লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ জুন ১৯৭৬
গল্প/কবিতা: ৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমে দিবস (মে ২০১৩)

রাজার সাজা
মে দিবস

সংখ্যা

অলভ্য ঘোষ

comment ১  favorite ০  import_contacts ৪৫৮
অনেক অনেক বছর আগে গোপাল নগরের রাজা ছিলেন গকুলে-শ্বর । শৌর্য- বীর্যে তার জুড়ি মেলা ভার । তার সাম্রাজ্যের পরিধি দিন দিন বর্ধিত হয়ে চলেছিল । অন্যান্য রাজারা নত মস্তকে তার দাসত্ব গ্রহণ করেছিলেন । রাজা গর্বে বুকের ছাতি ফুলিয়ে রাজ্য শাসন করতেন । আর সভাসদেরা করতেন তাঁবেদারি । অতিবৃষ্টি ,অনাবৃষ্টিতে কৃষকদের দুর্দশার শেষ ছিলনা । রাজা একদিন বললেন ,
- এ রাজ্যের যত কৃষক আছে সকলের লাঙ্গল কেড়ে নাও ; বেটারা খাজনা দেয়না সঠিক মতন । লাঙ্গের ফলা গুলো দিয়ে বাণিজ্য জাহাজ তৈরি কর ; কামান বানাও । এতে রাজ কোষ ভরবে ।
মন্ত্রী বললেন
- যথা আজ্ঞা মহারাজ ।
রাজা আর একদিন বললেন
- এ রাজ্যের যত কবি আছে ; সকলকে জেলে বন্দি করো । বেটারা রাজার বিরুদ্ধে গান বাঁধে ; বিদ্রোহ ছড়ায় ।
রাজা একমাত্র বনিকদের ওপর ছিলেন সন্তুষ্ট । মনি বিদ্রোহ রাজ কোষ তারা করে তুলেছিল পুষ্ট । রাজার আদেশ হল উৎসবের আয়োজন কর রাজ বাড়িতে । নিমন্ত্রণ কর বনিকদের । আহার পানিয়ের মজলিস বসাও । মজিয়ে দাও ওদের ।ওরাই এ রাজ্যের শক্তি । সৈন্যসামন্ত পরিবেষ্টিত রাজ বাড়িতে দুর দুরান্ত থেকে এলো গাইয়ে; বাজিয়ে ,নাচিয়ে । ঝলমলে আলোর রোশনাই আর নহবতের সুরে গমগম করে উঠলো রাজ বাড়ি । রসুই খানা থেকে বেরিয়ে এলো সুগন্ধি পোলাও – কোপ্তার গন্ধ । এদিকে চাষিদের পেটে ভাত নেই । ওরা সবাই জড় হয়েছিল ভিক্ষা পাত্র নিয়ে রাজ প্রসাদের সিংহ দরজায় । রাজার সেপাই লাঠি দিয়ে ওদের ধাক্কা মেরে সরিয়ে রাজ প্রাসাদে অতিথি দের ঢোকার পথ প্রসস্হ করছিল । এ সভায় আমন্ত্রিত ভিনদেশী এক শিল্পী প্রাসাদে ঢোকার মুখে এ দৃশ্য দেখে এক চাষাকে তাদের এমন দুর্দশার কারণ শুধলেন । চাষার কাছে সব শুনে শিল্পীর ভারি কষ্ট হল । রাজ প্রসাদে মজলিস বসলো । আসরে ম্যাজিক ,সার্কাস,বাদ্যি বাজনা, খানাপিনা কোন কিছুরই অভাব রইলোনা । রাজ প্রসাদের বাইরের অভাব মনোরঞ্জনের এত কিছুর মধ্যেও ভেতরে ভেতরে রাজার মনের শান্তি বিঘ্নিত করে চলল । অহংকারী রাজা প্রসাদে উপস্থিত অতিথি শিল্পীদের জন্য ঘোষণা করলেন ,যিনি তার সর্বাধিক মনোরঞ্জন করবেন তাকে সহর্ষ কটি স্বর্ণ মুদ্রায় ভূষিত করে একটি রাজ্য দান করা হবে এবং সর্ব নিকৃষ্টের মস্তক মুণ্ডন করে, গাধার পিঠে চড়িয়ে ,বস্ত্র খুলে কলাপাতার কপনি পরিয়ে, প্রকাশ্যে নগরের রাস্তা দিয়ে জুতোর মালা গলায় ; গোবর জল ছিটিয়ে বিদায় জানানো হবে । এক মাত্র চিত্রকর তীর্থঙ্কর ছাড়া বাকি অতিথিরা অহংকারী রাজার হাতে অসম্মানিত হবার ভয়ে ছিলেন ভৃত সন্ত্রস্ত । আর এই ভয়েই শিল্পরা সেরা প্রদর্শনীতে সচেষ্ট হলেও মনোযোগী হতে পারছিলেন না । রাজা কত রকম গান-বাজনা শুনলেন ,
কত রকমের ভেলকি দেখলেন । কিন্তু কোন কিছুতেই মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে মনের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেলেন না । আভিজাত্যের বশে হীরে- মতি- জহরত ছুড়লেন ; যারা পেলেন প্রসন্ন চিত্তে কুড়িয়ে নিলেন কিন্তু রাজার মনে কোন রকম শান্তির উদয় হল না । সর্বশেষ প্রদর্শনের জন্য হাজির হল চিত্রকর তীর্থঙ্কর । নর্ম বিনয়ী চিত্তেবললেন,
- মহারাজ ;আমার শিল্প আপনাকে প্রসন্ন করবে কিনা জানিনা আমি মনের আবেগে ছবি আঁকি আর হৃদয় থেকে আঁকা চিত্র হয় সর্বদা সত্যনিষ্ঠ । আমার মনের ওপর কার শাসন খাটে না ।
রাজা বললেন,
- ব্যাঙের অধীনস্থ কীট পতঙ্গ । আবার সাপের অধীনস্থ ব্যাঙ । ময়ূরের অধীনস্থ সাপ; এ ভাবেই পৃথিবীর শৃঙ্খল রচিত । প্রত্যেক জীব অন্য জীবের অধীনতা স্বীকার করে বেঁচে আছে ।এ নিয়ম লঙগণ মানে বাস্তুতন্ত্রেরগ বিরুদ্ধাচরণ । তাই তোমার মনকে রাজ হিতৈষী করে তোলা বাঞ্ছনীয় ।
গোকুলে শ্বর এবার রীতিমতো শাসায় তীর্থঙ্করকে
- জানত রাজ আজ্ঞা অমান্য এ দেশে দণ্ডনীয় অপরাধ ।
তীর্থঙ্কর মৃদু হাসেন । তার পর দৃঢ় চিত্তে বলেন
- জানি মহারাজ । তবে আমি কেবল ঈশ্বরের দাশ ।
বালক সুলভ এই যুবকের কথা শুনে রাজা হো হো করে হেসে উঠলেন ।
- বেশ ….বেশ । তুমি যার দাস বলছ নিজেকে । সেও আমার অন্নে রাজ মন্দিরে পতি পালিত । রাজ পুরোহিত কে? যদি কাল থেকে পূজা -নৈবেদ্য- ভোগ দান বন্ধ করে দিতে বলি তিনিও অভুক্ত থাকবেন ।
চিত্রকর প্রসন্ন চিত্তে বললেন
- এত সরল নিয়ম মহারাজ । পরমেশ্বর আর অধীশ্বর ; গোপালক আর গরুর মত । গোপালক গরুকে যতটা যত্ন আর্তি করবে গরু ততোটাই দুধ দেবে । অন্নদাতা যারা মাঠে মাঠে ফসল ফলায় ; আপনাকে প্রভু বলে ;তারাও যদি তাদের উৎপন্ন ফসল রাজ ভাণ্ডারে পাঠান বন্ধ করে দেন আপনারও অন্নাভাব দেখা দেবে মহারাজ । আপনি তাদের ওপর ক্রুদ্ধ হবেন ; শাসন করবেন । কিন্তু……..
গর্জে উঠলেন গকুলে-শ্বর ।
- সাহস তো তোমার কমনয় চিত্রকর । তোমার কথার মধ্যে রাজ বিরুদ্ধচারীর পষ্ট ইঙ্গিত পাচ্ছি । তোমার এই ধৃষ্টতার জন্য জান আমি তোমার মুণ্ডচ্ছেদ করতে পারি । গকুলেশ্বরকে অন্ন যোগায় তবে সে খেতে পায় । জান আমার শস্য ভাণ্ডারে এখন দশ বছরের শস্য সংরক্ষিত ।
তীর্থঙ্কর আরও বিনীত ভাবে হাত জোড় করে বললেন ;
- ক্ষমা করবেন মহারাজ । অনুগ্রহ করে যদি আপনি আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দেন তাহলেই এ ভ্রান্তি দূর হতে পারে ।
অহংকারী গকুলে-শ্বর নিজেকে পণ্ডিত জ্ঞানী বিচক্ষণ বলে মনে করতেন তাই চিন্তা মাত্র না করে বললেন ;
- উত্তর অমি দেব ; তবে প্রশ্ন উত্তরে যদি তোমার উক্তি সত্য প্রতিষ্ঠিত না হয় ; বাতুলতার দায়ে তোমাকে হাতির পায়ের তলায় পিসে মারবো ।
চিত্রকর সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন । প্রসন্ন চিত্তে বললেন ;
- আর আমার উক্তি যদি যথার্থ সঠিক হয় কি করবেন মহারাজ ?
আভিজাত্যের ঝোঁকের বসেই গকুলে-শ্বর বলে ফেললেন ;
- আমি তোমার দাসানুদাস হয়ে থাকবো ।
তীর্থঙ্কর প্রশ্ন করতে শুরু করলো ।রাজা উত্তর দিয়ে চললেন ।
- কীট পতঙ্গের বাস কোথায় মহারাজ ?
- ঘাসে ।
- মহারাজ ; ব্যাঙ যদি সব ঘাস কেটে দেয় কীটপতঙ্গের কী হবে ?
- কীট পতঙ্গ মারা যাবে ।
- কীট পতঙ্গ মারা গেলে ব্যাঙ কী খাবে ?
মহারাজের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে । সে মনে মনে বলে ;

- ইঁদুর -আরশোলা ব্যাঙ খেতে পারবেনা । সত্যিই ব্যাঙর কী খাবার হবে তবে…….
কিছুই ভেবে চিন্তে উঠতে না পেরে মন্ত্রী কে ফরমাইস করেন ।
- কী হে মন্ত্রী একটু ভেবে চিন্তে বাতলাও ?
মন্ত্রী কপাল চুলকাতে চুলকাতে বললেন ;
- আজ্ঞে মহারাজ হাওয়া ।
গকুলে-শ্বর তাকে তিরস্কার করেন ।
- গাধা কোথাকার । হাওয়া খেয়ে ব্যাঙ বাঁচে ।
তীর্থঙ্কর বললেন
- ব্যাঙ কেন মহারাজ কোন প্রাণীই বাঁচে না । তাহলে ; কীট পতঙ্গের সাথে না খেতে পেয়ে ব্যাঙেরও মৃত্যু অনিবার্য ।
রাজা সায় দিলেন
- হ্যাঁ তা বটে ।
তীর্থঙ্কর আবার হাসি মাখা মুখে দৃঢ় কণ্ঠ্যে বললেন
- এমন নিশ্চিত মৃত্যু সাপ ও ময়ূরের ।
রাজা বললেন ;
- হ্যাঁ তাতো বটেই । সাপ ব্যাঙ পাবে না । ময়ূর সাপ পাবে না । সব বেটাই না খেয়ে মরবে । কিন্তু এসব প্রশ্নের সাথে তোমার উক্তির সাদৃশ্য কোথায় ?
তীর্থঙ্কর বললেন ;
- ধৈর্য ধরুন মহারাজ ; আমি বিস্তারিত বলছি । মহারাজ আপনি বলেছেন আপনি স্বয়ং সম্পূর্ণ । শস্যে আপনার গোলা পরিপূর্ণ । আপনি যে অন্ন গ্রহণ করেন এ কাদের ঘাম রক্তে উৎপন্ন ফসল মহারাজ ?
রাজা বললেন ;
- কেন ;আমার রাজ্যের চাষাদের ।
তীর্থঙ্কর বললেন ;
- আপনি যেমন ঈশ্বরের রাজ্যের বাসিন্দা বলে মন্দির স্থাপন করে তাকে প্রভু ডেকে দুবেলা আহার দেন। চাষিরাও তেমনি আপনার রাজ্যে বাস করে আপনাকে দুবেলা আহার যোগায় । মহারাজ অপরাধ নেবেন না । শুনেছি ; আপনি তাদের লাঙ্গল কেড়ে নিয়েছেন ।
রাজা বলেন
- নিয়েছি কারণ ও বেটারা ঠিকমতো খাজনা দেয়না ।
তীর্থঙ্কর বললেন
- খাজনা ফাঁকি দিলে আপনি যেমন প্রজাদের ওপর ক্ষুণ্ণ হন । তাদের শাসন করেন । মহেশ্বরের যথার্থ সম্মানে পূজার্চনা না হলে তিনিও আপনার ওপর অসন্তুষ্ট হন । তার পীড়নেই আপনার রাজ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় । অতিবৃষ্টি- অনাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হয় । বলির শিকার হন চাষি রাই । মহারাজ আপনি অহংকারের সিংহাসন থেকে ধূলয় পরমেশ্বরের পায়ে নেমে আসুন । না হলে দশ বছর পরে আপনার পরিপূর্ণ শস্য ভাণ্ডার নিঃশেষিত হবে । আজ চাষিরা না খেয়ে মরলে সেদিন আপনার অন্ন জোগাবে কে ?
আপনার রাজ্যে অন্নাভাব দেখা দেবে ; প্রজারা বিদ্রোহী হবে । বিদ্রোহ দমন করতে পারবেন না ।কারণ হাজার মনি মাণিক্য থাকলেও মহারাজ আপনার সামরিক সৈন্য বাহিনী খেতে না পেলে লড়বে কিসের জোরে । তারাও আপনার বিরুদ্ধ চারণ করবে ।এক মহা সংগ্রামে আপনার সিংহাসন চ্যুতি ঘটবে । এমন কী প্রাণ নাশের আশঙ্কাও অমূলক নয় ।
গকুলে-শ্বর চিত্রকরের কথায় জমে বরফ হয়ে গিয়েছিলেন । কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থেকে বললেন ;
- অমি তোমার কাছে পরাস্ত চিত্রকর । তুমি আমার বন্ধ চক্ষু খুলে দিয়েছ ।
তার পর সিংহাসন থেকে নেমে এসে মুকুট তীর্থঙ্করের পায়ের কাছে রেখে বললেন ;
- আজ থেকে আমি তোমার দাস । তোমার যে কোন আদেশ আমি মথা পেতে পালন করবো । ইচ্ছে করলে তুমি আমাকে সাজা দিতে পারো । উপস্থিত সকলে উঠে দাঁড়িয়ে বিস্ময়ে পরস্পরের মুখ চাওয়া চাই করে । কেউ কেউ তীর্থঙ্করকে মনে করেন বড় কোন ছদ্মবেশী জাদুকর কথার জাদুতে রাজাকে সম্মোহিত করেছেন ; আবার কেউ কেউ মনে করেন স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রের পদার্পণ ঘটেছে তাদের রাজপ্রাসাদে । তীর্থঙ্কর ঝুঁকে পরে দুই হাতে মাটি থেকে মুকুটটি তুলে নেয় । তার পর অবনত অহংকার হীন গকুলে-শ্বর মাথায় পরিয়ে দিয়ে বলেন
- একি করছেন মহারাজ । কারকে দাস মনে করলে নিজেকে যে বড় ছোট করা হয় । আর অনুশোচনার চাইতে বড় সাজা এ পৃথিবীতে কিই বা হতে পারে । আপনি আত্ম দংশনে আত্ম শোধন করেছেন । আমরা সকলেই একে অপরের পরিপূরক । পরমেশ্বর আমাদের মধ্যে লুকিয়ে ; এই দেখুন আপনি যেমন ক্ষেতে লাঙ্গল টানতে পারবেন না । কৃষকেরাও কি পারবেন রাজ্য চালাতে । সেহেতু প্রত্যেক কে নিজ নিজ স্থানে কর্ম উদ্যোগে অপরের উপর বিশ্বাস ভক্তি শ্রদ্ধা রেখে কাজ করে যেতে হবে । তবেই তো পরমেশ্বরের তৃপ্তি ঘটবে । মহারাজ দয়া করে চাষিদের লাঙ্গল গুলো ফিরিয়ে দিন ।সকলের মুখে যারা অন্ন তুলে দেয় তারই আজ অভুক্ত মহারাজ । বনিকেরা আপনাকে ধনরত্ন এনে দিতে পরেন; শস্য দিতে পারবে না । আপনার কলকারখানায় যন্ত্র তৈরি হতে পারে মহারাজ শস্য উৎপন্ন হবে না ।
রাজা সাথে সাথে সেনাপতিকে আদেশ দিলেন
- চাষি দের লাঙ্গল ফিরিয়ে দাও । রাজ প্রাসাদে সকলকে নিমন্ত্রণ জানাও । উৎসব শেষে রাজ ভাণ্ডার থেকে শস্য আর বস্ত্র বিতরণ কর ।
এরপর রাজা পুরোহিত কে বললেন;
- রাজ মন্দিরে পুঁজার আয়োজন করুন । আমি নিজে যাব ; মহেশ্বরের আরাধনায় ।
আজ থেকে এ রাজ্যে কেউ দাস নয় । আমরা সকলেই সমান ভবে পরমেশ্বরের অধীন ।
তীর্থঙ্কর বললেন ;
- মহারাজ আমার শেষ অনুরোধ ; বন্দি কবিদের ছেড়ে দেওয়া হোক । ওরা এ রাজ্যের বিবেক । মানুষের মনুষ্যত্বের কথা নিয়েই তো ওরা গান বাঁধে।
মহারাজ সেনাপতিকে নির্দেশ দেওয়ায় কবিরা হয় মুক্ত ।
তীর্থঙ্কর বললেন ;
- এবার আমি যাই মহারাজ ।
মহা রাজা এবার অনুনয়ের সূরে বললেন ;
- তা কি করে হয় । তোমার মতো মানুষকে পেয়ে অমি হারাই কি করে । আমি তোমাকে আমার অর্ধেক রাজত্ব দান করবো । রাজ কুমারী সুখ লেখার সাথে হবে তোমার বিবাহ ।
তীর্থঙ্কর বললেন
- আমি বৈরাগ্য ধারণ করেছি মহারাজ । ধর্মান্তরে আমাকে বিপদে ফেলবেন না ।
রাজা আর কথা বলতে পারলেন না ।তীর্থঙ্কর চলে যাবার সময় মহারাজকে তার ঝোলা থেকে একটা সাদা পট আর তুলী বের করে দিয়ে বললেন ।
- মহারাজ এই তুলি পটে ছোঁয়ালে ; আপনি ভূতভবিষ্যৎ সচক্ষে দেখতে পাবেন । আর ভবিষ্যৎ জানা থাকলে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজও সহজ হবে । অমি চলি ; যেখানে এখন রাতের অন্ধকারে দিন আসেনি সেখানে আমাকে যেতে হবে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে; অন্ধকার মোচনে । তীর্থঙ্কর চলে যেতে পটে তুলি ছোঁয়াল মহারাজ । আর সভাসদ থেকে নিমন্ত্রিত অতিথি প্রজারা হুমড়ি খেয়ে দেখলেন আনন্দ বেষ্টিত শস্য শ্যামল ও ভবিষ্যৎ গোপাল নগরকে ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement