ক্ষুধার তাগিদে যে শিশুটি অন্ন খুজে আস্তাকুড়ে, আমার রক্ত কি তার চেয়ে বেশি লাল? ক্ষুধার্তের ক্রন্দনে যে বাতাস ভারী হয় পৃথিবীজুড়ে, সেখানে কেন থামে না আমার স্বার্থপর মহাকাল? পৃথিবীতে আছে তার সমান অধিকার, যে এসেছে মানুষ হয়ে পৃথিবীর পরে, তবু কেন মারা যেতে হয় হয় মানুষকে ক্ষুধা বৈষম্য আর দারিদ্রের প্রকোষ্ঠে? যে অপিত্রতার অপরাধে তাকে মারা যেতে হয় অনাদরে, আমার জন্ম কি তার চেয়ে বেশি পবিত্র? জানি না রীতি, মানি না নীতি, বুঝি না যে ধর্ম; বাঁচার তাড়নায় দিয়েছি শুধু ঈশ্বরের পুনর্জন্ম। পাপ পুণ্যের হিসেবে যখন ব্যস্ত থাকে ভাগ্যবিধাতা, পার্থিব সমতলে তখন কাঁদে আমার বিবর্ণ মানবতা। বিশ্বমাতার ক্রন্দনে আজ গাই না আমি সাম্যের গান, বৈষম্যের এই পৃথিবীতে কি হয় আর সুরের ঐকতান? একই জন্মে, একই বাতাসে, একই ক্ষুধায়, একই আলোতে, তবুও যে পৃথিবী বাঁচতে শেখায় যুদ্ধে, মারতে শেখায় জন্ম,বর্ণ,ধর্মের ভেদে , শেষে কি একই সমতলে মেলেনা সবাই একই রুপের মৃত্যুতে?