নব্বুই বছর পেরিয়ে দৃষ্টি হারানো কেউ একজন অপেক্ষা করছেনÑ
তার পুত্র হারাধন ফিরবে, বকুল গাছটায় মাথা রেখে চুপি চুপি ডাকবে
‘মা! কত পথ মাড়িয়ে তোমার দরজায়...
তুমি বুড়ো হয়ে গ্যাছো, চুল তোমার পাকা...’

চল্লিশ বসন্তে ফুলহীন চামড়ায় ভাঁজ-পড়া কেউ একজন অপেক্ষা করছেনÑ
তিনি আসবেন, চোখে চোখ রেখে হাতে হাত নিয়ে অশ্র“সিক্ত গঙ্গায়-
‘ বউ! শত স্বপ্ন কাধব্যাগে ঝুলিয়ে ফেরি করেছি কত বছর...
তুই তো জানিস তোকে কত ভালোবাসি...’

দশ বছর আগে বাবা ডাক শোনা শুকনো মুখের কেউ একজন অপেক্ষা করছেনÑ
ঘন কালো চোখের তৎকালিন মহান যুবক, বুকে জড়িয়ে বলবেন-
‘খোকা! আমাকে কি চিনেছিস? আমি হারাধন তোর বাপজান...
কত আদর জমা রেখেছি এই যুদ্ধাংদেহী আত্মায়...’

কেউ আসে নি। হয়তো আসবে না।
জানি, সময়টা ছিলো যুদ্ধের!