এক মাস রোজার শেষে, আলোয় আকাশ ভাসিয়ে
বছর ঘুরে যখন আসে খুশির একটি ঈদ,
ওই আকাশের দিকে তাকিয়ে আমি
ভাবি-আর খুঁজে ফিরি চারপাশে
এসেছে কি প্রাণবন্ত-খুশির সেই ঈদ ?

আমার প্রচণ্ড ভয় কাজ করে,
নাড়ীর টানে গ্রামে ফেরা মানুষ গুলোকে নিয়ে
তারা নিরাপদে যেতে- আসতে পারবে তো!
নাকি রাস্তায় আটকে থাকবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
নাকি কানে আসবে কোন দুর্ঘটনা-লঞ্চ ডুবির খবর!
ঈদ এর খুশি থাকবে তো?

নিজেকে বড়ই বিচিত্র মনে হয়
যখন দেখি শীর্ণঘরগুলোতে দারিদ্র্যের উপহাস
ঈদের নতুন জামা কাপড়!
সেটা না হয় বাদ-ই থাক
চৌধুরী বাড়িতে কাজ করেই যাচ্ছে সকিনার মা
ঈদের দিনে ওই বাড়ির অনেক কাজ।
অথচ আজ এই ঈদে
সকিনার পাশে তার মা-বাবা কোথায়?
কোথায় ঈদের কোর্মা পোলাও!

সেদিন কবে আসবে, যেদিন
চোখে পরবে না কোনও এতিম শিশুকে
জাকাত এর জন্য হাঁটছে দ্বারে দ্বারে
সেদিন কি আসবে না ? যেদিন
টিভি চ্যানেল গুলোয় ঈদের আয়োজন
আর ঈদ এর আনন্দ মিলাবে না প্রবাল হাওয়ায়
বিরক্তকর বিজ্ঞাপন এর মাঝে ।

প্রবাসী ভাইবোনদের কথা মনে পড়ে যায়
রাত দিন সব যাদের সমান
নেই ঈদ এর আলাদা আয়োজন
নেই শুকনো চালের গুঁড়ির রুটি , তাজা গরুর মাংস!
আছে বিস্বাদে ভরপুর, নামকরা সব ভিনদেশি খাবার
ফ্রাইড চিকেন আর কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতল।

আমি অপেক্ষায় আছি, আমি অপেক্ষায় থাকব
এমন একটি দিনের, যেদিন সবাই
নিরাপদে বাড়ি ফিরবে, যেদিন সকিনা
নতুন জামার সাথে পাশে পাবে মা-বাবাকে
চোখে পরবে না কোন এতিম শিশু
সবাই আমরা, ধনি-গরিব বিভেদ ভুলে, এক কাতারে
সাজাতে প্রাণবন্ত – একটি ঈদ।