বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

কুয়াশার কাহিনী

শামস্ বিশ্বাস

  • advertisement

    কুয়াশা কী?
    কুয়াশা হল ভূমির সংস্পর্শে থাকা মেঘমালা। কুয়াশা গাঢ় হতে পারে, আবার পাতলাও হতে পারে। সাধারণভাবে কুয়াশাকে আমরা দেখতে পাই যখন তাতে অসংখ্য ছোট ছোট জলকণার উপস্থিতির থকে। শুধুমাত্র গ্যাস হলে কুয়াশা আমরা দেখতে পেতাম না। কিন্তু কুয়াশার মধ্যে দৃশ্যমানতা খুবই কম। ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন-এর মতে কুয়াশার মধ্যে দৃশ্যমানতা এক কিলোমিটারের কম থাকে। তবে খুব গাঢ় কুয়াশার ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা কখনও কখনও প্রায় শূন্যে পৌঁছে যায়! কুয়াশা আর ধোঁয়াশার মধ্যে পার্থক্য হল এদের ঘনত্বে, যা কিনা এদের ফলে সৃষ্ট দর্শনযোগ্যতার হ্রাস দ্বারা হিসাব করা হয়: কুয়াশার কারণে দর্শনযোগ্যতা এক কিমির কম হয়, যেখানে ধোঁয়াশা দর্শনযোগ্যতা ২ কিমির বেশি হ্রাস করে না।
    যেভাবে তৈরি হয় কুয়াশা?
    অনুকূল পরিস্থিতিতে যেমন দ্রুত কুয়াশা তৈরি হয় তেমনি প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে নিমেষেই কুয়াশা উধাও হয়ে যেতে পারে। সবটাই নির্ভর করে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার আপেক্ষিক অবস্থার উপরে। সাধারণত, ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর শীতল থাকলে, বায়ুতে মিশে থাকা জলীয়বাষ্প ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। একে বলে ঘনীভবন। অনেক সময় বায়ুতে ভাসমান খুব ছোট ছোট ধূলিকণা, লবণের কণা ইত্যাদি আশ্রয় করে এ-সব জলকণা ভেসে থাকে এবং কুয়াশা সৃষ্টি করে। রাতের আকাশ পরিষ্কার এবং বায়ু প্রবাহ শান্ত থাকলে, দিনের বেলা সূর্যতাপে তাপিত ভূ-পৃষ্ঠ রাতে দ্রুত তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে পড়লে, ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর ঠান্ডা ও আর্দ্র হয়ে পড়ে এবং কুয়াশা তৈরির উপযুক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই সময় সাধারণভাবে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ দাঁড়ায় একশো শতাংশে। আমাদের চারপাশে এই ধরনের কুয়াশাই আমরা দেখতে পাই। তবে, সমুদ্রের উপকূলভাগে, উষ্ণতর বায়ু, শীতল সমুদ্রের পনির সংস্পর্শে আসলেও কুয়াশার সৃষ্টি হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কোনও কোনও অংশে এই ধরনের কুয়াশা দেখা যায়। তবে সাধারণত শীতকালে, ভয়ংকর কুয়াশা তৈরি হয় কোনও কোনও পাহাড়ি উপত্যকায়। চারদিক পাহাড় ঘেরা জায়গায়, শীতল-ভারী বায়ু কোথাও বেরোতে না পেরে এই ধরনের জমাট কুয়াশা তৈরি করে। মনে রাখতে হবে, ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর যখন তার ঠিক উপরের বায়ুস্তরের থেকে বেশ খানিকটা বেশি ঠান্ডা হয়ে যায় তখন কুয়াশা সব থেকে স্থায়ী হয়। উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে, স্ক্যান্ডিনেভিয়া বা অ্যান্টার্কটিকায় কুয়াশার জলকণাগুলি জমে তুষার কণায় পরিণত হয় এবং উঁচু-নিচু ভূ-পৃষ্ঠের সর্বত্র যেন তুষার চাদরে ঢাকা পড়ে যায়।
    কুয়াশার রকমারি
    পৃথিবীর সর্বাধিক কুয়াশাচ্ছন্ন অঞ্চল হল কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক নামক অঞ্চল। বছরে ২০০ দিনেরও বেশি সেখানে ঘন কুয়াশা চারদিক থেকে ঢেকে রাখে। প্রায় একইরকম কুয়াশাপ্রবণ অঞ্চলগুলির মধ্যে রয়েছে, উত্তর আমেরিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার পয়েন্ট রিয়েস, দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল, দক্ষিণ আমেরিকায় চিলির দক্ষিণ উপকূল, আফ্রিকায় নামিবিয়ার উপকূলভাগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
    ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে, বিশেষত আমাদের উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও কুয়াশার ঘেরাটোপে চলে যায়, ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হয় জনজীবন। মন্থর হয়ে পড়ে সমস্তরকম বাহন।
    বিমানবন্দরের রানওয়েতে দৃশ্যমানতা ৬০০ মিটারের কম হয়ে গেলে সাধারণত কোনও বিমানকে ওঠা বা নামার অনুমতি দেওয়া হয় না। ‘জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি’ সাম্প্রতিক তাদের এক গবেষণা থেকে জানাচ্ছে মজার তথ্য, কুয়াশার কাছে শুধু বিমান নয়, মশাও কুপোকাত! বৃষ্টির মধ্যেও মশা উড়তে পারে কিন্তু কুয়াশা যত গাঢ় হতে থাকে কিছুতেই আর উড়তে পারে না।
    বন্যার মত কুয়াশার সবটাই যে খারাপ, এমনটা কিন্তু বলা যাবে না। পৃথিবীর কিছু শুষ্ক অথচ কুয়াশা প্রবল অঞ্চল যেমন পেরুর একটি অংশের মানুষ কুয়াশা থেকে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করে। কারণ সেখানে পানির উৎসের অভাব রয়েছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুয়াশা থেকে পানি সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হয় বিশাল এক ধরণের বিশেষ পর্দা। যেখানে কুয়াশার জলকণাগুলিকে সংগ্রহ করে নীচে একটি পাত্রে জমা করা হয়। এই ধরনের একটি পর্দার সাহায্যে, একদিনে, ১০০ গ্যালনেরও বেশি পানি সংগ্রহ করা যায়!

advertisement