বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

পরীক্ষার চাপ মুক্তির উপায়

শামস্ বিশ্বাস

  • advertisement

     

    পরীক্ষা মানেই ঝঞ্ঝাট। সমস্যার সমারোহ কিংবা বেয়াড়া উপদ্রব। বুকের খাঁচায় ধুকপুকানির পারদ চরম সীমায়। আর সব মিলিয়ে আর একটা যুদ্ধক্ষেত্র। কীভাবে জিতবেন যুদ্ধ? অথবা, বিপদসংকুল পথে কীভাবে খুঁজে পাবেন নিজের দিশা? তারই হদিশ রইল:

     

    মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্কুল-কলেজ-ইউনিভারসিটি ভর্তি পরীক্ষা নয়, এখন বছরভরই পরীক্ষা আর পরীক্ষা। আর পরীক্ষার আগে যখনই একটা ধরা-বাঁধা নিয়মের গন্ডীর মধ্যে আসতে হয়, তখনই বাড়ে মানসিক চাপ, টেনশন বা আতঙ্ক। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায়, অ্যাড্রেনালিন নামক একটি হরমোন নিঃসরণের প্রভাবেই ভয় পাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম বেরনো, মাথাব্যথা, বেশি ঘুম পাওয়া, খিদে মরে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, ক্লান্তি প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া এই সময়ে দেখা দেয়। তবে, সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

     

     

    টাইম-টেবল্ মেনে চলা 

    সারা বছর ধরেই একটা দৈনিক টাইম-টেবল্ মেনে চলতে হবে। দৈনিক পড়াশোনার অভ্যাসের মধ্যে থাকলে পরীক্ষার আগে মানসিক চাপ অনেকটাই দূর করা সম্ভব হয়।

     

    পরিকল্পনামাফিক লেখাপড়া

    পড়তে বসার আগে নিজের সিলেবাসটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিন। পড়ায় মন বসাতে প্রথমে কিছু সহজবোধ্য বিষয় পড়তে শুরু করতে পারেন। যে সময়টুকু মন দিয়ে পড়বেন, সেটাকে ভাগ করে গুরুত্ব অনুযায়ী বিষয়বস্ত্ত সাজিয়ে নিয়ে পড়ুন। সিলেবাস মেনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে উপরের দিকে রাখতে হবে।

     

    লক্ষ্য স্থির 

    যে বিষয় যতটা একদিনে পড়বেন ঠিক করেছেন, পারলে ততটাই পড়ে শেষ করুন। সময়ের মধ্যে পড়া শেষ করতে না পারলে শেষ মুহূর্তের জন্য সেই পড়া ফেলে রাখবেন না। পড়া যত অল্পই বাকি থাকুক না কেন, পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্ত সেটি পরীক্ষাভীতি আরও বাড়িয়ে তোলে।

     

    নোটস্ বানানোর অভ্যাস 

    আমরা কথায় বলি লেখাপড়া। কাজেই পড়ার সঙ্গে লেখাটা কিন্তু ওত-প্রোতভাবে জড়িয়ে। কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের পড়া শেষ হয়ে গেলে সেটা আপনি কতটা বুঝলেন বা কতটা মনে রইল, তা যাচাই করে নিতে নোটস তৈরি করুন। এ থেকে দুটি লাভ হতে পারে। প্রথমত: যে জায়গাগুলো আপনি বুঝতে পারছেন না, বা যেগুলো সম্বন্ধে আপনার ধারণা স্বচ্ছ হয়নি, সেগুলোকে আপনি চিহ্নিত করতে পারেন। দ্বিতীয়: নোটস্ বানানোর অভ্যাস থাকলে পরীক্ষার হলে আপনি যে কোনও ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সাবলীলভাবে উত্তর লিখতে পারবেন।

     

    রিভিশন পদ্ধতিতে ফাঁকি না দেওয়া 

    সিলেবাস অনুযায়ী পড়া শেষ হয়ে গেলে, সেই পড়াগুলো আবার ঝালিয়ে নিন। রিভিশন করার সময়ে কোনও ফাঁকি দেবেন না। কোনও অধ্যায় এড়িয়ে যাবেন না। প্রতিটি অধ্যায়কে আরও একবার করে খুঁটিয়ে পড়ুন। পড়ার পর লেখার অভ্যাস করুন। যত বেশি লিখবেন, ততই ভাল।

     

    একটানা অনেকক্ষণ পড়া উচিত নয় 

    মানব মস্তিষ্ক অত্যন্ত জটিল একটা বিষয়। দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গতিবিধির উপর এর নিয়ন্ত্রণ। কাজেই একটানা অনেকক্ষণ পড়ে মস্তিষ্ককে ভারাক্রান্ত করলে, তার প্রভাব শরীরের অন্যান্য অংশেও পড়ে। ফলে, খুব সহজেই মাথা ঘোরা, ক্লান্তির মতো নানান সমস্যা চলে আসে। তাই পড়ার মাঝে ব্রেক নিন। একটু রিল্যাক্স, দিতে পারে অনেকটাই তরতাজা করে দেবে।

     

    জোর করে পড়া বোঝার চেষ্টা করা ঠিক নয় 

    পড়ার সময়ে যে অংশটি একেবারেই বুঝতে পারছেন না বা একদমই পড়তে ইচ্ছে করছে না, জোর করে সেটিকে পড়তে যাবেন না। এতে আপনার সময় ও মানসিক শ্রম- দুই-ই নষ্ট। সিলেবাসের অপেক্ষাকৃত সহজ কোনও বিষয়ে নজর দিন। আর পড়তে পড়তে অসুস্থ বোধ করলে, একেবারেই পড়া এগোবেন না। 

     

    পুষ্টিকর খাবার জরুরি 

    মস্তিষ্ককে সতেজ রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। সবুজ শাক-সবজি, ফল, মাছ ও মাংস, ডিম, দুধ- এসবের চাহিদা শরীরে থেকেই যায়। যথাযথ পরিমাণে না মেটাতে পারলে আপনি অসুস্থ হতে বাধ্য। এর পাশাপাশি অনেক বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

     

    সামান্য এক্সারসাইজ 

    ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে বাইরে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। সামান্য কিছু ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা যোগব্যায়াম করতে পারেন। এতে শরীর-মন দুটোই ঝরঝরে থাকে।

     

    মেডিটেশন বা ধ্যান 

    পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন চিন্তা-দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার আর একটি অনন্য উপায় হল মেডিটেশন বা ধ্যান। প্রতিদিন এই অভ্যাস রাখতে পারলে মনঃসংযোগের ক্ষমতা বাড়ে।

     

    কফিজাতীয় উত্তেজক পানীয় পরিহার 

    অনেক সময়ই শরীরের ক্লান্তি বা ঘুম তাড়াতে অনেকে কফি জাতীয় উত্তেজক পানীয় খেয়ে থাকেন। কিন্তু বারে বারে এ ধরনের উত্তেজক পানীয় খেলে, তা স্নায়ুর উপর কুপ্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষার আগে দিনের পর দিন এই অভ্যাস চালাতে থাকলে, পরীক্ষার সময়ে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

     

    বাজারচলতি স্নায়ুসতেজমূলক ঔষধ খাওয়া ঠিক নয় 

    বিভিন্ন ঔষধ প্রস্ত্ততকারী সংস্থা ২৪ ঘণ্টাই আপনার স্নায়ুকে সতেজ রাখার জন্য যে সমস্ত ঔষধ বাজারে আনছে, তা একেবারেই পরিহার করুন। বেশিদিন এই ঔষধ ব্যবহার করতে থাকলে, তা আপনার স্নায়ুকে এমনভাবে কবজা করে, ভবিষ্যতে এ থেকে স্নায়বিক বিকারের সম্ভাবনাও থেকে যায়।

     

    উপযুক্ত সময় মেপে ঘুম 

    পরীক্ষার আগে ঘুম একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু ঘুমলেই হল না, আপনি কতটা সময় ঘুমচ্ছেন এবং আপনার কতটা ঘুম দরকার, সেটাও দেখা প্রয়োজন। সাধারণত, ৭/৮ ঘণ্টার ঘুম মানুষের সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন। কাজেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সময়টা ঘুমের জন্য তুলে রাখুন।

    আর, ছেলে-মেয়েরা যাতে পরীক্ষার আগে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে নজর দিতে হবে মা-বাবার। সবসময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করতে হবে, নিয়মিত উৎসাহ যোগান এবং সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করতে হবে মা-বাবাকে।

advertisement