বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৫ জুলাই ১৯৮১

কুষ্ঠ

  • advertisement

    প্রথমে পুণ্যের কথা বলি। কাশিতে গিয়ে গঙ্গাস্নান করলে পুণ্য হয়। কিছুদিন আগে সত্যমেজয়তে অনুষ্ঠানে আমির খান দেখিয়েছেন- এই গঙ্গা আসলে আগের গঙ্গা নেই। কাশির পুণ্যস্নানের গঙ্গা এখন আসলে স্যুয়ারেজ লাইন। অথচ এই নোংরা পানিতে মানুষ পুণ্যস্নান করছে। এবার আসি পাপের কথায়। জ্বরজারি থেকে শুরু করে এইডস ও ক্যান্সার রোগ পর্যন্ত হরহামেশাই হচ্ছে মানুষের। সব রোগেরই সান্ত্বনাবাক্য হচ্ছে, বিধাতা যা করেন ভালোর জন্য করেন। কিন্তু সব দোষ গিয়ে পড়ছে বেচারা কুষ্ঠ নামের নগণ্য একটা রোগের ওপর। মানুষের কাছে এই রোগ হচ্ছে পাপের ফল। মানুষ মায়ের গর্ভের সন্তান অপারেশনের মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ করছে। একজনের দেহ থেকে কিডনি অন্যজনের দেহে স্থাপন করে মৃত্যুপথযাত্রীকে পথের বাঁক ঘুরিয়ে জীবনগঙ্গায় ভাসিয়ে রাখছে। অথচ সেই অভিশপ্ত রোগ বলে প্রচার পাওয়া নিরীহ রোগ কুষ্ঠের কুসংস্কার কাটছে না কিছুতেই। কুষ্ঠের চিকিৎসা আছে, কুষ্ঠ ভালো হয়; তার পরও পৃথিবীজুড়ে কুষ্ঠ রোগীরা বড়ই অস্পৃশ্য। মাইকোব্যাকটেরিয়াল লেপ্রি নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। কুষ্ঠ রোগ মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের বাইরের দিকের স্নায়ু, ত্বক, অণ্ডকোষ এবং নাকের মিউকাস মেমব্রেনের ক্ষতি করে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক-মুখের সর্দির মাধ্যমে এই রোগ সাধারণত অন্য সুস্থ মানুষে ছড়ায়। তবে বেশির ভাগ মানুষেরই কুষ্ঠ প্রতিরোধক ক্ষমতা দেহে থাকায় সাধারণত তা আক্রমণ করতে পারে না। আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে এই রোগ ছড়ায় না। এই রোগের উপসর্গগুলো হচ্ছে- চামড়ায় সাদা সাদা দাগের মতো দেখা দেয়। দেহের যেসব স্থানে এমন সংক্রমণ দেখা দেয়, সেখানে পিণ্ডাকার হয়ে ফুলে যায়। এই রোগের ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি একেবারেই কম। তাই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার দু-তিন বছর পর আস্তে আস্তে তা প্রকাশ পেতে থাকে। কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা হয় সরকারি ও বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠানেই বিনা মূল্যে। তাই কুষ্ঠ দেখে রুষ্ট হওয়ার কোনোই কারণ নেই। কুষ্ঠ রোগ সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বা ৩০-এর বেশি বয়সের মানুষের মধ্যে দেখা যায়। কুষ্ঠ হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে, কারণ কুষ্ঠের দরুন অন্ধত্ব, বন্ধ্যাত্বসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে, কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, পায়ের নিচে ক্ষত হতে পারে, নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে পারে। তাই যে রোগ ভালো হয়, তাও আবার বিনা পয়সায়, তাকে নিয়ে কেন বসে থাকবেন? ঢাকার মহাখালীতে একটি কুষ্ঠ হাসপাতাল আছে। নিজের বা পরিচিত কারো দেহে কুষ্ঠ রোগের চিহ্ন দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে বিনা খরচে সাহায্য নিন। শেষ করার আগে একটি উদাহরণ দিচ্ছি কুষ্ঠ রোগীকে সমাজ এখনো কতটা ঘৃণা করে তা বোঝানোর জন্য। মহাখালীর কুষ্ঠ হাসপাতালে ঈদের সময় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তার কারণ পরিবার থেকে তাদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়, যেন আত্মীয়স্বজন কুষ্ঠের ভয়ে বাসায় ঈদে ঘুরতে আসা বন্ধ করে না দেয়। এমনকি কুষ্ঠ হাসপাতালের রোগীদের কেউ দেখতেও যায় না খুব একটা। আজকের এই দিনে অন্তত আপনি নিজে কুসংস্কারমুক্ত হয়ে অন্যকেও বুঝিয়ে বলুন কুষ্ঠতে রুষ্ট না হতে। সারা বিশ্বে আজ কুষ্ঠ দিবস পালিত হচ্ছে, এদিনে সবার সচেতনতা কাম্য।
    জাহাঙ্গীর হোসেন অরুণ

    http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&type=gold&data=news&pub_no=1135&cat_id=2&menu_id=20&news_type_id=1&index=3#.UQSN8PKganE

advertisement