লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ জুলাই ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ১৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশহীদ দিবস (মার্চ ২০১৮)

ওরা এসেছিলো
শহীদ দিবস

সংখ্যা

সুমন আফ্রী

comment ০  favorite ০  import_contacts ১৭৯
ওরা আজ আমার কাছে এসেছিলো। মধ্যরাতে যখন প্রকৃতির বুকে কিছু নিশাচর ছাড়া কেউ জেগে থাকে না তেমন সময়েই এসেছিলো তারা। বসতে বলেছিলাম। ওরা বসেনি। দাঁড়িয়ে ছিলো ঠায়। কাঁচা রক্তের গন্ধ আসছিলো। ওদের বলেছিলাম, রক্তের গন্ধ...
একজন বলে উঠলো- হু, আমাদের কাছ থেকে আসছে।
আরেকজন তাঁড়া দিয়ে বললো- দাঁড়িয়ে থাকবো না’কি? চল, বাইরে চল।
গা ঝাড়া দিয়ে উঠলাম বিছানা থেকে। আকাশে গোলগাল একটা চাঁদ উঠেছে। তার আলোয় সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। আমি সেই আলোয় তাকিয়ে দেখলাম, দু’জনের জামা-কাপড় রক্তে ভিজে গেছে!
আমি বলে উঠলাম- এই অবস্থায় আমাদের আগে হাসপাতালে যাওয়া উচিৎ। একজন খিলখিল করে হেসে উঠলো। আর একজন বললো- ও সব লাগবেনা কিছু। তুমি আমাদের সাথে চলো।
আমি বললাম- এতো রাতে বাইরে রাস্তায় যদি পুলিশ....
আমার কথা শুনে এবার দুজনেই হেসে উঠলো। অদ্ভুত সে হাসি।

আর কোনো কথা বললাম না আমি। যেতে লাগলাম ওদের সাথে। দুজনেই থমকে গেলো হঠাৎ। একজন বলে উঠলো- দেখতে পাচ্ছো কিছু?
- কি?
অপরজন ক্রুদ্ধ কন্ঠে বলে উঠলো- কিছুই দেখতে পাচ্ছোনা তুমি?
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। বোঝার চেষ্টা করতে লাগলাম। তখন একজন হাত দিয়ে দেখাতে দেখাতে বললো- এই যে রাস্তার পাশে নারী-শিশু-বৃদ্ধ মানুষগুলি শুয়ে আছে দেখতে পাচ্ছোনা এদের?
কোনো কথা বলতে পারলাম না আমি। মনে হচ্ছে কোনো ঘোরের ভিতর আছি। আরেকটু সামনে এগোতেই দেখলাম, এই মধ্যরাতে ড্রাগ নিচ্ছে কয়েকজন।
তখন ওদের একজন বলে উঠলো- এদের জীবন ধ্বংসের দায় কার?
আমি বললাম- রাজনৈতিক দলের লিডার এই ড্রাগ কেনা-বেচার সাথে জড়িত। আমরা সাধারণ পাবলিক কিইবা করতে পারি?
সাথে সাথে একজন আমার বুকে হাত রেখে ধাক্কা মারলো। পাঁচ হাত দূরে গিয়ে পড়লাম আমি। আমি দেখলাম, রাগে ওরা গজরাচ্ছে! একজন বিড়বিড় করে বলে উঠলো- বায়ান্ন...বায়ান্ন...

দুইজন দুই পাশে মাঝে আমি। হাটছি রাস্তা ধরে। এক দোকানের সাইনবোর্ডের লেখা দেখে ওরা আবার থামলো। দুঃখে মুখ দুটো কালো হয়ে গেল- আমি স্পষ্ট দেখলাম।
আমাকে একজন বললো- এখানে এইভাবে লেখা কেন?
আরেকজন বললো- বাংলার উপরে ইংরেজি! বাংলা বানানেও ভুল! কি করো তোমরা?
আমি বললাম- ফেব্রুয়ারি এলেই তোড়জোড় শুরু হয়। হাইকোর্ট মাঝেমধ্যে নির্দেশ দেয়। তারপর আবার সব...
কথা শেষ করতে না দিয়েই একজন খেকিয়ে বলে উঠলো- হাইকোর্টের রায় কি বাংলাতে দেওয়া হয়?
আমি বললাম- না।
ওদের চোঁখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, দুই চোখে যেন আগুন জ্বলছে! সবকিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিবে।
কোন একটা পিকনিকের বাস থেকে তখন ভেসে আসলো উচ্চস্বরে হিন্দী গান।
তখন হঠাৎ করেই একজন বলে উঠলো- ভেঙে ফেলো সব শহীদ মিনার! কি হবে এইসব দিয়ে? সব লোক দেখানো আচার বন্ধ করো তোমরা!
আরেকজন বললো- কোটি টাকা ব্যায় করে কোন শ্রদ্ধা আমরা চাইনা! যেখানে শিশুরা অভুক্ত থাকে! রাস্তায় ঘুমায়! হিন্দীর আগ্রাসনে বাঙলার করুণ দশা! সা¤্রাজ্যবাদীদের ভাষার নিচে ছোট করে পড়ে থাকে আমার ভাষা!
আমি শুধু বলেছিলাম- এদেশে সবাই ঘুমায়। সবাই মৌসুমী দেশপ্রেমিক। আমাদের সুস্থ চিন্তাভাবনাকে কেঁড়ে নেওয়া হয়েছে। বেকারত্বের সাগরে হাবুডুবু খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। দলকানা করে যুবকদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। কে দেখবে এইসব?

ওরা বলেছিলো- যদি আর একবার জীবন পাওয়া যেতো!
হ্যা। ওরা এসেছিলো আমার কাছে। আসাদ এসেছিলো। রফিক এসেছিলো।
ফিরে গিয়েছিলো বুক ভরা দুঃখ নিয়ে।


advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement