লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ ডিসেম্বর ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ১টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftউৎসব (অক্টোবর ২০১৩)

নাফিজের একদিন
উৎসব

সংখ্যা

মুহম্মদ নিলয়

comment ০  favorite ০  import_contacts ৩১৭
এবারও নাফিজ ফেল করেছে। প্রতিবার এই রেজাল্টের দিনটা ওর মন খারাপ করে বসে থাকার দিন। ক্লাসের একদম পেছনে যে জানালাটা আছে তার কাছের বেঞ্চটায় বসে বাইরে তাকিয়ে থাকার দিন। মাঠে বন্ধুরা খেলছে, এটা দেখে খেলতে না পারার কষ্ট পাওয়ার দিন। আজ নাফিজের একটা সুবিধা হয়েছে। আজ ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। বাইরে বৃষ্টি হওয়াতে মন খারাপ করে বসে থাকাটায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে বটে, কিন্তু নাফিজের আজ বড্ড বিরক্ত লাগছে। এই মিথ্যে মিথ্যে মন খারাপ করে সারাটা দিন কাটিয়ে দিতে আজ ওর একদমই ইচ্ছে করছেনা। কিন্তু প্রতিবার এই কাজটাই তাকে করতে হয়। কারণ পরীক্ষায় খারাপ করে খুশী থাকতে নেই। তাহলে সবাই মন্দ বলে, বেহায়া বলে। টিচার যখন বকা দেয় তখনও মন খারাপ করে থাকতে হয়, এটাই নিয়ম। কিন্তু নাফিজের এগুলা একদম ইচ্ছেই করেনা। টিচার যখন অনেক কড়া কড়া কথা শোনায়, নাফিজের বড্ড হাসি পায়। ওর মনে হয় যেন কেউ অভিনয় করছে, হাসির অভিনয়। আর পরীক্ষা খারাপ হলেও ওর বিন্দুমাত্র খারাপ লাগেনা। কিন্তু তারপরেও সে মন খারাপ করে থাকে। কারণ ওর ধারণা রেজাল্ট ভালো না হলে মন খারাপ করাটা একটা নিয়ম। তাই বাধ্য হয়েই নাফিজ রেজ়াল্টের দিনটায় মন খারাপ করে কাটিয়ে দেয়।

খুব ছোটবেলা থেকেই নাফিজ দেখে এসেছে অন্যদের যেমন মা থাকে, ওর তেমন নেই। আর যাকে ও বাবা বলে ডাকে তিনি অনেক ব্যস্ত একজন মানুষ। তাকে বাসায় খুব কমই দেখা যায়। তবে বাসায় অনেক কাজের মানুষ। তারাই নাফিজের দেখাশুনা করে। নাফিজের যখন যা লাগে ওরাই সব করে দেয়। বাবা মানুষটার সাথে নাফিজের অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করে। সারাদিন স্কুলে কি হলো, ফুটবল খেলায় ও কয়টা গোল করতে পারতো কিন্তু মন্টু ওকে ধাক্কা দিয়ে বারবার ফেলে দেওয়ায় একটা গোলও করতে পারেনি, আরও কতো কি! কিন্তু মানুষটার সে সময় নেই। নাফিজের এজন্য মন খারাপ হয়। সত্যি সত্যি মন খারাপ।

তবে আজ নাফিজের এই মন খারাপ করে বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ করেই কিছু দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় এলো। আজকের দিনটাকে ও কোনভাবেই মন খারাপ দিবস পালন করতে চাইলোনা। একটু ভেবেই নাফিজ স্কুলের ব্যাগ নিয়ে উঠে পড়লো। টিফিনের পরে আরও দুটো ক্লাস আছে। কিন্তু নাফিজ আজ সে ক্লাসগুলো করবেনা। আজ দিনটাকে ও অন্যরকমভাবে কাটাবে ঠিক করলো। সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে নাফিজ স্কুল থেকে বেড়িয়ে পড়লো। ওর স্কুল থেকে একটু দূরেই রেল স্টেশন। ওর কাছে মাত্র পঁচিশ টাকা আছে। পনেরো টাকা দিয়ে একটা রিক্সা ভাড়া করে সোজা রেল স্টেশনে পৌঁছে গেল নাফিজ। স্টেশনে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে ও উঠে বসলো ট্রেনের এক কামরায়। নাফিজ আজ একা একা ট্রেন ভ্রমন করবে বলে ঠিক করেছে।

ট্রেন চলতে শুরু করেছে। জানালা দিয়ে নাফিজ দেখতে পেল গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ঘর-বাড়ী সব যেন উল্টোদিকে দৌড়াচ্ছে। ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের সবকিছু দেখতে নাফিজের বেশ ভালো লাগছে। কিছুক্ষণ পরেই নাফিজ টিকিট চেকারকে দেখতে পেল। টিকিট চেকার সবার টিকিট চেক করে দেখে যে সে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠেছে কিনা। এর আগে ও যখন বাবার সাথে ট্রেনে উঠেছিল, তখন সে এটা জেনেছে। কিন্তু নাফিজ তো আজ কোন টিকিটই কাটেনি। নাফিজ ভাবতে লাগলো এখন সে কি করবে। টিকিট চেকার যত কাছে আসতে থাকে, ওর চিন্তা ততই বাড়তে থাকে। টিকিট চেকার কাছাকাছি আসা মাত্রই নাফিজ আসন ছেড়ে উঠে পাশের কামরার দিকে হাঁটা শুরু করে দেয়। পাশের কামরায় যেয়ে নাফিজ দেখতে পেল কয়েকজন বসে গল্প করছে আর সিগারেটের মতো কিছু একটা মুখে নিয়ে ধোয়া ছাড়ছে। নাফিজ ভয়ে ভয়ে একটি আসনে বসে পড়লো। নাফিজকে দেখে লোকগুলোর মধ্যে বিশালদেহী এক গোঁফওয়ালা নাকে মুখে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে নাফিজকে বললো, “কি বাবু, নাম কি তোমার?” নাফিজ উত্তর দিল “আমার নাম নাফিজ”। তারপর লোকটি জিজ্ঞেস করলো নাফিজ কার সাথে যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে। নাফিজ বললো, “আমি একাই যাচ্ছি। কোথায় যাচ্ছি জানিনা”। এই কথা শুনে অন্য লোকগুলোও নাফিজের কাছাকাছি এগিয়ে এলো। ওর পাশে বসে আরও অনেক কিছু জানতে চাইলো। নাফিজ লোকগুলোর কথায় ভয় পেয়ে যখনই উঠতে চাইবে, তখন ও বুঝতে পারলো ট্রেনটার গতি কমে আসছে, হয়তো কোন স্টেশনে এসে পড়েছে। ট্রেন এখনি থেমে যাবে হয়তো। ট্রেন থামলো ঠিকই, কিন্তু লোকগুলো হঠাৎ নাফিজের মুখে কিছু একটা চেপে ধরার সাথে সাথে নাফিজ অচেতন হয়ে যায়।

নাফিজের যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখলো সে এক ছোট্ট ঘরের এক পাশে শুয়ে আছে। নাফিজ কিছুই মনে করতে পারছেনা। খটখট শব্দে দরজা খুলে কয়েকজন মানুষ ঘরে ঢুকলো কিছুক্ষণ এর মধ্যেই। লোকগুলোর চেহারা দেখার পরই নাফিজের সবকিছু মনে পরে যায়। আজ নাফিজের পরীক্ষার রেজাল্টের দিন ছিল। রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় ও মন খারাপ করে বসে ছিল। তারপর হঠাৎ করেই ইচ্ছে হয় আজ সারাদিন ট্রেনে করে ঘুরবে। অনেক অনেক দূরে যাবে ট্রেনে করে। কিন্তু ট্রেন থেকে কিছু দুষ্টু লোক তাকে এখানে ধরে নিয়ে আসে। নাফিজের সবকিছু মনে পড়তে থাকে। নাফিজের ভয় লাগে ঠিকই, কিন্তু নাফিজ মোটেও বিচলিত না হয়ে এখন কি করা যায় সেটাই ভাবতে শুরু করে। ভেতরে ঢোকার পরপরই লোকগুলোর মধ্যে লম্বা আর হ্যাংলা করে একজন নাফিজকে ধমকের সাথে বলে, “শোন পিচ্চি, আমরা তোমাকে কিডন্যাপ করেছি। তুমি এখন তোমার বাবাকে ফোন করে বলবে আমরা যা চাই, তাই যেন দিয়ে দেয়। আমাদের দাবী বেশী কিছুনা। মাত্র একলক্ষ টাকা। আর তোমার বাবা তা যদি না দিতে পারে, তাহলে তুমি কখনোই আর তোমার বাবার কাছে ফিরে যেতে পারবেনা”। নাফিজ কথাটা শুনে হেসে ফেলে। ওর হাসি দেখে বিরক্ত হয়ে লোকটা কারণ জিজ্ঞাসা করলে নাফিজ বলে, “মাত্র এক লক্ষ টাকা! আপনারা আরও বেশীও চাইতে পারেন। সমস্যা নেই। আমার বাবার অনেক টাকা”। নাফিজের কথা শুনে লোকগুলো অবাক হয়ে যায়। তারা ফিসফিস করে কিছু একটা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে নাফিজকে মোবাইলটা এগিয়ে দিয়ে ওর বাবাকে ফোন করতে বলে। নাফিজ ফোনটা হাতে নিয়ে বাবার নম্বর টিপতে টিপতে সবাইকে এক পলক দেখে নেয়। নাফিজ এতক্ষণে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে আর মনে মনে বুদ্ধি করছে কিভাবে এখান থেকে বের হতে পারবে। মোবাইল স্ক্রিনে নম্বর লিখা মাত্র নাফিজের হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে নেয় লম্বা মতো লোকটি। কিছুক্ষণ পরে অপর প্রান্তের সাথে লোকটার কথা শুরু হলো। নাফিজ বুঝতে পারলো তার বাবার সাথেই লোকটি কথা বলছে। লোকটি তার বাবার কাছে টাকা দাবী করছে। নাফিজের কথা শুনে লোকগুলো টাকার অংক বাড়িয়ে নিয়েছে। তবে বেশী বাড়ায়নি বলেই নাফিজের মনে হলো। মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকার কথা বলতে শুনলো নাফিজ। হয়তো অপর প্রান্ত থেকে বাবা ওর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হতে চাইছে, তাই লোকটি বললো “নিন, কথা বলুন আপনার ছেলের সাথে”। নাফিজ মোবাইলটা কানে নিতেই শুনতে পেল অপর প্রান্ত থেকে তার বাবা অনেক অনেক আদর নিয়ে তার নাম ধরে ডেকে বলছে, “বাবা নাফিজ, তুই কোথায়? তোকে ওরা কোন কষ্ট দিচ্ছেনাতো? তুই একদম চিন্তা করিসনা। আমি ওদের সব দাবী মেনে নিব। একটু পরেই তুই বাসায় চলে আসতে পারবি”। নাফিজ শুধু বললো, “আমি ভালো আছি”। তারপরেই নাফিজের হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে নেয় লম্বা লোকটি। তারপর ওর বাবার সাথে আরও কিছু কথা বলে লোকটা লাইন কেটে দিল। লোকগুলোকে অনেক খুশী খুশী মনে হলো নাফিজের। হয়তো নাফিজের বাবা টাকা দিতে মূহুর্তেই রাজী হওয়াতে ওরা অনেক খুশী। মোটা মতো একজন হাসতে হাসতে সিগারেট ধরালো। তারপর আরও কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে কথা বলে লোকগুলো বাইরে চলে যায়। নাফিজ ভেতর থেকে বাইরে তালা দেওয়ার শব্দ শুনতে পেল।


এতক্ষণে নাফিজ পরিবেশটার সাথে কিছুটা মানিয়ে নিয়ে ভাবার সময় পেল। নাফিজের বারবার মনে হতে লাগলো বাবা মানুষটার কথাগুলো। খুব পরিচিত কন্ঠ, কিন্তু কথা আর কথা বলার ধরণ পুরোটাই আলাদা। কত আদর আর মমতা মিশানো কথাগুলো, যা নাফিজ আগে কখনোই শুনেনি। নাফিজের ধারনা ছিল বাবারা কখনো আদর করতে পারেনা, ভালোবাসতে পারেনা, হয়তো কখনো কাঁদতেও পারেনা। “আচ্ছা, আজ কি বাবা আমার জন্য কান্নাও করেছে”-এ কথা মনে হতেই নাফিজের অনেক কান্না পেল। কিডন্যাপ হওয়ার পর নাফিজ এই প্রথম কান্না করলো। এতকিছু হয়ে যাওয়ার পরও নাফিজের একটুও কান্না পায়নি, কিন্তু বাবা মানুষটার আজ অন্যরকম আদরমাখা কথা মনে পড়তেই নাফিজ আর কান্না ধরে রাখতে পারেনি। যে মানুষটা কখনোই নাফিজের সাথে একটু ভালো করে কথা বলেনি, যিনি ছেলের জন্য কখনো সময় বের করতে পারেনা কাজের ব্যস্ততায়, সেই মানুষটাই আজ তার অনুপস্থিতিতে কতটা চিন্তিত। নাফিজ ভাবতে থাকে। আসলে বাবা মানুষটা অতটা খারাপ না। হয়তো কাজের চাপে ইচ্ছা থাকার পরও তাকে সময় দিতে পারেনা। মুহূর্তেই বাবা মানুষটার উপর থেকে নাফিজের সকল অভিমান শেষ হয়ে যায়। আর বাবাকে চিন্তায় ফেলে সারাদিন ঘোরাঘুরি করে কাটিয়ে দেওয়ার এই দুষ্টু বুদ্ধিটার জন্য নিজের উপরই রাগ হতে থাকে নাফিজের। আর কখনো এমন করবেনা, এমনকি পড়ালেখাও এখন থেকে মন দিয়ে করবে এমন সিদ্ধান্তও নিয়ে নেয় নাফিজ। কারণ যে বাবাকে ভুল বুঝে সে এত মন খারাপ করে থাকতো, তিনিতো তেমন নন। বাবা মানুষটাতো নাফিজকে অনেক ভালোবাসে। আজ যদি এই লোকগুলো নাফিজকে কিডন্যাপ না করতো, তাহলে হয়তো এই সত্যটা কখনো জানাই হতোনা! এজন্য নাফিজ লোকগুলোকে মনে মনে ধন্যবাদ দেয়। কিন্তু নাফিজ এখন ভাবা শুরু করে কিভাবে এখান থেকে সে বের হবে, আর এই দুষ্টু লোকগুলোকে পুলিশে ধরিয়ে দিবে। কারণ আজ এই লোকগুলো ওকে ধরেছে, কাল হয়তো ওরই মতোন অন্য কাউকে কিডন্যাপ করবে। আর ওর বাবা যদি টাকা দিয়ে ওকে ছাড়িয়েও নিয়ে যায়, তখনতো আর এদেরকে ধরাও যাবেনা। তাই নাফিজ এখান থেকে বের হওয়ার জন্য বুদ্ধি বের করতে থাকে।

নাফিজ পুরো ঘরটা একবার দেখে নেয়। একপাশে একটা ছোট্ট জানালা আছে আর অন্যপাশে একটা বাথরুম। রুমে তেমন কিছু নেই। একটা মাত্র বিছানা আর দুটো চেয়ার। নাফিজের স্কুল ব্যাগটাও এই রুমেই আছে। জানালার কাছে এগিয়ে গিয়ে জানালা খুলে ফেলে নাফিজ। বাইরে তাকিয়ে ও বুঝতে পারে কোন এক বিল্ডিং এর অনেক উপরের তলায় তাকে রাখা হয়েছে। কিন্তু ও বুঝতে পারছেনা এটা কত তলা হবে। জানালা দিয়ে নাফিজ সামনের আরও একটি উঁচু বিল্ডিং দেখে সেই বিল্ডিং এর তলা গুনে বের করে ফেলে তার বিল্ডিং এর কত তলায় তাকে রাখা হয়েছে। এরপর দ্রুত নাফিজ তার ব্যাগ থেকে কাগজ-কলম বের করে অনেক গুলো ছোট ছোট কাগজে সাহায্য চেয়ে লিখে ফেলে তাকে যে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে কত তলায় রাখা হয়েছে সেটাও লিখে দেয়। তারপর কাগজ গুলো জানালা দিয়ে নীচে ফেলে দেয়। কাগজগুলো নীচে ফেলে নাফিজ জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও কেউ নাফিজের কাগজ গুলো দেখতে পেলনা, তাই নাফিজের চিন্তা বেড়ে গেল। নাফিজ ভাবতে থাকে এখন কি করবে। এরপর জানালা থেকে ফিরে এসে বাথরুমে যায়। সেখান থেকে পানি নিয়ে আসে মগে করে। জানালার কাছে গিয়ে মগ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে নাফিজ। হঠাৎ একজনকে যেতে দেখে সে উপর থেকে পানি ছুড়ে দেয়। পানি দেওয়া মাত্রই লোকটা উপরে তাকায়। নাফিজ তখন আরও একটা কাগজ মগের মধ্যে করে নীচে ফেলে দেয়।

তারপরের ঘটনাগুলো সবার জানা। নাফিজের এই সাহসিকতা আর বুদ্ধির ফলেই ধরা পরে এক সংঘবদ্ধ চক্র। যারা শুধু শিশুদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ই করতোনা, ওইসব শিশুদের পাচারও করে দিত। আর টিভি-পত্রিকায় সাক্ষাৎকারের কারণে নাফিজকে এখন সবাই চেনে। স্কুলেও নাফিজ অনেক জনপ্রিয় হয়ে গেল। আর সেই মিথ্যে মিথ্যে মন খারাপ? না, নাফিজকে আর অমন মন খারাপ করে কখনোই থাকতে হয়নি। কারণ তারপর থেকে নাফিজ অনেক মনযোগ দিয়ে পড়ালেখা করতো। এমন কি বাসাতেও নাফিজকে আর সত্যি সত্যি মন খারাপ করে থাকতে হয়নি। কারণ বাবা মানুষটা নাফিজকে আগের চাইতে অনেক অনেক বেশী সময় দিত, অনেক অনেক আদর করতো। এভাবেই একটাদিন নাফিজের জীবনটাকেই বদলে দিল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement