মধ্যযামিনীতে মেঘের রঙে ধূসর জোছনা যেমন
তেমনি আজ শৈশবের পদ্মঝিলে কুয়াশার তরঙ্গ-
শিশিরের ঝাপটায় অস্পষ্ট চেনা মাঠ-বন-দীঘি ।
আমার সেই সম্পূর্ন আমি, অখন্ড চিত্তসুখ
অথবা কতগুলো অবোধ অথচ জটিলতাহীন হৃদয়
বদলে গেছে ; অদৃশ্য এবং নিশ্চিহ্ন সব ।

একাকী অসম্ভব স্বপ্নে বাঁধা অনিমিখ যে আঁখি
নক্ষত্রের আলোয় বুনেছে রোদ্দুরের নকশীকাঁথা-
সে আঁখিতে নেমেছে বিমর্ষ ক্ষুধিতের চঞ্চলতা ।
বেদনার উল্লাসে রূপকথার ঝাঁপিতে দীর্ঘশ্বাস
কিংবা মেঘের ঢেউয়ে সাঁতরে চলা রঙ্গীন ঘুঁড়ি
হারিয়ে গেছে ; ক্ষীণ এখন অস্পৃশ্য বাস্তব ।

নিরুদ্দেশের অন্ধকারে ক্রমেই থেমেছে যে সুর
তার গভীরে আশ্রয় খুঁজে বিবর্ণ আর জীর্ন বর্তমান ।
উচ্ছল অবিনাশী সাহসে শাসন এড়ানো শৈশব-
মন্থর অহমিকায় ভেঙ্গেছে প্রাণের খেলাঘর
আর অবহেলায় ত্যাজ্য করা পুতুলবিয়ের ভোজ
থেমে গেছে ; ফুরিয়ে গেছে অকারন কলরব ।

প্রবল হতাশায় জীবনতটে আছড়ে পড়া উদ্বেল হিয়া
অপরাহ্নের আলোয় মুছে ফেলেছে শৈশবের প্রাপ্তিহীন প্রার্থনা ।