লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ জানুয়ারী ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৩৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশ্রম (মে ২০১৫)

পুরামাটি
শ্রম

সংখ্যা

আল- আমিন সরকার

comment ৬  favorite ০  import_contacts ৯৩৫
ফজর নামাজের আযান ভেসে আসে পাশের মসজিদ থেকে । তারই সাথে ঘুম ভেঙ্গে যায় শরিফার । গতকাল তাকে খুব ভোরে প্রস্তুত থাকতে বলেছিল - তাদের গ্রামের সলিম মিয়া, সকালের ট্রেন ধরতে হবে বড়াল ব্রিজ স্টেশনে । চলন বিলের এই সুবিধা বঞ্ছিত মানুষদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ট্রেন। সলিম মিয়া ঢাকার এক গারমেন্সে চাকরি করে । ছয় ভাই বোনের মধ্যে শরিফা বড় । গায়ের রঙ কাল হাওয়ায় তার তেমন বিয়ের সমন্ধ আসে না । অভাব অনটনের ঘরে একটু সচ্ছলতার আশায় শরিফার এই ঢাকা যাত্রা , আবার বিয়ের জন্য ও তো টাকা পয়সা প্রয়োজন আছে । কারখানার পাশেই গারমেন্স কর্মীদের মেসে থাকে সে । তার মত হাজার হাজার কর্মীদের সাথে কাজ করতে ভালই লাগে শরিফার । গ্রামের মেয়ে হিসেবে কঠিন কাজ করা তার রক্তে মিশে আছে । নদীতে সাঁতার থেকে শুরু করে গাছে উঠা পর্যন্ত সব করতে পারে সে।অল্প দিনের মধ্যে সকল কাজ শিখে ফেলে অনায়াসে । ওভার টাইম ও করতে হয় তাকে । মুল বেতনের সাথে আরও বাড়তি টাকা জমা হয় তাতে । যে শরিফাকে সংসারের বুঝা মনে করত সকলে , সেই শরিফা আজ পরিবারের কাছে গ্রহন যোগ্য হয়ে উঠল । বাবা রফিজ মিয়ার হাতে মাসে কিছু টাকা পয়সা দিতে পেরে নিজের উপর বিশ্বাস বেড়ে গেলো তার । শরিফা বাবাকে ফোনে বলেছে আগামি মাসের বেতনের টাকা দিয়ে ঘরের ছিদ্র চালা পরিবর্তন করতে । সে জানে বৃষ্টির দিনে কতই না দুর্ভোগ সইতে হয় তাদের । এ দিকে শরিফার বিয়ের সমন্ধ দেখতে থাকে তার বাবা । মেয়েকে বিয়ে দেওয়া বাবা – মায়ের জন্য বড় কর্তব্য । রফিজ মিয়া ছেলে ও ঠিক করে ফেলে । ছেলে পক্ষ মেয়েকে দেখতে চায় । কিন্তু শরিফার সময় কোথায় । পোশাক ডেলিভারি তারিখ ঘনিয়ে আশার কারণে প্রতিদিন ১৬-১৭ ঘণ্টা কাজ চলছে তাদের কারখানায় । পোশাক ডেলিভারিটি হয়ে গেলে বাড়িতে যাবে বলে সে জানায় । এ দিকে বাবা রফিজ মেয়ে দেখানর প্রস্তুতি নিতে থাকে । ও দিকে অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয় শরিফাকে । এমনি এক রাতে শর্ট সার্কিট – হয়ে আগুন লেগে যায় কারখানার নিচ তলার স্টোর রুমে । সেখানে থেকে মুহূর্তের মধ্যে সব ফ্লোরে আগুন ছড়িয়ে পরে । শরিফা আর তার সহ-কর্মীদের বাঁচার আর্তনাদে কারখানার আশপাশের এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে । এভাবেই শরিফারা হারিয়ে যায় ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement