ক্লাসে সহপাঠী দ্বয় ফাকি বাজ ছিল। পড়াশুনাই তাদের কোন মন ছিল না। সব সময়ই ফুটবল নিয়ে সময়ই কাটাত তারা । রফিক খুব ভাল আক্রমণাত্মক ভঙ্গি তে স্ত্র্যকার হিসাবে খেলত, এছাড়া সালাম ছিল রক্ষণাত্মক মধ্য মাঠের খেলোয়াড় । রফিক ও সালাম যেমন ভাল বন্ধু ছিল তেমন অমনোযোগী ছাত্র। তবে তারা একে অপর কে ওয়াদা করেছিল ,তারা বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করবে ।
১৯৪৫ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পাস করে কলেজে ভর্তি হয়। তারা যখন প্রথম বর্ষের ছাত্র তখন তারা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ কথা শুনেছে। তাদের রক্তে ছিল লেলীহান শিখা । ১৯৪৭ তারা উচ্চ মাধ্যমিক কৃতিত্বে এর সহিত পাস করে। সে সময়ই ব্রিটিশরা নেরি কুত্তার মত এই উপমহাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, আর যাবার আগে দেশ বিভক্ত করে যায় ।যা কিনা বর্বর চিত্র ।
রফিক বলল এই দেশ বিভক্ত ব্রিটিশ দের একটা চক্রান্ত ।
তুই কি করে বুজলি ? বলল সালাম
এই দেখনা , ভারত কে মাজখানে রেখে একটা দেশ কে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নাম করন করা হয়েছে।
সালাম বলল , তুই ঠিক কথা ই বলেছিস। এতে করে শাসন ও শোষণ সৃষ্টি হবে।
তারা তাদের কথা রেখেছিল । ১৯৫২ সনে তারা চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিল।

সপ্তম শ্রেণী তে বৃতি পেয়ে কি যে খুশি হয়েছিল বরকত তা ভাষাই প্রকাশ করা যাই না। বড় ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হবে। মানব সেবা করবে, সমাজ সেবা করবে আর তাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পরবে। তাকে নিয়ে ইস্কুল এর শিক্ষক মণ্ডলীরা গর্ব করত । সে দেশ কে ভালবাসতো , মায়ের ভাষা কে ভালবাসত। ব্রিটিশ দের শাসন কে ঘেন্না করত।
কলেজের গণ্ডি পার হয়ে সে ভর্তি হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। প্রথম দিন ক্লাস করতে এসে পরিচয়ই হয় জাব্বার এর সাথে। জাব্বার বহুত জেদি কিসিমের মানুষ ছিল। সে ও দেশ কে দেশের মানুশকে, মা কে , মাটি কে সর্বোপরি ভাষা কে ভালবাসত।
একবার ক্যান্টিনে ছাত্র ছাত্রী সমবেত ছিল, গোলাম আজম দেশ এর বিরদ্ধে কথা বলছিল। সে বলে ই বসলো দেশ দেশ করে কে হবে ? দেশ আমাকে কি দিয়েছে ? দেশ এর গুষ্টি কিলাই। এই কথা শুনে জাব্বার এর মাথা টা গরম হয়ে গেল, ব্যাস দিল একটা ঘুশি ব্যাটার নাক বরাবর। সাথে সাথে রক্ত বের হয়ে আস্তে শুরু করল, তাদের মধ্যে চলল তুমুল লড়াই । ১৯৫২ সনে তারা তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
বরকত তুই কি শুনেসিস রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তান আপামর জনতা , তরুন সমাজ ঐক্য মত প্রকাশ করেছে ?
হ্যাঁ , এ জন্য আমাদের বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করতে হবে, ওরা আমার মুখের ভাষা কাড়িয়ে নিতে চায়। ঐ নরপশু কে ব্রিটিশ মত ঝেতিএ বিদায় করতে হবে, বলল বরকত।
জাব্বার তখন বলল এর জন্য চাই সঠিক নেতৃত্ব । আমরা সবাই রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে গন আন্দলন গড়ে তুলব ।

রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে ওরা সবাই এক ই শিবিরে সমবেত হয়েছিল সালাম , বরকত, রফিক,জব্বার আরও নাম না জানা অনেকে । ১৩ শে ফেব্রুয়ারী তে রাতে গোপন বৈঠক হয়েছিল, আমি ও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে সবাই সবার অতীত নিয়ে আলোচনা করেছেল। পরবর্তী বৈঠক ১৭ শে ফেব্রুয়ারী তে করা হল । সেখানে সবাই মত দিল তারা মশাল মিসিল করবে রাতের বেলা । কথা মত কাজ ও হল , ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থাকে মিসিল শুরু হল। এতে করে পশ্চিম পাকিস্তান ভীতু হল , তাই তারা ২১ তে সারা দেশে কারফিউ জারি করল। সালাম , বরকত, রফিক, জব্বার এর নেতৃতে আবার চুরন্ত বৈঠক হল, শহিদুল্লাহ হলে। সিদ্ধান্ত হল, ১৪৪ ধারা কে প্রত্যাখ্যান করে মিশিল হবে। সেখানে সব মেধাবীরা ছিল।
২১ শে ফেব্রুয়ারী সবার হাতে ফেস্টুন লিখা ছিল “ রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই” , “ জয় বাংলা” , “ পদ্মা, মেঘনা , যমুনা তোমার আমার ঠিকানা “ ...............
সবাই চিৎকার করে বলতে শুরু করল সেই সাথে আমিও। আমরা সবাই টি, এস, ছি পার হয়ে কিছু দূর যেতে না যেতেই কোথা থেকে এলো শুয়উরের বাচ্চার দল , অম্নি শুরু করে দিল স্তাইন গানের গুলির বর্ষণ । মুহুরতের মধ্যে নেতিয়ে পরল আমাদের প্রান প্রিয় নেতারা । একটা গুলি এসে লাগল আমার বাম হাঁটুতে ..................। উহ...............আহ!!......।।

দাদু তারপর , তারপর কি হল , বল না , বল । বল না , বল ।
দাদুরে আমকে ধরে তুই শহীদ মিনারে নিয়ে চল ।