পরী

ভোর (মে ২০১৩)

রফিকুল ইসলাম সাগর
  • 0
  • ৫০
খুব ভোরে মোবাইলের রিং বাজছে । অনেকক্ষণ হলো রিং বেজেই যাচ্ছে । ঘুম ভেঙে গেলো আকাশের । ঘুম ঘুম চোখে ঠিক ভাবে দেখা যায়নি কে ফোন করেছে । রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটা মেয়ে বলছে আপনি এখনো ঘুমাছেন ? ঘুম থেকে উঠেন ! দেখুন সকাল হয়েছে । পাখিরা কিচির মিচির করছে । কত সুন্দর একটা সকাল । ঘুম ঘুম কন্ঠে আকাশ বললো আপনি কে ?
আমার নাম্বার দেখে চিনেন নি ? ও আচ্ছা আমার নাম্বার আপনার মোবাইলে সেভ করা নেই বলে লাইনটা কেটে দিলো । বিছানা থেকে উঠে বসলো আকাশ । মোবাইলটা হাতে নিয়ে রিসিভ কলে গিয়ে দেখলো পরী ফোন করেছিল । পরীর সাথে অনেকদিন যাবত ফোনে কথা হয় । প্রতিদিন না মাঝে মাঝে । বেশিরভাগ সময়েই সকালে ফোন করে । যেই সময়ে আকাশ ঘুমিয়ে থাকে । রাতে কখনো পরীকে ফোন করে পাওয়া যায় না । ফোন করলে রিসিভ করে না । মেয়েটার সাথে কথা বলে তাকে অনেক দুঃখী মনে হয় । অনেক কষ্ট তার । যখন খুব মন খারাপ থাকে শুধূ তখন ফোন করে । আজ মনে হয় পরীর মন খারাপ । পরীর মোবাইলে ফোন করল আকাশ ।
আপনি কোথায়....? বললো আকাশ ।
-আমি দুইটা টোকাই ছেলের সাথে নাস্তা করছি,একটি খাবার হোটেলে । ছেলে দুইটা খুব খুদার্থ । প্রায় সময় আমি এরকম টোকাই খুঁজে তাদের সাথে নাস্তা করি ।
আপনি আমার সাথে আজ দেখা করেন না !
-দেখা করতে চান ? ঠিক আছে আমি একটু পর বানিজ্য মেলায় যাবো চলে আসেন ।

মাঝে মাঝে মেয়েটাকে পাগলী মনে হয় । কী সব অদ্ভুত অদ্ভুত কাজকর্ম করে । এতদিন কখনো দেখা করার ইচ্ছা জাগেনি । কিন্তূ আজ খুব দেখতে ইচ্ছা করছে । সি এন জি অটোরিক্সার জন্য অপেক্ষা । কিন্তূ কোনও চালক যেতে রাজি হচ্ছে না । একেকজনের একেক রকমের অজুহাত । কারও যানজটের অজুহাত কারও অন্য অজুহাত । অবশেষে এক চালক যেতে রাজি হলেন । কিন্তূ মিটারে যাবে না,চুক্তিতে যেতে হবে । ওদিকে পরী বার বার ফোন করেই যাচ্ছে কোথায়? কোথায় ? প্রত্যেক বার আকাশের একই কথা চলে এসেছি রাস্তায় অনেক যানজট । আমিও তো আসলাম কই যানজট ছিল নাতো বললো পরী । বানিজ্য মেলার গেটের সামনে বিশাল বড় লাইন । বহু কষ্টে একটি টিকেট নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল আকাশ । ফুচকার দোকানে একটি মেয়ে বসে আছে দূর থেকে ফোন দিয়ে দেখে এই মেয়েটাই পরী । নাম যেমন পরী দেখতেও পরীর মতো । পরী বাস্তবে কোনদিন দেখেনি আকাশ কিন্তূ রূপ কথার গল্পে শুনেছে পরীরা অনেক সুন্দর হয় । তার চেয়েও বেশি সুন্দর বাস্তবে দেখা এই পরী । সৌন্দর্য দেখে কাছে গিয়ে কথা বলার সাহস হচ্ছে না । আকাশ দেখা না করেই চলে এলো ।
পরী আকাশ ফোন করে খুব বকা দিয়ে বললো আপনি এমন কেন করলেন । আমি একা একটা মেয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করলাম আর আপনি আসলেন না । তাহলে আমাকে মিথ্যা বলার কী প্রয়োজন ছিল ? কেন বললেন দেখা করবেন ? এরকম শত অভিযোগ । আমি আর আপনাকে কোনদিন ফোন করবো না,আপনার সাথে কথা বলবো না ।
নিজেকে খুব দোষী মনে হচ্ছে আকাশের । বুঝতে পারছে কাজটা ঠিক করেনি । পরীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোনও ভাষা নেই । মেয়েটা খুব কষ্ট পেয়েছে,অভিমান করেছে । ফোন করে ক্ষমা চাইল আকাশ । পরী ক্ষমা করে দিলো কিন্তূ আর কোনদিন দেখা করবে না বলে ঠিক করল ।
মাস খানেক পর একদিন সকালে পরী আকাশকে ফোনে করে বললো আমি আপনার বাসার নিচে দাড়িয়ে আছি আপনি বিল্ডিং থেকে নিচে নামুন । আকাশতো রীতিমত অবাক । পরী আমার বাড়ির ঠিকানা পেলো কোথায় । মেয়েটাতো আসলেই পাগলী । বাড়ি থেকে বেড় হয়ে আকাশ দেখে সত্যি সত্যি পরী গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে ।
আপনি তো দেখছি সত্যি সত্যি চলে এসেছেন । আমি তো মনে করেছিলাম আপনি আর কোনদিন আমার সাথে দেখা করবেন না ।
-আপনি যেন পালিয়ে যেতে না পারেন তাই আজ আমি আপনার বাড়ির সামনেই চলে এলাম । আমি সেদিন ঠিক করেছিলাম আপনার সাথে আর কোনদিন দিন দেখা করবো না । কিন্তূ পড়ে চিন্তা করলাম আমি আপনার সাথে একবার হলেও দেখা করবই । তাই.....।

আসলে সেদিন আপনাকে দেখে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম । আপনি খুব সুন্দর তো ।
-এখনো ভয় লাগছে ?
নাহ ! তবে বিশ্বাস হচ্ছে না ।

বাড়ির ছাদে বসে অনেক্ষণ কথা হলো দুজনের । দু'জনের সম্পর্ক খুব ভালো বন্ধুত্বে পরিনত হলো । সেদিন থেকে প্রায়ই দেখা হয়,কথা হয় । আকাশের মনে পরীর জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি হলো । কিন্তূ বলার সাহস হয় না । একদিন আকাশের এক বন্ধু দু'জনকে এক সাথে দেখে কিছু না জেনেই বললো তোদের দু'জনকে খুব মানিয়েছে । বিয়ে করবি কবে ? পরী বললো আমাদের এরকম কোনও সম্পর্ক না যে আমরা বিয়ে করবো । পরীর এরকম উত্তর শুনে আকাশের ভয় আরও বেড়ে গেলো । ভালবাসার প্রকাশ পরীকে কোনদিন করবে না বলে ঠিক করল । কিন্তূ আকাশ তার সিধান্তে অটুট থাকতে পারল না । আকাশ সিস্ধান্ত নিল পরীকে বলবে । এখানেই সব শেষ করতে হবে নাহলে পড়ে আরও কষ্ট হবে । যা হওয়ার হবে । 'হা' বললে ঠিক 'না' বললে সব শেষ । সামনা সামনি কিছু বললো না । মোবাইলে মেসেজ দিলো তোমাকে আমার বউ বানানোর স্বপ্ন দেখি, এই স্বপ্নটা প্রথম যেদিন তোমাকে দেখেছি সেদিন আমার বুকে বাসা বেধেছিল । তোমাকে প্রথম দেখে মনে হয়েছিল আমার যদি এরকম একটা বউ থাকতো । তুমি কী আমার বউ হবে ?
মেসেজটি পড়ে পরী আকাশের সাথে দেখা করতে চাইলো । দেখা হলো পরীর জীবনের অনেক অজানা কথা গুলো আকাশকে বললো । কেন তার কষ্ট । পরী বললো এখন বলো তুমি আমাকে বিয়ে করবে ? আকাশ বললো কী হয়েছিল আমি জানতে চাইনা । তার পরেও তুমি আমাকে সব কিছু জানিয়েছ তোমার সরলতায় আমি মুগ্ধ । তোমার কোলে আমি একটু মাথা রাখি?
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি খুব ভালভাবে গল্পের সমাপ্তি ঘটেচে.....কোন জটলা ছিলনা ....স্বচ্চ এবং পরিস্কার শব্দের বুনন.....মুগ্ধতা প্রকান্তে পরীর কোলে মাথা রাখার ইচ্ছে পোষন করা মানেইতো সব ল্যঠা চুকে গেলো বলে মনে হয়েছে..........রফিকুল ভাই আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ..............
সূর্য N/A শেষ প্যারায় গল্পটা হুট করেই শেষ হয়ে গেলো শুধু আকাশের আবদারটা ছাড়া। এ ক্ষেত্রে সব গল্পেই কটা সাধারণ ঘটনাই থাকে, তবু একটু বর্ণনা করলে গল্পের চাহিদা পূরণ হতো। গল্প ভালো লেগেছে।
এশরার লতিফ ভালো লাগলো গল্পটি। পরীর ইতিহাস জানা হলো না। আমদের জানার প্রয়োজনও নেই, হয়তো আকাশ এক সময় জেনে নিবে।
মিলন বনিক সুন্দর গল্প....ভালবাসার কাছে বাকি সব তুচ্ছ....
সুমন পরীর গোপন কথাগুলো আমাদের জানা হল না। যাক আকাশ কি মাথা রাখতে পেরেছিল পরীর কোলে? সুন্দর গল্প ভাল লাগল।
তাপসকিরণ রায় আকাশ- পরীর গল্পটি ভালো লেগেছে ভাই !ধন্যবাদ।
রফিক আল জায়েদ সুন্দর একটি গল্প।
আব্দুল জলিল অসাধারণ প্রেমের গল্প।

০৩ মে - ২০১২ গল্প/কবিতা: ১১ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ”
কবিতার বিষয় "তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল,২০২৬