বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

শাড়ি নিয়ে সুবোধ সরকারের সেই বিখ্যাত কবিতাটি

লুতফুল বারি পান্না

  • advertisement

    শাড়ি সংখ্যার লেখা পাঠ চলছে। যারা একটু সময় করতে পারবেন তারা পড়ে নিতে পারেন শাড়ি নিয়ে সুবোধ সরকারের সেই বিখ্যাত কবিতাটি। আবৃত্তিকারদের কল্যাণে যা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। শাড়ির রং নিয়ে হিসেব করলে দেখা যায় নীল শাড়ি মানুষের বেশী প্রিয়। এ সংখ্যায়ও তাই দেখতে পেলাম। শুধু নীলে নীলাকার। এর পরেই বোধ হয় গোলাপী শাড়ি। যে মানব মনস্তত্ব এর পেছেনে কাজ করে তার প্রমাণ এই কবিতায়ও আছে।

     

    শাড়ি
    সুবোধ সরকার

    বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা
    অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা
    এতো শাড়ি একসঙ্গে সে জীবনে দেখেনি।

    আলমারির প্রথম থাকে সে রাখলো সব নীল শাড়িদের
    হালকা নীল একটা কে জড়িয়ে ধরে বলল, তুই আমার আকাশ
    দ্বিতীয় থাকে রাখল সব গোলাপীদের
    একটা গোলাপীকে জড়িয়ে সে বলল, ‘ তোর নাম অভিমান’
    তৃতীয় থাকে তিনটি ময়ূর, যেন তিন দিক থেকে ছুটে আসা সুখ
    তেজপাতা রং যে শাড়িটার, তার নাম দিল বিষাদ ।
    সারা বছর সে শুধু শাড়ি উপহার পেল
    এত শাড়ি সে কি করে এক জীবনে পড়বে ?

    কিন্তু বছর যেতে না যেতেই ঘটে গেল সেই ঘটনাটা
    সন্ধের মুখে মেয়েটি বেরিয়েছিল স্বামীর সঙ্গে, চাইনিজ খেতে ।
    কাপড়ে মুখ বাঁধা তিনটি ছেলে এসে দাঁড়ালো
    স্বামীর তলপেটে ঢুকে গেল বারো ইঞ্চি
    ওপর থেকে নীচে। নীচে নেমে ডান দিকে ।
    যাকে বলে এল ।
    পড়ে রইলো খাবার, চিলি ফিস থেকে তখনও ধোঁয়া উড়ছে ।
    -এর নাম রাজনীতি, -বলেছিল পাড়ার লোকেরা ।

    বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা
    অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা
    একদিন দুপুরে শাশুড়ি ঘুমিয়ে, সমস্ত শাড়ি বের করে
    ছতলার বারান্দা থেকে উড়িয়ে দিল নীচের পৃথিবীতে ।
    শাশুড়ি পড়িয়ে দিয়েছেন তাকে সাদা থান
    উনিশ বছরের একটা মেয়ে সে একা ।

    কিন্তু সেই থানও এক ঝটকায় খুলে নিল তিনজন, পাড়ার মোড়ে
    একটি সদ্য নগ্ন বিধবা মেয়ে দৌড়াচ্ছে আর চিৎকার করছে, ‘বাঁচাও’
    পেছনে তিনজন, সে কি উল্লাস, নির্বাক পাড়ার লোকেরা ।

    বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা
    অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা....

advertisement

  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক অনেক অনেক ধন্যবাদ পান্না ভাই...এমন একটি কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য.....
    প্রত্যুত্তর . ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • নৈশতরী
    নৈশতরী আপনি এইভাবেই সবাইকে চমকে দেন !! আসলে উদার মনোভাব বা সাহিত্য প্রেম না থাকলে কেউ এমনটা করে না !! ধন্যবাদ ভাই আপনাকে !!
    প্রত্যুত্তর . ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • পন্ডিত মাহী
    পন্ডিত মাহী এমন কবিতা লিখলো কি করে!!! কাব্য-মেধা একেই বলে। কি শার্প, আবেগটা ফলার মত বিধে গেলো। এমন আরেকটা কবিতা পড়েছিলাম, অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিলো। সে এক অসাধারন কবিতা।
    প্রত্যুত্তর . ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২