লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ মার্চ ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঈদ (আগস্ট ২০১৩)

ফুলোনের ঈদ আয়োজন
ঈদ

সংখ্যা

Nasima Khan

comment ১  favorite ০  import_contacts ৪৩৫
ফুলোনের মনটা খারাপ , ঈদের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি ।তার বাবা এখনও ঢাকা থেকে এলো না , সবার ঈদেরর পোশাক হয়েছে, কত রঙ্গিন চুড়ি, লিপস্টিক আর ফেয়ার এন্ড লাভলী কিনছে সবাই । কিন্তু তার বাবার ছুটি না হলে আসতে পারবে না ।আসলেই তার ঈদের কেনাকাটা হবে ! ফুলোন মার কাছে মিনতি করে,-মাগো, একটা ফেয়ার এন্ড লাভলী কিনে দিবা ? রহিমার গাঁর রং কত কালা ছেলো, কি ফাইন সুন্দর ওয়ে গেছে, দিবা মা ?
ফুলোনের মা করিমুন্নেছা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেন - বক বক এরিস্নেদি, তোর বাপ আসলি সব দিবানি ।
ফুলোন আহল্বাদে আটখান হয়ে মার গলা জড়িয়ে ধরে বলে-একখান লাক্স সাবানও দিবানে ,মা ?
-দিবানি
-নখ পালিশ ?
-দিবানি,
-লাল রঙ্গের চুরি ?
-দিবানি ।
তাহালি যে কি আনন্দ অবেনে।
ফুলোন লাফাতে লাফাতে চলে যায় খেলতে । ওর বয়স দশ হলো । খুলনার রুপসা থানার জুগিহাতী গ্রামে ওদের বাড়ি ।ওর বাবা হাসমত আলী ঢাকা শহরে গার্মেন্টস এ কাজ করে ।
ওরা দুই বোন , বড় বোনটার বিয়ে হয়েছে ,এলাকারই এক ভ্যান চালকের সাথে ।ঘর বাড়ি নেই ঝুলোনের স্বামির ।পরের বাড়ি ঘর বানিয়ে থাকে ।
ফুলোনদের বাড়ীর সামনে দিয়ে খুলনা শহরে যাবার রাস্তা ।ওই রাস্তার নাম বড় রাস্তা । বড় রাস্তার কোল ঘেষে
পুটিমারি বিল ।বিলে বারোমাসেই চাষাবাদ হয় । ফুলোনের খেলার জায়গা বড় রাস্তা, যানবাহন তেমন চলে না ।
ফুলোন একা একা খেলে , নাবিলার বাবা অনেক ধণী । নাবিলা তার সাথে খেলে না, কেবল ওদের বল দূরে চলে গেলে বলে-নাবিলা ,বলটা এনেদেতো !
নাবিলা বলটা এনে দেয়, তারপর সব সম্পর্ক শেষ । ওকে আর চিনতেই চায় না, নাবিলা দূরে দাঁড়িয়ে দেখে ।
সারা গ্রামে ঈদের আনন্দ বয়ে যাচ্ছ । নাবিলা ওর ভাইদের সাথে মার্কেটে যাচ্ছে, আসছে । বড় বড় ব্যাগ হাতে নিয়ে বাড়ী ঢোকে ওরা ।
নাবিলার দীর্ঘ নিঃশ্বাস পড়ে । তার বাবা এখনও আসে না ।সে ঝুলোনদের বাড়ী যায় ,বলে -আপা তুই ঈদির জন্যি কাপড় কিনিছিস ?
-কিনিছি, এটটা থ্রী পিচ, দাড়া দেহাচ্ছি ।
ফুলোন নেড়ে চেঁড়ে দেখে । ঝুলোন বলে-আব্বা তো তোর জন্যি আনবেনে ,না?
ফুলোনের মন খারাপ হয়ে যায়, সে মাথা নেড়ে বলে -অয়,

কিন্তু তার কথাতে তেমন জোর পাওয়া যায় না, সে হতাশ হয়ে পড়েছে । তার মনের ভিতর একধরনের কষ্ট খেলা করে যায়। তার চোখের কোনে পানি চিক চিক করে ওঠে । বড় বোন ঝুলোন নিজের মনে কাপড় ভাজ করে ঊঠিয়ে রাখে , খেয়ালও করে না, ছোট্ট মনটা এক ধরনের আশংকাতে বিচলিত রয়েছে । আশা এবং হতাশা তাকে কাঁদাচ্ছে ।

সে বিলের কাছে যেয়ে বসে , আকাশ দেখে, বিলের বাহারী ফসল দেখে । আর দিন গোণে , কবে আসবে তার বাবা!
সে বাড়ী যায় ।ক্যালেন্ডার দেখে । দশ টাকা দিয়ে তার দুলাভাই তাকে ক্যালেন্ডারটা কিনে দিয়েছিল । ক্যালেন্ডারটা সে বেড়াতে ঝুলিয়ে রেখেছে । সেখানে ত্রিশ রোজা পর্যন্ত গোল দাগ দিয়ে রেখেছে । সে দেখে আর মাত্র দুটো রোজা বাকী আছে ।
সে মার পাশে বসে, ম্লান বদনে, ভঙ্গুর মনে আহত কণ্ঠে বলে-মা, আব্বাতো আসে না ?
-আসবেনে ,
-কবে?
কাল বিয়ানেই আইসে পড়বেনে ।
-আমার জন্যি কি সব কিনে আনবেনে ?
-আনবেনে ।
-সত্যি আনবেনে ?
-হ্যা, কলাম তো আনবেনে ?
-আমার ফেয়ার এন লাভলী ?
-আনবেনে,-
- আব্বারে কি ,কইছো, আব্বার কি ওই সব মনে থায়ে ?
- থাকপে নে ।
ফুলোন রাস্তায় যেয়ে দাঁড়ায় ।
আকাশ দেখে, অনাগত পথে চেয়ে থাকে, তার বাবা কখন আসবে ।
চাঁদ উঠেছে আকাশে । কাল ঈদ । বাজি ,ফটকা ফুটাচ্ছে ছেলেরা । ফুলোন চুপ করে ঘরের কোনে বসে আছে । তার বাবা এখনও আসেনি । হুতাশনে ফুলোনের জ্বর এসে গেছে ।কাঁথা মুড়ি দিয়ে,পড়ে আছে সে । তার মা তার মাথায় পানি দিচ্ছে ।জ্বর পড়ে না ।
শুকুরুন্নেছা ডাকে -মা, ওমা ,ফুলোন ?
ফুলোন আঃ আঃ করে ।সে বলতে পারে না, কিছু ।
-তোর বাপ সয়ালে আসে পৌছোবে নে ।ফোন করিলো, গাড়ী পাতি দেরী ওইছে আইসে পড়বে নে ।
ফুলোন শোনে না কোন কথা, সে ঘুমের ঘোরে প্রমোদ গোণে । সে স্বপ্ন দেখে তার পরণে লাল জামা ।পায়ে স্যান্ডেল ।
মুখে ফেয়ার এন্ড লাভলী ।
ফুলোন শেষ রাতের দিকে ছোখ খোলে-মা, আব্বা আইছে ?
ফুলোনের মা বলে
-আইসে পড়লো বলে ।
-আজকে কি ঈদ, মা ?
-হ
-আব্বা আসিনি ?
ফুলোন আবার চোখ বোজে । গাঁ পুড়ে যাচ্ছে তার ।পূর্ব আকাশে সূর্য চিক চিক করে জ্বলে ওঠে ।
তার বাবা হাঁক ছাড়ে ফুলোন, মারে , মাগো,
ফুলন চোখ মেলে তাকায় । তার সামনে ভাসে ঈদের মাঠ, পাপড় ভাজ়া, লাল জামা, রঙ্গিন বেলুন ।
তারপর সব কিছু ঝাপসা হয়ে যায় । ফুলোনের বাবা ডাকে -মাগো ,তোর জন্যি ফেয়ার এন্ড লাভলী , জামা লাল
ফিতে ।
ফুলোন তখন কিছু দেখে না, সে শোনে দুরের ঈদের মাঠে ঈদের গুঞ্জন রঙ্গিন বেলুন , লাল জামা , সাদা সাদা
পাঞ্জাবি ।
ফুলোনের মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ।বাবা গো আমার ফুলোন আর নেই ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement