১।
এই শীতেও ঘামছে জাফর। জাফরের সামনে বসে আছে কালোকাপড়ে ঢাকা একজন। শুধু দুটো চোখ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। জাফর ভয়ার্ত কণ্ঠে চীৎকার করে ওঠে-
- কে? কে আপনি?
- সাবরিনাকে চিনিস?
- আমি কোন সাবরিনাকে চিনি না!
- এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি?
- কী বলতে চাইছেন?
- সেপ্টেম্বর ২৫ তারিখ মনে আছে?
- (জাফর কোন কথা বলেনা)
- সাদা পোশাক পরা মেয়েটা... দুপুর ২ টা...
- কে? কে আপনি?
- ভয় পেয়েছিস?
- তুই জানিস আমি কে? আমার হাত কতো বড়?
- তাহলে মনে পড়েছে সেই দিনকার কথা?
- আমি কিছুই করিনি! প্রমাণ আছে কোন?
- ভেবেছিলি, সিসিটিভির ফুটেজ লোপাট করলেই সব প্রমাণ হাওয়া হয়ে যাবে?
- যাহ! যা পারিস কর গিয়ে!
কালো কাপড়ে আবৃত লোকটা ঠাস করে চড় কসিয়ে দেয় জাফরের গালে। জাফর খেঁকিয়ে ওঠে- আমার গায়ে হাত দেওয়া! তোকে আজ গুলি করে শেষ করে দেবো!

খিলখিল করে হেসে ওঠে লোকটা। প্রাণ শীতল করা হাসি। সেই হাসিতে জাফর আর বেশী ভয় পায়। এমনিতেই তাকে অপহরণ করা হয়েছে। কোথায় আছে সে জানেনা। অন্ধকার ঘরে আবছা আলো। গা ছমছমে একটা ভাব। জাফরের জুতোর নিচে ক্ষুদ্র একধরনের পিস্তল আছে যেটা কালো কাপড়ে ঢাকা লোকটা জানেনা। এক হ্যাঁচকায় সেটা বের করেই ট্রিগার ছাপে। কিন্তু গুলি বের হয়না! লোকটা আবার হাসে। হাতে একটা ডিভাইস দেখিয়ে বলে, এইটা চিনিস? বুলেট জ্যামার। গুলি করবি? মারবি আমায়? মার? মার? হো! হো !হো !

২।
জাফরের ঠোটের কোন বেয়ে রক্ত পড়ছে। ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনের লোকটা। টর্চ লাইটের মতো একটা জিনিস তার হাতে ধরা । মাটিতে লাথি মেরে জাফরকে বলে ওঠে- বলবি না? তুই নিজের মুখে সত্যিটা স্বীকার করবিনা? একটু থেমে নিলো কালো কাপড়ে ঢাকা লোকটা। তারপর বলল, ওকে! আমিই বলছি।

২৫ সেপ্টেম্বর। দুপুর দুইটা। সাদা পোশাক পরে তোর কাছে একটা মেয়ে গিয়েছিলো। তারপর বাড়ি ফেরেনি। পরের দিন সকালে তার লাশ পেয়েছিলাম তোর অফিস থেকে ১০ মাইল দূরের এক জংগলে! সাদা পোশাকটা রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিলো। ডাক্তার বলেছিল, গণধর্ষণের পর মেয়েটাকে হত্যা করা হয়েছে! মামলা করেছিলাম। তোর অফিসের দারোয়ান স্বাক্ষী দিয়েছিলো আমার কাছে। কিন্তু তাকে সেখানে আর পায়নি কোনদিন। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে দিয়ে ছাড় পেয়ে গিয়েছিলি। মেয়েটার ব্রেইন স্ক্যান করে স্বাক্ষী নেওয়ার সময় সেটা হ্যাক করে ফ্ল্যাশ করে দিয়েছিলি! ওর হার্টের কথাগুলো সব মুছে দিয়েছিলি! মনে পড়ছে?

জাফরের চোখ ভয়ে বিস্ফোরিত হয়ে উঠেছে। কে এই লোকটা? যে সকল কথা জানে? কালো কাপড়ে আচ্ছাদিত লোকটার হাত নড়ে উঠে। সামনের দেয়ালে ভেসে ওঠে সেইদিনকার ছবি। সবকিছু। কিভাবে ওরা মেয়েটাকে ৫ জনে ধর্ষণ করেছিলো। রক্তক্ষরণে মারা গেলে ফেলে রেখে এসেছিলো! সবকিছুই নিজের চোখে দেখছে! এটা কি ভাবে সম্ভব? এই প্রযুক্তি কবে এলো দুনিয়ায়? এই ধর্ষণের তো কোন প্রমাণ নেই। সবকিছু লোপাট করা হয়েছে। কিন্তু চোখের সামনে যা দেখছে তা কোত্থেকে এলো?

জাফরের মুখে ঘুষি লাগিয়ে লোকটা জিজ্ঞেস করলো, মনে পড়েছে? ভাবছিস, এইগুলো কত্থেকে পেলাম? সাবরিনার মাথা আর হার্টের সব ডেটা উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ডেটা ভিডিওতে রূপান্তর করা হয়েছে। শুধু তোকে আমি নিজ হাতে শাস্তি দেবো বলে। কারণ তোদের আদালতে তুই পার পেয়ে গেছিস। কিন্তু আমাদের আদালতে তোর মৃত্যুর রায় দেওয়া হয়েছে। ওয়েভ ডেথ!

বাঁচার সকল আশা ছেড়ে দিয়েছে জাফর। শুকনো গলায় জিজ্ঞেস করলো,
- মেয়েটা কি হয় আপনার?
- মেয়েটি আমার বন্ধু হয়! দুনিয়ার বুকে একজন মানুষের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছিলো। সে হচ্ছে সাবরিনা!
- তারমানে তুমি মানুষ নও?
- আমরাও মানুষ। তবে অন্য প্রজাতির। মাটির গভীরে গুহায় আমাদের বাস! যেখানে তোমরা কেউ কখনো পৌছাতে পারবেনা।
- আমাকে মাফ করা যায়না?
- হা! হা! হো! হো! মাফ? সাবরিনাও আকুতি করেছিলো। ছেড়ে দিয়েছিলি? ৪টাকে মেরে এসেছি। তোকে মেরে সবাইকে আমাদের ওখানে নিয়ে যাবো। দেখবো, তোদের রক্ত, মাংস, বোধ কি দিয়ে তৈরি।

জাফর ডুকরে কেঁদে ওঠে। লোকটা বসা থেকে উঠে দাড়াতে গিয়ে চাদর পড়ে যায়। জাফর লোকটাকে দেখেই চীৎকার করে ওঠে- পিঁপড়ামানব!! তোমাদের অস্ত্বিত্ব আছে!! আর কিছু বলতে পারলোনা জাফর। তার আগেই টর্চ লাইটের মতো যন্ত্রটা চেপে বসলো বুকের উপর। ওয়েভ ডেথ!