রুতীন দেখল বসে বসে ঘুমে ঢুলছে আর চোখ দু্টো জবা ফুলের মত লাল । শুনবে বলে হুঁ হুঁ করল কিন্তু একটুও শুনল না ।তাই রুতীন পায়ে সুড়সুড়ি দিতেই সনাতন ধড়ফড় করে উঠে বলল - কি হল ? কি হল ? তারপর ?
হেসে লুটোপুটি খেতে খেতে রুতীন বলল - বাবা , তোমার পা এত ফাটা কেন ? হাতের চামড়ায় ঘা মত হয়ে গেছে !
নতুন বইগুলো পাশে পড়ে থাকল । বানান করে গল্প পড়া বা শোনা কোনকিছুতেই মন বসানো যায় না । তাই ঘর কথা আরো বেশি শোনার লোভে রুতীন সনাতনের কোলে বসতেই পরনের কাপড় গেল ফেসে ।
শব্দ পেয়েই জয়ী রান্না ছেড়ে তেড়ে এলে ঘুম চটকে যায় সনাতনের । রুতীনকে আরো কাছে টেনে সামাল দেয় - তুমি আবার খুন্তী হাতে উঠে এলে কেন ? আমরা খাব কখন । রুতীর পেট ছোঁ ছোঁ করছে ।
জয়ীর গজগজ করার মত সারা ঝুপড়ি কাঁচা কাঠের ধোঁয়ায় ভরেই থাকল । সবাই খুন্তী নাড়া শুনতে শুনতে সেদ্ধ তরকারীর গন্ধে অর্ধেক ভোজন সেরে খেতে বসে ।
খেয়েই লম্বা ঘুম । ঠুকঠাক খুটখাট শব্দে ঘুম ভাঙে রুতীনের । প্রতিদিনের মত দেখে বাবা নেই। ঘামে ভিজে একসা জয়ীকে প্রশ্ন করে - মা । বাবা কোথায় ?
যেন কিছু জানে না , ন্যাকা তাই মুখ ঝামটা দেয় - কাজে গেছে !
- মা, বাবা এত কাজে যায় কেন ?
জয়ী অবাক হয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল রুতীনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । চোখদুটো জলে ভরে ওঠে । বলে - আমরা যে গরীব । দুঃখ আমাদের চির সঙ্গি ।
এক ফোঁটা জল রুতীনের বইয়ে আঁকা হাড় জিরজিরে একটা লোকের উপর পড়ল । রুতীন মায়ের চোখের জল মুছিয়ে বলল - স্যার বলেছে অক্ষর শিখেই নাকি গরীবী দূর করা যায় । মা আমিও এই অক্ষরের সব শিখে আমাদের দুঃখ দূর করবই ।
রুতীন স্কুলে যাওয়ার পথে দেখল সনাতন মোট বইছে । স্যার বলল - রুতীন খুব ভাল লিখছ । আরো ভাল করতে হবে ।
রুতীন বলল - আমাকে যে পারতেই হবে ।