বাবার ছায়া

বাবা (জুন ২০২৬)

মারুফ আহমেদ অন্তর
  • 0
  • 0
  • 0
মারুফ ছিল পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। দুই ভাই আর তিন বোনকে নিয়ে তাদের ছোট্ট মধ্যবিত্ত পরিবারে অভাব ছিল, কিন্তু ভালোবাসার কমতি ছিল না। পরিবারের কর্তা মকবুল আহমেদ সাহেব ছিলেন একজন ছোট ব্যবসায়ী। সংসারে অভিজাত্য না থাকলেও সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে তিনি কখনো কার্পণ্য করেননি।
মারুফ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিল। তার বাবা প্রায়ই বলতেন, “আমার ছেলে একদিন অনেক বড় হবে, আমি ওকে মানুষের মতো মানুষ বানাবো।” সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই বাবা তাকে এলাকার সেরা কলেজে ভর্তি করান। সংসারে টানাপোড়েন থাকলেও ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তিনি নিজের প্রয়োজনগুলো বিসর্জন দিতেন। কখনো নতুন পাঞ্জাবি কিনতেন না, কখনো নিজের ওষুধ বন্ধ রেখে ছেলের বই কিনে দিতেন।
মারুফও বাবার স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বানিয়ে ফেলেছিল। অদম্য পরিশ্রমে সে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। খবরটা শুনে তার বাবা আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন।গ্রামের মানুষজনকে ডেকে বলেছিলেন, “আমার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে!” বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ হলো, কিন্তু ভাগ্য যেন মারুফের পাশে দাঁড়ালো না। অনেক চেষ্টা করেও ভালো চাকরি পেল না। একের পর এক ব্যর্থতা তাকে ভিতরে ভিতরে ভেঙে দিচ্ছিল। এর মধ্যে সে একটি বেসরকারী এনজিওতে চাকরী পায়। বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়ে করে। সংসারের দায়িত্বও দিন দিন বাড়ছিল। সংসার খরচ, মানুষের ঋণ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠল।
অবশেষে একদিন সে সিদ্ধান্ত নিল সৌদী আরবে যাবে। যাওয়ার আগের রাতে বাবা তার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, “বাবা, কষ্ট করিস, কিন্তু কখনো ভেঙে পড়িস না। তুইই তো এই পরিবারের ভরসা।” বিদায়ের সময় বাবার চোখের কোণে জল ছিল, কিন্তু মুখে ছিল হাসি। সৌদীতে গিয়ে মারুফ দিনরাত পরিশ্রম করতে লাগল। প্রখর রোদে কাজ করতে করতে মাঝে মাঝে তার বাবার কথা মনে পড়ত। ফোনে কথা হলে বাবা সবসময় বলতেন , “আমি ভালো আছি বাবা, নিজের খেয়াল রাখিস।”
কিন্তু একদিন গভীর রাতে ছোট ভাইয়ের ফোন এলো। কাঁপা গলায় সে বলল,
“ভাইয়া… আব্বুর অবস্থা খুব খারাপ। উনাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।” মারুফের বুক কেঁপে উঠল। হাজার মাইল দূরে বসে সে যেন নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না। পরদিন আবার ফোন এলো। এবার শুধু কান্নার শব্দ। “ভাইয়া… আব্বু আর নেই…”

মুহূর্তের মধ্যে মারুফের পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল। তার মনে হলো মাথার ওপরের আকাশটা ভেঙে পড়েছে। যে মানুষটা সারাজীবন ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন, তিনি আর নেই! কয়েকদিন পর দেশে ফিরল মারুফ। বাড়ির উঠানে পা রাখতেই চারদিকে শোকের নীরবতা। মায়ের কান্না, ছোট বোনদের ভেজা চোখ—সবকিছু তার বুকটাকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল।
বিকেলে সে বাবার কবরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মাটির ছোট্ট ঢিবিটার দিকে তাকিয়ে তার চোখ ভিজে উঠল। সে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁপা গলায় বলল, “আব্বু, আমি ফিরে এসেছি… কিন্তু আপনি তো আর অপেক্ষা করে রইলেন না…”
অশ্রু ঝরতে লাগল অবিরাম। সেই মুহূর্তে মারুফ বুঝতে পারল—বাবা শুধু একজন মানুষ নন, বাবা হলো সন্তানের মাথার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সবচেয়ে বড় ছায়া। সেই ছায়া হারিয়ে গেলে পৃথিবীর রোদটাও অসহ্য লাগে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

এই গল্পের সাথে “বাবা” বিষয়ক বিষয়বস্তুর গভীর সামঞ্জস্যতা রয়েছে।

১৬ নভেম্বর - ২০১১ গল্প/কবিতা: ৯২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বিশালতা”
কবিতার বিষয় "বিশালতা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুন,২০২৬