অহনা

মুক্তির চেতনা সংখ্যা

তানজির হোসেন পলাশ
  • ১৫
  • 0
  • ১২
অহনা মা হবে। কথাটি হৈ চৈ ফেলে দিল সারা কলেজ পাড়ায়। সকল বন্ধুদের, এমন কি শিক্ষকদের মুখেও এখন একই কথা, অহনা মা হবে। মা ছাড়া কি কোন সন্তান ভূমিষ্ট হয়? তবে অহনা মা হলে ভাবনা কিসের? অহনা মা হবে, এটা তো সুখবর। এই সুখবরটাই আজ কুখবর হয়েছে। কারণ অহনা কুমারী। ওর তো এখনো বিয়েই হয়নি, তবে কার সন্তানের জননী হবে অহনা? অহনার মত শান্ত স্বভাবের মেয়ে এমন কাজ কি করে করল? ওর এত বড় সর্বনাশ কে করেছে? সকলের জিজ্ঞাসা এটিই। বাবা-মা সকলেই চেপে ধরেছে ওকে, কে তার সন্তানের বাবা? কিছুতেই মুখ খুলছে না অহনা। শুধু বিছানায় শুয়ে কাঁদছে। কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলছে না। অহনার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন যত পরিচিত জন আছে, সবাই জিজ্ঞাসা করেছে অহনাকে। কিছুই বলেনি অহনা। এমন কি তার সাথে বিয়ের স্বীকৃতি দেবার কথা জানালেও মুখ খোলেনি অহনা। সারাদিন চুপচাপ শুয়ে থাকে। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করে না। ইদানিং শরীরটাও ভীষণ খারাপ হয়ে গেছে অহনার। চোখের নিচে কালি পর্যন্ত পরেছে। চেহারার মধ্যেও সেই মাধুর্যটা আর নেই।
একসময় যারা অহনাকে ভালবাসার প্রস্তাব দিয়েছিল, যারা অহনাকে এক নজর দেখার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করত দিনরাত, তারাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অবশ্য ওকে পছন্দ করা আত্মীয়-স্বজনদের কেউ কেউ বাচ্চা নষ্ট করার পর বিয়ের কথা বলেছে। কিন্তু অহনা এতেও রাজী হয়নি। হবেই বা কেন? ভালবাসার ধন কেউ নষ্ট করতে পারে না। অহনা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে চায়। বিগত ছয় মাস অহনা যে যন্ত্রণা ভোগ করেছে, তাকে নিমিষেই নষ্ট করতে পারে না। আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করে ওর সন্তানকে রেখে যেতে চায়। কিন্তু কার কাছে রেখে যাবে? ওর ভালবাসার মানুষটার সাথে তো যোগাযোগ হয় না। কি করে জানাবে ওকে? এদিকে মায়ের সাথে ঝগড়া করে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। বাইরেও যাওয়া নিষেধ অহনার। কি করবে অহনা? ভেবে পায় না। আর দুই মাস পর ওর সন্তান পৃথিবীতে আসবে। কোন পরিচয়ে সে বড় হবে? যদি তার বাবা না থাকে, মা মারা যায়, তবে তো দূর্বিসহ জীবন হবে তার। পদে পদে লোকে তাকে ঘৃণা করবে। ওর থেকে প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে যাওয়া ভাল। অহনা সিদ্ধান্ত নেয় সন্তানসহ আত্মহননের পথ বেছে নেবে।
আজ অহনার বাবা-মা বাসায় নেই। সবাই বেড়াতে গেছে। অহনাকে যেতে বলেছিল। কিন্তু অহনা যেতে রাজী হয়নি। কোন মুখ নিয়ে যাবে? দীর্ঘ সাত মাস অহনা বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। রাস্তার ধূলা অহনাকে কুর্নিশ করে না বহুদিন। মেয়ের এই সমস্যার কারণে বাবা-মা কাজের বুয়াকে অহনার কাছে রেখে গেছে।
মধ্যরাত। কোথাও কেউ নেই। চারিদিকে অন্ধকার। কাজের বুয়া ঘুমিয়ে গেছে সেই সন্ধ্যাবেলা। অহনা প্রস্তুতি নেয় আত্মহননের। বাথরুমে যায়। নিজের সন্তানের বেড়ে ওঠা দেখে অবাক হয়। অনুভব করে অপলের স্পর্শ। মাতৃত্ব জেগে ওঠে ওর মধ্যে। তারপর চোখ যায় অপলের মুগ্ধ হওয়া তিলের দিকে। যার পাশে অপলের ভালবাসার স্মৃতিচিহ্ন। ভুলে যায় আত্মহননের কথা। বাঁচিয়ে রাখতে হবে অপলের স্মৃতি। প্রয়োজনে অপলের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করবে অহনা। মায়ের সাথে অভিমানের কথা মনে থাকে না। মোবাইল হাতে নেয়। ফোন করে অপলের কাছে। বার বার একই উত্তর আসে, "আপনি যে নাম্বারে ফোন করেছেন, তা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। একটু পর আবার চেষ্টা করুন। ধন্যবাদ।" রাগ হয় অপলের উপর। অপলও তো জানে, তবে সে কেন এল না?
অহনাকে নিয়ে ওর বাবা-মা খুব চিন্তিত। এ মাসের ১৩ তারিখে ওর সন্তান আসবে পৃথিবীতে। কোন পরিচয়ে সে বড় হবে? ওর বাবা কে? কি তার বংশ পরিচয়? সমাজে কিভাবে মুখ দেখাবে অহনা? এসব নিয়ে মা বেশ বকাবকি করলেন অহনাকে। সবকিছু চুপচাপ শোনা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না অহনার। হঠাৎ আগ্নেয়গিরির মত মনের মধ্যে চাপিয়ে রাখা আগুনের শিখা প্রজ্জ্বলিত হল। সিন্ধান্ত নিল অপলের সাথে দেখা করবে। বিকেলে বাসা থেকে বের হয় অহনা। পরিচিত রাস্তা আজ ওর কাছে অচেনা মনে হচ্ছে। আস্তে আস্তে অপলদের বাসায় যায়। কলিং বেল টিপে ধরে রাখে ঠিক আগের মত। ভেতর থেকে এক ভদ্র মহিলা বেরিয়ে আসে। অপলের স্ত্রী। অপল বাসায় নেই। অপলের স্ত্রী অহনাকে দেখে বেশ ভয় পেয়ে যায়। এই অবস্থায় কেউ এত দূরে আসে না। অপলকে না পেয়ে ওর স্ত্রীর সাথেই কথা বলে অহনা। তাঁকে অনুরোধ করে অহনার সন্তানের দায়িত্ব নিতে। নিজের সন্তানের মতই মানুষ করতে বলে। পিতার নাম জিজ্ঞাসা করলে যেন অপলের নাম বলে। আর একটা অনুরোধ করে, ওর সন্তান যেন কোনদিন জানতে না পারে অহনা ওর মা। অহনাকে কথা দেয় অপলের স্ত্রী।
আজ রবিবার। ১৩ই মে। বিকাল ৫টা। হাসপাতালের কড়িডোরে পায়চারী করছে অপল। পাশের চেয়ারে অপেক্ষা করছে অপলের স্ত্রী। অপারেশন থিয়েটারে অহনা। তারা অপেক্ষায় আছে অহনার সন্তানকে নেওয়ার জন্য। অহনা মাকেও রাজী করিয়েছে অপলের কাছে ওর সন্তানকে দেবে। মেয়ের এই কথাতে মা সম্মতি জানিয়েছে। অপারেশন থিয়েটার থেকে একজন নার্স বের হয়ে খবর দিল অহনার মেয়ে হয়েছে। মেয়ে সুস্থ আছে। কিন্তু মা আশংকাজনক। অস্থির হয়ে ওঠে অপলের মন। রক্তের টানে ছুটে যায়। ভালবাসা জাগ্রত হয় অহনার জন্য। এগিয়ে যায় অহনার কাছে। মেয়ের দিকে তাকায়। অহনার চেহারা পেয়েছে মেয়েটি। মায়ের মত মেয়েরও একই জায়গায় তিল যা অপলের পছন্দ ছিল। ভালবাসার দৃষ্টিতে অহনার দিকে তাকায় অপল। অহনা আর নেই। ওর হাসিমাখা সেই মুখ আর কখনো দেখবে না অপল। ভাবতেই গা শিরশিরিয়ে ওঠে। চোখের পানি গড়িয়ে পরে অহনার ওষ্ঠে। অপলের মনে হয় সেই কথাটি জানতে চায় অহনা। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে অহনা ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
সাজিদ খান পল্পটা পড়ে ভাল লাগলো । আরো একটু বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরলে ভাল হত ।
মিলন বনিক গল্পের থিমটা খুব ভালো..কিন্তু কেমন একাধারী হয়ে গেল মনে হচ্ছে..কিছুটা বৈচিত্র আনলে আরো ভালো লাগত..শুভ কামনা...
জালাল উদ্দিন মুহম্মদ অপলের মত কাপুরুষদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। পৃথিবীর কোন মেয়ে যেন বিয়ের অগে কাউকে যৌবন না দেয়। ধন্যবাদ তানজির হুসেন পলাশ।
মাহবুব খান অনেক ভালো / ৫ দিলাম
তানজির হোসেন পলাশ মিথ্যে সান্তনা দিয়ে কি লাভ মাহবুব ভাই / ভোটিং বন্ধ রেখেছি. তবে মনের কথা গ্রহণ করলাম .
মারুফ মুস্তাফা আযাদ পলাশ ভাই, একটু দ্বিধায় পড়ে গেলাম। কোথায় যেন একটু বাধো বাধো ঠেকছে। গল্পটা ভালো লেগেছে তাবে আরো একটু বর্ণনাসমৃদ্ধ হলে মনে হয় আরো ফুটে উঠত।
তানজির হোসেন পলাশ আপনি ঠিকই বলেছেন maruf vai .
খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি ভালো লাগলো আপনার গল্প,,,,,,,,,,,তানজির ভাই আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ .......
বশির আহমেদ অপল বিবাহিত তার পরও অহনার ভালবাসা ও দৈহিক মিলন সন্তান ধারণ একটু খটকা লাগল । তবে ভুলবসত: অনেক সময় এমন ঘটনা ঘঠে যেতে পারে । লেখকের লেখনির ষ্টাইল বর্ননা ভঙ্গিী চমৎকার । অপলের স্ত্রীর মত স্ত্রী পাওয়া সমাজে দু:স্কর ।
Azaha Sultan ‌এটা অহরহ ঘটছে........তবে অপলের স্ত্রীর মতো যেন আমাদের সমাজের প্রতিটি স্ত্রীর মনমানসিকতা হয়......গল্প ভাল লাগল.....আরেকটু প্রাণ বোধহয় গল্পই চাচ্ছে......ধন্যবাদ
জাকিয়া জেসমিন যূথী খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেলো বলে মনে হলো।
রোদের ছায়া এটাত অনেকটা সিনেমার কাহিনী হয়ে গেল .....জানি না বাস্তবে এমন হয় কিনা ........কুমারী মা হয়ত পাওয়া যাবে কিন্তু অপল এর স্ত্রীর মত মানুষ কি পাওয়া যাবে?

২২ নভেম্বর - ২০১১ গল্প/কবিতা: ১ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "একাকীত্ব”
কবিতার বিষয় "একাকীত্ব”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মে,২০২১