লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৮টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftনববর্ষ (ডিসেম্বর ২০১৩)

ফেরেশতা
নববর্ষ

সংখ্যা

শেফালী সোহেল

comment ০  favorite ০  import_contacts ৩৬২
সন্ধ্যা পাঁচটার দিকে মিটিং থেকে বাসায় ফিরছিলাম। কোলোরেডোতে ট্রাফিক আঘাত করে। শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় অসংলগ্নভাবে গাড়ি ফুতফুত শব্দ করে প্রায় অকেজো হয়ে যায়। আমি শুধু ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নামতে চেষ্টা করলাম। এতে এটি গ্যাস স্টেশনে চলে যায়। এভাবে চলতে তেমন বাঁধা না পাওয়ায় এবং ট্রাকের শিকলের একটি খোলা যায়গা পাওয়ায় শুকরিয়া। এমনকি এটি উল্টেও যায়নি।

কুকি মার্ট বিল্ডিং এর বাইরে একজন মহিলাকে দেখে ডাকলাম। মনে হলো সে বরফে পিছলে গিয়ে গ্যাস পাম্পে পড়ে গেছে। সে ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে তাকে ডাকলাম।

আমি সেখানে গেলাম। তুষারের ধাক্কায় পড়ে যায়য়ার মুহুর্তের চেয়ে তাকে এখন বেশ ভালো মনে হলো। দুশ্চিন্তায় যুবতীর চোখের নীচে ডার্ক সার্কেল পড়ে গেছে। আমি যাতে তুলে আনতে পারি সেজন্য সে কিছু একটা ঢিল দিয়ে নীচে ফেলল। আমি সেটা কুড়িয়ে নিলাম। সেটা ছিল নিকেল।

এই প্রাচীন উপশহরে অসহায় মহিলাটি একসিটে তিনটি বাচ্চা ঠেসে ঠেসে বসিয়ে অন্যটায় একটি গ্যাস পাম্প রিডিং যার মূল্য ৪.৭৫ ডলার। এ অবস্থায় তাদের যে করুণ দৃশ্য হয়েছে এ মুহুর্তে আমার কাছে সবকিছু পরিস্কার হয়ে গেল।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি ঠিক আছেন। কোন প্রকার সাহায্য লাগবে কি? সে শুধু বলল- আমার বাচ্চারা আমার কান্না দেখছে। সুতরাং আমরা তার গাড়ি থেকে পাম্পের অন্য পাশে দাঁড়ালাম। সে জানায়, সে ক্যালিফোর্নিয়ায় গাড়ি চালাচ্ছিল এবং সেটা এ সময়ের জন্য খু্বই কঠিন। আমি জিজ্ঞেস করলাম “আর আপনি প্রার্থনা করছিলেন”? এ কথায় সে একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। তবে আমি তাকে বললাম, “আমি পাগল নই এবং আল্লাহ আপনাকে শুনছে। আর তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন”।

আমি আমার কার্ড নিয়ে পাম্পের কার্ড রিডারে দিলাম। তার গাড়ি গ্যাসে পূর্ণ হলো। সেটা চালু হলো। ম্যাকডোনাল্ডসের দ্বারে গেল আর দুইটি বড় ব্যাগ ভর্তি খাবার কিনল। আরো কিছু উপহার সামগ্রী নিল এবং বড় এক কাপ কফি কিনল। সে গাড়িতে তার বাচ্চাদের খাবার দিল। যাদেরকে বন্য নেকড়েদের দ্বারা আহতদের মতো মনে হচ্ছিল আর আমরা পাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে খেয়ে নিলাম।


সে আমাকে তার নাম বলল। আর বলল যে সে কেনসাস থেকে এসেছে। তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে ছেড়ে চলে গেছে এবং তাদের আর দেখা হয়নি। সে জানত যে জানুয়ারি এক তারিখে ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু তার কাছে তেমন কিছু নেই। অবশেষে সে তার বাবা-মাকে তাদের আলাদ হয়ে যাবার ব্যাপারে জানায় যাদের সে বিগত পাঁচ বছরে কিছু বলেনি। তারা ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকে। তাদের সাথে থাকার জন্যই আসছিল।

তার যা কিছু ছিল সবকিছু গাড়িতে তুলল। সে বাচ্চাদের বলল, আমরা নববর্ষ উদযাপনের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় যাচ্ছি থাকার জন্য নয়।

আমি আমার মোজা তাকে দিলাম, আলিঙ্গন করলাম আর নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করলাম। আমাকে আমার গাড়ির কাছে যেতে দেখে সে বলল, “আপনি কি ফেরেশতায় বিশ্বাস করেণ”? এতে আমার দুচোখ গড়িয়ে অশ্রু পড়ল। বললাম, “সুইটি, এসময়ে সব ফেরেশতাই ব্যস্ত। সুতরাং মাঝে মাঝে আল্লাহ সাধারণ মানুষকে কাজে লাগায়”।

এটি ছিল অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটানার একটি। আমি গাড়িতে এসে স্টার্ট দিতেই সেটি চালু হলো আর কোন ধরণের সমস্যা ছাড়াই নিরাপদে বাসায় ফিরলাম। আমি এটাকে চেক করতে পরের দিন ম্যাকানিকসের কাছে নিয়ে গেলে আমাকে জানায় এতে কোন সমস্যা নেই। গাড়ির সবকিছু ঠিকঠাক আছে।


মাঝে মাঝে ফেরেশতারা তোমার অতি সন্নিকটে উড়ে আসে। তুমি তাদের ডানা ঝাপটানির শব্দ শুনতে পাও। আল্লাহ সর্বদা আমাদের সাহায্য করেন।


[বিদেশি গল্প অবলম্বনে]

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement