আনুগত্যের শ্রদ্ধা ভক্তি অধিক উত্তম
মেদিনীর অদ্বিতীয় প্রেম নিদর্শন,
কী অদ্ভুত ঐ পিতৃভক্তি প্রফুল্ল হৃদয়ে
করেন ইসমাঈল (আঃ) প্রদর্শন।

রাতে খোয়াব দেখেন নবী ইব্রাহীম
আপন পুত্র করতে হবে কুরবানী,
দরদ ভরা মৃদু স্বরে পুত্রকে জানান
সুমহান আল্লাহর রহস্য অসীম
মহান খোদার নামে স্বপনে তোমায়
দেখি করছি জবাই ; হে বৎস আমি।

এখন বলো তোমার স্বীয় অভিমত
আমার প্রিয় সন্তান ! কী করব আমি ?
পুত্র জানালো পিতা হে ! আমি একমত,
তাঁর আদেশ পালন করেন আপনি।

শয়তান জালেন বিবি হাজেরাকে
ওহে জননী শুনেছ ! তোমার কর্তাগো
মিনায় যাচ্ছে পুত্রকে দিতে কুরবানী।
হাজেরা বেজায় খোশ শোনে এই বাণী
প্রভূর কসম করে বলেন তখনি-
আল্লাহ আমায় যদি দিতেন আদেশ
হাজার পুত্র দিতাম আমি কুরবানী।

সেই লক্ষ্যে পিতাপুত্র মিনায় পৌঁছল
ইসমাঈল নিজের পিতাকে সুধালো-
আমি ছটফট যাতে না করতে পারি
আমায় সমর্থ করে কষে বেধে নিন,
যেন না লাগে শোণিত আপনার গায়
তাই পরণের জামা গুটাইয়া নিন।

অন্যথায় সওয়াব কিছু হ্রাস পাবে
যদি নড়িচড়ি আমি, হয়তো তখন
অতি ব্যাকুল হবেন দুঃখ পাবেন
হঠাৎ আসলে মোর সুহৃদ জননী।

আপনার ছুরিখানি ওহে আব্বাজান
মসৃন ধারালো ভাবে শান করবেন
আমার গলায় দ্রুত ছুরি চালাবেন।
এতে জীবন ত্বরায় বের হয়ে যাবে,
তা দেখে মা জননীর সান্ত্বনা মিলবে।

পুত্রের একথা শুনে নবী ইব্রাহীম
বুকে জড়িয়ে সন্তান বহু চুমু খান ,
প্রভূ নামে কাত করে শুয়াইয়া দিয়ে
প্রিয় পুত্রের গলায় ছুরি চালান ।

তখন ইব্রাহীমের এই কুরবানী
সৃষ্টিকর্তার নিকট গ্রহনীয় হয়,
আল্লাহর ইশারায় ইসমাঈল না
দুমবা জবেহ হয়, ছেলে বেঁচে রয়।