প্রতি বছরের মতো , এবারও
মা দুর্গা এলেন ।
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রবন্ধ মিলিয়ে দেখলাম ;
সবই ঠিকঠাক মিলে যাচ্ছে :
তেমনই তেজদীপ্ত দু’চোখ ;
তেমনই ভয়হীন সাহস ;
তেমনই প্রতিবাদী এবং প্রতিশোধগ্রাহী অঙ্গ-বিভঙ্গ ...
প্রতিটা হাতে সাজানো আছে অস্ত্র ।
দু’কাঁধ ভেঙে বিপুল উচ্ছ্বাসে নেমে এসেছে চুল ।
ক্লাবের ছেলেরা , পাড়ার দাদারা , পুজারি-ব্রাহ্মণ , উৎফুল্ল দর্শনার্থী
সবাই পুজোর তিন-চারদিন এমন ধুমধাম চালালো যে
হাজার হাজার বছরের পুরানো ঘটনাটা ;
আবার যেন সত্যি হয়ে ফুটে উঠল ।

আর এরই মাঝে
একদিন বিল্টুদের সাজানো ইন্দ্রজালে ;
শিশিরদের নানান মুন্সিয়ানায়
নাবালিকা দুর্গাকে বলাৎকার করা হল ।
সাথে সাথে সভ্য সমাজ মুখে কুলপি এঁটে নিল ।
প্রতিবেশি , আত্মীয় , আইন , প্রশাসণ , সমাজসেবী সংস্থা
বুদ্ধিজীবী , সংবাদমধ্যম , সরকার এবং বিরোধীপক্ষ কেউই
তার দু’হাতের পাশে দশ হাত হয়ে দাঁড়ালনা ।
দুর্গা রাগে , ঘৃণায় , অপমানে আত্মহত্যা করল ।

অথচ সামনের বছর :
দুর্গার পুনরায় আবাহনের জন্য
একবছর আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু হল ।