লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ মার্চ ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৬২

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftইচ্ছা (জুলাই ২০১৩)

বাবার ইচ্ছা
ইচ্ছা

সংখ্যা

মোট ভোট ২৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৬২

Nasima Khan

comment ১২  favorite ০  import_contacts ১,০৭৬
যেদিন অনন্যা প্রথম চাকুরীতে জয়েন করে বাবা সেদিন অনন্যাকে বুকে নিয়ে বলেছিলেন ,সবার সব ইচ্ছা পূরণ হয় না মা,
অনন্যা কিছুতেই ভুলতে পারে না ,বাবা আরও বলেছিলেন,-আজ থেকে তোর কষ্টের জীবন শুরু হলো মা ।
-বাবা আমি শশুর বাড়ী যাচ্ছি না , চাকুরীতে যাচ্ছি !
বাবা হেসে ফেলেছিলেন ,বলেছিলেন-মাগো, চাকুরী ,সে তো চাকরের জীবন ,আকাশে পাখনা মেলে আর কখনও উড়তে পারবি না, স্বাধীনতা স্বাধ কেবল গুমরে কাঁদবে,চোখের কোনে ভীড় করবে ঐদাসীন্যতার জ্বালা, বিদ্বান পাপীদের ধাক্কায় মাগো তোর বিবেক হবে নিস্পেষিত, চাকুরী মানেই চারিদিকে অসুখ মা ।
সেদিন বাবার হেয়ালীপনা কথা গুলো অসংযত মনে হলেও আজ অনন্যা বুঝতে পারে,
বাবা জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। অনন্যা হাদীস পার্কের ভিতর দিয়ে হাটছিলো,বয়সি মেয়ের মত তার চোখ প্রেম খোঁজে না, খোঁজে আড়ম্বরহীন দৌরত্ব,
নিলয় পিছু নিয়েছিল, অনন্যা বুঝতে পারিনি ।
অনু তোর শাড়ীর পাড়টা কিন্তু ছেঁড়া !
অনন্যা তাকাল নিলয়ের দিকে। বলল,-তোর চশমাটা কিন্তু খুব সুন্দর ।
নিলয় বলল, আজ ভাগাটা নিতে পারতিস, নতুন একটা শাড়ী হোত,

অনন্যা হেসে ফেললো,ক্লান্ত চোখ তুলে বলল,-তোর মত একটা চশমাও হতো তাই না ? কত পেয়েছিস আজ ?
নিলয় বলল,-এভাবে সাধু সেজে লাভ কী ? মাঝে মঝে ম্যানেজার বাবুর ঘরে ঢুকলে কিছু তো ক্ষোয়া যেত না ,অনু ?
অনন্যার মুখের ভিতর একদলা থুথু এসেছিল, তা সে মাটিতে ফেললো।
তারপর সোজা হেটে সামনের গেট দিয়ে বের হয়ে রিক্সা নিল।
টুটপাড়া কবর স্থানে যেতে ইচ্ছে করছে , সেখানে তার বাবা ঘুমিয়ে আছেন ।
ছুন ছান কবর স্থান, এক লোক তার বাবার কবরের উপর বসে বিড়ি ফুঁকছে ।
অনন্যা অবাক হয়ে তাকাল,-এই আপনি বাবার কবরে বসে বিড়ি খাচ্ছেন কেন ?
লোকটি ভ্রু কুচকে তাকালো,-তাই নাকি, ? এখানে তো আমার বাবারও কবর ছিলো,-উনার ইচ্ছা ছিলো আমি মস্ত বড় ডাক্তার হব, কিন্তু নেশা খোর হয়েছিতো ,তাই বাবাকে দেখাচ্ছিলাম!
অনন্যা বলল ,-ছিঃ ।
লোকটা অট্রহাসিতে ফেটে পড়লো,-ম্যাডাম,ওই শব্দটা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি,
ঘেন্না লাগে জীবনটা ।
অনন্যার চোখদুটি ঝাপসা হয়ে গেল,-মনে মনে বলল,সত্যিই সব বাবাদের ইচ্ছা পূরণ হয় না ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement