বিজয় রথে চড়ে তুমি আসবে বলে
আমি রোজ রোজ চেয়ে থাকি সুদূরে
সাজাই স্বপ্ন-সিঁড়ি বার বার
হে দীপ্যমান পুরুষ ...
যুদ্ধের দামামা, কাড়ানাকাড়ার শব্দ থেমে গেল
লেজ গুটাল শেয়াল, শকুন, হায়েনারা ;
বিজয় মিছিলে তোমাকে কত যে খুঁজেছি
নূর চাঁন, করীম শেখ, বসুনাথ আমাকে
বুকে নিয়ে আদর করলো,
তোর বাবা আসবে কণক
হঠাৎ একদিন তোকে চমকে দিয়ে আসবে ...
আমি দেখি মিছিলের অগ্নিঝরা মুখ
শপথ-রাঙা হাজারো দেদীপ্যমান মুখ
চোখে মুখে কী যে অমিত তেজ!
দূর থেকে দেখা যায়,
ঐ তো বাবা আসছে -
রাইফেল উঁচিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে, ‘জয় বাংলা’...
হেঁটে যাই জোড় কদম অথচ
হাওয়ায় মিলিয়ে গেলে নিমেষে ।
বাবা, তুমি কবে আসবে?

যখন হাওয়ার গাড়িতে চড়ে সুখেরা আসে
তুমি নেই পাশে ...
সেবার এসএসসিতে বোর্ড সেরা হলাম
মা বললেন, তোর বাবা থাকলে সত্যি
লাফ দিতো আকাশে ;
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় যেদিন ভাল করলাম,
মা বললেন, তুই চাকরি করবি খোকা?
তোর বাবা বলতেন, “তোমার ছেলে খেটে-খাওয়া মানুষের জন্য
কাজ তৈরী করবে,
তাঁদের শিখাবে জাগরণের গান।’’

তুমি দেখে যাও বাবা, তোমার ছেলে আজ
পাড়ায় পাড়ায় স্কুল খুলেছে-
ফুল, পাখি, প্রজাপতি উড়ে সেথা
পৃথিবীর পথে।
বাবা, এখনো ভেতো বাঙালিরা হা-ভাতে
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
সেকালের সিনেমার কিউর মতো
লাইনে দাঁড়ায় শ্রমবাজারে - আর
শ্রম ও ঘামের সোনার ফসল বিকোয় শাদা শেয়ালে;
চামচিকারা হুমড়ি খায় বিশ্বায়নের দেয়ালে ......
তুমি একবার এসো বাবা, দেখে যাও
আমরা স্বপ্ন দেখি কার চোখে?

কাটিলজেন্স চুষতে চুষতে তোমার হাত ধরে বাড়ি ফেরা আর
লাল শাড়িতে মায়ের মোহিনী হাসি
আজ শুধু স্মৃতিসুখ;
তুমি আসবে বলে
চল্লিশটি বছর ধরে তুমার পথপানে চেয়ে আছি -
আর কতকাল গুণতে হবে অপেক্ষার প্রহর?
বাবা, তুমি একটিবার ফিরে এসো
ফিরে এসো...