‘জানিস! শরৎ শব্দটিই আসলে উৎসবে-পার্বণে মোড়া’
বড় মনোরম আর স্নিগ্ধ মন্তব্য ছিল তোমার।
আজও কানে বাজে। পদ্মকলির মতো
ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কত কথা কইতে তুমি?
যেদিন প্রথম আমাতে-তোমাতে দেখা হলো
শারদীয় উৎসবে, তোমার হাসির ফোয়ারায়
সেদিন মিইয়ে গেছিল শেফালী, অতসী।
শাখায় থমকে ছিল বকুল, ঝরে পড়েনি।
দুলতে ভুলে ছিল নদী পাড়ের কাশবন আর
তালগাছের পত্র লাগোয়া বাবুই বাসা।

মাত্র তিনটি বছরের ব্যবধান; কী হলো?
আবার শারদ উৎসব এলো, মেলায় তুমি
অচেনা পুরুষের হাতে হাত।

ছিলে ছেঁড়া ধনুকের আঘাতটা বুক পেতে নিলাম,
জবা ফুলের মতো টকটকে লাল রক্তক্ষরণ টের পাই।
কি অবলীলায় বদলে গেলে তুমি?
জানলাম, নধরকান্তি দেহের পুরুষটি ডাকসাইটে
ব্যবসায়ী। ধান্ধায় সাক্ষাৎ মিত্তাল বাবু।
আমার মতো আটপৌরে; তার কাছে ফ্যালনা বৈকি?
কালভেদে বদলালো শরৎ। এখন চোখ বুজলেই
শুধু স্মৃতির মিছিল খেলে যায় অবিরাম।।