নতুন বউ কাজলীর সাথে রেশমার রীতিমত ঝগড়া বেধে গেল। রেশমা কল্পনাও করতে পারেনি , নতুন বউ যার গায়ে এখনও বিয়ের শাড়ী শোভা পায় সে তার মুখের উপর কথা বলবে। তাকে এমন ভাবে অপমান করবে। বিকেলে যে ঝগড়া শুরু হয়েছিল তা থেমে থেমে অনেক্ষন চলল। রেশমা প্যাঁচালী মানুষ। একটা স্বাভাবিক কথা বর্ণনা করতেও প্রয়োজোনের অতিরিক্ত শব্দের আশ্রয় নেয়। তাই রেশমাই কথা বলছে বেশী। একই কথা বার বার এদিক ওদিক ঘুড়িয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে বলছে।
নতুন বউ কাজলী লাজুক ধরনের । এ বাড়ীতে নতুন হওয়ায় মাত্রাটা আরও একটু বেশী। রেগে গেলে কথা গুছিয়ে বলতে পারেনা। বড় বউয়ের কথা সে নির্বাক শ্রোতার মত শুনছে। মাঝে মাঝে জ্বলন্ত আগুনে তুষ ছিটানোর মত দু’ একটা কথা ছুড়ছে। বড় বউ রেশমা আরও রেগে গিয়ে তার সমস্ত ক্রোধকে মুখ দিয়ে উগড়ে দিচ্ছে। নতুন বউ কাজলীর মুখের ভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে তার ভিতরের চাপা ক্ষোভ যেন বন্দী অবস্থায় উত্তপ্ত হচ্ছে। যে কোন সময় ফেটে বেড়িয়ে আসতে পারে।
ভিতরের সমস্ত ক্ষোভ যখন ফুরিয়ে এল তখন বড় বউ ঝগড়ায় ইতি টেনে সংসারের কাজে মন দিল। নতুন বউ তার যায়গা থেকে একটুও নড়ল না। তার ভিতরের চাপা ক্ষোভ তাকে সাংসারিক কাজ থেকে তাকে বিমুখ করে রাখল। রেশমা বড় বউ। অনেক দিন আগে এ বাড়ীতে এসেছে। সে কাজলীকে দু’ চার কথা বলতেই পারে। তাতে কাজলীর কোন আফসোস নাই। তার মনে ঘুড়ে ফিরে একটি কথাই উঁকি দিল Ñ বড় বউ তাকে বেশ ঠকিয়েছে।

২. অনেক্ষন ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করে আদুরী যখন জানতে পারল রাতে কোন ট্রেন নাই তখন তার দু:শ্চিন্তার মাত্রা আরও এক ধাপ উপরে উঠল। চাপা কান্নাকে আরও একটু চাপা দেয়ার জন্য মুখে আচল দিল। তাতে কোন কাজ হল না। রফিক টের পাওয়া মাত্র তাকে স্বান্তনা দেয়ার বৃথা চেষ্টা করল। এক কানা আরেক কানাকে পথ দেখালে যেমন হয়। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লগল।
শরত কালের মাঝামাঝি সময়। আকাশের তারার আলোকে কালো মেঘ ঢেকে ফেলেছে। সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। আদ্র বাতাসে হালকা হালকা শীত। অবস্থা একটু স্বাভাবিক হলে রফিকের মনে পড়ল তাদের খাওয়া হয়নি। সন্ধ্যায় বের হওয়ার সময় তাড়াতাড়ি করে কয়েক মুঠ ভাত নাকে মুখে গুঁজেছিল। তারপর পেটে আর কিছু পড়েনি। কিছু একটা যোগাড় করা দরকার। আদুরীকে ষ্টেশনের ওয়েটিং রুমে রেখে রফিক খাবারের সন্ধানে বেড়িয়ে পড়ল।

৩. মতিন বউপাগল মানুষ। বউয়ের কথায় ওঠে বসে। একটুও এদিক ওদিক হয়না। সংসারে সে নিজেকে বউয়ের আজ্ঞাবহ মনে করে তৃপ্তি পায়। দোকান হতে ফিরে সে বাড়ীর পরিবেশ দেখে ভিমরি খেল। নিশ্চয় একটা কিছু ঘটেছে। মনের সন্দেহটা প্রবল হয়। অনেক ডাকাডাকির পর বউ তার দরজা খোলে। মতিন পাশে বসে। ব্যবসায় আজ তেমন সুবিধা করতে পারেনি। তার মনটা খারাপ ছিল। তারপরও বউকে খুশি করার জন্য জোর করে মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে। তাতেও কাজ হয়না। পাথরের মূর্তির মত কাজলী আগের অবস্থাতেই বসে থাকে। জড়িয়ে ধরে একটু আদর করার চেষ্টা করে। অবশ্য তা নিজের কাছেই বোকামী মনে হয়। অগত্যা মতিন নিরূপায় হয়ে চুপচাপ বউয়ের পাশে বসে থাকে।

৪. অনেকদিন হল গ্রামে গোলমাল চলছিল। গোলমালের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গ্রামের বড় পুুকুর। পুকুরের চাষাবাদকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকেরা দু’ দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কেউ কারও তুলনায় কম না। সরকার থেকে লীজ নেওয়ায় এক পক্ষের ছিল বৈধ মালিকানা। অন্য পক্ষ ছিল সংখ্যাগড়িষ্ট। তিন মাস কোন্দল চলার পর উপজেলা মৎস্য অফিসারের মধ্যস্থাতায় একটা আপোষ বৈঠক হয়। তবে আপোষ বৈঠক উভয়ের মধ্যে মিটমাটের পরিবর্তে কোন্দলে নতুন এক ভয়াবহ মাত্রা যোগ করে। বৈঠকে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তারপর হাতাহাতি। এক পর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিল। আপোষ বৈঠকের ফলাফল রাতে এলাকায় এভালে ছড়াল যে একজন নিহত এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত।
রাত দশটার দিকে আদুরী রফিকের কাছে প্রতিপক্ষের একজন মারা যাবার খবর শোনার পর দাড়িয়ে থাকতে পারল না। ধপাস করে মেঝেতে বসে পড়ল। সে অনেক বার রফিক কে নিষেধ করেছে এসব ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে। সে শোনেনি। বরং তাকে বুঝিয়ে বলেছে , ু পুকুরের লীজ আমাদের নামে। পুকুর আমাদের। আমরা চাষ করব। একটু আধটু গোলমাল তো হবেই। আপনা আপনি ঠিক হয়ে যাবে। ু
রফিকের মত কেউ-ই ভাবতে পারেনি বিষয়টা এতদূর গড়াবে। আদুরী ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদে। রফিক ধমক দিয়ে বলে , ু কান্না থামাও। যে কোন সময় ওরা এসে আক্রমন করতে পারে। তাড়াতাড়ি গ্রাম ছাড়তে হবে। পুলিশও আসতে পারে। ু আদুরীর বুকে যেন কাটা বেঁধে। হাঁস , মুরগী , গরু , বাছুর , সংসার রেখে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে ? রফিক বুঝিয়ে বলে ,ু আপাতত চলো। কোন একটা সুরাহা হলে চলে আসব। ু
একটা ব্যাগে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিষপত্র নিয়ে তারা রাতের আধারে বেড়িয়ে পরে।

৫. অনেক্ষন পর কাজলী মুখ খোলে। তারপর ক্ষোভের সাথে দিনের ঘটনা গুলি বর্ণনা করে যায়। বড় বউ তাকে বেশ ঠকিয়েছে। পুকুরকে কেন্দ্র করে গ্রামে গÊগোল মারামারি অবশেষে একজন খুন হয়। মার্ডার কেসের আসামি হয়ে একপক্ষ ঘরবাড়ি সবকিছু ছেড়ে গÊগোলের দিন রাতেই পালিয়ে যায়। গ্রামে শুরু হয় অরাজকতা। পালাতকদের ঘর-বাড়িতে চলে ব্যাপক লুটপাট , ভাংচুর চালানো হয়। এতে অংশ নেয় গ্রামের ছেলে থেকে বুড়ো পর্যন্ত সবাই। দিনের বেলা মহিলারা আর রাতের বেলায় পুরুষেরা। মÊল বাড়ীর ছোট বউয়ের শাড়ীর প্রতি কাজলী অনেক আগে থেকেই প্রচন্ড লোভ ছিল। স্বামীর কাছে অমন শাড়ীর জন্য অনেক আবদার করেছে। অভাবের তাড়নায় তার আবদার রাখতে পারেনি মতিন। গ্রামের এ উদ্ভট পরিস্থিতির কারণে কাজলীর আশা যেন আলোর মুখ দেখে। যার যেটা প্রয়োজন সে সেটা পালাতকদের বাড়ী থেকে লুট করে নিয়ে আসছে। কাজলীর শাড়ী ছাড়া অন্য কোন জিনিষের প্রতি লোভ নাই। তাই নতুন বউ হয়েও সে শাড়ীর লোভে বড় বউ রেশমার সাথে গ্রামের ভিতর ঢোকে। প্রথমে একটু একটু লজ্জা করলেও যখন দেখে যে তার মত আনেকে এসেছে তখন আস্তে আস্তে লজ্জা কেটে ওঠে। নিজেকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়। পালাতকদের এ বাড়ী ও বাড়ী ঘুড়ে বেড়ায়। সকলের মত সেও ুআহা আহাু করে। বাড়ী ওয়ালাদের উপর একটু মায়া হয়। লোভ এসে মায়ার সে স্থানকে দখল করে নেয়। এ বাড়ী ও বাড়ী করে মন্ডল বাড়ীতে এসে উপস্থিত হয়। বড় বউ অনেক কিছু নিয়ে আসে। সে শুধু শাড়ীই নিয়ে আসে। বাড়ীতে আসার পর বড় বউ সবকিছু তার ঘরে নিয়ে যায়। শাড়ী চাইতে গেলে বড় বউ বলে , মন্ডল বাড়ীর ছোট বউ আমাকে তার শাড়ীগুলো রাখতে বলেছে। কাজলী জানে বড় বউ শাড়ীগুলো নিজের কব্জা করার জন্য মিথ্যা কথা বলছে। কাজলীও খুব পীড়াপীড়ি করে। বড় বউ টিকতে না পেরে পুরাতন দেখে দু’ চারটা শাড়ী তাকে দেয়। তাতে কি আর মন ওঠে। কাজলী তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। দু’ একটা কড়া কড়া কথা বলে। বড় বউও কড়া ভাষায় তার উত্তর দেয়। শুরু হয় ঝগড়া। থেমে থেমে তা আছর পর্যন্ত চলে।

৬. রফিক কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে। সাথে একটা মোড়কের ভিতর কিছু শুকনো খাবার নিয়ে আসে। এসে দেখে আদুরী ওয়েটিং রুমে বসে বসে ঝিমাচ্ছে। গত দু’ দিনের ধকলে আদুরী অনেকটা ঝিমিয়ে গেছে। রফিক পুরুষ মানুষ। এ দু’ দিনের পেরেশান তাকেই অনেকটা কাবু করে ফেলেছে। আর আদুরী তো মেয়ে মানুষ। রফিক আদুরীর পাশে অনেক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। ডাকতে সাহস পায়না। হয়ত এতক্ষণে ঘুমিয়েই পড়েছে।
গত রাতে তারা দোবিলার এক আত্মীয়ের বাড়ী আশ্রয় নিয়েছিল। বড়সড় একটা ঘরে তাদের শোয়ার ব্যাবস্থা করা হয়েছিল। বিছানাও খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু আদুরী সারা রাত একটুও ঘুমাতে পারেনি। একটা ভয় তার ভিতর ছিলÑ একই থানায় হওয়ার কারণে পুলিশ যে কোন সময় আসতে পারে। রফিক তাকে অনেক বলেছে , পুলিশ জানতেও পারবেনা আমরা এখানে আছি। আদুরীর তা যেন বিশ্বাসই হয়না। চোখের দু’ পাতা বুজালেই নাকি তার চোখের সামনে পুলিশ আসে। রফিক ভাবে এখানে আদুরী কে নিয়ে থাকা অসম্ভব। এ থানার বাইরে অন্য কোথাও যেতে হবে। কিন্তু যাবে কোথায় ?
ওর যত আত্মীয় স্বজন সব আশে পাশেই। অবশ্য এক খালাতো ভাই আছে। গাজীপুর থাকে। আদুরী জোর গলায় বলে , আমাকে ওখানেই নিয়ে চলো। এখানে আর থাকতে পরবোনা। অবশেষে গাজীপুর যাবার সিদ্ধন্তই স্থির হয়। দিনের বেলা বের হওয়া ঠিক হবেনা। মাগরিবের আযান দিতেই তারা উল­াপাড়ার দিকে রওনা দেয়।
মশার কামড়ে আদুরী একটু নড়ে ওঠে। হাত একটু নাড়াতেই রফিকের গায়ের সাথে হাত লেগে যায়। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে রফিক খাবার হাতে বসে আছে। রফিকের হাতের টোপলা দেখে ক্ষুধা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দু’ জনে মিলে টোপলার শুকনো খাবার তৃপ্তি সহকারে খায়। আদুরীর মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয় রফিকের। তার জন্যই আদুরীকে এত কষ্ট করতে হচ্ছে। ও বার বার নিষেধ করেছিল। রফিক শোনেনি। শুনলে হয়ত আজ ওকে এত কষ্ট করতে হতনা। অপরাধীর মত ভীত স্বরে ডাকে , আদুরী !
আদুরী ক্ষীণ স্বরে উত্তর দেয় , কী বলো ?
Ñ আমার জন্য তোমাকে খুব কষ্ট করতে হচ্ছে । তাই না ?
আদুরী কোন উত্তর দেয়না। চোখ দু’ টো বন্ধ করে মাথাটা রফিকের ঘাড়ের উপর এলিয়ে দেয়।
রফিক বসে বসে আবোল তাবোল চিন্তা করে। তার সংসারটা চোখের সামনে ছবির মত ভেষে ওঠে। দু’ জন নিজেদের মনের মত করে সংসার সাজায়েছিলো। একটা কাল বৈশাখী ঝড় এসে তাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে গেল। তবে কি সে ভুল করেছে ? এ প্রশ্নেও তার মন সায় দেয়না। সে কখনও মারামারি হোক তা চায়নি। বরং ওরাই তো সর্বদা মারমুখী ছিল। তাহলে কেন এমন হল ? সে যখন কোন উত্তর খুজে পায়না তখন নিজেকে এ বলে সাš—¡না দেয় যে এ কপালের লিখন।
সকালেই জানতে পেরেছিল , গরু , বাছুর , হাঁস , মুরগী নিয়ে গেছে। ঘরের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে সবকিছু নিয়ে গেছে। কত কিছুই না ছিল ঘরের ভিতর। বেশীর ভাগই ছিল আদুরীর সখের জিনিষ। ভাবতেই ওর ভিতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। শরীর শিউরে ওঠে। বুকের গভীর থেকে বেড়িয়ে আসে একটা বিষাক্ত দীর্ঘ নিশ্বাস। আদুরী মুখ তুলে রফিকের দিকে তাকায়। ধমকের সুরে বলে , কী আবোল তাবোল চিন্তা করছো ?
Ñ ওরা সবকিছু নিয়ে গেছে। আদুরী ! ওরা তোমার গড়া সংসার কে চুরমার করে দিয়েছে। আমার জন্যই তোমাকে .....
আদুরী ওর মুখটা চেপে ধরে। আর কিছু বলতে দেয়না। সাš—¡না দিয়ে বলে , ু দুশ্চিন্তা করে কি লাভ ? যা হবার তা তো হয়েই গেছে। মনে কর সব যমুনায় ভেষে গেছে। আমরা তো এখনও বেঁচে আছি। এটাই সব চেয়ে বড় পাওয়া। এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে ? কাল ভোরে ট্রেন ধরতে হবে। একটু ঘুমিয়ে নাও। ু
আদুরীর কথা শুনে রফিকের অন্তরটা প্রশান্তিতে ভরে যায়। সে ভেবেছিল আদুরী না জানি তাকে কত দোষারোপ করবে। উল্টো আদুরীই তাকে সাš—¡না দিচ্ছে। আদুরীর জন্য মনে মনে সে গর্ব অনুভব করতে থাকে। সে আদুরীর মত একটা জীবনসঙ্গী পেয়েছে। সব কিছু হারিয়েও সে এটার জন্য নিজেকে ধন্য মনে করে।
ক্লান্ত শরীরে অতি দ্রুত ঘুম নেমে আসে। সে লক্ষ করে আদুরী এর মধ্যেই তার কাধে মাথা এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। দুশ্চিন্তার কারণে মুখটা একটু শুকনো শুকনো দেখাচ্ছে। তারপরও কত সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে। রফিক নিজের অজান্তেই তার কপালে একটা চুমু খায়। তারপর মাথাটা আদুরীর মাথার দিকে ঝুকে দিয়ে দু’ চোখ বন্ধ করে। ঘোড়ার বেগে ঘুম এসে তাকে গ্রাস করে নেয়।

৭. রাত দ্বি-প্রহর উতরে গেছে। ঘুমানোর অনেক বৃথা চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারেনি কাজলী। কোন ভাবেই শাড়ীর চিন্তা মাথা থেকে দূর করতে পারেনি। বার বার তার একটা কথাই শুধু মনে পড়েছে , বড় বউ তাকে ঠকিয়েছে। মতিন বউয়ের এ অবস্থায় ঘুমাতে পারেনি। ক্ষুধা এবং ঘুম তাকে সমানে সমানে পেয়েছে। সে বউকে অনেক বুঝিয়েছে। তাতে কোন কাজ হয়নি। বরং রাগে আর অভিমানে ফেটে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হয়তো ক্ষুধাও লেগেছে। তবে রাগের আড়ালে ক্ষুধ চাপা পড়ে গেছে। রাতের রান্না করা হয়নি। বড় বউ অবশ্য ভাত দিয়ে গেছে। মতিন ভাত খেতে বলাতে কাজলীর উত্তর , ু ওই মাগীর হাতের ভাত আমি খাবনা ু।
বউকে রেখে মতিনও খেতে পারেনি।