বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ এপ্রিল ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ১৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

সময় তরী

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

বড় বাবা

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

হিসাবের খাতা

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

শুভদৃষ্টি

জ্যোতি হাসান
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৬৬
জায়গাটা খুবই সুন্দর। ছায়াঢাকা, সবুজ, আর একটু পর পর পুকুর। নাসিমা, রহিমা, আর ফাতেমা এই গ্রামেরই মেয়ে। তাদের জন্ম, বেড়ে উঠা সব এই গ্রামেই। এই তিনজনের গভীর বন্ধুত্ব দেখে ছোটবেলা থেকেই পাড়ার সবাই বলতো, “তোদের যা অবস্থা, এক বাড়িতেই তোদের বিয়ে দেওয়া লাগবো। আল্লাহ না করে, আবার সতীন না হস!!” আল্লাহ যেটা করলো, কাছাকাছি বাড়িতেই এই তিন বন্ধুর বিয়ে হোল। বাড়ির সব কাজ শেষ করে, একইসাথে ওরা তিনজন, পুকুরে কাপড় ধূতো, বাসন মাজতো, আর গল্প জুড়ে দিতো।

সুখে-দুঃখে এইভাবেই সুন্দর একটা গ্রামে, নাসিমা, রহিমা, আর ফাতেমার জীবন কেটে যেতে লাগলো। সেই রকম কোন বড় উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই তারা তিনজন তাদের জীবনের দিনগুলো পার করে দিচ্ছিল। সকাল থেকে সংসারের কাজ, তারপর রান্না, তারপর, তারপর প্রিয়জনদের যত্ন আত্তি, তারপর পুকুর ঘাটে যেয়ে রাজ্যের গল্প যেটা কিনা সপ্তাহের সাতদিন করলেও শেষ হবার না। মহাসুখি হয়তোবা তারা ছিলো না কিন্তু শান্তিময় পরিবেশে, বেশ শান্তি নিয়েই তারা জীবনটা পার করে দিচ্ছিলো।

নাসিমা, ফাতেমা, আর রহিমার বয়সের সূর্য এখন পশ্চিমের আকাশে ঢলে পড়েছে। তখন শীতের শেষ, বিকেলের দিকে গোসল আর কাপড় ধোঁয়া শেষ করে তিন বান্ধবী পুকুরের পাকা ঘাটে বসে গল্প করছিলো, তাদের গল্প ফুঁড়ানোর নয়। পুকুর পাড়ে হাল্কা কুয়াশা, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে তিন জনেরই। সবারই মনে হচ্ছে যার যার বাড়ির দিকে রওনা হওয়া উচিত, কিন্তু তাও যেতে ইচ্ছা করছে না। এই ব্যপার নিয়ে নিজেরা কিছুটা হেসেও নিলো নিজেদের মধ্যে। সবার গায়ের কাপড় হাল্কা ভিজা, মাথায় গামছা পেছানো, ফাতেমা সবার আগে উঠে পড়লো। নাসিমা আর রহিমাও উঠি-উঠবে করছে, এমন সময় চার-পাঁচ জন মানুষের গলার আওয়াজ পেল, সবাই পুরুষ মনেহচ্ছে। তাই আর দেরী না করে সবাই একই সাথে বাড়ির দিকে রওনা দিলো। কিন্তু সেই লোকদের দল হেঁটে এসে তিন বান্ধবীকে ধরে ফেললো, তাদের দিকে না তাকিয়েই তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। তিন বান্ধবী লজ্জায় একেবারেই মাটিতে মিশে যাচ্ছে। একজন আরেকজনের আড়াল নিয়ে দাঁড়ালো রাস্তার কোণায়, কিছুটা ঝোপঝাড়ে নিজেদের আড়াল করে। কিন্তু লোকগুলো নিজেদের মধ্যেই কথা বলছে, “রাস্তা যাবে, বড় রাস্তা হবে এইদিক দিয়ে। রাজধানীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ হবে। গাঁয়ের উন্নতি, গাঁয়ের মানুষের উন্নতি, দেশের উন্নতি ছাড়া সরকারের যে আর কিছুই চাওয়ার নাই!”

ভীত অবস্থায়, মন খারাপ করে তিন বান্ধবী যার যার বাড়িতে ঢুকে, অনেকদিন ধরেই তারা শুনছিলো এইদিক দিয়ে, তাদের বাড়ির পিছন দিয়ে, পুকুরের পাড় ধরে বড় রাস্তা যাবে, রাজধানীর খুব কাছেই এই গ্রাম। কিন্তু আলোর নিচের অন্ধকারের মতো এই এলাকাটা “অনুন্নত আর বুনোই” রয়ে গেছে।

কি হবে নতুন পাকা রাস্তা দিয়ে, শহরে তো প্রতিদিনই গাঁয়ের লোকজন যাতায়াত করছে, দিনে দিনে ফেরতও আসছে তাহলে আবার নতুন রাস্তা দিয়ে কি হবে ভেবে পায় না রহিমা, ফাতেমা, আর নাসিমা। ভয়ে আর উৎকন্ঠায় তাদের গল্প কমে যায়, গোসলে আর আগের মতো গল্প হয় না কেননা, হোন্ডা, গাড়ি, আর ট্রাক দিয়ে মানুষ আসে, আসে ইট, বালু...আসে আরও বড় যন্ত্রদানব। কাটা পরে গাছ, ঝোপঝাড়। সুন্দর ছায়াময়, শান্ত, নির্জন পুকুর ঘাটটাকে ঘিরে চলে উন্নতির পাগল খেলা।

রাস্তা তৈরি যায় দেখতে দেখতে, পুকুর আর পুকুরপাড়ের পাকা ঘাটটা ঠিকই থাকে, কিন্তু পাল্টে যায় তার চারপাশ। পানি আছে সেই পুকুরে এখন কিন্তু আর গোসল করার মতো অবস্থা নেই। তিন বান্ধবী এখন নিজেদের বাড়িতেই গোসল সাড়ে কিন্তু শেষ বিকেলে অভ্যাসমতো এসে বসে ধূলোয় ধূসর সেই ঘাটে, গল্প আর যোগায় না তাদের পান খাওয়া ঠোঁটে। রাস্তা দিয়ে অনবরত চলাচল করে বাস, ট্রাক, গাড়ি, ব্যাটারি গাড়ি আর গাড়ির ভিতরের ফিটফাট মানুষগুলো অবাক হয়েই তাকিয়ে থাকে এই তিন বৃদ্ধার দিকে, তাদের দৃষ্টিতে মেশানো থাকে করুণা আর কিছুটা হতাশা, হয়তোবা কিছুটা ঘৃণা। আর তিন বান্ধবীর অবাক দৃষ্টিতে থাকে ভয়, তাদের সবকিছু কেড়ে নেয়া বড় পাকা রাস্তা আর রাস্তার গাড়িগুলোকে নাসিমা, ফাতেমা, রহিমা বন্ধু করে নিতে পারে না। রাস্তাসহ, রাস্তার সাথের সবাইকেই অনেক ভয় পায় তিন বান্ধবী, ভয় তাদের ভাষা কেড়ে নেয় আর উপহার দেয় বোবা-হতবাক দৃষ্টি।

লেখক যাচ্ছিলো গাড়িতে ঐ রাস্তা ধরেই, ধূলা আর গরমের জন্য তার গাড়ির কাঁচগুলো তোলা, ইয়ার ফোনে গান শুনতে শুনতে, চারপাশ দেখতে দেখতে হয়তোবা ভালোই লাগছিলো লেখকের। নতুন রাস্তার উন্নয়নের কার্জের চাক্ষুষ প্রমাণ দেখে, কাটা গাছ, ভাংগা বাড়ি, আধ-ভাংগা দোকান ঘর দেখে অবশ্য লেখকের হয়তোবা মন খারাপও লাগছিলো কিছুটা। সেই পুকুরকে পাড় করছে লেখকের গাড়ি, ময়লা এঁদো ডোবা এখন পুকুরটা, পানি নাই, ভাঙ্গা ঘাটে বসে আছে তিন বান্ধবী, তাদের গাঁয়ের রঙচটা শাড়ি আর তাদের মাথার পাকা চুলগুলো দূর থেকেই লেখকের চোখে পড়েছে। মহিলাদের মায়াকারা চেহারার সাথে তাদের চোখের দৃষ্টি কেমন যেনো মিলে না, লেখকের কাছে তাদের দৃষ্টিগুলোকে ভীত মনেহলো না মোটেও, কেমন যেন রাগ আর ঘৃণা মেশানো মনেহলো, কেমন যেনো কটমট করে লেখকের দিকে তাকিয়ে ছিলো ওরা। লেখক গান বন্ধ করে দিলো, গাড়ির সিটের আরও নিচু করে বসলো যেন জানালা দিয়ে আর বাইরে চোখ না যায় আর বাইরে থেকেও কেউ যেন লেখককে দেখতে না পায়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ আক্তারুজ্জামান
    মোঃ আক্তারুজ্জামান তিন বান্ধবীর বন্ধুত্ব চমৎকার লেগেছে। উন্নয়নের থাবায় পড়ে ওদের আড্ডার স্থান 'পুকুর' টা হারানো পর্যন্ত ঠিকই ছিলো। কিন্তু লেখকের ঢুকে পড়া থেকে বাকিটুকু অস্পষ্ট, দুর্বোধ্য হয়ে গেছে। আমার মনে হয় সময় অভাবে গল্পটা আর এগিয়ে নেননি। জোর করেই সমাপ্তি টেনে দিয়েছেন। ধন...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৭ সেপ্টেম্বর
  • ফেরদৌস  আলম
    ফেরদৌস আলম অসমাপ্ত মনে হল তবে সামনে পুরোটাই আশা করছি। দারুণ লিখেছেন।
    প্রত্যুত্তর . ৯ সেপ্টেম্বর
  • খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি
    খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি লেখকের কাছে তাদের দৃষ্টিগুলোকে ভীত মনেহলো না মোটেও, কেমন যেন রাগ আর ঘৃণা মেশানো মনেহলো, কেমন যেনো কটমট করে লেখকের দিকে তাকিয়ে ছিলো ওরা। লেখক গান বন্ধ করে দিলো, গাড়ির সিটের আরও নিচু করে বসলো যেন জানালা দিয়ে আর বাইরে চোখ না যায় আর বাইরে থেকেও কেউ যেন লেখককে...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৯ সেপ্টেম্বর