লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ অক্টোবর ১৯৬২
গল্প/কবিতা: ১৯টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমা (জুন ২০১৪)

মা
মা

সংখ্যা

মিজানুর রহমান মিজান

comment ১  favorite ০  import_contacts ২৩৬
মা অতি ছোট একটি শব্দ। কিন্তু উহার প্রসারতা ব্যাপক শ্রুতি মধুর , অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যময়। শব্দটি ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ছোট-বড় পার্থক্য থাকে না। মা সবার কাছে মা রূপে পরিগণিত হয়ে থাকে। মায়ের কাছে সবার জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল , সুশীতল পরশ মণ্ডিত ছায়া নীড়। মায়ের ভালবাসা অতুলনীয়, অমূল্য রত্ন ভাণ্ডার।
আমার উত্থান , আনন্দ , সুখ-শান্তির মুলে মায়ের আদেশ, উপদেশ, উৎসাহ, উদ্দীপনা, প্রেরণা প্রত্যেকটি কাজে-কর্মে , চলনে-বলনে শিরোধার্য। মায়ের দিক নির্দেশনায় আমি আজ কাগজের বুকে কলমের আঁচড় বসানোর সবটুকু অধিকার অর্জন করতে সক্ষমতা প্রাপ্ত। পিতা প্রথমার্ধে সাংসারিক জীবনে উদাসীন থাকার ফলশ্রুতিতে মা-ই শক্ত হাতে হাল ধরে অস্তিত্ব দান করেন। কিন্তু তাই বলে পিতার অবদান কোন অংশেই কম নয় বা খাটো করে দেখার অবকাশ নেই।
মা কলম ধরার ক্ষমতাহীন হলে ও আমার কাছে মনে হয় অনেক অনেক বড় পণ্ডিত ও জ্ঞানী। কারণ শিক্ষা জীবনে আমার লেখাপড়ার দিক নির্দেশনা অত্যন্ত সুনিপুণ দক্ষ কারিগরের মত আদেশে , উপদেশে বলে দিয়েছেন। যার ফলাফল আমি হাতে হাতে তাৎক্ষণিক পেয়েছি। এ পর্যন্ত ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে লিখার সৎসাহস প্রাপ্তি।
অনেক দু:খ-কষ্ট পেয়ে মায়ের কাছে বলার যে সান্ত্বনা আজো পাই তা তুলনাহীন। একজন সৎ , নিষ্ঠাবান , ধার্মিক , একনিষ্ঠ সমাজ কর্মী হিসেবে পরিবার তথা প্রতিবেশী , আত্মীয়-স্বজনের নিকট পৃথক ব্যক্তি সত্ত্বার অধিকারী। প্রত্যেকের নিকট সমান মর্যাদার আসনে ( শ্রেণীমত ) অধিষ্ঠিত। কিন্তু এ বৃদ্ধ বয়সে ও যখন দেখি মা কাজ ছাড়া বসতে নারাজ। আবার পারিপ¦ার্শিকতায় ওটা এটা করতে। জানি না কেন আমার আত্মাটা শিউরে উঠে বার বার , প্রতি নিয়ত।

জীবন ও জীবিকার তাগিদে ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত আমি এক নাগাড়ে প্রতি দিন ভোর পাঁচটায় সিলেট শহরে যেতাম। ফিরতাম রাত দশ , এগারটায়। বিদায় বেলা মায়ের হাসি মুখে ফি আমানিল্লাহ্ এবং এসে দেখতাম কুপি বাতি জ্বালিয়ে মা একা বসে অনাহারী অবস্তায় অপেক্ষমান। বুকে ধড়ফড় অনুভব করতাম। আমার জন্য মা আহার নিদ্রা ত্যাজ্য করে আছেন বসে কত কষ্ট ¯^ীকার করে। আহা দু’চোখ বেয়ে জলের ধারা প্রবাহমান হলে ও করার কিছুই ছিল না। আজো জীবন সায়াহ্নে এসে বাহির থেকে দৃশ্যত একই অবস্তা। আমার জন্য আরতো কেউ বসে না। আদও মাখা হাতে ভাতের থালা এগিয়ে দেয় না। দেয় সেই একজন যিনি আমার গর্ভধারিনী মা। আমার জন্য ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে শুকিয়ে গিয়েছিলেন। জটিল ও কঠিন মারাত্মক রোগে ভুগছিলাম সুদীর্ঘ ছয়টি বৎসর সাহচর্য বিহীন অনেকের নিকট থেকে। কিন্তু এ ধরণীর নাট্য মঞ্চে এখন ও জীবিত এবং সক্ষমতার প্রেরণায় রোগ যন্ত্রণা ভুলে যাই , কষ্টকে কস্ট মনে করি না এক মাত্র মায়ের সাহচর্য পেয়ে। আমি খোদার কাছে , সবার কাছে আমার মায়ের দীর্ঘ জীবন কামনা করি ঐকান্তিক ভাবে চিরদিন নিরন্তর। মা আমার দীর্ঘজীবি হোন এ প্রত্যয় ও প্রত্যাশা সর্বক্ষণ , সর্বকাল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement