চোখের নীচে জমতে জমতে জমেছে অনেক কালি
শেষ বিকেলের ছায়া মতো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় অপরাহ্ণের দেহ
অশ্রুর সাগর শুকিয়ে মরিচিকা বাসা বেঁধেছে চোখে
সুবেহ সাদেকের আবছা আলোর মতো
ঝাপসা হয়ে আসে দিগন্তে গেথে থাকা দৃষ্টি জোড়া,
কেউ যদি এসে বলতো-
‘মা- তোমার খোকা ফিরে এসেছে, - তোমার খোকা’
মনে হতো বৈশাখি খরায় চৌচির জমির বুক চিরে যেন উত্থিত হতো
কোনো ফোয়ারা বিশুদ্ধ জলের কিংবা
মরে শুকিয়ে কাঠ হওয়া কোন বাকল ছেড়া গাছের পর্বেও বেরিয়ে এসে প্রষ্ফুঠিত হতো পুষ্পপুট।
যাবার সময় মা’র পা ছুঁয়ে সেই যে বিদায় নিলো খোকা
সেই পরশে এখনো ঘুমের ঘোরে নড়ে ওঠে দু’খানা চরণ মা’র
পাপড়ি গুলো ঝুলে গেলেও, মণি দুটোর নড়াচড়া বলে দেয় মায়ের চোখে ঘুম নেই ।
অসুস্থ শরীরে স্টেথোস্কোপ লাগালে হৃদপিণ্ডের জপ শোনা যায় যেন
-‘খোকা কবে আ-স-বি , খোকা কবে আসবি ফিরে?’
খোকা কি আসবে? মা’র মন কিছুতেই বোঝে না যে এ জনমটাই প্রতিক্ষায় যাবে তার,
পথের দিকে চোখ ফেলে মুক হয়ে বসে থাকা মা’
কিছুতেই স্মরণ করতে পারে না সেই কবে যুদ্ধ ফেরত খোকার বন্ধু,
আটত্রিশ বছর আগে যুদ্ধক্ষেত্রে খোকার লেখা
একটা চিঠি মা’র হাতে দিয়ে বলেছিল
‘মা তোমার খোকা আকাশের তারা হয়ে তোমাকে দেখছে এখন
তোমার খোকা’ই তো এখন আমাদের বাংলাদেশ মা...’