লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৬ অক্টোবর ১৯৮৩
গল্প/কবিতা: ৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_left২১শে ফেব্রুয়ারী (ফেব্রুয়ারী ২০১২)

সময়টাই হয়েতা ভালবাসার
২১শে ফেব্রুয়ারী

সংখ্যা

মোট ভোট

faruk আহমেদ

comment ৫  favorite ১  import_contacts ৬৮৫
শাহরিয়ার ও রাতুল দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু । এরা দুজনই দুটি মেয়েকে ভালবাসে । এ বিষয়ে তারা প্রায় সব সময়ই একজন একজনের সঙ্গে শেয়ার করে। রাতুল এবং শাহরিয়ার দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।

১ম ঘটনা
রাতুল ঃ বন্ধু তুই তো কিছুই করছিস না, কিছু বলছিস ও না।অথচ ওদিক দিয়ে মহোনার সঙ্গে আমার দেখা নেই আজ কতদিন যাবৎ । তোকে আমি লাভ গুরম্ন মানি । একটা কিছু না কিছু তোকে করতেই হবে।

শাহরিয়ার ঃ আগে বলতো দেখি মোহনার বাসা কোথায় আর কখন ও তুই সেখানে গিয়েছিস কিংবা ঐ বাসার কেউ কি তোকে চেনে কিনা?

রাতুল ঃ না, সে বাসার কেউই আমাকে আগে কখনও দেখিনি।

শাহরিয়ারঃ তুইতো থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত তোর কাছে নিশ্চয়ই ডাকপিয়নের পোষাক আছে ।সে পোষাক পড়ে কালকে মোহনার বাসায় যাবি আর যাওয়ার সময় একটা চিঠি লেখে নিয়ে যাবি, যা একটা হলুদ খামের ভেতরে ষ্ট্যাম্প সহ থাকবে। সঙ্গে আমার টেবিলে রাখা অনেকগুলো খাম আছে তাও নিয়ে যাবি।যেন তোকে দেখে যে কেউই বুঝতে না পারে যে তুই ডাকপিয়ন নয়। চিঠির ওপরে প্রেরক থাকবে মোহনার বান্ধবীর নামে আর প্রাপক হবে মোহনা।তোর সব না বলা কথা চিঠিতেই থাকবে তবে তাকে তুই করে সম্বোধন করবি এবং নীচে বান্ধবীর নাম দিবি।

২য় ঘটনা
কাহরিয়ার এর কথা মতো রাতুল কাজ করে এবং পরের দিনই মোহনার বাসায় গিয়ে মোহনার হাতেই চিঠিটা পৌছেঁ দেয় । মোহনা তাকে চিনতে পারে এবং অনেৰন আবেগময় দৃষ্টিতে রাতুলের দিকে তাকিয়ে থেকে রাতুলকে তার বুদ্ধির জন্য বাহবা জানায়।কিন্তু রাতুল বলে যে, এটা আমার প্রাপ্য নয় একমাত্র শাহরিয়ারেরই প্রাপ্য।

মোহনা ঃ সত্যই তিনি দারম্নন।

৩য় ঘটনা
এদিক দিয়ে শাহরিয়ারকে ভালবাসে তাদের পাশের বাড়িরই এক মেয়ে । মেয়েটির তাদের বাসায় ও আসা যাওয়া আছে।মেয়েটির নাম শিমলা। শিমলা শাহরিয়ারকে যে দৃষ্টিতে দেখে শাহরিয়ার সেভাবে সাড়া দেয়না।শাহরিয়ার ভালবাসে পাশের আর এক বাড়িরই মেয়ে মিতাকে । মিতা শাহরিয়ারকে চেনে তবে, সে শাহরিয়ার এর সঙ্গে তার সম্পর্ক সে প্রতিবেশী বড় ভাই হিসাবেই রাখতে চায়।কোনো একদিন সকালে মিতা বাসে করে একজায়গার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং ঘটনাক্রমে শিমলা সামনের বাসটিতে ওঠে।এদিকে বাস দুটি রওনা দেওয়ার আগেই শাহরিয়ার সে জায়গায় উপস্থিত হয় বাসে ওঠার জন্যই।শিমলা শাহরিয়ারকে বাসের ভেতর থেকে দেখা মাত্রই, দরজার দিকে এসে ড্রাইভারকে বাস থামাতে বলে।কিন্তু ড্রাইভার বলে, কি আপা সমস্যাটা কই আপনাকে ঠিক জায়গা মতোই নামানো হইব চুপ কইরা বসেন।শিমলা রাগান্বিত হয়ে বলে আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই আমি যাব না, আপনি তাড়াতাড়ি রাখুন। বাস থামার আগেই শিমলা অনেকটা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বাস থেকে বাম পা ফেলার পর ভারসম্য রাখতে না পেরে পড়ে গিয়ে হাতে সামান্য ব্যাথা পায় এবং জুতোটাও ছিড়ে ফেলে।

কিন্তু মজার ব্যাপার যে শাহরিয়ারকে উদ্দেশ্য করে শিমলার এ অবস্থা সে শাহরিয়ার এর সঙ্গে তার তখন দেখা হয় না।বরং সে লৰ্য করে যে শাহরিয়ার তার ডাক শুনতে পেয়েও পেছনের দিকে থাকা বাসটিতে ওঠার জন্য ব্যসত্দ হয়ে উঠে। শাহরিয়ার এর নজর ছিল মিতার দিকে । সে জানালার পাশেই মিতাকে বসে থাকতে দেখে অনেকটা চলনত্দ বাসেই লাফ দিয়ে ওঠে।শাহরিয়ারও হাতে ব্যাথা পায়।কিন্তু সে দিকটা ভাবার কোনো সময় তখন তার হাতে ছিলনা। সে মিতার সিটের কাছে এসেই লৰ্য করে যে একজন লোক তার পাশের সিটে বসে আছে। সে কোনো উপায় না দেখে কৌশলের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সে লৰ্য করে যে মিতা বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। এই সুযোগে সে লোকটিকে বলে বসে যে, ভাই আমার বান্ধবী তার সঙ্গে কথা আছে আপনি পাশের সিটে একটু কষ্ট করে বসবেন। কথা গুলো সে লোকটিকে এত আসত্দে বলে যেন মিতা শুনতে না পায়।কিন্তু লোকটি তার কথা বিশ্বাস করতে পারেনা তা তার চোখ দেখেই বোঝা যায়। শাহরিয়ার এবার চালাকি করে মিতাকে ডাক দিয়ে বসে এবং বলে অনেকদিন তোমাকে দেখিনি। মিতা তার কথাতে কিছু অবাক হলেও পাশের লোকটি এবার শাহরিয়ারকে মিতার ঘনিষ্ঠ একজন হিসাবে মেনে নেয় এবং সিটটি ছেড়ে দিয়েই শাহরিয়ারকে বসতে বলে। শাহরিয়ারও সঙ্গে সঙ্গেই বসে পড়ে। শাহরিয়ার মিতার দিকে এতটাই চেপে বসে ফলে মিতাকে বাধ্য হয়ে একটু সরে বসতে হয়। বসা হলেও মিতা কিন্তু শাহরিয়ারের সঙ্গে তেমন কোনো কথা বলে না। শাহরিয়ার মনে মনে একটু কষ্ট পায় এবং নিজেকে বেশ ছোট মনে হয় তার।

এদিক দিয়ে শিমলা, ছেড়া জুতো নিয়ে খুব কষ্ট করে বাসার দিকে ফিরে আসতে থাকে। এসময় সে তার আবেগকে ধরে রাখতে পারেনি। শিমলার চোখের কোণে একটু খানি জল চলে আসে এবং সে আসত্দে করে তা মুছে নেয়।

৪র্থ ঘটনা
ঘটনাক্রমে আর একদিন মিতা যখন বাসের জন্য অপেৰা করতে থাকে তখনই চারপাশটা বেশ ফাঁকা ছিল এবং কয়েকটা ছেলে এসে তার পাশে দাঁড়ায়। ছেলেগুলোর উদ্দেশ্যই ছিল তাকে বিরক্ত করা। মিতা যখনই একটু সরে গিয়ে দাড়ায় ছেলে গুলো ও তার পেছনে এসে তার সঙ্গে দাঁড়ায় । তাদেও মধ্যে একজন বলে বসে, আপা কোথায় যাবেন? মিতা জবাব দেয় আপনাকে কেন বলতে হবে।আর একজন বলে আপনি যেখানেই যাবেন আমাদেও যে সেদিকেই যেতে হবে। মিতা এ ধরনের কথা শোনে যেমন রেগে ওঠে তেমন ভয় ও পেতে থাকে। হঠাৎ শাহরিয়ার দ্রম্নত দৌড়ে আসে মিতার দিকে,আসলে শাহরিয়ারের উদ্দেশ্য ছিল মিতার সঙ্গে একসঙ্গে বাসে ওঠা। শাহরিয়ারও এখানে কি হচ্ছে তা বুঝতে পারেনি। কিন্তু শাহরিয়ার সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মিতা শাহরিয়ারকে অবাক করে দিয়ে বলে, এসেছ শাহরিয়ার চল আমরা সামনে এগিয়ে যাই এখানে বাস পাওয়া যাবে না। এ কথা বলেই সে শাহরিয়ারের হাত ধরে বসে। সত্যই, শাহরিয়ার ভাবতে থাকে আজ তার রাশিফলটা দেখতেই হবে। তারা দুজনেই হাত ধরা ধরি করে সামনে এগুতে থাকে,হঠাৎ মিতা হাতটা ছেড়ে দিয়েই একটু ধীর গতিতে শাহরিয়ারের সামনে চলে আসে। আসত্দে আস্তুে মিতা তার হাটার গতি আরো বাড়িয়ে দিয়ে আরো জোওে সামনে হাটতে থাকে। শাহরিয়ার দৌড়ে গিয়ে মিতার পাশের একই গতিতে দ্রুত হাটঁতে থাকে আর বলতে থাকে আমার কি কোনো ভুল হয়েছে ? মিতা খুব স্পষ্ট ভাষায় জবাব দেয়, ভুল কেন হবে বরং আপনি বিপদে আমার পাশে দাড়িঁয়েছেন আমিও চেষ্টা করবো এ ঋন শোধ করতে । আশা করি আপনি অতিরিক্ত কিছু করে আপনার সম্পর্কে ধারণাটা পাল্টে দিতে আমাকে বাধ্য করবেন না। এ কথা বলেই সে বাস আসা মাত্রই উঠে পড়ে। এ ঘটনায় শাহরিয়ার সেদিন খুব ভেঙ্গে পড়ে।

৫ম ঘটনা
সে দ্রম্নত বাসায় আসে, বাসায় এসে বন্ধু রাতুলকে দেখতে পায়। রাতুলের হাত ধরে সে অনেকটা কেদেঁই ফেলে এবং বলে আমি কখনই তার মন পাব না। বন্ধু যার জন্্য আমাদের ভালবাসাটুকু ধরে রাখা সম্ভব হলো, তার পরাজয় আর কেউ মেনে নিলেও আমি মেনে নিতে পারি না। তুই ভেঙ্গে পড়িস না বন্ধু চল বাহির থেকে ঘুরে আসি মন ভালো হয়ে যাবে।তারা একটি পার্কে এসে একটি সিটে বসে। যেখানে তারা বসে কথা বলতে থাকে সেখানে রাতুল পেছনের দিকে মাথা রাখার জায়গায় মাথা রাখলেও সে ব্যাথা পায় কারণ পেছনটা ভাঙ্গা ছিল। শাহরিয়ার ও এতৰণ পর মনটাকে একটু হালকা করার জন্য বন্ধু মাথা রেখে ব্যাথা পেয়েছে তা শুনেও নিজের মাথাটা আসত্দে করে পেছনের দিকে ঠেলে দেয় । কিন্তু শাহরিয়ার সত্যই অবাক হয়, তার মনে হয় তার পেছনে কোনো মেয়ের হাত রাখা আছে আর সে মেয়ের হাতের ওপরেই মাথা রেখেছে। শাহরিয়ার ধীরে ধীরে মাথাটা উঠিয়ে দাড়িঁয়ে পড়ে। দাঁড়িয়ে সে দেখতে পায় যে, তার পেছনে হাতটা দিয়েছিল শিমলা।শাহরিয়ার বেশ অবাক দৃষ্টিতে কিছুটা বিমর্ষ অবস্থায় শিমলার দিকে তাকায়। শিমলা লাল রংয়ের খুব সুন্দও একটা শাড়ি পড়ে ছিল এবং চুলগুলোও ছাড়া ছিল, সবমিলিয়ে শিমলাকে বেশ সুন্দর দেখাচ্ছিল।শিমলা বিষয়টাকে হালকা করার জন্য বলে ওঠে, আসলে আমি এদিক দিয়ে প্রায়ই আসি সঙ্গে আমার এক বান্ধবীও আসে জায়গাটা সত্যই সুন্দর।আমার বান্ধবী কিছুৰনের মধ্যেই আসবে, হঠাৎ তার জন্য অপেৰা করতে করতে আমি আপনাদের দুজনকেই দেখতে পাই।ও জায়গাটাই মাথা রাখতে গিয়ে আমিও একদিন ব্যাথা পেয়েছিলাম, তাই আজ আপনাকে মাথা রাখার সময়ই দেখতে পেয়ে মনে হচ্ছিল যদি বড় ভাই হিসাবে আপনার জন্য কিছু করতে পারতাম, বিষয়টা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে করেছি। আসলে আমি বেশি বেশি করে ফেলিছি। এবার শাহরিয়ার কিছুটা হালকা হয় এবং বলে না ঠিক আছে,আমাকে বাসায় যেতে হবে গোসল করবো বাসায় গিয়ে ভাল লাগছে না। এ বলেই শাহরিয়ার সামনে এগিয়ে আসলে ও রাতুল কিন্তু সেখানেই শিমলার সঙ্গে যেন কি কথা বলতে থাকে। শাহরিয়ার পিছনে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে রাতুল তাড়াতাড়ি শাহরিয়ার এর দিকে চলে আসে।শাহরিয়ার জিজ্ঞেস করে কিওে কি কথা বললি।রাতুল বলে না কিছুই না ওনার সঙ্গে পরিচিত হলাম এই যা।


আসলে এর আগে একবার শিমলার সঙ্গে রাতুলের দেখা হয় যখন সে শাহরিয়ারের বাসার দিকে আসে। এ সময় মিতা তার পরিচয় দেয় এবং রাতুলের পরিচয় ও জানে। রাতুল শাহরিয়ারের খুব ভালো বন্ধু সে কথা জেনে মিতা লজ্জার কথা এতো না ভেবেই তার ভালবাসার কথা রাতুলকে জানায়। রাতুল শিমলার মাঝের আবেগটুকু অনুভব করতে পাওে, তাই সে সেখানে আর বাড়তি কথা বলেনি । বরং আজকে শাহরিয়ার বাসায় এসে যখন রাতুলকে দেখতে পায় এর আগেই রাতুলের সঙ্গে শিমলার কথা হয় এবং পরিকল্পনানুযায়ীই তারা পার্কে মিলিত হয়।

৬ষ্ঠ ঘটনা
একদিন একটা চাকুরির বিজ্ঞাপন দেখা মাত্রই ইন্টারভিউ এর জন্য মিতা প্রস্তুতি নেয় এবং তার বাবা মাকে বিষয়টা জানিয়ে বেরিয় পড়ে । আসলে মিতার ক্যারিয়ার নিয়ে তার বাবা মা বেশ সজাগ এবং বিষয়টাকে মিতা ও গুরত্ব দেয়। সেদিন বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শাহরিয়ার মিতার সামনে এসে পড়ে এবং জিজ্ঞেস করে কোথায় যাচ্ছ শুনি। মিতা সত্য লুকায় না সে যে একটা ইন্টারভিউর জন্য যাচ্ছে তা জানায় এবং কোথায় যাচ্ছে তাও জানায়।এদিক দিয়ে শাহরিয়ার সারাটা রাত অস্থিরভাবে কাটাতে থাকে এবং শেষে ভাবে যে আজ সে মিতাকে সরাসরি আমি তোমাকে ভালবাসি কথাটা জানাবে। তাই সে সিদ্ধানত্দ নেয় যে, আজ আর মিতার পিছু ছাড়া যাবে না। যেমন কথা তেমন কাজ, মিতার রিঙ্ার পিছু নিয়ে সে ঠিকই অফিসে চলে আসে এবং ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য নিজেও প্রস্তুত হয়ে পড়ে। মিতা মূলত একটি স্কুলে শিৰিকা হিসাবে কাজ করার জন্য ইন্টারভিউ দিতে আসে, যেখানে বিজ্ঞাপনে স্পষ্ট উলেস্নখ ছিল যে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যই পদটি বরাদ্ধ। শাহরিয়ার স্কুলে প্রবেশ করেই নিজে কিছুটা অবাক হয়ে যায় সে দেখতে পায়যে সবাই এখানে মেয়ে একটা ছেলেও নেই।সে ইতসত্দত বোধ করতে থাকে যে আসলে সে তো জানেই না যে কোন পদের জন্য সে ইন্টারভিউ দিতে এসেছে এবং বিজ্ঞাপনও সে দেখেনি। তবে সে এসেই মিতার পাশেই বসেছিল। মিতা কয়েকবার তার দিকে তাকায় এবং মুখের এমন ভঙ্গিই করে যে অত্যনত্দ হাস্যকর ও বিরক্তিকর কিছু দেখে সে ঠাট্টা করছে। শাহরিয়ার বিষয়টা বুঝতে পাওে এমনকি, চারপাশের অন্যান্য মেয়েরাও একই ভাবে করছে কেউ বা মুচকি মুচকি হাসছে। এক পর্যায়ে স্কুল কতর্ৃপৰের একজন এসে তাকে দাড়াতে বলে এবং কড়া ভাবেই বলে আপনি কেন এবং কোথায় এসেছেন তা কি আপনি জানেন? শাহরিয়ারের উত্তর অবশ্যই কেন না আমি আপনাদের এখানে চাকুরির বিজ্ঞাপন দেখে অন্য সবার মতোই ইন্টারভিউ এর জন্য এসেছি। লোকটি রাগান্বিত মুখ করে, চাকুরির বিজ্ঞাপনটি তার সামনে তুলে ধরে ভালভাবে পড়তে বলে।বিজ্ঞাপনটি পড়ে শাহরিয়ার সত্যই অনেক লজ্জিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় আশপাশের সকলেই খুব উচ্চ স্বরে হাসতে থাকে, সে সঙ্গে মিতাও । শাহরিয়ার মাথাটা নিচু করে সেখান থেকে বেরিয় আসে।লোকটি বলে ওঠে, এক পর্যায়ে বাটপাড় যে কত রকম হয়।কথাটা তার কানে আসে। কথাটা মিতার ও কানে আসে এবং মিতা হঠাৎ কেন যেন কিছুটা বিমর্ষ হয়ে পড়ে এবং এ পরিস্থিতির জন্য সে নিজেকেই দায়ী মনে করে।মিতা শাহরিয়ারের গেইট দিয়ে বের হওয়া পর্যনত্দ শাহরিয়ারের দিকেই তাকিয়ে থাকে।

সেদিন পথে রাতুল তাকে দেখা হওয়া মাত্রই অন্য রকম সংবাদ জানায়।রাতুল বলে বন্ধু আমরা তো অসহায় হয়ে পড়ছিরে ।শাহরিয়ার স্পষ্টভাবে জানতে চাইলে, রাতুল বলে পশ্চিম পাকিসত্দান রাষ্ট্রভাষা উদর্ু করার সিদ্ধানত্দ নিয়েছে। এখানে আমাদের বাংলা ভাষাকে ত্যাগ করে উর্দুকে নিজেদের ভাষা হিসাবে মেনে নিতে হবে। শাহরিয়ার না তা হতে পারে না ।রাতুল সঙ্গে সঙ্গেই বলে তাহলে তুইও কি আন্দোলনে যোগদান করবি ? আমাদেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলনের যোগ দেওয়ার সিদ্ধানত্দ নেওয়া হয়েছে। অসহায় অসহায় এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ চেহারা নিয়ে শাহরিয়ার বলে অবশ্যই কেন নয় ? আমার ভালবাসা দিয়ে তো নিজের জন্য মিতার মনটাকে পেলাম না এবার দেখি নিজেদের জন্য, নিজের জন্য মাতৃভাষাটাকে পাই কিনা?রাতুল বলে তুই দেশকে সত্যই অনেক ভালবাসিস? সময়টাই হয়তো ভালবাসার।

যেমন কথা তেমন কাজ। শাহরিয়ার আন্দোলনে যোগ দেয় এবং আন্দোলনের এক পযর্ায়ে পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার এর মৃত্যু হয়। শাহরিয়ারের লাশ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সবার মাঝেই খবরটা পৌছেঁ যায়।শিমলা লাশের পাশে এসেই কাঁদতে থাকে, পাশে শাহরিয়ারের বাবা মাও থাকে। মিতা দুর থেকে এসে শিমলাকে খুব কাদঁতে দেখে মাথায় হাত দিয়ে জানতে চায় তুমি কি শাহরিয়ারকে ভালবাসতে? হ্যাঁ ভালবাসতাম, শিমলাও মিতাকে জিজ্ঞেস করে আপনি এখানে?মিতার চোখ তখন লাল হয়েছিল, কিন্তু চোখে পানি ছিল না। মিতা মুখটা ফিরে অন্য দিকে ঘুরিয়ে বলে সময়টাই হয়তো ভালবাসারনো ।এ সময় মিতার চোখের কোনে পানি দেখা যায়। শেষ . . . . . . . ...

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • জালাল উদ্দিন  মুহম্মদ
    জালাল উদ্দিন মুহম্মদ ভালো লেগেছে। বর্ণনাধর্মী লেখা। সংলাপ এবং প্রকৃতির সংমিশ্রণ হলে আরও ভালো হতো। শুভকামনা ফারুক ভাই।
    প্রত্যুত্তর . ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা আছে তবে কেমন যেন একঘেয়েমি এসে যাচ্ছিল। বানান, সংলাপ এবং প্রকৃতির সংমিশ্রণ হলে আরও ভালো হতো। শুভকামনা। আগামীতে আরো ভালো কিছু আসা করব।
    প্রত্যুত্তর . ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
  • তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল ami মনে করি লেখার পূর্বে বড় বড় লেখকদের লেখা পরা উচিত . tahole onek kichu shikhote parbe
    প্রত্যুত্তর . ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
  • খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি
    খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি valo proysh...somvabona achche.....agamite..dekha hobe...dhonnobad...Farukh apnake..........
    প্রত্যুত্তর . ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া গল্পটি মনে হলো বিষয়ের বাইরে .......তাই আর খুটিয়ে পরলাম না তবে যতখানি পরেছি তাতে মনে হলো গল্পর ঘটনাগুলো কিছুটা খাপছাড়া ..........প্রথম দিকের কাহিনী তে কিন্তু ৫২ সালের কোনো প্রেক্ষাপট পাই নাই , গল্পের চরিত্রগুলো মনে হলো বর্তমানের ..........কিন্তু শেষ দিকে ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

advertisement