লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঈদ (আগস্ট ২০১৩)

ছুঁয়ে কান্নার জল
ঈদ

সংখ্যা

দেলোয়ার হোসাইন

comment ০  favorite ০  import_contacts ৪৬১
ভাঁজ পড়া স্মৃতির পান্ডুলিপি খুলে দেখি মুগ্ধতা ছড়িয়ে আছে পাতায় পাতায়। বর্ণিল অবয়বে জোসনায় মাখানো আকাশটা আজও আমায় মৌন সুরে ডাকে। আমি আনমনা হয়ে খুঁজতে থাকি সুখের বাতিঘর। বহুবর্ণ জীবনের জঠিল অধ্যায়ে আটকা পড়েছি আমি। অনিশ্চয়তার শূন্য উদ্যানে চাষ করি দীর্ঘশ্বাসের ফসল। আমাকে কেউ গ্রহন করেনা, না জোসনা, না অমাবস্যা....
বহুদিন হয় জোনাকির আশ্রমে যাওয়া হয়না আমার। কল্পনার ফানুস উড়িয়ে ভাবিনা নিজেকে ফিরে পাওয়ার ভাবনা। ধুমায়িত গরম চায়ের কাপে ঝড় উঠেনা আগের মতো। আমিও আর আগের মতো হাসতে পারিনা, কাঁদতে পারিনা, মুখোমুখি দাঁড়াতে পারিনা যুদ্ধ জয়ের খেলায়...
নিতান্ত বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে যাই ভাগ্যের সাথে, ভাগ্য আমাকে আজ যেখানে দাঁড় করিয়েছে এখান থেকে আমার কোন মুক্তি নাই। আমি কেবল ছটফট করি অসহায় ভাবে...

বছর ঘুরে আমাদের বাড়িতেও ঈদ আসে। দল বেঁধে ঈদের কাস্তে বাঁকা চাঁদটাকে এক পলক দেখতে আমারও অনেক ইচ্ছে জাগে, ইচ্ছে করে আগের মতো আজও ঈদের আনন্দটা সবার সাথে ভাগ করে নেই। আমিও চাই একটা নতুন পাঞ্জাবী গায়ে জড়িয়ে আতর মেখে চোখে সুরমা লাগিয়ে আবারও বন্ধুদের সাথে ঈদের নামাজে যেতে, কোলাকুলি করতে ! পাড়ার বন্ধু-বান্ধবদের মাথে বৈকালিক আড্ডা দিতে, এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াতে...
বড় বেশি ইচ্ছে করে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে গোধুলির বিদায়ি লগ্নে ওপাড়ার নাজুর সাথে দেখা করি। তার ¯িœগ্ধ হাতে সুমন্ত আসলামের একটা বই তুলে দেই। মুগ্ধ হয়ে তাকে দেখি, কিছুক্ষণ তার চোখের দিকে থাকিয়ে রই। তার খোলা চুলের ঘ্রাণ নেই। কিছুটা সময় তার হাত ধরে বসে থাকি, তাকে বলি-এইতো আর মাত্র কয়েকটা বছর ! তারপর তোমাকে লাল শাড়ী পরিয়ে ঘরে তুলে নিব। ঘরময় সুখ ছড়িয়ে দিব শৈল্পিক বাঁধনে...
আমি যে পারিনা, এখন দাঁড়াতেই পারিনা। দাঁড়াতে গেলে পড়ে যাই, পড়ে গিয়ে হোচট খাই। ধপাস করে একটা শব্দ হয়। শব্দ শুনে পাশের ঘর থেকে মা দৌড়ে আসেন, আমাকে ধরে তুলতে চেষ্টা করেন, অনেক কষ্টে মা আমাকে বিছানায় শুইয়ে দেন। মা’র মুখটা ঘামের বিন্দু বিন্দু ফুটায় ভরে যায়, মা’কে অনেক ক্লান্ত দেখায়। আমার অপারগতার সব দায় আমার মায়ের উপর। আমার জন্য সব কষ্ট মা নিরবে সয়ে যান। আমি তো সব বুঝি...

আমি বিছানায় শুয়ে থাকি, আমার বুকটা ধড়ফড় করতে থাকে। অযাচিত নরকের দিনগুলো যেন কাটতেই চায় না, নিজেকে একটা বোঝা মনে হয়। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় আতœহত্যা করি। আবার ভাবি এমনিতেই তো অর্ধমৃত, পাপের রাজ্য বাড়িয়ে লাভ কি তবে ?
সবাই আমাকে করুনা করে, কেউ কেউ ভালোবাসে হয়তো। ভালোবেসে কেউ একজন আমাকে বই কিনে এনে দেয়, আমার পাশে বসে গল্প করে। এই ঈদেও বাবা আমাকে সুন্দর একটা জামা কিনে দিয়েছেন, বড় ভাইয়া বেশ কয়েকটা বই কিনে দিয়েছেন। জামাটা আমি হাতে নিয়ে দেখি, নড়াচড়া করি। পরম মমতায় বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। আমি শান্ত ভাবে বাবার হাতটা ধরে বসে থাকি...

আজ চার বছর হলো আমি অন্য এক জগতের বাসিন্দা। ঘরের চার দেয়ালের ভিতরের সমান ছোট আজ আমার পৃথিবী। স্বপ্ন গুলো হুইল চেয়ারে সিতান দিয়ে ঘুমায়। আহত অন্ধকার খাবলে খায় প্রত্যাশিত ভোরের আলো।
ডাক্তার বলে দিয়েছেন পায়ের উপর ভর দিয়ে আমি আর কোনদিন দাঁড়াতে পারব না। তাই হয়তো নাজুও আজ তার স্বপ্ন বদল করে ফেলেছে। হাসপাতালে তার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। সেদিন তার চোখে অশ্রুর নদী হতে দেখেছি। অদৃশ্য আবেগে তাই আজও আমি শুন্যতার দহনে দগ্ধ হই। একজন বিকলাঙ্গ মানুষকে সত্যিই হয়তো কেউ ভালোবাসে না। সবাই করুনা করে ভালোবাসে। তাই নিজেকে এখন প্রবোধ দিয়ে বেড়াই-“বেঁচে থাকো, মরে গেলে বেঁচে থাকার আনন্দটুকুও পাবেনা” !

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement