ইটি এ ঘর ও ঘর ঘুরে ঘুরে মায়ের বকুনি খেয়ে শেষে নিজের ঘরে এসে বই নিয়ে পড়তে বসল। জানালার ধারে টেবিলের সর্বকোণে তার রাজত্বে সুই, সেফটিপিন থেকে শুরু করে তিনুর সিগারেটের প্যাকেটের রেডিও পর্যন্ত সব কিছু আছে। বলাতো যায় না কখন কি লাগে। জানালার বাইরে স্যাঁতস্যাঁতে ডালিম গাছের তলা পেরিয়ে বেশ খানিকটা দুরে তাকালে জোড়া তালগাছওয়ালা বাড়িটা হল মেহেদীদের। ছেলেদের নাম কেন যে মেহেদী হয় কে জানে। মেহেদী শুনলে কেমন মেয়ে মেয়ে লাগে। তবে ও খুব স্মার্ট, অন্তত ইটির মতে। ইটির চেয়ে তো অবশ্যই। ইটি নামটা নিয়েও ওর সর্বক্ষনের প্রশ্ন মায়ের কাছে। কিন্তু মা সব সময় এড়িয়ে যায়। ও একটা ছবি দেখেছিল সেখানে ইটি নামে একটা এলিয়েন ছিল। কিন্ত তার চেহারায় এলিয়েনের কোন চিহ্ন নেই। তিনু ওর ছোট বোন। ও একমাত্র বড় ভাই। তাই তিনুর যা আবদার বড় ভাই হিসেবে সব মেটানোর দায়িত্ব ওরই। হঠাত মারমুখি তিনু ঘরে ঢুকল পেন্সিল ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ নিয়ে। যদিও এ অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। আসল কথা হল হোমোয়ার্ক থেকে মুক্তি পাওয়া। বাবা এখন এই ভর সন্ধ্যায় আধ মেইল হেটে হারুর দোকানে পেন্সিল আনতে যাবে না। আর গেলেও পেন্সিল নিয়ে যখন বাবা বাড়ি ফিরবে ততক্ষনে ও ঘুমের রাজ্যে ডুব সাতার কাটবে। সে ঘুমের রাজ্য থেকে ফেরত আনবে সে সাধ্য মা’র ও নেই। সুতরাং আজ এখানেই ওর পড়ার সমাপ্তি। কিন্তু তার রাজ্যের হোম ওয়ার্ক পড়ে আছে। কি হবে এত এত হোম ওয়ার্ক করে? ইটি ভাবতে থাকে। যদি হোমওয়ার্ক আর পরীক্ষার পড়াটা না থাকত তবে স্কুল কত আনন্দেরই না হত! কত বড় বড় মনীষিই তো স্কুলে যায়নি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল আরো কতজন। এমনকি সেদিন যে স্টিভ জব মারা গেলো কম্পিউটারে যার অবদানের কথা ও ক্লাসে টিচারের মুখে শুনেছে, সেও তো কলেজ শেষ করতে পারেনি। যতবারই এসব বড় বড় কথা মাকে বোঝাতে গিয়েছে ততবারই কান মলা খেয়ে পড়ার টেবিলে ফেরত আসতে হয়েছে তাকে।
এসব ভাবতে ভাবতে ইটি কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল জানেনা । ঘুম ভেঙ্গে দেখে বেলা হয়ে গেছে। চিৎকার চেচামেচি শুরু করে দিল সকালে ঘুম না ভাঙ্গানোর জন্য। তার ওপর আজ আবার তার হাওয়াই গাড়িতে হাওয়া নেই। কি যে হবে আজ। বাংলা টিচার নিশ্চয়ই ‘নবাবজাদা এলেন’, বলে সবার সামনে বকুনি দিবেন। অথবা মেজাজ বেশি খারাপ হলে কান ধরিয়েও দাঁড়া করিয়ে রাখতে পারেন। সে নাশতা না খেয়েই দৌড় লাগাল সাইকেলটা নিয়ে। মা পেছন পেছন এসেও নাগাল পেল না। কিছুতেই আজ ও ক্লাসে এবসেন্ট হবে না। আজ বিজ্ঞান ক্লাস। ওদের বিজ্ঞান স্যারের নাম শঙ্কু রয়। শঙ্কু স্যার আজ উনার দশ বছরের এক্সপেরিমেন্ট স্কুলে সবার সামনে উপস্থাপন করবেন। স্কুল ল্যাবের ঠিক পেছনে গজারী বনের অন্ধকারে স্যারের নিজস্ব ল্যাব আছে। সেই ল্যাবে কারো ঢোকার অনুমতি নেই। সেখানেই রয়েছে শঙ্কু স্যারের রহস্যময় আবিষ্কার। রোগা, পাতলা, চুলহীন তেল চকচকে টাকওয়ালা মাথার এই মানুষটি আর সবার থেকে আলাদা দেখতে। টিকালো নাক, নাকের শেষ মাথায় হ্যারি পটারের গোল চশমা তাঁকে সবার কাছে আরো অদ্ভূত করে তুলেছে। মুখের সবচেয়ে আকর্ষনীয় জিনিস হল তার ঘন কাল একজোড়া গোঁফ। যেটা দেখে বোঝা যায় একসময় তার মাথা ভরা চুলও ছিল। স্যারকে কোনদিন কেউ হাসতে দেখেছে বলে মনে হয় না। স্যারের বেতের বাড়িগুলোও সবার থেকে আলাদা। বেতটা ঠিকই বাতাসে সপাং করে উঠে যাবে। কিন্তু পিঠের ওপর নেমে আসবে খুব ধীর গতিতে, আলতো করে। কিন্তু উনার ক্লাসেই ইটির যত আগ্রহ। মাধ্যাকর্ষন শক্তি না থাকলে ভর পরিমাপের যে কনো উপায় নেই সেটা শঙ্কু স্যারের কাছেই জানা। ক্যালকুলাসের মত কঠিন ব্যাপার উনি যেভাবে সহজ করে বুঝিয়েছেন সেটা আর কেউ পারবে না। ও যে ম্যাগনেফাইং গ্লাস সূর্যের আলোতে কাগজের উপর ধরে কাগজে আগুন তৈরী করে তিনুকে অবাক করে দেয় সেটা এই শঙ্কু স্যারেরই অবদান। একবারতো সে রাংতা আর ব্যাটারি দিয়ে ছোট্ট বালব জ্বালিয়ে বাসার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। মাঝেমাঝে সে শঙ্কু স্যারের ল্যাবে উকি মেরে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু আধি ভৌতিক অন্ধকারে কিছু আলো আধারের খেলা ছাড়া আর কিছুই দেখেনি সে। এরপর অনেকবার স্যারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেছে সে কিন্তু সফলতা আসেনি কখনো। একদিন সাত সকালে স্যারকে বাজারের ব্যাগ হাতে দেখে সাহায্য করতে যেয়ে আহত হয়ে ফিরে এসেছিল। স্যার কেন যে বোঝেননা যে ও মনেপ্রাণে উনার মত হতে চায়। সবাই বলাবলি করে স্যার নাকি মানুষ ক্লোন করছেন উনার ল্যাবে। আমেরিকাতে ক্লোনিং ব্যান্ড করে দিয়েছে। আজ যদি স্যারের ক্লোনিং মানুষটা সবার সামনে নিয়ে আসে তবে কি উনাকে জেলে ধরে নিয়ে যাবে? মাথায় শত শত ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে। ভীষন উত্তেজিত সে আজ। সাইকেলে হাওয়া দেয়া হয়ে গেছে। এখন শুধু জোড়ে প্যাডেল মারলেই হল।
গতবছর ডিসেম্বর মাসে ওদের বগুড়া জিলা স্কুল সায়েন্স কম্পিটিশনে ফার্স্ট হয়েছিল আরো বিশটা স্কুলের মধ্যে। বিশাল আকৃতির ট্রফি ছিনিয়ে এনেছিল ওরা। সেটা এখন প্রিন্সিপাল স্যারের রূমে। যেন সব কৃতিত্ব প্রিন্সিপাল স্যারেরই। অথচ কি খাটুনিই না খেটেছিল সেবার শঙ্কু স্যার আর ওদের পুরো টিমটা মিলে। তার ওপর বাজেট ছিল কম। মানুষের বর্জ্য থেকে কি করে প্রায় বিনা খরচে টন টন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় সেটা দেখানো হয়েছিল সেবারের কম্পিটিশনে। একশ ওয়াটের বালব জ্বালিয়েছিল তারা বেশ কয়েকটি। কম্পিটিশনে ফার্স্ট হয়েছিল ওরা ঠিকই কিন্তু প্রিন্সিপালকে যখন শঙ্কু স্যার তাদের স্কুল আলোকিত করার ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিল তখন উনি নাক সিটকালেন। কিন্তু ঠিকই ট্রফিটা উনার ঘরে নিয়ে চলে গেলেন। এমন একটা ভাব যেন উনিই জিতেছেন। এভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে হয়ত সারাদেশ আলোকিত করা যেত। বিদেশ থেকে এত এত টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ কিনে আনতে হত না। এমনকি সরকারের পছন্দ হলে আরো অনেক কিছু করা সম্ভব ছিল। যেমন, ইলেক্ট্রিক ট্রেন চালু করা। এ সবই শঙ্কু স্যারের ভাবনার মধ্যে ছিল। কিন্তু কিছুই হল না।
আজ বিকেলে স্কুলের বড় মাঠটায় ভীষন একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে – বারবার মাথায় একই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। চিন্তায় ছেদ পড়ল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে। জোড়ে প্যাডেল দিতে হবে। কোনমতে সে স্কুলে পৌছল গেট বন্ধ হওয়ার আগ মূহুর্তে। ক্লাসে ঢুকে ক্লাসগুলো কিভাবে পার করবে বুঝতে পারছিল না। মেহেদীকে জিজ্ঞেস করল, “তোর কেমন লাগছে রে? খুব অস্থির লাগছে তাই না রে?” মেহেদী নিরুত্তাপ গলায় উত্তর দিল, “বিকেল হলেই দেখতে পাবি সব। এত ভাবনার কি আছে?“
ছয়টা ক্লাস পার হল কোনমতে। অপেক্ষার পালা শেষ এবার। এবার শুধু বিস্ময় আর বিস্ময়। সবাই দলে দলে ঘন সবুজ মাঠে জমায়েত হতে লাগল। ছোট্ট স্টেজ করা হয়েছে। সামনের চেয়ারগুলিতে স্যারদের বসার জায়গা করা হয়েছে। স্টেজের উপর প্রিন্সিপাল স্যারের সামনে মাইক। শঙ্কু স্যারের সামনে রাখা কতগুলি বড় বড় টেস্ট টিউব। এগুলিই সেই টেস্ট টিউব যেগুলি অস্পষ্ট আলো ছায়ার খেলা তৈরী করত। স্যার সেগুলি নিয়ে মগ্ন হয়ে আছেন। কে আসছে, কে কি বলছে সেটা নিয়ে তাঁর কোন মাথাব্যাথা নেই। প্রিন্সিপাল স্যার তার বক্তৃতা শুরু করলেন আর সব সময়ের মত। প্রথমে নিজের গুনকীর্তন। তারপর শুরু করলেন, শঙ্কু স্যার আমাদের দশ গ্রামের গৌরব। উনি এটা করেছেন সেটা করেছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ উনার জন্ম কোন গ্রামে, বাবা- মা কে, কোথাও কোন আত্নীয়-স্বজন আছে কিনা, কেউ জানেনা।
এদিকে দিনের আলো ফুরিয়ে আসছে। পুবের আকাশের সূর্যটা গ্রামের মাথার উপর থেকে নিচে নামতে শুরু করেছে। মা বোধহয় ভেবে ভেবে অস্থির হচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত প্রিন্সিপালের বক্তৃতা শেষ হল। উঠে দাড়ালেন শঙ্কু স্যার। ইটি হাততালি দিয়ে উঠল। স্যারের হাতে সেই বোতলগুলোর একটা। যার ভেতর নীল-সবুজ তরলের মধ্য দিয়ে উকি দিচ্ছে অদ্ভূত কিছু একটা। মনে হচ্ছে এটা একটা ক্ষুদে মানব। সত্যি কি এটা তাহলে ক্লোনিং মানব! ছোট্ট মানবের গোলাপী চামড়া দেখা যাচ্ছে বোতলের বাইরে থেকে। ক্ষুদে ক্ষুদে হাত পা দেখা যাচ্ছে। ত্রিকোণাকৃতির মুখে বড় বড় এলিয়েনের মত সবুজ চোখে আলো বেরুচ্ছে। উনি বলতে শুরু করলেন, কত পরিশ্রম কত অধ্যাবসায় - কিন্তু শেষ করতে পারলেন না। প্রিন্সিপাল স্যার একরকম জোড় করে মাইক নিয়ে নিলেন উনার হাত থেকে। প্রিন্সিপালের মুখ রাগে রক্তিম হয়ে গেছে। বোঝা গেল উনি ভর্তসনা শুরু করেছেন। শঙ্কু স্যার সবাইকে কিছু একটা বোঝাতে চাইছেন। কিন্তু লোকজন দৌড়ে চলে যাচ্ছে। ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে ‘ বোতল মানব’ ওদের দিকে। ইটির ভয় আর ঘেন্না মেশানো একটা অনুভূতি হল। ওর সব বন্ধুরা চলে গেছে শুধু মেহেদী ছাড়া। এমনকি আর সব স্যারেরাও। শঙ্কু স্যার বসে আছেন স্টেজে। ফাঁকা হয়ে গেছে চারপাশ। শঙ্কু স্যারের মুখে কোন রাগ বা কষ্টের আভাস নেই। বসে আছেন বোতল মানবকে নিয়ে। চারদিক অন্ধকার হয়ে গেলেও স্টেজ থেকে আলো আসছে। মেহেদী ওকে হাত ধরে স্টেজের কাছে টেনে নিয়ে গেল, বলল চল, কাছে গিয়ে দেখি। ওরা দেখল স্যার নিবিষ্ট মনে কথা বলছে বোতল মানবের সাথে। ইটি একটু এগিয়ে গেল কি বলছেন সেটা সেটা ভাল করে শোনার জন্য। হঠাত ওদের পেছনে বিকট শব্দে কি যেন বিস্ফোরণ হল। পেছনে তাকাতে চোখ ধাঁধিয়ে গেল প্রখর আলোতে। ভাল করে দেখে বুঝতে পারল এটা একটা আলোক চাকতি। ‘ইউএফও’ নামের সিনেমাটায় দেখা ঠিক আলোক চাকতির সাথে হুবহু মিল আছে এটার। আলোর মধ্য দিয়ে নেমে এল ছয়জন ক্ষুদে ক্ষুদে সবুজ আলো ছড়ানো মানুষ। না ওরা বোধহয় মানুষ না। বুঝতে পারল ইটি, ওরা আসলে ভিন গ্রহের কেউ। যাদের আমরা এলিয়েন বলি। ওরা একসাথে মিলিটারীদের মত তালে তালে হেটে আসছে। ওদের দেখে শঙ্কু স্যার ওদের দিকে হাটা শুরু করলেন। যেন উনি আগে থেকেই জানতেন যে ওরা আসবে। ইটি আর মেহেদীও স্যারের পেছন পেছন হাটতে লাগল বিশাল আলোক চাকতির দিকে। আলোর ভেতর দিয়ে হাটতে হাটতে ও যেন হঠাত বড় হয়ে গেল। সব ভয় দূর হয়ে গেল। সয়ংক্রিয় দরোজায় পা রাখতেই বাতাসের বেগ ওদেরকে উড়িয়ে নিয়ে চাকতির ভেতর ফেলতেই চাকতির দরোজা বন্ধ হয়ে গেল। চাকতির ভেতর আলো আরো প্রকট যার জন্য ওদের কোন ছায়া পড়ছে না কোথাও। ওরা যেন ফিলমের নেগেটিভের মত পাতলা আর স্বচ্ছ হয়ে গেছে। অথবা গলে যাওয়া ধাতব বস্তুর মত মনে হচ্ছে ওদেরকে। কয়েক সেকেন্ড পর আলোটা একটু সয়ে এলে চারদিক তাকিয়ে ও দেখল ওদের মত আরো অনেকে রয়েছে সেখানে। সম্ভবতঃ ওদের কেউ চীনের, কেউ জাপানের, আর কেউবা ইউরোপের। তবে ওদের তিনজন ছাড়া বাঙালি আর কেউ নেই বলে মনে হচ্ছে। কিছুক্ষন পর স্বম্বিত ফিরে পেলে ও দেখল শঙ্কু স্যার এলিয়েনদের মত মানুষদের সাথে কি যেন বলছে তার বোতল দেখিয়ে। শঙ্কু স্যার কি আগে থেকে ওদের চিনত? বোতল মানুষটা কি আসলেই উনার বানানো? নাকি ওরা স্যারের কাছে দিয়ে গিয়েছিল? নাকি স্যারকে ওরাই পাঠিয়েছিল মানুষদের ওপর গবেষণা করার জন্য? এজন্যই কি উনার চেহারা আর সবার থেকে আলাদা ছিল? কাকে জিজ্ঞেস করবে এত প্রশ্ন? একমাত্র মেহেদী ছিল জিজ্ঞেস করার মত । সেও তো এখন একেবারে বোবা হয়ে গেছে। হঠাত মনে হল তার পায়ের নীচে কিছু নেই, সে শুন্যে উড়ছে। তবে কি ওরা পৃথিবী ছাড়িয়ে অনেক দূরে চলে এসেছে যেখানে মাধ্যাকর্ষন শক্তি কোন কাজ করে না? কখন ওরা চলতে শুরু করল? একি, সবাই ভাসছে। মেহেদী কোথায়? তার শরীর অনুভূতি শুন্য হয়ে গেছে। হাত পা গুলি মনে হচ্ছে আলাদা হয়ে ভেসে চলছে। এভাবে ভাসতে ভাসতে বাজ পড়ার মত কড়কড় একটা শব্দ হল। ওরাও নীচে নেমে এল। ওরা কি এবার অন্য একটা গ্রহে, নাকি চাঁদে অথবা আবার পৃথিবীতেই নেমে এল এখন? মনে হচ্ছে ওরা পৃথিবীতেই অবতরণ করেছে। কারন পৃথিবী ছাড়া আর কোথাও হলে তো এখনো ওরা ভাসতে থাকতো। আর কোথাও তো মাধ্যাকর্ষন শক্তি নেই। এমন সময় কে যেন ওর নাম ধরে ডাকতে শুরু করল। এখানে আবার কে ওর নাম জানে মেহেদী আর শঙ্কু স্যার ছাড়া। গলাটা ওর খুব চেনা চেনা লাগছে। মেহেদী? নাহ, একদম ওর মা’র গলার আওয়াজের মত। মা এলেন কোথা থেকে এখানে। ওরা কি মা’কেও নিয়ে এসেছে? চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে মা ওর সামনে দাঁড়িয়ে। ও মা’কে জিজ্ঞেস করল, তুমি এখানে কি করে এলে? মা বললেন, কি আবোল-তাবোল বকছিস? স্কুলে যাবি, রেডি হয়ে নে। সারারাত চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে নিলি? আজতো আবার তোর সাইন্স ফেয়ার না কি যেন আছে। ভালমত খেয়ে বের হবি। ফিরতে ফিরতে তো মনে হয় রাত হয়ে যাবে গতবারের মত।