লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৬ অক্টোবর ১৯৮৩
গল্প/কবিতা: ৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftনতুন (এপ্রিল ২০১২)

একটা নতুন কিছু হলো
নতুন

সংখ্যা

মোট ভোট ১০

faruk আহমেদ

comment ৯  favorite ০  import_contacts ৭৮৩
আপনাদের কারো অভ্যাস যদি থেকে থাকে কোনো গল্পের সাথে কোনো কিছুর মিল খোজাঁর চেষ্টা করা তাদের জন্য বলছি নিজেদের সঙ্গে মিল খুজেঁ পেলে আলাদা কথা চেপে যান। তবে ভুলেও কাল্পনিক এ ঘটানাকে নিয়ে গবেষণা করতে বসে যাবে না ।


রনি, শোন আজকের দিনটা আমি তোদের জন্য এক বিশেষ কিছু উপহার দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করেছি।
রাসেল বাজে কথা রাখ, আমার মডেমটা তুই নিয়েছিস প্রায় ২১ দিনের ও বেশি হলো,এতদিনে একবারও মনে হলো না যে আমার কাছ থেকে যখন নিয়েছিস তখন আমি একটা কাজ করছিলাম। তবুও তোর জন্য আমি কাজ ফেলে তোকে মডেমটা দিই, কথা ছিল তুই আমাকে ৩দিনের মধ্যে এটা দিবি।এর মধ্যে তোর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করবো সে ব্যবস্থাও তুই রাখিস নি। উপকারকারীকে সত্যিই বাঘে খায়।

রনি, শোন এসব কথা রাখ । তোর মডেমটার সমস্যা ছিল আমি নিজেও কোনো কাজ করতে পারিনি বরং ঐটা একজনকে দেখাতে গিয়ে আমার কিছু টাকা খরচ হয়েছে। তোর জন্য উপহার হলো এই যে, আমি মডেমটা বিক্রি করে দিয়েছি । আর তোর জন্য আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে একটা মডেম নিয়ে এসেছি ।

রাসেল, তুই এবার থাম আমি আর তোর কথা শুনতে চাচ্ছিনা আগে মডেম টা দে আমি আমার হাতের কাজটা সেরে নিই।অনেক ৰতি করেছিস আমার তুই। রনি, কি বলিস আমি তোর জন্য মডেম নিয়ে আসলাম আর তুই আমাকে কি কিছুই দিবি না।এটা কিন্তু বেঈমানী।

তোর বন্ধুআসলেই আমি তোর সঙ্গে কথা বলবো। কোন বন্ধুর কথা বলছিস প্রশ্ন করলো রাসেল?

হঠাৎ, দরজায় কলিংবেল বেজে উঠল। দরজার খুলতেই ভেতরে প্রবেশ করলো জুয়েল । সঙ্গে সঙ্গে রাসেলের মাথায় যে ন বাজ পড়ল।সে কোনো কথা না বলেই হঠাৎ বলে উঠল দেখ রনি আমি তোর সাথে কথা পেচাঁতে আসিনি, আমাকে এখন যেতে হবে আমার জরম্নরী কাজ আছে।

রনি, রাসেলের হাত ধরে বলে আমার মডেম নিয়ে যাচ্ছিস কেন? জুয়েল, তাদের কথার মাঝখানে ঢুকে পড়ে এবং বলে ব্যাপার তাহলে এটা আমার কাছে ও যে মডেমটি বিক্রি করেছিল ঐ তোর ছিল। রনি, উত্তর দিল হ্যাঁ, আর ভাগ্য ভালো যে তোর সাথে আমার পূর্ব পরিচয় ছিল, আজ আমি যদি রাসেলের সঙ্গে নিয়ে আসা মডেমটিও রেখে দিই তাহলে কি আমার অন্যায় হবে? জুয়েল মোটেই না, বরং বেঈমানীর শাসত্দি দেওয়া হবে।

রাসেল লজ্জায় ভেঙ্গে পড়ে। রাসেলের এ অবস্থা দেখে জুয়েল রনির নিকট অনুরোধ করে ওকে তুই ৰমা করে দে।যেমন কথা তেমন কাজ তারা একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নেয় এবং রাসেলও ওয়াদা করে যে এমন কাজ আর কখনও হবে না।

তারা একসঙ্গে ফেইসবুকে বসে। ফেইসবুকে তারা একটি পেজও তৈরি করে । প্রতিদিন এ তিন বন্ধু সন্ধ্যার পর থেকে শুরম্ন করে অনেক রাত পর্যনত্দ ফেইসবুকেই সময় কাটাতে থাকে। এভাবে কয়েকদিন পার হয়ে যায়। তাদের বন্ধুর তালিকাটাও বেশ বড় হতে থাকে। তিন বন্ধুরই ফেইসবুকে ছেলে বন্ধুর থেকে মেয়ে বন্ধুর প্রতি আগ্রহ বেশি ছিল। তারা অনেক মেয়ে বন্ধুও পেয়ে যায়। কিন্তু মেয়ে বন্ধু পেয়ে তারা নিজেদেরকে আর একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পারেনি। প্রায়ই দেখা যেত যে তারা মেয়েদের ভালবাসার প্রসত্দাব দিয়ে নানা রকম আপত্তিকর মেসেজ পাঠাতো। প্রথম কয়েকদিন ওপাশ থেকে মেয়ে বন্ধুরা বিরক্ত প্রকাশ করলেও বিষয়টি তারা মজা হিসাবে নেয়। তাদের মেসেজে কখনও থাকতো যে ' আমি তোমাকে না পেলে তোমার সঙ্গে আমার ফেইসবুকের সম্পর্কের কথা সবাইকে জানিয়ে দিব, ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিব । সত্যি বলছি তোমাকে ছাড়ছি না। কিংবা কখনও এমন থাকতো যে আমি তোমার বাড়িতে গিয়ে হাজির হবো তুমি তোমার ঠিকানাটা আমাকে দাও।এভাবে তারা প্রায় অনেক মেয়েকেই নিয়মিত মেসেজ দিতেই থাকে।

কোনো একদিন তাদের তিনজনকে অবাক করেই তিনটি মেসেজ আসে। তিনটি মেসেজেই ছিল যে তোমার প্রসত্দাবে আমি রাজি । তারা তিনজন যেন আকাশের চাদঁ পেয়ে যায় । ঐদিনই তাদের মোবাইল নম্বরর একে অপরের সঙ্গে বিনিময় হয়।কথাও শুরম্ন হয়, কিন্তু তিন বন্ধুর অবাক হওয়ার ঘটনা দিনের পর দিন যেন বাড়তেই থাকে। তারা এখন শুধু তাদের গার্ল ফ্রেন্ডকে একটু ফোন করবে সে সময়তো পাওয়া দূরের কথা বরং দিন নাই রাত নাই ঘুমের সময় নাই সব সময় তাদের মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে মিস কল আসতেই থাকে। ওদিকে মেসেজের মাধ্যমে তারা জানতে পারে যে,তাদের মোবাইল সবসময় বিজি থাকে কেন?

তিন বন্ধু মিলে ঠিক করে তারা আর দেরী না করে তাদের গার্ল ফ্রেন্ডদের তাদেও সঙ্গে দেখা করার কথা বলবে।যেমন কথা তেমন কাজ তারা ফেইসবুকের মাধ্যমে জানিয়েও দেয় । ওপাশ থেকে মেয়েরাও সম্মতি জানায়। জায়গা নির্ধারণ করা হয় বসুন্ধরা ফুড কোর্ট। তারা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয় ফুডকোর্টে তিন বন্ধু বেশ হতাশার মধ্যে ছিল দেখে প্রথমেই তাদের কে বেশ বিভ্রত অবস্থায় পড়তে হয়।


প্রথমত, ছেলেরা জানতে পারে যে ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া তিন গার্লফ্রেন্ডই হচ্ছে তিন বোন।আর দ্বিতীয়ত,তিন বোনই তাদের চেহারার অবস্থা দেখে বলে ওঠে যে,চেহারা দেখেতো মনে হচ্ছে জেল থেকে আজই ছাড়া পেয়েছ তোমরা। কি করে ধরা পড়েছিলে বলতো তোমরা ? তিন বোনের একজন বলে ওঠে ওদের সাথে কথা বলতে থাকলে কিছু মুখ দিয়ে বের হবে না মনে হচ্ছে আসার সময় রাসত্দায় ধরে ছিনতাইকারী ওদের পকেটের সবকিছু রেখে দিয়েছে। বোন দের মধ্যে তৃতীয় জন বলে চল আমার শপিং করি, শুনুন আমাদের সঙ্গে কি আপনারা থাকতে চাচ্ছেন?

সেদিন, মেয়েরা বেশ কেনাকাটা করে আর পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে সেদিন তিন বন্ধুর পকেটের অবস্থা একদম খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু তাদের ভালবাসার জন্য এ খরচটুকু তাদেরকে বেশ আনন্দই দেয়। সেদিন কেনাকাটার করার সময় তাদের নিকট কিছুৰণ পর পর আসা মিস কল গুলো তিন বোনের নজর এড়াতে পারেনি।একজন তো বলেই ফেলে বা ভালোই এজন্যই বলি চেহারার এ অবস্থা কেন । বোধ হয় শ'খানেক জুগিয়ে ফেলেছো, এখন রাতের ঘুম হারাম করে সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজেদের এ বেহাল অবস্থা। আর একজন বলে, যাই হোক আজকের পরেই দেখবি আমাদের ভুলে যাবে।

রনি, একটু লজ্জা পায় তারপর বলে ওঠে যে না আমাদের এমনটা ভেবনা । এভাবে তাদের দেখা দেখি, কেনাকাটা,খাওয়া দাওয়া করতে করতে একমাস কেটে যায়। একদিন কথায় কথায় তিন বোনই আবদার করে বসে যে তোমাদের দেখে এতদিনেও মনে হয় না যে তোমরা স্বাভাবিক আছো। আসলে আমাদের নিকট তোমরা কিছু একটা লুকাচ্ছো নিশ্চয়ই।তোমরা তিন বন্ধু প্রায়ই মোবাইলে আসা মিসকল গুলো এড়িয়ে যাও আর রাতে তো তোমাদের লাইন পাওয়াই যায় না। আজ আমরা তোমাদের মোবাইল চেক করবো । কথা বলা মাত্র তিনজনের হাত থেকে তিন বোন মোবাইল কেড়ে নেয় এবং তাদের সামনেই প্রত্যেকটি নম্বরে এক এক করে কল করতে থাকে।প্রতিটি কলের সময়ই লাউড স্পীকার দেওয়া ছিল। কোনো সময় কল বেক করলে কল না ধরলেও এবার ঠিকই ওপাশ থেকে কল রিসিভ করা হয় এবং মোবাইলে আওয়াজ ভেসে আসে যে কি ব্যাপার তুমি রাতের বেলায় কথা বললেও দিনের বেলায় প্রায়ই কলতো করোই না বরং কল করলেও তা রিসিভ করো না। অবাক বিষয় এভাবে তিনটি মেয়ে প্রায় ১০ টি করে নম্বরে কল করে এবং দশটি নম্বর থেকেই আলাদা আলাদা মেয়ে এ ধরনের কথা বলতে থাকে। সেদিনও তারা ফুড কোর্টেই ছিল। তাদের এ কর্ম আশপাশের সকলেই উপভোগ করতে থাকে । শেষের দিকে তিন বোন তিনজনকে কোষে তিনটি চড় মেরে বলে যে আর কখনও যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে পুলিশে ধরিয়ে দিব। আশাপাশের মানুষগুলো তাদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মনত্দব্য করতে থাকে এবং ফেইসবুকে এভাবে বিরক্ত করার জন্য পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় ও দেখায়।

এতদিনে তাদের তিন বন্ধুরই ৫০ হাজার টাকা করে খরচ হয়ে যায় মেয়েদের পেছনে। ১ মাসের পেরেশানীতে তারা এত কাহিল হয়ে পড়ে যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পর্যনত্দ হয় ।কেননা তাদের ঘুমের সঙ্গে খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম হয় এ কদিন। আর সবশেষে এত বড় একটা দখল তাদের হজম হয়নি।

কিন্তু এ ঘটনার শেষের দিকটা খুবই মজার এবং আশ্চর্যজনক দেখা যায়। ওদিকে তারা যখন কষ্টে হাসপাতালে দিন কাটাতে থাকে তখন ঐ তিনবোনকেই একসঙ্গে দেখা যায় প্রায় ৩০ জন বান্ধুবী নিয়ে আড্ডায় মেতে আছে।প্রত্যেকেই বলছে, যে দেখলি আমাদের জালাতে গিয়ে এখন কি জ্বলাই না জ্বলছে। মনে হচ্ছে প্রায় পুড়েই গেছে।সত্যিই সবদিক মিলিয়ে শায়েসত্দাটা শুধু ভালোই নয় একটা নতুন কিছুর সৃষ্টি হয়েছে।আশা করি ভবিষ্যতে ওদের কাছে ভালো কিছুই আশা করা যাবে।এখন থেকে তারা আর বাজে মানুষের দলে নয়, ভালো মানুষের দলে চলে এল।

হাসপাতালে রাসেল আবার বলে উঠল আসলে সত্যিই অন্যায়ের জন্য শাসত্দি নির্ধারিত করাই থাকে বুঝলি বন্ধুরা । এবার ও যদি আমার শিৰা নয়, তাহলে আর হবে না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement