বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ২০১৭
গল্প/কবিতা: ২৬টি

কাঙাল জাহাজ

প্রশ্ন ডিসেম্বর ২০১৭

মধ্যরাতের এক হাজার চোখ

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

ধাঁধার পয়ার

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

গল্প - প্রশ্ন (ডিসেম্বর ২০১৭)

আধো জলরোদের প্রশ্নপত্র

প্রজ্ঞা মৌসুমী
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৫৪
'থার্ড ইয়ারে পড়ে মেয়ের ফোন নেই? কি যা তা!' মেঝ মামার কাছে তখনও শিউলিদের অনেক কিছুই- কি যা তা! সেই দুপুরে প্রায় চকচকে কুড়ি ডলারের নোট হাতে স্তম্ভিত তুহিন দাতা হাতেমতাই হয়ে নিজের প্রিয়তর ফোনটাই দিতে চায় বোনকে। আর শিউলি স্তম্ভিত হয় এই ভেবে মেঝ মামাও আর দশটা-পাঁচটা। বাড়ির আর সবার মতোই। ডলার ভাঙিয়ে একটা ফোন কিনতে ভরসা করেনি শিউলিকে। তারচেয়ে বাড়ির সবথেকে মেধাবী তুহিন যে একদিন হয়তো বিভুঁই ঘুরে ঘুরে আনবে পারিবারিক অহংকার, সে-ই পেয়েছে ঐটুকুন অ্যাডভেঞ্চারের অধিকার।

এ বাড়ির ছেলেরা, পারিবারিক ঐতিহ্যের মতোই, ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে পেয়েছে বড়ো হবার প্রথম স্বীকৃতি- খালার বাড়ি একা বেড়াতে যাওয়া। মেয়েবেলায় শিউলি কত না প্রতীক্ষা করেছে ঐ একলা পথের রূপকথার জন্য, ঐটুকু স্বাধীনতার জন্য। 'হলোই বা নরসিংদী থেকে ঢাকা, এক ঘন্টার বাসের পথ, একলা যাবে নাকি মেয়ে? অসম্ভব!' শিউলির আর এই জীবনে একা কোথাও যাওয়া হলো না। অথচ ছোটবেলা থেকেই শিউলি চাইতো না- কেউ ওর হাত ধরে রাখুক। মনে পড়ে যেদিন প্রথম লঞ্চে উঠেছিল। সেই মন কেমন করা বিকেলে বুড়িগঙ্গার জল, বাতাস, আলো আর মানুষের ভিড়ে শিউলি হতে চেয়েছিল গঙ্গাফড়িংয়ের চোখ, উত্তাল চোখ। আর ফড়িংয়ের চোখ উপড়ে নেয়ার মতো-হাত ধরতে দেয়নি বলে নানী'বু রাগ করে নালিশ জানালে মা বিনুনি টেনে ধরে দুমাদুম কিল বসিয়েছিল পিঠে। হয়তো সেই তিক্ততাই থেকে গেল আজও তার বুকে। এত এত অবারিত সমুদ্র দেখেও কই এতটুকু উত্তাল হয় না তো শিউলির বুক, এতটুকু তৃষ্ণাও মেটে না অনুভূতির তলে।

জীবনে বেশি কিছু চায়নি শিউলি। হয়তো ঈশ্বর প্রবন্ঞ্চিত মানুষদের বেশি কিছু চাইবারও থাকে না। নিজের তুচ্ছতা মেপে বুঝে ঈশ্বরের কাছে চাইতেও ওদের বড়ো অস্বস্তি। ও শুধু ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো জেনেছিল ছোট মামাকে। ছোট মামাকে ও ভালোবাসত। নির্দোষ প্রশ্নহীন ভালোবাসা নয়, প্রশ্নবিদ্ধ ভালোবাসা। ছোট মামার পুরনো একটা তোয়ালে ছুঁয়ে কত রাত ও গন্ধ নিয়েছে। কতবার লেনিনের 'What Is to Be Done?' বইয়ের ২৫৬ পৃষ্ঠায় লাল কালিতে লেখা 'আহাদ' নামে চুমু খেয়েছে। সবার অগোচরে ছোট মামার এঁটো খাবার-চামচ মুখে দিয়েছে। এক দুপুরে দূর্বার অভিমানে ছোট মামার ফোন হাতে বলেছে- 'নিতে হলে এটাই নেব।'

ছোট মামা, শিউলির কমরেড যে বলেছিল শিউলিরও আছে এই গলে-পচে যাওয়া পৃথিবীটা বদলানোর ভার। স্বপ্ন দেখিয়েছিল এক আগুনরঙা বিপ্লব আর বিপ্লবরঙা পৃথিবীর। তারই অবসরে মেয়ে ভেবেছিল এক যাদুবাস্তবতা- কোন এক দূরে কুপির আলোয়, ওর চুল হবে কারো মুঠোয় ধানের গাছি। ভালোবাসা তার টালমাটাল ছিল তবে বেসামাল নয়। হয়তো তাই ওর কমরেড একদিন শেরওয়ানি, কমিউনিটি সেন্টারের ধাঁধানো আলো আর গৎবাধা অপ্সরী নিয়ে মুগ্ধতা তৈরি করে। শিউলির সঙ বলে ভ্রম হয়, বুকে জ্বালা করে। মানুষ আঁকড়ে আদর্শ গড়ার এও তো এক কষ্ট। মানুষ বদলে গেলে আদর্শ গড়িয়ে পড়ে কানা কড়ির মতো।

ফুটো কড়ির মতো গড়িয়ে গেছে কমরেড মামুনের সাথে শিউলির মুঠোফোনের প্রেমও। তখনও শিউলির কাছে কমরেড মানে পরিত্রাণ, সমস্ত অপরাগতার শেষে ভরসার খড়কুটো। তখনও শিউলির কাছে প্রেমই ছিল গঙ্গা। 'কাছের' শব্দে তখনও সে পায় শিউলির ঘ্রাণ। তাই মধ্যরাতের যৌনকাতরতাকে গঙ্গায় স্নান ভেবে দিয়েছিল প্রশ্রয়। তাই এক মধ্যরাতে, 'তুমি আঙুল ঢুকাওনা?' প্রশ্নে নিজেকে উপুড় করেছিল শিউলি- 'কোন পুরুষই পারেনি অতটা উত্তেজিত করতে যে আঙুলের খেলা খেলব।' সেদিনের কমরেড ভেবেছিল মেয়ের অহংকার। বুঝেনি গোপন অন্ধকারে আহত কবুতরের ডানা ঝাপটানো হাহাকার।

অহংকারের শোধ নিতেই হয়তো একদিন মধ্যরাতের পুরুষ প্রার্থনা জানায়- উলঙ্গ হও, আঙ্গুল রাখ। উম্মাদনা নেমে এলে খিস্তি তুলেছিল- মাগী, তোরে চুদি। পুরুষের অভিসার শেষ হলে কেটে যায় ফোনের লাইন। পরদিন একটা ছোট্ট ম্যাসেজ- 'তুমি পরিবারের পছন্দেই বিয়ে করে ফেল।' তারপর আর কোনদিন কথা হয় নি ওদের। তাই মধ্যরাতের পুরুষ জানেনি কোনদিন- সেদিনও জাগেনি শিউলি। সেই মধ্যরাতে ফোনের কালো রঙটুকু ছাড়া আর কোন কালো ছুঁতে পারেনি তার আঙুল।

তারপর একদিন হারিয়েছে ফোনের কালো রঙটুকুও। ততদিনে শিউলির নতুন উঠোন, নতুন বউয়ের ঘ্রাণ। যেদিন সে নতুন সিম নেয় সেদিনই কাকতালীয়ের মতো আসে অচেনা কল। আঠারোটা মিসকলের পর একটা আকুল ম্যাসেজ ওর চোখে জলছবি আঁকে- হাসপাতালের ক্লান্ত এক চাদর, একটা বিষণ্ন মুখ। ও ভাবে- কী হয়েছে ওর? ক্যান্সার? শিউলির ইচ্ছে করে জীবনে প্রথমবার একা একাই খুঁজে বের করে এই ধোঁয়াশার শহরে এক অচেনা রুগ্ন মুখ।

যারা দিয়েছে দিন-রাত ভরসা করার পাঠ, তারাই কোনদিন এতটুকু ভরসা করেনি মেয়েকে।
ও নিজেও কী জানে নিজেকে ভরসা করতে? তাই হয়তো ভোরের শিউলি ঝরে যায় একটি মাত্র বাক্যে- 'ভীষণ খারাপ লাগছে বলতে, এটা ভুল নাম্বার। তারপর আরও একবার মুঠোফোনে আসে কল। ওপাশের কন্ঠস্বর জানায়- হাসপাতালে আসার সময় এই নাম্বারটাই তো লিখে এনেছিল। ঠিক কোথায় হয়ে গেল সংখ্যার গড়মিল! শিউলির বুকে বুড়িগঙ্গা বয় আরও একবার হাহাকার নিয়ে। গভীরে তুলে রাখা প্রশ্নটা পৌঁছে দেয় ফোনের ওপারের আকুলতায়-'খুব কী কাছের কেউ সে?' হয়তোবা আবারো জানবে শিউলি 'কাছের' শব্দটা কত না প্রশ্নবিদ্ধ!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মনজুরুল  ইসলাম
    মনজুরুল ইসলাম Ottonto vabgombhir. abong esposto. Tobe ar aktu boro korle aro poriskar hoto.Characterer bornona dite parten.shuvo kamona roilo.
    প্রত্যুত্তর . ৫ ডিসেম্বর
    • প্রজ্ঞা মৌসুমী প্রথম মনে হয়েছিল- কী হয়েছে, তার থেকে কী হতে পারতো তাই নিয়ে যেন বললেন। তবে পরামর্শ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ। লেখার সময় আমার ঐ মধ্যরাতে, মোবাইলে লিখি। মেয়ের ঘুম যেন না ভাঙে। তাগাদা আর তাগিদ দুটোর ভিড়ে গল্পের পরিসর নিয়ে ভাবা হয় না। আবার মধ্যরাতের এক ধরনের অস্পষ্টতা আছে, হয়তো ঐ পরিবেশটা আমার লেখার ধাঁচেও চলে আসছে। হয়তোবা আমার লেখার ধাঁচটা বরাবর ঐরকমই- আধো আড়াল ধরে রাখা।
      প্রত্যুত্তর . ৬ ডিসেম্বর
  • মুশফিক রুবেল
    মুশফিক রুবেল ভাল লাগলো , শুভ কামনা রইলো , সময় পেলে আমার গল্পটি পড়ার অনুরোধ রইলো
    প্রত্যুত্তর . সোম ১:৫৭ অপরাহ্ণ
  • হাবিবুর রহমান
    হাবিবুর রহমান গোছানো লেখা, স্পষ্ট বাক্যচারণ অথচ বলছেন তাড়াহুড়া করে লেখা? গল্প অস্পষ্ট হলেও ভাল লাগলো।
    প্রত্যুত্তর . ৮ ঘন্টা আগে