বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৫ জুলাই ১৯৮১

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

বিগ Brother

জাহাঙ্গীর অরুণ

  • advertisement

    - বিগ ব্রাদার, দুইটা থাবর দিমু দুই গালে?
    - না না থাপ্পর টাপ্পরে কাজ নাই। কোন ঝামেলা না।
    - এইডা কোন কথা কইলেন বিগ ব্রাদার? আপনের মন খারাপ করায়ে দিবো আর হারামজাদারে গাল মাইপ্পা দুইডা থাবর দিম্মু না?
    - না না, ভাই, বাদ দেন, বাদ দেন...

    হারুন সাহেব এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলেন। স্বপ্ন ভেঙ্গে ঘেমে একেবারে গোসলের মত হয়ে গেলেন। রাত এখন কয়টা বাজে? নাহ সোবেহ সাদেকের কোন লক্ষণ নাই। বাঁচা গেলো, সোবেহ সাদেকের স্বপ্ন বাস্তবে ঘটে যায়। আর বিগ ব্রাদার, বিগ ব্রাদার বলা মাস্তানটাই বা কে!

    হারুন বিছানা ছেড়ে উঠলেন। কি ভেবে যেন ওজু করে বিছানায় এসে বসলেন। কয়টা বাজে? তিনি বালিশের কাছে রাখা হাত ঘড়িটায় সময় দেখলেন। রাত দুইটা পয়তাল্লিশ। দুই রাকাত নফল নামাজ পড়লেন। মনে মনে বল্লেন -
    - ইয়া পরওয়ারদেগার, বাসেদ মিয়া ছোট মানুষ। ও না বুঝে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। ওরে কোন বিপদে ফেইলো না।

    হারুন বনানীর একটা অফিসে বাবুর্চীর কাজ করেন। বাচুর্চী বলতে, দুপুরে বিশ জন ষ্টাফের জন্য রান্না করা আর সারা দিন চা টা এইসব বানানো। চাকরীতে ঢুকেছেন মাস খানেক হলো। এই একই অফিসের পিওন হলো বাসেদ মিয়া। বয়স পচিশ ছাব্বিশ হবে। হারুনের বয়স হয়েছে। হারুনের বয়স প্রায় ষাট বছর। পরিণত বয়সে মানুষের মান অপমান বোধগুলো খুব বেড়ে যায়। অথচ কেউ তা পাত্তাও দেয় না। এতে কষ্টটা আরো বেড়ে যায়।

    সারা রাত আর ঘুম হলো না। সকাল বেলা একটু আগে আগেই অফিসে চলে গেলেন। স্যাররা এখনো কেউ আসেন নাই। বাসেদ মিয়া বারান্দায় বসে পায়ের উপর পা তুলে সিগারেট খাচ্ছে। ছেলেটার চাকরী হারানোর কোন ভয় নাই। গায়ে যৌবন আছে। এখনের জামানায় কাজেও অভাব নাই। চাকরীর ভয় কে করে? বাসেদ গলা বাড়িয়ে হাক দিলো
    - বুড়া মিয়া, ডিম তো দেখি ভাইঙ্গা ফালাইছেন একটা। ভাঙ্গা ডিমে দেখছি তেলাপোকা মুখ দিসে। স্যারদের এই ডিম দিয়েন না। দেন, আমারে ভাইজ্জা দেন। তেরাপোকার গন্ধ আমার খারাপ লাগে না।

    হারুনেন মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তাকে বুড়া মিয়া ডাকার কী আছে? চাচা, খালু তো আজকাল সবাই বলছে মুরব্বীদের। আর ডিমে তেলাপোকা মুখ দিবে কি করে? ডিম তো ফ্রিজে রাখা। ডিম ভাঙ্গা হবারও কোন কারন নাই। ফ্রিজ খুলে হারুন দেখলো একটা ডিম সামান্য একটু ফাঁটা। এই কাজ বাসেদের। ছেলেটা মিথ্যুক।

    হারুন কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। ডিমের হিসাব সে ম্যানেজারকে কী দিবে? আর ডিম বাসেদকে ভেজে না দিলে সে প‌্যাঁচ লাগাবে। তার প্যাঁচের বুদ্ধিতে হারুন বড়ই অসহায়। হারুন ডিমটা ভাজার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। একবার তার মনে এলো একটা মরা তেলাপোকা খোঁজে বের করে তার কয়েকটা পা ভেঙ্গে ডিমে দিয়ে দেন। এর পরপরই তিনি লজ্জিত হয়ে পরওয়ারদিগারের কাছে মাফ চেয়ে নিলেন। বার্ধক্য কুলনাশিনী। শরীরে জোর কমে যাচ্ছে। কিন্তু মনে প্রতিশোধের জোর বেড়ে যাচ্ছ। কুলনাশিনীর লক্ষণ, বার্ধক্য কুলনাশিনী।

    দুপুরে রান্নার বাজার করে নিয়ে আসলেন। প্রতিদিন বাজারে যাবার সময় বাসেদও কোন না কোন বাহানায় সাথে যাবে। বাজারে যাবার পথেই বলবে
    - বুড়া মিয়া দেন, একটা বিড়ি খাওয়ার পইসা দেন।
    সে এমনিতে খায় শেখ সিগারেট। কিন্তু ফাও টাকায় খায় বেনসন। তাও তাকে বলবে বিড়ি। বাজার শেষে ভাঙ্গতি টাকাতেও সে ভাগ বসাবে। হারুনের কমপ্লেইন দিতে ভালো লাগে না। স্যাররা অনেক বড় বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ছোটখাটো বিষয়ে কমপ্লেইন দিতে তার ইচ্ছা করে না। কিন্তু আবার ভয়ও হয়। নদীর ভাঙ্গন ইঁদুরের গর্তের মত ছোট জিনিস দিয়েই পড়ে। এই বয়সে পরে আবার চোর না হতে হয়।

    হারুনের মাথায় আজ একটা আইডিয়া আসলো। যে কয়টা টাকা বাসেদ মেরে দেয় তা নিজের পকেট থেকে দেওয়ার সামর্থ হারুনের নাই। রান্নার মাধ্যমেও যদি তা সে ফেরত দিতে পারে তাতেইবা মন্দ কি? মাছের দাড়া, পাখা, নাড়িভূঁড়ি এইগুলো ভালো করে তিনি ধুয়ে নিলেন। সাথে আস্ত একটা মাছের টুকরা ভেঙ্গে দিয়ে ভাজলেন। অফিসে গেটের মুখে একটা পাতি লেবুর গাছ আছে। দুইটা পাতা ছিড়ে এনে ভাজিতে কুচি কুচি করে ছিড়ে দিয়ে দিলেন। খুব সুন্দর একটা গন্ধ বের হলো। স্যাররা বড় মানুষ। গরিবী এই খাওয়া স্যাররা খাবেন কি না কে জানে। সামন্য একটু মুখে দিয়ে হারুন দেখলেন। স্বাদটা ভালই হয়েছে। কিন্তু কেমন একটা তিতকুটা ভাব আছে। বুদ্ধি করে একটু টেষ্টিং সল্ট দিয়ে দিলেন। নাহ এবার স্বাদটা ঠিক আছে।

    হারুন মনেমনে হিসাব করলেন।
    একটা ডিম ৮ টাকা
    দুইটা বেনসন সিগারেট ২০ টাকা
    ভাংতি ৫৬ টাকা
    মোট - ৮৪ টাকা।
    অর্থাৎ বাসেদ আজ মেরেছে অফিসের ৮৪ টাকা।

    একটা তরকারীতে গড়ে খরচ হয় প্রায় তিনশো টাকার মত। নাহ মোটের উপর অফিসেরই লাভ হলো। হারুন একটা স্বস্তির হাসি দিলো। বৃদ্ধ বয়সে হাসতে গেলে পুরনো সুখের স্মৃতি ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়না। নগদ একটা কারনে হাসতে পেরে হারুনের মনটা ভালো হয়ে গেলো।

    হারুনের মনটা দুরুদুরু করতে থাকলো ভয়ে। এমডি স্যার খেয়ে কি বলবেন এই খাবার? এমডি স্যার ভদ্র মানুষ খারাপ লাগলে হয়ত কিছুই বলবেন না। তারপরেও সুন্দর করে তিনি খাবারটা পরিবেষণ করলেন। একটা লেবু গোল গোল করে চিকন করে কাটলেন। প্লেটের মাঝে এই ভাজিটা রেখে চারদিকে লেবুর টুকরা গুলো রেখে দিলেন। একটু ধনে পাতা দিলেন। বুদ্ধি করে ধনেপাতাটা একটু কচলে দিলেন, যেন গন্ধটা বের হয়।

    খাবারটা বাসেদ মিয়া স্যারদের রুমে নিয়ে দিয়ে যায়। বাসেদ এই নতুন আইটেম দেখে হারুনকে একটা ঝারি মারলো
    - এ্যাই বুড়া মিয়া কি সব নাড়িভূঁড়ি ভাজি কইরা থুইছেন! ফালায়া দেই এইসব।
    এই কথা বলেই সে ফেলে দিতে গেলো। হারুনে বুক টা ধ্ক করে উঠলো। এত সখ করে সে আইটেমটা রান্না করেছে। যাক বাসেদ শেষমেষ ফেলে নাই। ঘুঁ ঘুঁ করতে করতে সে নিয়ে গেলো খাওয়াটা।

    খাওয়া শেষ হলো। প্লেট যখন ফেরত আসলো তখন দেখলো ভাজির প্ল্যাটটা ফাঁকা। হারুনের সাহস হলো না বাসেদকে জিজ্ঞাসা করার, ভাজিটা কি স্যাররা খেয়েছেন নাকি সে ফেলে দিয়েছে। হারুন এই বিষয়টা ভাবতে ভাবতে বাসার দিকে রওয়ানা দিলো।

    হারুন অফিসের মাইলখানেক দূরেই একটা বাসায় থাকেন। তার গ্রামের পরিচিত এক ছেলে দারোয়ানের চাকরী করে একটা ফ্ল্যাট বাড়ীতে। এই বাড়ীতে দারোয়ানের রুমে হারুন থাকেন। ভাড়া দিতে হয়না। রান্নার কাজটি সে করে দেয়। আর হারুন বাসায় ফেরার পর দারোয়ান ছেলেটা হারুনকে বাসায় রেখে একটু এদিক সেদিক ঘুরতে যেতে পারে। ছেলেটার নাম ইসমাইল, বড় ভালো ছেলে।

    হারুন যে বাসাটায় থাকেন তার পাশের বাড়ীটা আন্ডার কনস্ট্রাশান। এই বাড়ীর দারোয়ানটা ভালো না। সন্ধার পর সে তার নিজের রুমটা অন্যদের ব্যবহার করতে দেয়। মেয়ে টেয়ে নিয়ে আসে পাড়ার কয়েকটা ছেলে। প্রায়ই কম বয়সী কিছু মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে এই বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। হারুন সব দেখে। এই এলাকাটায় ঘনবসতী না। তাই কারো নজরে হয়ত পড়ে নাই। কে জানে পড়তেও পারে। আজকাল কেউ ঝামেলায় জড়াতে চায়না। হারুনের মনটা মাঝেমাঝে এই নিয়ে খুব খারাপ হয়। হঠাৎ করেই রাতের স্বপ্নটার কথা মাথায় এলো। হারুনকে বিগ ব্রাদার বলা ঐ লোকটার চেহারাটা যেন একটু একটু করে মনে পড়ছে। বিশালদেহী একটা মানুষ। চেহারায় কি সে পুরুষালী শক্তি। এমন মানুষকে কি হারুন কোথাও কোনদিন দেখেছে?

    আজ রাতে পাশের বাড়ীটাতে আরেকটা মেয়ে নিয়ে এসেছে। হারুনের মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। গ্রামের বাড়ীতে তার পরিবার থাকে। দুই মেয়েকে হারুন বিয়ে দিয়েছে গ্রামের আশেপাশেই। গিন্নি একা একা থাকে বাড়ীতে। একটা বাসা ভাড়া নিতে পারলেই সে গিন্নিকে নিয়ে আসবে। তার আগে একটা মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া দরকার সফুরার মাকে। এই টাকাটাও সে জোগাড় করতে পারছে না। মেয়েদের কথা খুব মনে পড়ছে হারুনের। আহারে বাবার এই ভালোবাসাটা কি মেয়েরা কোন দিন মেপে দেখে? এর চেয়েও বেশী ভালোবাসা কি তারা জীবনে অন্য কোন জায়গা থেকে পায়?

    হারুন কখন যেন এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে। স্বপ্নে আবার ঐ লোকটাকে সে দেখছে।
    - বিগ ব্রাদার, মেয়েটারে তো এরা ট্রেপে ফালায়ে আনছে। দুইটা থাবর দিমু নাকি? কন্ দিমু দুইটা থাবর?
    - হারুন চুপ করে থাকে। আজ তার না করতে ইচ্ছা করে না।

    হারুনের এমডি ফখরুল সাহেব বাসায় গেলেন আজ নিজে বাজার করে। তিনি বহু বছর ধরে বাজার করেন না। আজ বাসায় যাবার পথে তিনি বেশ কয়েকটা জিনিস কিনলেন। কাওরান বাজারের মত বড় শব্জি ও মাছের মার্কেটেও তার এই সব আইটেম পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

    তিনি আজ কিনলেন ছোট তেলাপিয়া মাছ, কুমড়ার ফুল, দেশী মুরগীর ডিম।
    বাসায় ফিরলেন অন্যরকম একটা চেহারা নিয়ে। অন্য দিনের মত চেহারায় আজ নেই ক্লান্তির ছাপ। চেহারায় কেনম একটা শান্ত, স্নিগ্ধ ভাব। বাসায় গিয়ে তিনি কাপরও ছাড়লেন না। তার দুই ছেলেকে ডাকলেন, বউ কে ডাকলেন। সবাই খাওয়ার টেবিলেই বসলেন। ভদ্রলোককে আজ বেশ আবেগী মনে হচ্ছে।

    তার পরিবারের সবাই একটু উৎকণ্ঠা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ভদ্রলোক পরে কথা শুরু করলেন-
    তোমাদের কাছে আমার শৈশবের অনেক দুঃখের স্মৃতির কথা বলি। আমি জানি তোমাদের তা পছন্দ না। তোমরা বড়লোকের সন্তান। আমার শৈশবের কথাগুলো তোমাদের কাছে দুঃখ বিলাশের মত শুনায়।

    ফখরুল সাহেবের বউ দূরের চেয়ারটাতে বসেছিলেন। তিনি একটু কাছে ঘেঁসে আসলেন। ভদ্রলোকের হাতের কনুইটাকে হাতের মধ্যে জড়িয়ে ধরলেন পরম মমতায়। এর পর বল্লেন,
    - আজ কি হইলো আবার তোমার?
    - আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন মাছ কেনার আমাদের সামর্থ ছিলো না। আব্বা যখনই মাছ আনতেন মা এগুলো ভাজি করে পাতিলে রেখে দিতেন। একটা, অর্ধেকটা করে টুকরা ভেঙ্গে ভেঙ্গে তরকারীতে দিতেন। এতে করেও মাছের সুন্দর একটা গন্ধ আসতো তরকারীতে। একবারতো আব্বা শিং মাছ এনে ঘোষণা দিলেন, এই মাছ ভাইঙ্গা দেওয়ারও কিছু নাই ফখরুলের মা। শিং মাছ হইলো এমন মাছ যে সুতা দিয়া বাইন্ধা তরকারীতে ডুবায়া আবার তুলে ফেলবা, ব্যাস। এতেই তরকারীর যে স্বাদ হবে!

    তিনি একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলতে শুরু করলেন আবার-
    মা তখন মাছের আশটেগুলো ছাড়া বাকী কোন অংশই ফেলতেন না। নাড়ী ভূঁড়ি সহ কেটে ফেলে দেওয়ার সব কয়টা অংশ একত্রে করে ভাজতেন। কি অদ্ভুৎ মজা যে হতো সেই ভাজি! এর পর জীবনের প্রতি পদে পদে নিজেকে নিজে তৈরী করে যখন বড় হলাম তখন আমার আপন বলতে এই দুনিয়ায় আর কেউ নেই। তোমাদের মা অনেক বড়লোকের মেয়ে। তিনি এমন খাবার কোনদিনই দেখেননি। তাই তাকে এইসব বলারও সাহস হয়নি কোনদিন। মা আরেকটা আইটেম করতেন। কুমড়া ফুলের সাথে একটা ডিম ভেঙ্গে দিয়ে তা ভাজতেন। এলাকার কোন কুমড়ার মাচা আমরা বাদ রাখতাম না ঐ সিজনে। সব কুমড়ার ফুল যেত আমাদের পেটে।

    ফখরুল সাহেব কিছুক্ষণ চুপচাব বসে রইলেন। এরপর একটু আবেগাপ্লুত হয়ে বল্লেন-
    আজ আমার অফিসের যে চাচা আছেন রান্না করার, তিনি মাছের নাড়ি ভুঁড়ির ভাজিটা আজ রান্না করেছিলেন। আমার মায়ের হাতের রান্নার চেয়ে কোন অংশে কম হয়নি এই রান্না। জিনিসটা খেয়ে আমি দড়জা বন্ধ করে অনেক্ষণ কেঁদেছি। এই কথা বলতে বলতে ভদ্রলোক ফুপিয়ে ফুপিয়ে আবার কাঁদতে লাগলেন।

    ফখরুল সাহেবের স্ত্রী বল্লেন, শুনো, তুমি অল্পতেই বেশী আবেগী হও। বিষয়টাতো ভালোই হলো। আগামী দিন সকালে আমি নিজে গিয়ে তোমার ঐ চাচারে বাবুর্চীর সম্মান দিয়ে বাসায় নিয়ে আসবো। তিনি যে কয়দিন বেঁচে আছেন তোমাকে মায়ের মমতায় না হয় রেধে খাওয়াবে। আমিও না হয় কিছু শিখলাম।

    হারুনের ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আজকেও ঘেমে গোসলের মত করে ওঠলেন। পাশের বিল্ডিং এর মেয়েটা কাঁদছে। বুঝা যাচ্ছে, তার মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরা হচ্ছে। হারুন হাতে একটা কাঠের টুকরা নিলেন। গেটটা খুল্লেন, ধীরে ধীরে পাশের বাড়ীর দিকে আগানো শুরু করলেন।
    -০-
    পরিশেষে: হারুনকে ছুড়ি মারা হয়েছে। প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে। এর মধ্যেই তিনি যেন দখছেন স্বপ্নের ঐ ভদ্রলোক হারুনকে পরম মমতায় কোলে নিয়েছেন। আর চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে বলছেন, বিগ ব্রাদার আমি আইসা পড়ছি, আর কোন ভাবনা নাই আপনের। বিগ ব্রাদার, বিগ ব্রাদার...। হারুনের কাছে শব্দটা দূর থেকে দূরের মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে।

advertisement

  • ওয়াহিদ  মামুন লাভলু
    ওয়াহিদ মামুন লাভলু অন্যায় দেখেও তার প্রতিবাদ করার উপায় নেই। প্রতিবাদ করলেই বিপদ নেমে আসে, আর ভুক্তভোগী যে অসহায় সেই অসহায়ই থেকে যায়। খুব ভালো লাগলো গল্পটি।
    প্রত্যুত্তর . ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪