বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৭

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

বসন্ত ও ভালবাসার অণুগল্পঃ ভালবাসা থৈ থৈ

জালাল উদ্দিন মুহম্মদ

  • advertisement

    ঃ তুমি অমন করে তাকাচ্ছ কেনো? কথা বলো, কথা বলছো না কেনো?
    ঃ উহু!
    ঃ উহু কি! চোখ বন্ধ কর। আমার বুঝি সরম লাগে না?
    ঃ সরম কেনো? আমি তোমাকে দেখবো। মন ভরে দেখবো।যখন ইচ্ছে দেখবো। যেমন ইচ্ছে দেখবো। এর মাঝে সরম কেনো? আমি সরম মানি না।
    ঃ হায় আল্লাহ! তুমি এত অবুঝ কেনো? কেউ দেখবে যে! লোকে কি ভাববে বলতো?
    ঃ আমার চাঁদের কণা, মুখোমুখি বসনা! চোখের প’রে রাখ চোখ। আমি হারিয়ে যাই তোমার চোখের অতলে – । , লোকে দেখবে দেখুক, বুঝবে বুঝুক।
    ঃ এত অবুঝ হয়োনা লক্ষীসোনা।
    ঃ তবু ভালো অবুঝ বলছো, পাগল বলনি! হা হা –
    ঃ মনে মনে বলেছি, তুমি টের পাওনি?
    ঃ কি করে টের পাব? আমারতো হুঁশ ছিলো না। আমি যে এই প্রথম দেখলুম তোমায়। আচ্ছা বলতো, তোমাকে যতবারই দেখি ততবারই প্রথম মনে হয় কেনো?
    ঃ এ তোমার মনের ভুল। তোমার যা ভুলু মন! কখন যে আমাকেই ভুলে যাবে!
    ঃ তোমাকে ভুলতে পারলেতো বাঁচি! তুমিইতো ভুলতে দিচ্ছো না। দেখছোনা তোমার অনিমেষ আঁখি আমাকে সারাক্ষণ কেমন আচ্ছন্ন করে রাখে?
    ঃ আহা! ঐ দেখ বাতায়ন--! কেমন সুন্দর দেখ আধখানা চাঁদ! কী মায়াময় এ রাত! জোছনায় ভিজবে চলো?
    ঃ তোমার মুখে জোছনার আলো ঝিকিমিকি! চাঁদ চাইনা আমি। তুমি যে চন্দ্রমুখী!
    ঃ চোখের পলক ফেল। আমি মরে যাবো যে!
    ঃ মরি যদি চল ডুবে মরি —
    ঃ অই যে দেখ সোনার দিঘি! জল টলমল।
    ঃ ডুব সাঁতারে নামবো নাকি? ভাবছি তোমার কপোলে -----
    ঃ আমার কপোলে ? কপোলে কী? বল না –
    ঃ না, না, বলবো না।
    ঃ এই যে দিলাম আড়ি!
    ঃ মুখ ঢাকলে কেন?
    ঃ বলবো না!
    ঃ আহা বলছি, চোখ খোল।
    ঃ না,না, বলবোনা ।
    ঃ তাহলে হাত বাড়াও ---
    ঃ হাত দিয়ে কী হবে?
    ঃ দাওনা দেখি !
    ঃ উহু!
    ঃ আহা! তোমার হাত থাকুক আমার মুঠোয়। খুল না আঁখি ---
    ঃ দেখছোনা আমি কাঁপছি?
    ঃ আমিতো কাঁপছি না।
    ঃ তুমিও কাঁপছো সোনা!
    ঃ অমনি যাক হাজার বছর ।
    ঃ কি যেন বলছিলে কপোলে --?
    ঃ বলবো না। তুমি যদি চাও দিতে পারি।
    ঃ বলনা কী দেবে?
    ঃ ঠোঁট যদি ছোঁয়ায় কপোল, তাকে কী বলে?
    ঃ দুষ্টু, মহাদুষ্টু তুমি।
    ঃ মিষ্টি, মহামিষ্টি তুমি।
    ঃ আচ্ছা , ধরো , আমাদের একটা বাবু –
    ঃ একটা বাবু! কি যে বল, আমার সরম লাগছে যে!
    ঃ বাবুটা হবে তোমার মতো!
    ঃ না, তোমার মতো।
    ঃ না, দু’জনার মতো!
    ঃ কি বলছো পাগলের মতো!
    ঃ তোমার বাবুর নাম কি বলো?
    ঃ তুমি বল। “বসন্ত” হলে কেমন হয়?
    ঃ আহা! “ফাগুন” হলে কেমন হয়?
    ঃ আহা! “বাহান্ন” হলে কেমন হয়?
    ঃ না, না, “একুশ” হলে কেমন হয়?
    ঃ তবে সবগুলো নামই থাক!
    ঃ তবে তাই হোক!
    ঃ বাহান্ন এলে আসবে একুশ।
    ঃ ফাগুন এলে আসবে বসন্ত। ফুটবে ফুল। গাইবে পাখি।
    ঃ আগুন লাগবে ডালে ডালে।
    ঃ উহু!
    ঃ আহা!
    ঃ তোমার কপালটা দাও --।, একটা ফুল আঁকবো বলে ।
    ঃ কোথায় তুমার তুলি?
    ঃ তুলি কেনো?
    ঃ ফুল আঁকবে যে!
    ঃ আহা ঠোঁট দিয়ে আঁকবো!
    ঃ ঠোঁট দিয়ে কী করবে?
    ঃ ফুল আঁকবো।
    ঃ অই দেখ সরোবর!
    ঃ আহা জল টলমল!
    ঃ অই দেখ হাঁসা আর হাঁসি।
    ঃ করে শুধু হাসাহাসি।
    ঃ না, না, ভালবাসাবাসি!
    ঃ চল, ওদের ডেকে আনি ?
    ঃ আয় আয় হাঁসগুলি – থৈ! থৈ!!  আয় আয় ভালোবাসা, থৈ! থৈ !!

    ঃঃঃঃঃ

advertisement