ অগোচরে সবর্ত্রই থাকে। দারুন।
    প্রত্যুত্তর . ১২ মার্চ, ২০১৪
  • মুশফিক রুবেল
    মুশফিক রুবেল গল্পটা বেশ গোছানো, ভালো লেগেছে ।
    প্রত্যুত্তর . ১৫ মার্চ, ২০১৪
  • বশির আহমেদ
    বশির আহমেদ মান্নাদের মত কিছু চরিত্র আছে বলেই সমাজটা আজও সুন্দর । গল্পটি সুন্দর ভাবে পারনতির দিকে টেনে নিয়েছেন । শভেচ্ছা রইল ।
    প্রত্যুত্তর . ১৬ মার্চ, ২০১৪
  • সকাল  রয়
    সকাল রয় আমি বলবো ভালো লাগছে কিন্তু লেখক আরো পরিসরে বাড়াতে পারতেন
    অনেক শুভকামনা
    প্রত্যুত্তর . ২০ মার্চ, ২০১৪
    • সালমা সিদ্দিকা ৩০০০ শব্দের limitation থাকার জন্য অনেক সময় চাইলেও আর বড় পরিসরে লেখা যায় না, আমি নতুন , লেখার অভিজ্ঞতা কম, আরো ভালো করার চেষ্টা করব, অল্প কোথায় বেশি বলার চেষ্টা করব. আপনার comment এর জন্য ধন্যবাদ।
      প্রত্যুত্তর . ২০ মার্চ, ২০১৪
  • মোঃ মহিউদ্দীন সান্‌তু
    মোঃ মহিউদ্দীন সান্‌তু চমৎকার গোছানো গল্প, মান্নার মত বন্ধু পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের, বেশ ভালো লাগলো গল্পটি। শুভকামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ২২ মার্চ, ২০১৪
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ লেখার সাবলীলতা খুব ভালো লাগলো। লেখার কারিগরির উপর এই দখল আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আশ্রয় করে গল্প লিখতে অনেক কাজে দিবে। শুভেচ্ছা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ২২ মার্চ, ২০১৪
  • সুস্মিতা  জামান
    সুস্মিতা জামান লেখা ভালো, তবে গল্পটা সাদামাটা লাগলো। আরও ভেবে লিখতে হবে।
    প্রত্যুত্তর . ২৭ মার্চ, ২০১৪
  • ঐশিকা বসু
    ঐশিকা বসু বাঃ, দারুণ গল্প। অনেকদিন পড়িনি এতসুন্দর বন্ধুত্বের গল্প। চারিদিকে শুধু সেক্স, আর প্রেমের কচকচানি। এই নির্মল বন্ধুদের মতোই গল্পগুলোও যেন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে। ধন্যবাদ দিদি এই শাশ্বত মানসিকতাকে আবার গল্পে ফিরিয়ে আনার জন্য। আরও একবার তোমায় ধন্যবাদ জানাব।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ মার্চ, ২০১৪
    • সালমা সিদ্দিকা আমার মনে হয় কৈশোরের বন্ধুত্বগুলো সারাজীবন থেকে যায়, সেটা মনে করেই লিখেছি। আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো। আপনার লেখাও আমার খুব ভালো লাগে। আপনার আগের কিছু লেখাও আমি পড়েছি।
      প্রত্যুত্তর . ৩১ মার্চ, ২০১৪
  • শামীম খান
    শামীম খান বাহ । কলেজের জীবনে ফিরে গিয়েছিলাম । খুব সুন্দর লিখেছেন । বন্ধুত্ব খুব সহজে গড়ে উঠে , তবে সহজে ভাঙ্গে না । আপনার লেখার হাতটি দারুন । ভাল থাকবেন , আপু ।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ আগস্ট, ২০১৪
  • ফাহমিদা   বারী
    ফাহমিদা বারী আপা, আপনার পুরনো এই লেখাটা খুব মন দিয়ে পড়লাম। এত সহজ সাবলীল ভাষায় চমৎকার ছন্দে গল্প বলতে পারাটা দারুণ একটা ক্ষমতা। আপনি পারবেন আপা। শুভকামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ৩০ জুন, ২০১৫

advertisement