সেদিন রাকিব টেলিভিশন অন করতেই দেখতে পেল, ভয়ার্ত মানুষের ছোটাছুটি । বোম আর গুলিরর শব্দ । কনসার্ট চলাকালে হামলা হয়েছে এক জায়গায় । রক্ত , লাশ আর ভাগ্য জোরে বেঁচে যাওয়া মানুষের অদ্ভুত দৃশ্য স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে যেন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে । কেন এ অস্তিরতা – রাকিব ভাবে ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, বিশ্ব-রাজনীতিতে স্থায়ী পরিবর্তন হয় । জাতিসংঘ গঠন করা হয় । সাম্রাজ্যবাদী শক্তি গুলো দৃশ্যত অধিকৃত ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে থাকে । শোষিত এই দেশ গুলোতে রেখে যায় তাদের তৈরি আইন- কানন আর নীতি । দাতা গুষ্ঠি গুলো ঋণ দিতে থাকে এই ভাগ্যহত দেশ গুলিকে । সেই ঋণের চোরা বালিতে দেশ গুলো পরিণত হতে থাকে তলাবিহিন ঝুড়িতে । এই দেশ গুলোর ভাগ্য এখন ও তাদের ঈশরায় নির্ভরশীল - রাকিব ভাবে ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে পারমানবিক বোম নিক্ষেপণ , বিশ্বের ভাগ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে দেয় । শক্তিধর ও কিছু উন্নয়নশীল দেশ অস্ত্র তৈরি করার প্রতিযোগিতায় নেমে যায় – রাকিব ভাবে ।

শীতল যুদ্ধের সময়ে বিবদমান দুই শক্তির - এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য , জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয় । কোমল মতি ছাত্রদের যোদ্ধা বানিয়ে উগ্রতা ছড়িয়ে দেওয়া হয় বিষ-ফোঁড়ের মত । এক সময়ের বন্ধু পরে শত্রু মানুষটিকে মেরেও ফেলা হয় । কিন্তু সেই বিষ – ফোঁড়ে বিষ যুক্ত হয় সারা পৃথিবী – রাকিব ভাবে ।

অন্য দিকে তেল সমৃদ্ধ আরব দেশ গুলোর আরাম- আয়েশ প্রিয় শাসকদের সাথে পরা শক্তি গুলোর সম্পর্ক খারাপ ছিল না । তাদের সুখের ঘরে দুঃখের আগুন দেওয়ার জন্য , সুকৌশলে এক দেশকে আরেক দেশের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয় । দীর্ঘ কয়েক বছর যুদ্ধ শেষে – আসল যুদ্ধে নেমে পড়ে বিশ্বের একচ্ছত্র শক্তির অধিকারী দেশটি, তার এক কালের বন্ধু দেশটির সাথে মিথ্যা অজুহাতে । তারপর আরব বসন্ত পেরিয়ে বিশ্ব এখন হিংসার দাবানলে পূড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় - রাকিব ভাবে ।

রাকিব আরও ভাবে এই নাম না জানা শক্তি গুলো অর্থ আর অস্ত্র পায় কোথা থেকে । অর্থের বিকল্প উৎস থাকতে পারে , কিন্তু অস্ত্রের কান্ট্রি অফ অরিজিন সকলের তো জানা । গোলক ধাঁধায় পরে- পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষেরা, রাকিবের মত সর্ষে টাকেই ভূতের উৎস বলে বেশি সন্দেহ করে ।