লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৬৬
গল্প/কবিতা: ৯৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপূর্ণতা (আগস্ট ২০১৩)

অচিন রূহের গন্ত্য
পূর্ণতা

সংখ্যা

মোট ভোট

এনামুল হক টগর

comment ৫  favorite ০  import_contacts ১,২৮৮
মাহমুদ সবুজ বৃক্ষের ছায়াপথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। বহুদুর দিগন্ত থেকে সূর্যের আলো বৃক্ষের শাখা প্রশাখায় পড়ছে। মনে হচ্ছে এক অলৌকিক দূর্লভ শিল্প কর্ম। আর কিছু ক্ষণ হাটলে আঁকা বাঁকা নদীর তীর দেখা যাবে। বেলা ভূমির শূন্য বাতাস থেকে নির্জন বৃক্ষের শব্দ ভেসে আসছে।

হাঁটতে হাঁটতে মাহমুদ নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছায়। নদীর পাশে একটা গোরস্থান। সেখানে অনেক গুলো মৃত দেহ নিয়ে আসা হয়েছে, দাফন সম্পন্ন করার জন্য। নদীর বুক দিয়ে মরা পশুর লাশ ভেসে যাচ্ছে। মাহমুদ থমকে দাঁড়ায় এবং মনে মনে ভাবে কিছুক্ষণ আগেও ওরা আমার মতো জীবিত ছিল হঠাৎ ওদের দেহ থেকে কি বেরিয়ে গেলো যে ওরা আজ মৃত। ওদেরকে দাফন করা হচ্ছে। মাহমুদ ভাবে আর কিছু কাল পর আমারও তো একই অবস্থা হবে।

মাহমুদ দেহের ভেতরের অচিন পাখির খোঁজ জানতে চায় এবং সে নিজেকে জানার জন্য অনুসন্ধান করতে থাকে। নিজেকে জানার সন্ধান করতে করতে এক পর্যায়ে সে দিব্য জ্ঞানীদেরকে খুঁজতে থাকে এবং বহুপথ হাঁটার পর এক সময় সে যমুনার পাশে নির্জন নিরালায় এক সত্য দিব্য জ্ঞানীকে খুজে পায়।

মাহমুদ মাঝে মাঝে সেই দিব্য জ্ঞানীর কাছে শিক্ষা নেয়। একদিন সে দিব্য জ্ঞানী সাধুকে বললো মানুষ, পশু, উদ্ভিদ কিভাবে আসে আর কি ভাবে বেঁচে থাকে এবং কি ভাবে চলে যায়।

সাধু বলেন জন্মান্ত— বাদের প্রবক্তাদের নিকট পূর্ণজন্ম হলে পৃথিবী কখনো ধ্বংস হবে না। মৃত্যুর পর রূহগুলো পর্যায় ক্রমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তর হতে থাকে এবং এই ভাবে সৃষ্টির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। এটা কোন কোন ধর্মে সত্য আবার কোন কোন ধর্মে মিথ্যা।

সাধু আরো বলেন নির্ভরযোগ্য মত হলো রূহ তাদের মর্যাদানুসারে বরযখে অবস্থান করে। কতক রূহ উর্ধ্ব জগতে ইলি­য়্যীনের সর্বোচ্চ ¯—রে অবস্থান করে যেমন নবী রসুলদের রূহ। তবে তাদের মর্যাদা অনুসারে শ্রেণী বিন্যাস রয়েছে।
মাহমুদঃ আত্মা কি এবং কি ভাবে রূপান্তরিত হয়।

সাধুঃ আতœা হলো নূর এক ধরণের ¯^চ্ছ পদার্থ। আত্মাকে দেহের সাথে তুলনা করা কোনক্রমেই ঠিক নয়।

রূহের চারটি আবাসস্থল বা গৃহ রয়েছে। পূর্ববর্তী গৃহ বা জগৎ থেকে পরবর্তীটি বহুলংশে বড়। প্রথম গৃহ মায়ের উদর, যা খুবই সংকীর্ণ এবং ত্রিমাত্রিক অন্ধকারে আচ্ছন্ন। দ্বিতীয় গৃহ পৃথিবী। যেখানে মানুষ পরবর্তী জীবনের কল্যাণ অকল্যাণ ও সৌভাগ্য দূর্ভাগ্যের বীজ বপন করে এবং পরকালে পাথেয় অšে¦ষণে রত থাকে। তৃতীয় গৃহ বরযখ, যা পৃথিবীর তুলনায় বহুলাংশে বড়। এককথায় মায়ের পেটের তুলনায় পৃথিবী যেমন, পৃথিবীর তুলনায় বরযখের অবস্থাও তেমন। চতুর্থ গৃহ আখেরাত অর্থাৎ জান্নাত বা জাহান্নাম। এটাই জীবনের শেষ পরিণতি। এর পর আর কোন জগৎ নেই।

আল­াহতাআলা ক্রমাš^য়ে মানুষকে এক জগতে থেকে অন্য জগতে স্থানান্তরিত করেন। পরিশেষে আখেরাতে নিয়ে যান, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রত্যেক জগতের আইন বিধান সম্পর্ণ ভিন্নতর। তারাই সবচেয়ে সফল কাম যারা পৃথিবীতে এসে আল­াহ বিধান অনুযায়ী সৌভাগ্যের পরশমণি অর্জন করে দুর্ভাগ্যের কণ্ঠক থেকে সম্পর্ণ নিরাপদ থাকে।

রাসুল (সাঃ) বা নবীদের অনুগত্য এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ বর্জনের মাধ্যমে আখেরাতের সাফল্য অর্জন সম্ভব।

মাহমুদ সাধুর সাথে আজকের মতো কথা শেষ করে বাড়ির পথে হাঁটতে থাকে। পথে দুই এক জন মানুষের সাথে তার কথা বিনিময় হয় এবং হাঁটতে হাঁটতে এক সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয় এবং তাদের দুজনের মধ্যে কথাপোকথন হয়।
মাহমুদ সন্ন্যাসীকে বলে মরণের পর রূহ কি ভাবে রূপান্তর হয়।

সন্ন্যাসীঃ পূর্নজন্ম বলতে বুঝায় পৃথিবী কখনো ধবংস হবে না। মৃত্যুর পর রূহ গুলো পর্যায় ক্রমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হতে থাকে এবং এভাবেই সৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। সন্যাসীর কথা গুলো শুনে মাহমুদ আবার বাড়ির পথে হাঁটতে থাকে। পথের পাশে নতুন জন্ম প্রকৃতির আতœা প্রজ্ঞায় মিশে গেছে সৃষ্টির প্রেরণায়।

ক্ষীণ পটে আঁকা গ্রামের নদী দৃশ্যের নন্দন কানন প্রাচীন দর্শন শিল্পের জন্ম দেয় ¯^র্গের সুপ্রতিফলন। সময়ের গতিতে মাহমুদ বাড়িতে গিয়ে পৌছায়। রাত্রিতে লেখা পড়া শেষ করে খাওয়া দাওয়া শেষে সে ঘুমিয়ে পড়ে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে লেখা পড়া শেষ করে মা কে সালাম করে সে স্কুলে যায় এবং সময় মতো ক্লাসের ভেতর প্রবেশ করে। ক্লাসে আজ রূহ সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে। ক্লাসে শিক্ষক রূহ সম্পর্কে বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। ক্লাসের একজন ছাত্র গালিব শিক্ষককে প্রশ্ন করলো রূহ কোন কোন ¯—রে অবস্থান করে।
শিক্ষক বললেন রূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

(ক) নৈকট্য প্রাপ্তদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, এরা নেয়ামত সমৃদ্ধ জান্নাতে অবস্থান করবে।
(খ) ডান দিকে রূহ (এরা নিরাপত্তা প্রাপ্ত) অর্থাৎ আল­াহ তায়ালার আযাব থেকে নিরাপদ)।

(গ) বাম দিকে রূহ মিথ্যাবাদী ভ্রষ্ট রূহ । যাদের আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা এবং যারা নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিতে। উলে­খ্য যে, রূহের এই সকল বিধান তখনই কার্যকারী হয় যখন রূহ দেহ থেকে পৃথক হয়ে যায়।

ক্লাসে সবাই নিরব মনোযোগ সহকারে এই গুর“ত্ব পূর্ণ বিষয় গুলোর ব্যাখ্যাা শুনছে। যেন অহমিকা পুড়ে যাচ্ছে উন্নত প্রেমের মায়ায়। জানার অনেক প্রত্যাশা ক্লাসের সব ছাত্রদের মধ্যে এবং জীবনকে প্রশ্ন করছে কাব্যময় ইতিহাস। এক গুর“ত্ব পূর্ণ বিষয়ের মধ্য দিয়ে আজকের ক্লাস শেষ হলো।

সবাই বাড়ির পথে রওনা হয়েছে। মাহমুদ বাড়ির পথে গেল না। সে ক্লাসের শিক্ষককে বেশ জ্ঞানী মনে করলো এবং তার কাছে বেশ কিছু শেখার আছে ভেবে সে শিক্ষকের র“মে গিয়ে বসলো এবং তাকে প্রশ্ন করলো মমিনদের রূহ কোথায় অবস্থান করে ?

শিক্ষক বলেন মমিনদের রূহ সম্পর্কে আল­াহ তা’আলার বাণী। হে প্রশান্ত আত্মা। প্রত্যাবর্তন কর তোমার পালনকর্তার প্রতি হৃষ্টচিত্তে স¯ে—াষ ভাজন হয়ে। অন্তর আমার বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে আমার জান্নাতে প্রবেশ কর। নবী করিম ছাল­াল­াহ আলাইহি ওয়াসাল­াম এরশাদ করছেন মুমিনদের রূহ এক পাখি সদৃশ্য, আল­াহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তাকে পুনরায় তার দেহে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত সে জান্নাতের বৃক্ষ থেকে খাদ্য এবং পানীয় গ্রহণ করে।

দিব্য জ্ঞানী সাধকরা বলেন মুমিনদের রূহ ইলি­য়্যীনে এবং পাপি বা কাফিরদের রূহ সিজ্জীনে অবস্থান করে। শিক্ষক আরো বলেন রূহ সৃষ্টি করার পর সৃষ্টি কর্তা এক জায়গায় রেখে দিলেন। ওটাই বরযখ, যার দিকে মৃত্যুর সময় মানুষ পুনরায় ফিরে আসে।

অতঃপর সৃষ্টি কর্তা শুর“ দ্বারা গঠিত দেহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রূহ গুলোকে প্রেরণ করেন। সুতরাং বুঝা গেলো, বরযখ জীবনে রূহের উপভোগ্য এক বিষয় আর কিয়ামতের দিন শরীরের জান্নাতে প্রবেশ করা আরেক বিষয়।

বরযখের জীবন রূহ যে জান্নাতী খাবার উপভোগ করে উহা আসল জান্নাতের নিয়ামতের তুলনায় খুবই নগন্য। ক্রমেই সূর্যটা পশ্চিম আকাশের দিকে ঢলে পড়ছে। ফুলন্ত নদীর স্রোতে রূপালী ঢেউ গুলো খেলা করছে। আদিম কিশোরী নারীর চমৎকার সুর সৌন্দর্য নন্দন হাসি গানে। প্রকৃতির সবুজ অসামান্য কার“ কার্যের রূপে পৃথিবীর প্রথম শ্বেতাঙ্গী কৃষ্ণাঙ্গী নারী মিশে যাচ্ছে। মাহমুদ হেঁটে যাচ্ছে বাড়ির পথে।

বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে সে ঘুমাতে যায়। ঘুমের মধ্যে ¯^প্নে সেই পরিচিত সাধুর সাথে মাহমুদের দেখা হয়।

মাহমুদ সাধুকে বলে অচিন রূহগুলোর রঙ কি? কি ভাবে এই অচিন রূহকে চিনবো।

সাধু বলেন রূহ সত্তাগত ভাবে একটি ¯^তন্ত্র বস্তু, যা আসা যাওয়া করতে পারে। উপরে ওঠে, নীচে নামে, একত্র হয়, পৃথক হয়। প্রবেশ করে, বের হয়। আন্দোলিত হয়, স্থির থাকে অর্থাৎ ¯^তন্ত্র বস্তুর সব গুন এতে পাওয়া যায়।

প্রকৃত পক্ষে শরীরকে সুগঠিত করা হয় রূহের জন্যেই যেন উহা রূহের আঁধার হতে পারে। সুতরাং রূহের গঠন মুখ্য আর দেহের গঠন গৌণ। কোন বস্তুর আঁধার যেমন বস্তুটির আবাসস্থল হয়ে থাকে, তেমনি দেহ হলো রূহের আবাসস্থল।

এতে বুঝা যায় রূহের আকার আকৃতি আছে এবং দেহের সাথে মিলে বা¯—ব আকার ধারণ করে, ফলে মানুষ একে অপর থেকে পৃথক হয়ে পড়ে। দেহ যেমন রূহের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং নিজেও রূহের উপর প্রভাব বি¯—ার করে। তেমনি রূহও দেহের উপর প্রভাব ফেলে এবং তার পক্ষ থেকে প্রভাবাম্বিত হয়। দেহ রূহের নির্মলতা ও পংকিলতার দ্বারা প্রভাবাম্বিত হয়। পাশা পাশি রূহও দেহের নির্মলতা ও পংকিলতা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নির্মল ও পংকিল রূপ ধারণ করে। এক কথায় বলতে গেলে দেহ এবং আতœার মধ্যে যেমন নিবিড় সংযোগ ও সম্বন্ধ, এমনটি কোথাও নেই। তাই দেহ থেকে রূহ আলাদা হওয়ার সময় পবিত্র দেহের রূহকে বলা হয় হে পবিত্র দেহে অবস্থানকারী পবিত্র রূহ বেরিয়ে এসো। আর অপবিত্র দেহের রূহকে বলা হয় হে অপবিত্র দেহে অবস্থানকারী অপবিত্র রূহ বেরিয়ে এসো।
রাত গভীর হচ্ছে মাহমুদ গভীর ¯^প্নে সাধুর বাণী গুলো শুনছে। বিমর্ষ রাত্রির বুকে আলো আর আঁধারের খেলা। উদ্দাম কল্পনার স্মৃতি বেদনাভরা জীবনের কৌতুহল। নোঙর ফেলে ফেলে রূপান্তর হয়ে এসেছে নতুন নতুন প্রাণ। কত নগর গ্রাম মনোহর গিরিমালা সবুজ বনে চঞ্চল গোলাপী আভায় মায়াবী রূহ নিয়ে ঘুরছে ছায়ার আশ্রয়ে।

¯^প্নের মধ্যে সাধু বলেন রূহ উর্ধ্বাকাশে গমন করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর সমুদয় ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করে এবং তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এভাবে এক আকাশ থেকে র“হ অন্য আকাশে গমন করে। অবশেষে আল­াহ তা’আলার নিকটবর্তী আকাশে গমন করে এবং আল­াহ তা’আলা তার নাম ইলি­য়্যীন বাসী অথবা সিজ্জীন বাসীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করার আদেশ দেন। রাসুল (সাঃ) বলেছেন মমিনদের রূহ পাখির ন্যায়। আল­াহ তাআলা পুনরায় তাদেরকে তাদের দেহে প্রত্যার্পন না করা পর্যন্ত তারা জান্নাতের ফল ভক্ষণ করতে থাকে।

আরও বলেছেন, শহীদের রূহ থাকে সবুজ পাখিদের ভেতর। তারা জান্নাতের নগরে বাস করে এবং জান্নাতের ফল ভক্ষণ করে। একথাও ব্যক্ত করেছেন, আলমে বরযখে রূহের উপর কিয়ামত পর্যন্ত শা¯ি— বা শান্তি বর্ষিত হতে থাকবে। রূহের বিচরণ শেষে সম¯— ঝাড় বা ফানুষে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে।

অতঃপর আল­াহ তায়ালা তাদেরকে পরখ করার জন্য জিজ্ঞেস করেন তোমদের কি কোন বাসনা রয়েছে? তারা বলে আমরা তো জান্নাতে স্বচ্ছন্দে বসবাস করছি, আমাদের আর কি আকাক্সখা থাকতে পারে? আল্লাহ তাআলা এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করেন। তখন তারা দেখে জবাব দেওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই, তখন তারা বলে আমাদের কে পুনরায় আমাদের দেহে ফিরিয়ে দিন যেন আমরা দ্বিতীয় বার আপনার রা¯—ায় শহীদ হতে পারি। সাধু আবার বলে একজন পাপী ব্যক্তি ও মুমিন ব্যক্তির দেহের অনেক দিক দিয়ে মিল থাকতে পারে; কিন্তু রূহের দিক থেকে বি¯—র ব্যবধান। তেমনি দুই ভাইয়ের দেহের দিক দিয়ে মিল থাকতে পারে; কিন্তু রূহের ক্ষেত্রে মিলের চেয়ে অমিলই বেশী।

মানুষের ভেতর অহমিকা পুড়ে পুড়ে উন্নত প্রেমের মায়ায় সে জাগতে থাকে, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে। কখনো কখনো ¯^ার্থপর একান্ত বিশ্বাস ভেঙ্গে দেয়। তারপর বেদনার অতীত ঘুমিয়ে পড়ে আর বর্তমান শাসিতরা জেগে থাকে নতুন ভবিষ্যৎ বাণীর অপেক্ষায়।
গভীর রাত ভোরের দিকে ছুটে যাচ্ছে। মাহমুদ ঘুমিয়ে আছে। ¯^প্নের গভীরে সাধু তাকে রূহের গন্তব্যের কথা বলে যাচ্ছেন।

সাধু বলে মৃত্যুর দ্বারা রূহ সম্পর্ণ রূপে ¯^াধীন হয়ে যায়, তাই তখন রূহের জ্ঞান এবং প্রজ্ঞাও পরিপূর্ণ ¯—রে উন্নীত হয়। রূহকে ঐ সকল জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে অবহিত করায়। যা রূহের ¯^াধীনতা ব্যতিত জানা সম্ভব নয়। রূহ পরিপূর্ণ ভাবে ¯^াধীন হলেও নবী, রসুলদেরকে যে বি¯—ারিত জ্ঞান দেয়া হয়েছে তা জানা সম্ভব নয়।

আল­াহ তায়ালা এরশাদ করেন, হে প্রশা¯— আত্মা! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে চল সন্তষ্ট ও সন্তষ্টি ভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বিশিষ্ট বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।

মাহমুদ স্বপ্নের ভেতর সাধুকে প্রশ্ন করে সিজ্জীন কি? ইলি­য়্যীন কি? সিদরাতুল মুনতাহা কি? ইদরীস আঃ কে উন্নত স্থানে উঠিয়েছি এর অর্থ কি? উন্নত স্থান বলতে কি বুঝানো হয়েছে? সাধু বলেন বিভিন্ন কিতাব থেকে জেনেছি ইলি­য়্যীন তো সপ্তকাশে, যেখানে মুমিনদের রূহ অবস্থান করে। আর সিজ্জীন সাত স্তবক মাটির নীচে অবস্থিত, যেখানে ইবলীসের সান্নিধ্যে কাফিরদের রূহ অবস্থান করে। আল­াহ তায়ালা ইদরীস (আঃ) এর সম্পর্কে বলেন আমি প্রতিদিন সমস্ত আদম সন্তানের আমলনামা সমতুল্য নেকী তোমার আমল নামায় লিপিবদ্ধ করি। ইদরিস (আ) তার পরিচিত এক ফেরশতাকে বলেছিলেন, আমার পক্ষ থেকে মউতকে বলেন, তিনি যেন আমার মৃত্যুকে কিছু বিলম্বিত করেন। তাহলে আমি আরও নেক আমল করার সুযোগ পাব।

অবশেষে ফেরেশতা তাকে দুই পাখার মাঝখানে বসিয়ে উড়ে চললেন। চতুর্থ আকাশে গিয়ে মালাকুত মউতের সাথে সাক্ষাৎ হলো। আর উক্ত ফেরেশতা তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করল। মালাকুত মউত বললেন, তিনি কোথায়? ফেরেশতা জবাব দিলেন তিনি তো আমার পিঠেই উপবিষ্ঠ। একথা শুনে তিনি বললেন, এক আশ্চর্য। আমিও তো চতুর্থ আকাশেই তার রূহ কবয করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।

অতঃপর তিনি সেখানেই তার রূহ কবয করলেন। সাধু আরও বলেন সিদরাতুল মুনতাহা একটি অপার্থিব কুল গাছের নাম যা আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের শিয়রের ওপরে অবস্থিত। সৃষ্ট বস্তুর জ্ঞানের এটাই শেষ পরিধি। কোন মাখলুক এর ওপরের আর কিছু জানতে পারে না। এ কারণেই এটাকে সিদরাতুল মুনতাহা বা শেষ সীমান্তের বরই গাছ নামে অবিহিত করা হইয়াছে।

সাধু বলেন মমিনদের রূহ কবয করার পর প্রথম আকাশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর আকাশের সম্মানিত ফেরেশতারা তাকে দ্বিতীয় আকাশ পর্যন্ত নিয়ে যায়। এভাবে সপ্তমাকাশ অতিক্রম করে রূহ সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, উহাকে সিদরাতুল মুনতাহা বলা হয় কেন? তিনি বলেন আল্লাহর কোন গোপন বিষয় উহা অতিক্রম করে না। তখন ফেরেশতারা বলে হে প্রভু! এটা আপনার প্রিয় বান্দা।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement