বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১ মার্চ ১৯৭১

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

আহমেদ সাবের এর উপন্যাস “ক্রস ফায়ার”

সালেহ মাহমুদ

  • advertisement

    আহমেদ সাবের এর উপন্যাস “ক্রস ফায়ার”- একটি বর্ণনাত্মক চটুল মনঃসমীক্ষণধর্মী রচনা।

    

    গ্রন্থালোচনা

    গ্রন্থ শিরোনাম     : ক্রস ফায়ার

    ধরণ           : উপন্যাস/বড় গল্প

    লেখক          : আহমেদ সাবের

    প্রকাশক         : উৎস প্রকাশন

    প্রচ্ছদ           : সব্যসাচী হাজরা

    প্রাকশ কাল      : অমর একুশে বইমেলা ২০১০

    মূল্য            : ১২০ টাকা

    পৃষ্ঠা সংখ্যা       : 96

    মলাট           : চার রংয়ের প্রচ্ছদ সহ জ্যাকেট মলাট।

     

    সৃষ্টিশীল মানুষ যে অবস্থানেই থাকুন না কেন, এক সময় না এক সময় তাকে সৃষ্টিশীলতার ধারায় ফিরে আসতেই হয়। শিল্পী কখনোই নিজেকে, নিজের প্রতিভাকে লুকিয়ে রাখতে পারেন না। তাকে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হতেই হয়। আর যেই শিল্পী এই কাজটা না করেন তিনি একদিকে যেমন নিজেকে অপ্রকাশ্য রেখে দেন, তেমনি স্বজাতিকে তথা মানব সমাজকে বঞ্চিত করেন। এই বঞ্চনার দায় একজন লেখক কিছুতেই এড়াতে পারেন না।

    এই ভূমিকাটুকু করতে হলো আহমেদ সাবের এর উপন্যাস/বড় গল্প ‘‘ক্রসফায়ার’’ এর প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে। ঔপন্যাসিক আহমেদ সাবের অধ্যয়ন ও চাকুরী সুবাদে দীর্ঘদিন যাবত বিদেশে বসবাস করছেন। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা ও জীবন-জীবিকার তাড়নায় তিনি স্বাভাবিকভাবেই আপন শিল্পী স্বত্ত্বাকে ভুলে যান। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর তার এই শিল্পী স্বত্ত্বা আবারও জেগে ওঠে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৭ সালে তিনি এই উপন্যাসটি রচনা করেন দীর্ঘ চার মাসের সাধনায়।

    বিষয় প্রসঙ্গঃ

    উপন্যাসটির বিষয় সমসাময়িক বহুলালোচিত বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তথা ক্রস-ফায়ার। বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজী মহামারীর আকার ধারণ করেছে। আর এই সন্ত্রাসকে লালন করছে সমাজের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ। অবস্থা এমন এক অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এক সময় এই সন্ত্রাস নির্মূল নির্বাচনী এজেণ্ডা হয়ে যায়।

    সন্ত্রাস নির্মূলে সরকারের শুভবুদ্ধির উন্মেষ সর্বপ্রথম লক্ষ করা যায় ২০০১ পরবর্তী সরকারের আমলে। এ সময়ই সন্ত্রাস দমনে একটি দুর্দমনীয় এবং নিষ্ঠাবান বাহিনী গড়ে তোলা হয়। যার নাম দেওয়া হয় র‌্যাব (র‌্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন)। এই বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যেতে থাকে। এই সময়ই ক্রস-ফায়ারের কালচার ব্যাপকভাবে চর্চা হতে শুরু করে। বিষয়টি যে আগে চর্চা হতো না এমন নয়, কিন্তু তা ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা। র‌্যাবের মাধ্যমেই তা পরিভাষায় পরিণত হয়। এর ইতিবাচক দিকটি ছিল আশাব্যঞ্জক। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে আইনের হাত গলেও ফসকে না যায় সেজন্যই তাদের সমূলে বিনাশের কৌশল হিসেবে এই পদ্ধতিটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু এর নেতিবাচক দিকটি আরো ভয়াবহ। এই ক্রসফায়ারে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি নিরীহ-নিষ্পাপ অনেক মানুষও মারা পড়ছে বিনা বিচারে!! এটা নিঃসন্দেহে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির নাজুকতার একটা নেতিবাচক দিক। আর ঔপন্যাসিক  আহমেদ সাবের এই ভয়ঙ্কর দিকটিই অত্যন্ত নির্মোহ ভঙ্গিতে এই উপন্যাসে চিত্রায়িত করেছেন।

    আঙ্গিক প্রসঙ্গঃ

    এই উপন্যাসটি একটি বর্ণনাত্মক চটুল মনঃসমীক্ষণধর্মী রচনা। এখানে আমরা খুব দ্রুত ধাবমান ঘটনাপ্রবাহ দেখতে পাই। ঘটনাপ্রবাহ যত দ্রুত ধাবিত হয়েছে মনঃসমীক্ষণ তত দ্রুত ধাবিত হয় নি এই উপন্যাসে। প্রোগ্রামার ইমন 'এর অস্ট্রেলিয়ায় চাকুরী, অবস্থান ইত্যাদি বিষয়-আশয় ঠিকই আছে। ইমনের থাইল্যান্ড আগমন- সেটাও ঠিকই আছে। কিন্তু খুব তড়িঘড়ি করে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসাটা আমার কাছে আরোপিত মনে হয়েছে। মনে হচ্ছিল ইমনকে খুব দ্রুত ক্রস-ফায়ার স্পটে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঔপন্যাসিক অস্থির হয়ে আছেন। সে যাই হোক- ইমন বাংলাদেশে আসার পর নির্বান্ধব হয়ে পড়ে। এই নির্বান্ধব হয়ে পড়া তাকে খুব পীড়া দেয়। বেশ ক’বছর বিদেশে থাকলে একটা সময় দেশে ফিরে এসে সবাই এই অবস্থায় পড়েন। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই পীড়া থেকেই ইমন এক বাল্যবন্ধুর খোঁজে খুব তড়িঘড়ি করে কুমিল্লায় চলে যায়। আর সেখানেই বন্ধুকে খুঁজে বের করতে গিয়ে র‌্যাবের ক্রস-ফায়ারের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। কিন্তু বেঁচে যায় তার সন্ত্রাসী বাল্যবন্ধু।

    ঔপন্যাসিক ইমনের নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য একটু রোমান্টিক আবহ নির্মানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তা সর্বাংশে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এই ব্যর্থতা লেখকের ইচ্ছাকৃত। ঔপন্যাসিক একটু মনোযোগী হলে একটি রোমান্টিক পরিণতি টানতে পারতেন। কিন্তু উপন্যাসের পরিণতি টানবার জন্য যেন ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গেছেন এই রোমান্টিক অধ্যায়টুকু।

    তবে একটা কথা না বললেই নয় যে, ঔপন্যাসিক ক্রস-ফায়ারের ক্ষেত্র তৈরীতে অনেক সিদ্ধহস্তের পরিচয় দিয়েছেন।

    ভাষা বৈশিষ্ঠ্যঃ

    আহমেদ সাবের এর এই উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল। উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি টানটান ভাব বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় ব্যাপার। কোথাও তিনি ভাষাকে এতটুকু ঝুলে যেতে দেন নি। কাহিনী বিন্যাস থেকে শুরু করে পরিসমাপ্তি পর্যন্ত কোথাও কার্যকারণ সম্পর্কহীন কোন ঘটনা খুঁজে পাওয়া যাবে না। অত্যন্ত সুখপাঠ্য উপন্যাস এটি।

    শুরুতেই বলেছিলাম তিনি অত্যন্ত নিরপেক্ষ ভঙ্গিতে উপন্যাসের কাহিনী নির্মাণ করে গেছেন। তার এই নিরপেক্ষ ভঙ্গিমা উপন্যাসের একেবারে শেষেও আমরা দেখতে পাই। কাহিনীর একেবারে শেষ পর্যায়ে আমরা ইমনের মায়ের মনোভঙ্গী দেখতে পাই ঠিক এভাবে -

    সবগুলো মরলেই ভালো ছিল। মনে মনে বলেন মনোয়ারা বেগম। কাজের ফাঁকে দূর থেকে আড়চোখে তিনি তাকান টেলিভিশনের দিকে। মৃত সন্ত্রাসীটার ছবি পর্দায় এক ঝলক দেখে আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

    ছবিটা বারবার মনের পর্দায় ভেসে উঠে মনোয়ারা বেগমের। মনে হয় কোথায় যেন দেখেছেন। কেমন মায়াকাড়া মুখ। অবাক কাণ্ড, ছবিটার সাথে ইমনের চেহারার কোথায় যেন একটা মিল। আহারে, কার বুক খালি হলো। একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয় তার বুকচিরে।

    মরুক মরুক, ওরাও তো কম বুক খালি করেনি। মুহূর্তে কঠিন হয়ে যান তিনি।

    সবশেষে বলবো, এই আলোচনা/সমালোচনাটি একান্তই আমার নিজস্ব মতামত। হয়তো সমালোচনার রীতি মেনে সঠিক সমালোচনা করা হয় নি। তারপরও চেষ্টা করেছি আমার অনুভূতি ফুটিয়ে তুলতে। ভুলক্রটি কিংবা অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা/সমালোচনা অবশ্যই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি।

    [ সালেহ মাহমুদ, ঢাকা, ০১ মার্চ ২০১২ খ্রীঃ ]

advertisement

  • সাঈদ
    সাঈদ বই টা সবের ভাই আমাকে দিয়েছিল অটোগ্রাফ সহ কিন্তু বইটা আমার কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছে ... অনেক কষ্ট লেগেছে !!! কেও কি আমাকে বলতে পারবেন বইটা কথায় কিনতে পাওয়া যাবে | জানি সবের ভাই এর অটোগ্রাফ পাব না কিন্তু বইটা আমার সংগ্রহে রাখতে চাই ..
    প্রত্যুত্তর . ৬ মার্চ, ২০১২
    • সালেহ মাহমুদ আমার কাছে এক কপি আছে সাবের ভাই এর অটোগ্রাফ সহ। আমি ধার দিতে পারি। প্রকাশকের কাছে খোঁজ করলেও পাওয়া যাবে আশা করি।
      ৬ মার্চ, ২০১২
    • সালেহ মাহমুদ সাঈদ ভাই, প্রকাশকের ঠিকানা ঃ উৎস প্রকাশন, ১২৭ আজিজ সুপার মার্কেট (৩য় তলা), শাহবাগ, ঢাকা- ১০০০, ফোন ঃ ৮৮-০২-৯৬৭৬০২৫
      ৭ মার্চ, ২০১২
    • সাঈদ ধন্যবাদ ভাই ...
      ৭ মার্চ, ২০১২