মানুষ মনে মনে আজগুবি সব কথা ভাবতে থাকে। যা আদেও বাস্তব হতে পারে না। তেমনি রহস্যঘেরা গল্পটি।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭৮
গল্প/কবিতা: ৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ভৌতিক (ডিসেম্বর ২০১৮)

লোভ
ভৌতিক

সংখ্যা

কিশোর কারোনিক

comment ০  favorite ০  import_contacts
ছোটবেলা থেকে কত ভুত-পেত্নীর, সাতসমুদ্র, তের নদীর পার হবার গল্প গুরুজনদের মুখে শুনতে পাই। এমনি বাবু ও স্বপন অনেক গল্প শুনেছে।
ভ’ত বলতে যে কিছু নেই বাবু বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মুখে শুনেছে। কিন্তু স্বপন ভ’তের কথা শুনলেই ঘর থেকে বাইরে বের হতে চায় না। দিন গড়িয়ে মাস, মাস থেকে বছর। বাবু ও স্বপন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুজনের মাঝে খুব ভাব। বেশ রাত হয়েছে। দুজনে বই পড়ছে। হঠাৎই মৃদু আওয়াজ কানে এল।
‘আামাকে বাঁচাও।’
মনে হলো পাশের বাড়ির কারোর কণ্ঠস্বর । আর কোনো শব্দ নেই। বাবু চেয়ার থেকে উঠে জানালায় পর্দা তুলতেই মানুষের মতো কী যেন আড়ালে চলে যেতে দেখে। কী যেন পড়ে আছে আম গাছ তলায়। শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠল। বাবু স্বপনকে হাত দিয়ে ইশারা করে ডাকল। বাবুর পাশের বাড়ির লোকজনের সাথে বেশ দহরম মহরম। স্বপন জানালার কাছে না গিয়ে পড়ার বই টেবিলে রেখে, “আমি ঘুমিয়ে পড়ছি, ঐ সব দেখলে আমার ঘুম হবে না।’ বলে বিছানার শুয়ে পড়ল। কিন্তু বাবুর কাছে ব্যাপারটা কেমন সন্দেহ লাগল। গাছ তলায় কারোর শুয়ে থাকার কথা নয়। ব্যাপার কী! বাবু আর বিলম্ব না করে, দরজা খুলে হাইরোডে যেতেই দেখে বেশ লম্বা কালো ছায়ার মতো ষ্টেশনের দিকে চলে যেতে। বাবু হাত ঘড়ির পানে তাকাল। আবছা আলোয় দেখে রাত দুটো পাঁচ মিনিট। এখন কী করা যায়, বুঝতে সংশয় হলো। চিৎকার করলে ওর ডাকে কেউ সাড়া দেবে না। ঘটনাটা অন্য রকমও হয়ে যেতে পারে। কালো ছায়া প্রাণীটা কোথায় যায় তা দেখার জন্য পিছু নিল। কিছু দূর গিয়ে দেখে বেশ দূরে একটা কারগাড়ি দাঁড়িয়ে। জ্যোৎস্না রাতে যেমন দেখা যায়। তেমনি দেখা গেল কারগাড়ির পাশে একটি লোক এদিকে ওদিকে তাকিয়ে কী যেন বলল। অদ্ভুত ছায়াটি মাথা নাড়িয়ে হাত ইশারায় জানাল কাজ সব শেষ। দুজনেই গাড়িতে করে চলে গেল। বাবু ঘটনাটা বুঝতে পারল। কিছু একটা অঘটন ঘটে গেল। যার কিছ’ দৃশ্যের সাক্ষি নিজে। কেউ যেন টের না পায় সে জন্য আর বিলম্ব না করে বাড়িতে ঢুকে পড়ল এবং শুয়ে পড়ল।
ঐ দিকে অনিল নিজ ঘর থেকে একটি চাদর গায়ে পেঁচিয়ে সেন মশায়ের ঘরের দিকে যেতেই দেখে একটি লোক ঘর থেকে বের হয়ে আসছে। হাতে ফাইল আর দঁড়ি।
ঐ দিকে নীল নিজ ঘর থেকে একটি চাদর গায়ে পেঁচিয়ে সেন মশায়ের ঘরের দিকে যেতেই দেখে একটি লোক ঘর থেকে বের হয়ে আসছে। হাতে ফাইল আর দঁড়ি। অনিল লোকটিকে চিনতে পারল। ওরই দূর সম্পর্কের ভাই কিরণ। কিরণ যেন দেখতে না পারে, সেইভাবে দরজার আড়ালে দাঁড়াল। কিরণ নিজের ঘরে ঢুকে কপালে হাত রেখে মৃদু স্বরে বলল, “মামা কি সত্যি করে বাড়ি থেকে চলে গেলেন। যাই হোক জমির ফাইল তো আমার কাছে।”
কিরণ আর না ঘুমিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখতে লাগল। আর কেউ মামাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে কি না।
অনিলের মনটা অস্থির হয়ে উঠল। সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তাড়াহুড়া করে সেন মশায়ের ঘরে ঢুকে জমির কাগজের ফাইল ভেবে গোটা কয়েক ফাইল নিয়ে নিজের ঘরে ঢুকল। অনিলও কিরনের মতো করে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখতে লাগল।
সদর দরজা দিয়ে সেন মশায়ের ছোট ভাই সুবাস গান গাইতে গাইতে আসছে।
‘ওরে আমার বড় দাদা
তোকে আমি করব সোজা
যদি হয় জেল খাটতে
তবু তোকে আজ দিব সাজা।’
সুবাস আম গাছের পাশ দিয়ে আসতে দেখে তার দাদা সেন মশায় মরার মতো পড়ে আছে। বুকে কেমন কাঁটা দিয়ে উঠল। ভয়ে আর বিলম্ব না করে পা টিপে টিপে নিজ ঘরে প্রবেশ করে ঘুমিয়ে পড়ল। ভোর হতে চলেছে। অনিল, কিরণ ও সুবাসের ঠিক মতো ঘুম হল না।
ভোরের পাখি ডাকছে। বাবু ও স্বপনের ঘুম যথারীতি ভাঙল। গত রাতের ঘটনা মনে পড়তেই বাবু স্বপন বলল. ‘স্বপন চল সেন বাবুর বাড়ি থেকে ফুল তুলে আনি।’
স্বপন বলল, ‘চল।’
বাবু জানালার পর্দা তুলতেই নজর পড়ে আম গাছের নিচে জমাট বাঁধা মানুষের পানে। বাবু বুঝতে পারল ব্যাপারটা। কিছু বলল না। দুজনে ঘর থেকে বের হর। বাবু নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করল যেন গত রাত্রের ঘটনা কিছুই জানে না।
সেন মশায়ের বাড়িতে প্রবেশ করে দেখে অনিল, কিরণ, সুবাস ও চাকর-চাকরাণীরা কাঁদো কাঁদো ভাবে সেন মশায়কে ঘিরে আছে। সবাই কাঁদছে কিন্তু কোনো ব্যাক্তির চোখে জল নেই। এমনি সময় সেন বাড়ির কেয়ারটেকার হেমন্ত মোটরসাইকেল চড়ে আসতে দেখে সদর দরজার পানে এগিয়ে গিয়ে বাবু দাঁড়াল। বাবুকে দেখে হেমন্ত বললেন, ‘বাবু এত সকালে এখানে দাঁড়িয়ে আছ যে?’

বাবু বলল, ‘আপনি এখানে ছিলেন না?’
হেমন্ত না বোধক মাথা ঝাঁকালেন। বাবু আর কিছু বলার সাহস পেল না। লোক জমায়েতের দিকে নজর যেতেই হেমন্ত বলে উঠলেন, ‘বাড়িতে কী হয়েছে?’
বাবু কোনো কথা বলল না। লোক জমায়েতের কাছে আসতেই অনিল বুকফাটা কান্নার স্বরে বলে উঠল, ‘কাকা বাবু সব শেষ, জেঠামশায় মারা গেছেন।’
হেমন্তের মাথায় যেন বাজ পড়ল। নিজেকে স্থির রাখতে পারল না। ভিড় করে থাকা লোকজনের মাঝে প্রবেশ করে মৃতদেহের মাথা কোলে তুলে নিয়ে উচ্চ স্বরে কেঁদে উঠল। অনিল, কিরণ ও সুবাস একে অপরকে সন্দেহের দৃষ্টিপাত করতে লাগল। চাকর-চাকরাণীর ভেতর থেকে একজন বলে , ‘পুলিশকে কি খবর দেওয়া দরকার?”
হেমন্ত ঘাড় নাড়িয়ে বরল, ‘হ্যাঁ।’
এক চাকর থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। হেমন্ত শান্ত স্বরে বলল, ‘কেমন করে এমন হলো? তোমরা কি কেউ কিছু জানো?’
একে অপরের দিকে তাকিয়ে এক সাথে বলে উঠল, ‘আমরা কেউ কিছু জানি না। সকালে উঠে দেখি..।’
বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশের গাড়ি আসল। মরদেহের কাছে এসে এক অফিসার বলল, ‘আপনার একটু সরে দাঁড়ান। সাবধান এখান থেকে কেউ যাবেন না। সবাইকে কিছু প্রশ্ন করব, ঠিক ঠিক উত্তর দেবেন। কেউ কোনো হেঁয়ালিপনা করবেন না।’
কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করবার জন্য পুলিশ ফোর্স মৃতদেহ গাড়িতে করে থানায় নিয়ে গেল। পুলিশ অফিসার হঠাৎই বলে, ‘সেন মশায়কে বোধ হয় দঁড়ি দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। শুনুন, সেন বাবুর শোবার ঘর কোন দিকে?’
পুলিশকে নিয়ে হেমন্ত চরলেন। পুলিশের কথাবার্তায় বাড়ির কারোর ভাল লাগল না। সবাই পুলিশ অফিসারের পেছন পেছন সেন মশায়ের ঘরে ঢুকতে যাবে অমনি অফিসার বললেন, ‘আপনরা যেমন আছেন তেমনি দাঁড়ান।’
সবাই কেমন ভয় পেয়ে গেল।
পুলিশ গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনার নাম কী?’
ক্লান্ত স্বরে বলল, ‘আমার নাম কিরণ।’
‘কী করা হয়?”
‘কিছু না।’
‘সেন মশায় আপনার কী হতেন?’
‘আমার বড় মামা।’
‘তা এত ভয় পাচ্ছেন কেন?’
কিরণ উত্তর দিতে পারল না। অনিল কী যেন বলতে গিয়েও বলার সাহস হল না।
পুলিশ অফিসার বললেন, ‘এই খুনের ঘটনায় আপনারা কেউ সন্দেহের বাইরে নন।’
হেমন্ত বলল, ‘আমাকে কেউ কী সন্দেহ করছেন স্যার?’
অফিসার বলল, ‘প্রকৃত খুনিকে যতক্ষণ ধরা যাচ্ছে না, ততক্ষন আপনারা সবাই (কিছুক্ষন থেমে)আচ্ছা হেমন্ত বাবু সদর দরজায় যে পাহারাদার থাকে, সে পাহারাদারকে ডাকুন তো।’
পুলিশ কর্তার অর্ডার শুনে হেমন্ত যেন একটু ভয় পেল, অফিসার ব্যাপরটা কিছ’টা আঁচ করতে পেরে বললেন, ‘থামুন, কাউকে যাওযা লাগবে না, আমিই দেখছি।
পথও দরজার কাছে আসতেই দেখে এক পাশে করে আর একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। হেমন্ত ছুটে এসে বলল, ‘স্যার কোনো প্রমাণ কি পেয়েছেন।?’
অফিসার বললেন, ‘না, তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না, কিন্তু হেমন্ত বাবু যে হত্যাকা- ঘটিয়েছে, সে অনেক প্রমাণ রেখে গেছে।’
‘কী প্রমাণ স্যার?’
‘না, আপনাকে তা বলা যাবে না। কারণ আপনিও তো হতে পারেন।’
‘কী আজেবাজে বকছেন।গতরাত্রে তো আমি এখানে ছিলামই না।’
‘কোথায় গিয়েছিলেন?’
‘বোনের বাড়িতে, আজ সকালে এসেছি।’
‘আপনি কি জানতেন এমন ঘটনা ঘটবে?’
‘না, আমি জানতাম না যে দাদাকে এমন ভাবে কেউ হত্যা করবে।’
‘হেমন্ত বাবু আপনি ভুল বলছেন, সেন মশায় ছাড়া বাড়ির দারোয়ানওকে খুন করে, ঐ দেখেন ওানে ফেলে রেখে গেছে।’
হেমন্তের চোখ কপালে উঠল। বলল, ‘আমি আর এখানে থাকব না, আমা ভয় করছে!’ বলে দ্রুত গতিতে চলে গেল। পুলিশ অফিসার কিছু বলল না। বাড়ির সকলের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করতে লাগল। লাশ দুটো সৎকার করা হর। সেন মশায়ের পক্ষে থানায় কেউ কেস করতে এলো না। পুলিশ বাদি কেস হলো। অধিক টাকা-পয়সা, জমি-জমা ভাগ-বাটোয়ারার কারণে এই খুনের ঘটনা। বাড়ির সকলের জবানবন্দি রেকর্ড করা হল। আর সকলকে জানিয়ে দেওয়া হল, প্রতিদিন থানায় হাজিরা দিতে। থানায় না জানিয়ে কেউ কোথাও যেতে পারবে না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement