লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ মে ১৯৭৮
গল্প/কবিতা: ৭৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftস্বাধীনতা (মার্চ ২০১১)

শিশুশ্রম এবং স্বাধীনতা
স্বাধীনতা

সংখ্যা

মামুন ম. আজিজ

comment ১৯  favorite ১  import_contacts ১,৬৮৮
\\এক\\

চারপাশে অতিষ্ঠ হবার মত উপাত্তের কমতি নেই। গলিটার প্রায় পুরোটা পথ জুড়ে ধুলো আর শুকনো কাদার আস্তর। বোঝাই যায় না কখনও এখানে পিচ ছিল। ধুলো উড়ছে। নাক মুখ দিয়ে ঢুকছে দেহের ভেতর। ঈর্থের জন্য ব্যাপারটি একটু বেশী কষ্টের।
ঠিক একই স্থানে অনড় দাড়িয়ে রয়েছে রিকশাটা। মিনিট দশেক হয়ে গেছে। একটু সামনেই একটা ট্রাক সরু গলির দুই তৃতীয়াংশ দখল করে রেখেছে। ট্রাকের উপর অনাবৃত বালির স্তূপ। ধুলো উড়ছে সেখান থেকেও। ট্রাকের উল্টো পাশে একটা ভ্যান কাত হয়ে আছে। চালক এর সন্ধান করছে কয়েকজন। না পেয়ে অদৃশ্য চালক কিছু অশ্লীল বিশেষণ পেয়ে গেলো। দু' তিন জন অতি উৎসাহী ভ্যানটাকে যতটা সম্ভব ড্রেনটার উপরে উঠিয়ে ভাঙা দেয়ালের গায় চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে পেছন থেকে একটা রিকশা ট্রাকটাকে ওভার টেক করতে গেলো। বর্ষণ নেমে এল তার উপর। গালির বর্ষণ। কে কার টা শোনে। জ্যাম যেনো আরও খানিক টা সময় পেয়ে গেলো। ঈর্থ মনে মনে ভাবল এ যদি গ্রীক পুরানের যুগ হতো তবে নিশ্চিত একজন দেবতার উদ্ভব ঘটত। যার নাম রাখা হত জ্যাম এর সাথে মিলিয়ে। হয়তো জ্যামপিউস কিংবা জ্যামপস টাইপ কিছু। তার তুষ্টিতে সূচনা হতো নানান আচার আচরনের। । তিনি যেন শান্ত থাকেন। অশান্ত হলেই বেড়ে যাবে জ্যাম। কত কিছু করা হতো, গড়ে উঠত কত কাহিনী। আজ আমরা সভ্য হয়েছি যন্ত্রনা বাড়িয়েছি আর হারিয়েছি দেবতা সৃষ্টির কারখানা।
কানাডা থেকে ঈর্থ দেশে এসেছে সপ্তাহ খানেক হলো। এসি গাড়ীর আরাম ছাড়া রাস্তায় আজই প্রথম বের হয়েছে সে। তাও মাকে না জানিয়ে। মা তার মহা ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তারই কাজিনের বিয়ের শপিংয়ে গেছেন চাচীর সাথে । এই সুযোগে স্বাধীনতা গ্রহণ করতে মন উঠে পড়ে লেগে গেলো। সে স্বাধীনতার যে এত বিড়ম্বনা আগে বুঝতে পারে নি ঈর্থ।
রিকশা চলতে থাকলে বিসদৃশগুলো চোখে কম ধরা পড়ে। থেমে আছে বলেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে চোখ। প্রায় পুরো বিপরীত দৃশ্য তার যে দেশে বসবাস তার সাথে। তবুও তার মনে দৃঢ় প্রত্যয় আর ভালোবাসা। এ যে তার দেশ। মাতৃভূমির প্রতি যে গোপন টান টা থাকা উচিৎ, তা তার আছে। সে টের প্রায়। যেদিন বাংলাদেশের টাইগার খেলোয়াড়রা কোন ক্রিকেট ম্যাচে জিতে যায়, সে যে কি আনন্দ সে অনুভব করে তা সে নিজেই কেবল জানে। যে ক্লাশটা সবচেয়ে বোরিং সেটাও আরি সেদিন বোরিং থাকে না। যে কানাডিয়ান ছেলেটার তাকে ব্লাক বলে ক্ষ্যাপাতে চায়, সব তুচ্ছ ফালতু মনে হয়। মনে হয় সে যেন নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উপর উড়ে বেড়ানো কোন সুখী পাখি। মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা আছে বলেই তো এত সব। সে গর্বিত তার জন্মভূমিটাকে নিয়ে । যদিও জন্মটাই কেবল এখানে তবুও এ যে তারইপ্রয় মাতৃভূমি, মহান বাংলাদেশ। সে জানে এ দেশের মানুষের মাথা না নোয়ানো সব গৌরব গাঁথা। বই পুস্তক, নেট তথ্য-খবর কম পড়েনি সে। হয়তো দেশের অনেকের চেয়ে বেশিই পড়েছে।
ট্রাকটা একটু নড়েছে সামনের দিকে। কিন্তু সাথে সাথে সবগুলা রিকশা একে ওপরকে ওভারটেকের নেশায় জটটা আরেকটু বাড়িয়েই দিলো। ঈর্থ অবাক হয়ে তাকায় । এ তাড়াহুড়া কেনো? সবাই সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে যায়। হঠাৎ ধুলোর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। বাতাসের অভাবে গরম লাগছিল। সেই কাঙ্খিত বাতাস এসেই উল্টো চোখে মুখে বালির মেকাপ দিয়ে গেলো। ঠেলাঠেলির মাঝেই এক হাত পরিমাণ এগিয়েছে রিকশাটা। বাম পাশে একটা স মিল। কাঠ চেড়া হচ্ছে। কাঠের গুড়ো উড়ছে। কি ভয়াবহ। নাকে মুখে সেই ধুলা বয়ে নিয়ে যাচ্ছে দূর দূরান্তে সবাই। ওটার পরেই একটা ইঞ্জিনিয়ারিং শপ। লেদ মেশিনের কাজ হচ্ছে। তারপরই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল দোকানটার সীমানার বাইরে। ছেলেদুটোর বয়স খুব বেশী হলে দশ। কিংবা বারোই। তার থেকেও ছোট। লোহা পেটাচ্ছে একজন। আরেকজন লোহা কিংবা টিনের পাত ঘষছে কোন যন্ত্র দিয়ে। ধুলো মাখা উদোম কৃষ্ণবর্ন গা দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছে। দোকানের বাইরে রাস্তাতেও যে দোকানের এঙ্টেনশন হয় সে জানা হয়ে গেছে আরও আগেই। কিন্তু এই বয়সী ছেলেদুটো এই কঠিন কাজ! ঈর্থ অবাক। ভীষণ কষ্ট মনে। কিংবা মায়া। কিংবা উপলব্ধিটা ঠিক সে বুঝে উঠতেই পারছে না। ঠিক পরের ধাক্কাটা এল সাথে সাথেই। উল্টো পাশে একটা কাঠের দোকান। ফার্নিচার বানানো হচ্ছে। একটা আরও ছোট বয়সের ছেলে , গায়ে এক ছটাকও মাংস আছে বলে মনে হয় না। সিরিজ কাগজ নিয়ে ভীষণ মনোযোগে ঘষে যাচ্ছে কাঠ। সারা গায়ে কাঠের গুরো। ছেলেটার ফুসফুসের পোষ্ট মের্টম করলে কাঠের গুড়োর নিশ্চিত একটা ভান্ডার পাওযা যাবে। মনটাই মরে গেলো মুহূর্তে ঈর্থের। চাইল্ড লেবার বিষয়ে সে যে জানে না ঠিক তা না। কিন্তু এই মুহূর্তে ঈর্থর মন থিউরীটিক্যাল উপলব্ধি ছাড়িয়ে দৃশ্যমান বাস্তবতার মাখামাখি হয়ে তাকে কাতর করে দিচ্ছে। ধুলোর যন্ত্রনা এড়িয়ে সে কাতরতা তাকে জ্বালাতে শুরু করলো অনবরত।
ট্রাক টা এগোচ্ছে সামনে। যাক ওটা বায়ের গলিটাতে কোন রকেমে কৎসরৎ করে টার্ন নিল। কিঞ্চিৎ বড় সে গলিটা। রিকশা গুলো একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাবার প্রতিযোগীতায় হঠাৎ আরও বেশী মনোযোগী হলো যেন। তার রিকশাও বাদ গেলো না। বরং একটা রিকশা কে ওভারটেক করা তীব্র নেশায় রাস্তা ছাড়িয়ে ড্রেনের স্লাবটার উপর উঠে এগোতে চাইলো। আর তখনই লেদের দোকানের সামনে লোহা পেটানো ছেলেটার পিঠে একটা ঘষাঁ লেগেই গেলো। ছেলেটার মুখ থেকে অনতিবিলম্বে বের হয়ে এলো, ঐ হাওয়ার পুত চোখখে দেহোস না। রিকশা ওয়ালাও কম যায়না, যা বাইন চো...রাস্তার উপর কাম করবার লাগছে, সইরা কাম করন পারছ না।
ঈর্থ অবাক হয়। সবাই এক অসুস্থ প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। কিন্তু এ প্রতিযোগীতা কোথায় এগিয়ে যাবার জন্য। সত্যি কি কোন গন্তব্য আছে? ছেলেটার জন্য আবারও দুঃখ হয় সাথে মায়াও। মাথাটা ঘুরিয়ে দেখে। পিঠে একটা সাদা দাগ। কিন্তু কোন রক্ত নেই। আসলে কালো গায়ে এতই ময়লার আস্তর জমেছে রিকশার ঘষাও সেখানে চির ধরাতে পারেনি। মুখে হাত টা ঘষে দেখে , খসখস করে ওঠে মুখ এবং হাতটাও তার। রিকশাওয়ালাটাকে একটা বকা দেবে ভেবেও বোঝে না কি বলবে আসলে। কি বলা উচিৎ এখানকার প্রচলিত অসুস্থ এ কালচারে।


\\দুই\\

বাসায় ফিরে দেখে তখনও মা ফেরেন নি। ভালোই হলো। তার অনুপুস্থিতি তেমন কোন সাড়া পড়েনি। কিন্তু পরশ ভাইয়া ঠিকই ধরলেন। ওনাদেরই বাসা এটা। ঈর্থের কাজিন পরশ।
কোথায় গিয়েছেলে? মোবাইলটাও দেখি নাও নি। এভাবে না বলে যেতে হয়। কত বিপদ আপদ ঘটতে পারে।
ভাইয়া মাকে কিন্তু বলো না। কিছু হবে না। আমি লেক পর্যন্ত রাস্তা ভালো ভাবেই চিনে ফেলেছি। ও পর্যন্তই গিয়েছিলাম। ওর বেশী যাই নি তো। মোবাইল নিলে মা যদি কল দিতো, যেনেই যেতো।
কিন্ত কোন বিপদ হলে.. কেউ তোমার খোঁজও দিতো না আমাদের। তুমি তো জানো না এ দেশে পুলিশ টুলিশ ওসব দেশের মত না, ওত মানবতামুখি সিস্টেমের প্রচলন এ দেশে এখনও হয় নি।
কিন্তু কেনো ভাইয়া একটা স্বাধীন দেশে সব কিছূ এমন বিসদৃশ্য কেনো? তোমরাই বলছো এটা করো না ওটা করোনা, ওখানে যেয়োনা, এই বিপদ ও বিপদ...তাহলে স্বাধীন হয়ে কি হলো?
কেনো এই যে ঢাকা শহরে ঘন্টা দুয়েক ঘুরে এলে নিজ চোখেই তো দেখে আসার কথা।
দেখেই তো আরও ভাবনা বাড়ল। খুব কষ্ট পেলাম আমার চেয়ে ছোট ছোট ছেলেদের অসাধ্য সব কাজ করতে দেখে। কি ভয়াবহ। যেকোন মুহূর্তে বিপদ ঘটতে পারে। তারউপর সারাজীবনের জন্য বযে বেড়ানোর জন্র অসুস্থতা তৈরী হচ্ছে তাদের দেহে। এসব দেখে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে যে যে দেশে শিশুরা কাজ করে সেটাই যেন বাংলাদেশ।
কেনো সাড়া বিশ্বেই শিশু শ্রমের বিষয়টি রয়েছে। রয়েছে বলেই তো জাতিসংঘকে এবং দেশে দেশে শিশু শ্রম নিয়ে নীতিমালা তৈরী করতে হয়। শিশু কারা সেই বয়সও নির্ধারন করতে হয়।
হুম ! ঠিখ তবে আফ্রিকা আর এশিয়ার অনুন্নোত কিংবা উন্নয়নশীল দেশেই শিশু শ্রম মনে হয় বেশী। এই দেখো ভাইয়া ইউনেস্কোর ওয়েব সাইটে লেখা ১৫৮ মিলিয়ন শিশু বিশ্বে শিশু শ্রম করে। তাহলে শুধু আমাদের দেশেরই নয়...
মোবাইলে ওয়েব পেজটার দিকে তাকিয়ে পরশ বললো, তাহলে বোঝ। এ নিয়ে দুঃখ করে লাভ নেই। গরীব হয়ে জন্মানোটাই একটা পাপ। এ তাদের পাপের নিয়তি।
মোটেও না। শ্রম করুক। কানাডাতেও আইন আছে শিশু শ্রমের। নিষিদ্ধ নয়। তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কাজ করতে পারবে না কোন শিশু। প্যারেন্টসদের তত্ত্বাবধানে তাদের জন্র উপযোগ িকাজ করতে পারবে শুধু।
তোমাকে বুঝতে হবে এটা বাংলাদশে। এর চেয়ে অনেক বড় বড় সমস্যা নিযেই আমাদের মাতা ব্যাথা নেই। তোমাকে আরেকটা ভালো কথা বলি, কালকেই খবরে শুনলাম , বাংলাদেশে শিশু বলতে আঠারো বছরের নিচের সকলকে বোঝানো হয়েছে। অথচ আমি যতদূর জানি তোমাদের ওখানে ১৬ বছল পর্যন্ত বোধহয় শিশু ধরে। কি বুঝলে। এমনেতেই এখানে শিশু শ্রম বেশী। তারোপর আবার শিশু নির্ধানেরর মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়া হলো।
ভাল তো ভাইয়া। নিশ্চয় শিশু শ্রম বন্ধ করা উদ্দেশ্যেই ওমন করা হয়েছে।
এ দেশে সব কিছু স্বাধীন। সবাই স্বাধীন। উদ্দেশ্য গুলো তো আরও বেশী । উদ্দেশ্য তাই সবার জন্য হয় না। সে যেন উদ্দেশ্যের নিজের জন্যই কেবল ।
কি জানি। কি বলো । এত কঠিন কথা বুঝিনা। আমরা কি কিছু করতে পারি না। তোমারা আমরা আমাদের যাদের অভাব নেই তারা কি একজন দুজন করে শিশুর দায়িত্ব নিয়ে শ্রম বন্ধ করতে পারি না।
পরশ ঈর্থের কথায় ভীষণ হেসে উঠল। তারপর বলল, আচ্ছা চল তোমার এই আইডিয়ার একটা প্রাকটিক্যাল এঙ্পেরিমেন্ট হয়ে যাক।
সে কেমন?
আমাদের বাসার যে মহিলাটি কাজ করে। মানে বুয়া। তার একটা ছেলে আছে। তোমার চেয়ে বছর দুই ছোট হবে। এই ধর ১২/১৩ বছর। কি কাজ করে যান?
কাজ কেনো? পড়াশোনা করে না। তোমরা বুয়াকে বেতন দাও না।
সব উত্তর তুমি নিজেই পাবে। এঙ্পেরিমেন্টা কর না আগে। বুয়ার ছেলে একটা লোকাল বাসের হেল্পার। তুমি কি জান অতটুকুন ছেলেটাকে কত ভয়ানক কাজ করতে হয়? আচ্ছা তার আগে বল তুমি কি কাজ করতে দেখে এত মন মরা হলে।
মন মরা হবো না। কি ভয়াবহ দুটো ছেলে গায়ের গাম ঝরিয়ে লোহার কাজ করছে। তাও আবার বিজি রাস্তার উপর। হাউ ডিসগাসটিং! আরেকটা ছেলে কাঠ ঘষঝে। শরীরে তার কোন শক্তিই নেই, তবুও সে ঘষেই চলেছে। কি মায়া মায়া চেহারা ছেলেটার।
ব্যাস! এই টুকু। আর চামড়া কারখানায় যে শিশুটা চামড়া পাকা করছে, হাতে পায়ে গিজগিজ করছে দগদগে ঘা, কিংবা যে ছেলেটা ইট ভাঙছে পথের ধারে , কিংবা...
সত্যি! কিন্তু কেনো , এসব করার জন্য কি বড়দের খুব অভাব এ দেশে?
তা তো এক কথায় শেষ করা যাবে না। তবে আরও আছে । এই যেমন আমাদের বুয়ার ছেলেটাই। দৌড়ে দৌড়ে চলন্ত গাড়ীতে উঠতে হয়। পায়ে কোন সেন্ডেল নাই। একটি বার ভাবো। পা পিছলালেই, কিংবা ব্রেক এ তাল না রাখতে পারলে...
হুম, আজই দেখেছি। একটা ছেলে বাসে ওঠার জন্য দৌড়াচ্ছে। তখন তো ওতটা ভাবি নি। সত্যি তো অনেক ভয়াবহ।
বুয়ার ছেলে সেই কাজটাই করে। তুমি তাকে বলবে , তার ছেলে যে পরিমাণ টাকা মাসে আয় করে তার সমান টাকা তুমি তাকে দিয়ে দেবে । দেখো তো বুয়া রাজি হয় না।
পড়াশোনার খরচও দিতে হবে। না হলে সে পড়াশোনা করবে কি করে?
ওকে তাও দেবে, বল। চল , এখুনি চল।


\\তিন\\

বুয়াকে পাওয়া গেলো রান্না ঘরে।
ওমা ! ধলা ভাইজানের চেহারায় এত ধুলা কেন? কই গেছিলেন। ইস রে!
আর তোমার ছেলে যে রাস্তার সব ধুলা ময়লা নিয়েই বেঁেচে আছে।
ওইটা আর আপনি এক হইলেন। কই রাজা আর কই আলকাতরা।
মানুষ তো! সবাই মানুষ। শুনলাম ও কাজ করে। আপনি ওরে লেখাপড়া করান না কেনো?
ওমা! লেখাপড়া শিখা করবোডা কি? ওইডার মাথায় খালি গুবুর, পাঠাইছিলাম ব্রাক ইস্কুলি। খালি ফাঁকি মারোনের তালে থাইকত। তার চেয়ে কাম শিখতেছে। একদিন বড় ড্রাইভার হইবো । দুমুঠো ভাততো খাইতি পারবো।

কিন্তু পড় লেখা করলে এই যে আমাদেও মত দালানে থাকতে পারত। গরীব থাকা লাগতো না আর।
এত সোজা না ভাইজান। ও আপনি বুঝতি পারবেন না।
তুমি কি জান না শিশু শ্রম অন্যায়। আচ্ছা যদি ওর আয়ের টাকাটা আমি তোমাকে প্রতিমাসে দেয়ার ব্যবস্থা করি। সাথে পড়ালেখার খরচ। তাইলে তুমি ওকে ওই কষ্টকর কাজ কে ফিরিয়ে আনবে?
শিশু কেডা? আমার পোলা আপনেরে দশবার বেইচ্যা দশবার কিনতি পারবো। ওই আবার খাটেনি। খালি কাম চুরি করে। কাম চোর। হের ওস্তাদে খালি বিচার দেয় আমার কাছে।
আমি কিন্তু সত্যি সত্যি বলছি। তুমি ভেবে দেখো।
না রে ধলা ভাইজান। গরীবের লাইগ্যা লেখাপড়া না। সবতের লেকাপড়া কইরা লাভ নাই এ দেশে। এহানে লেকাপড়া কইরা চাকুরী পাইতওে মামু চাচু লাগে। তুমি এইসবক বুঝবানা। তার উপর একার আয়ে গরীবের সংসার চলে নাগো। আমি কয়টাহা মাইনে পাই কও। হের বাপেই বা রিকশা চালায় কয় টাহা পায়। আমাগো পাঁচটা পোলা মাইয়্যা। হকলতে কাম করলিও পরেই না মুখে খাওন জুটব। এই দেশে লাখ লাখ পোলাপাইন কাম কইরাই খায়, বাপ মায়েরে দেখে। তুমি কয় জনরে দেখবা।
তাই বলে শিশু শ্রম তো নিষিদ্ধ । আইন আছে তো।
এ দেশে আইন আছে নাকি? এ দেশে সবাই স্বাধীন।
পরশ আড়াল থেকে ছুটে আসে। ঈর্থকে বুয়ার কাছ থেকে ছুটিয়ে নিয়ে যায়। বোঝে এমন অসামাঞ্জস্য টক শো কোন দরকার নেই।

'শোনো ঈর্থ, এ দেশের ৮০% মানুষই দরিদ্র সীমার নিচে বাস করে। তাদের আয় এতই কম , একার আয়ে কারও সংসার চলে না।
তাহলে এই যে এত গর্ব স্বাধীনতা নিয়ে। তার কি হলো। কি লাভ হলো।
এত অল্প কথায় বুঝবে না। ক'দিন থাকো। বুঝে যাবে।
কিন্তু আমার মাথা থেকে যাচ্ছে না। আমি মানতে পারছি না। ছেলেগুলো আসলেই খুব ছোট। ওদেরও আমার মত পড়া লেখার অধিকার আছে।
আছে।
ওদেরও আমার মত আরাম আয়েসের অধিকার আছে। স্বাস্থ্য রক্ষার অধিকার আছে।
আছে।
তাহলে? আমি মানতে পারছিনা।
চলো, তোমাকে মিষ্টি খাইয়ে নিয়ে আসি। খাঁিট টাঙ্গাইলের চমচম। চলো। খেলেই মন ভালো হযে যাবে।
কিন্তু বুয়ার ছেলেটার সাথে আমি কথা বলতে চাই।
দুর! ঠিক আছে, বলো। পরে।


\\চার\\

মিষ্টির দোকানটা কাছেই। একটা চিপা গলি পার হয়ে ওপারে বড় রাস্তায়। হেঁটেই গেলো দু'জন।
গলি এত সরু হতে পারে জানাই ছিলনা ঈর্থের। অবাক হলো। কত অবাক হওয়া বাকী আছে তার জন্য তার এ স্বাধীন মাতৃভূমিতে কেই বা জানে?
চমচমের কথা সে বিদেশে বসেই শুনেছে। কখনও খাওয়া হয়নি। খাওয়ার ইচেছও তেমন হয়নি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ইচ্ছে হওয়াই উচিৎ ছিল। দ্বিতীয় চমচমটা মুখে দিয়ে স্বাদটা উপভোগ করার আগেই বাইরে তাকাতেই চোখ গেলো মিষ্টির দোকানের কাচের ওপাশে ফুটপাতে ছেলেটার দিকে। জুতো পালিশ করছে। এবারও সেই শিশু। আবার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। এটুকু ছেলে মানুষের পায়ের জুতা...
পরশ বুঝতে পেরে পানির গ্লাস হাতে নেয়ার অযুহাতে আড়াল করে বসল। এখন আর জুতো পালিশ ওয়ালা ছেলেটাকে দেখতে পারছে না ঈর্থ। কিন্তু মনের ভেতর তার একই কথা ঘুরছে। মুখে আর মিষ্টি ঢুকছে না।
পরশের অনুরোধেও দুটোর বেশী সে আর খেলো না।
বিল মিটিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল তারা।
পরশ বলল, আর কোথাও যাবে? চল, ঘুরে আসি। বসুন্ধরায় যাবে? কোন মুভি দেখে আসি।
সেকথায় খেয়াল নেই ঈর্থের । সে তখন তাকিয়ে আছে লোকাল বাসটির পাণে।
পরশ এর সানি্নধ্য এড়িয়ে সে তার দৃষ্টি মেলে ধরেছে বাসের হেল্পার ছেলেটির দিকে। হয়তো বুয়ার ছেলেই। ভাবলো মনে মনে। ছেলেটা ঠিকই দৌড়ে চলন্ত বাসে উঠে যাচ্ছে। ঝুলে আছে গেটের বাইরে। ভেতরে মানুষে মানুষে ঠাসা। একটু সরে সরে গেলেই হেল্পার ছেলেটাকে আর ঝুলতে হতো না। অথচ কেউ সরছে না। সবাই যেন বড্ড বেশী স্বাধীন এখানে। একটু বেশীই।
হঠাৎ ছুটে যায় ঈর্থ। আরেকটা বাস থেমেছে। ডাকছে আরেকটা ছেলে। সেদিকে ছুটছে ঈর্থ। পরশ প্রথমে খেলার করেনি। যখন খেয়াল করলো ততক্ষণে যা ঘটার ঘটে গেছে।
দৌড়ে যায় পরশ। অনেক অনেক মানুষের চোখ চলে যায় সেদিকে।
কেউ একজন ঈর্থকে ধরে দাঁড় করিয়ে দিলো। খোড়াচ্ছে। হেল্পার ছেলেটা গজগজ করে দুএকটা গালিও শোনাল। বাসটা ছেড়ে দিলো। পরশ এসে ঈর্থকে ধরার দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়ে নিলো। পায়ে ভালো ব্যাথাই পেয়েছে। খোড়াচ্ছে এখনও। কপাল ভালো ঈর্থের। আসলে ধনীর জন্যই তো কপাল। দৌড়ে উঠতে চেযেছিল হেল্পার ছেলেটার মত। পড়ে গেলো। ছেলেটা মুহূর্তে ড্রাইভারকে না থামাতে বললে হয়তো একটা পা ঢুকেই যেত তলায়। চাকার আহারে পরিণত হতো। কপাল ভালো বলেই হয়তো হয়নি।
শেষ ভয়াবহ দৃশ্যটা, পতনের সিনটুকু স্পষ্ট দেখেছে পরশ। কেঁপে ওঠে সাতে সাতে তার পুরো হৃদয়। মনে মনে আল্লাহার নাম নেয়। তারপর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে যখন দেখে হেল্পার ছেলেটার চিৎকারে মুহূর্তে থেমে যায় বাসটি।


\\পাঁচ\\

সেই ছোট দুর্ঘটনায় বাম পায়ের গোড়ালিতে ঈর্থের একটা ছোটখাট ফ্রাকচার হয়েছিল আর দু হাতের কিছু জায়গার চামড়া ছড়ে গিয়েছিল। ডাক্তার টাক্তার পর্ব শেষ হবার পর বিছানায় থাকতে হলো ১৫ দিনের বেশী। পরশ ভাইয়ার ছোট বোনের বিয়েটাতে মজা আর করা হলো না। অথচ দেশে আসার পেছনে এই বিয়েরই একটা বড় ভূমিকা ছিল। সবাই বিয়ে সংক্রান্ত নানান উৎসবে যখন উৎফুল্লে মাতোয়ারা তখন ঈর্থের কষ্টকর সময় কেটেছে বিছানায় কেবল বই পড়ে আর নেট ব্রাউসিং করে। চাইল্ড লেবার নিযে যত লেখা পেয়েছে পড়েছে। দেখেছে এ কোন নতুন কিছু নয় পৃথিবীর ইতিহাসে। যুগ যুগ ধরে মানুষ শিশুদের দিয়ে কাজ করিয়েই আসছে। শিল্প বিপ্লবের আগের যুগে শিশুরা মূলত কৃষিকাজই করত। আর শিল্প বিপ্লবের পর পুরো পৃথিবী জুড়ে শিল্প কারখানা যত বেড়েছে শিশুদের কঠিন কঠিন কাজে নিয়োগের ব্যপকতাও বেড়েছে। একটা ভালো তথ্য পেলো নেটে। গত দশকে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পে ৫০,০০০ এর মত শিশু শ্রমিক ছাটাই করা হয়েছে। এটা ঘটেছে আমাদের দেশের পোষাক আমদানী কারক দেশগুলোর 'চাইল্ড লেবার ডিটারেন্স অ্যাক্ট' মেনে চলার কারনে। এ অ্যাক্ট অনুযায়ী শিশু শ্রমিকদের তৈরী পোষাক তারা আমাদানী করবে না।
কিন্তু তাতে মন ভালো হয় না ঈর্থের। সে নেট ঘেটে জেনেছে বাংলাদেশে শিশুরা তার কল্পনাতীত কঠোর এবং অসম্ভব সব কাজে নিয়োজিত এখনও। বরং পোষাক শিল্পের কাজ সেগুলোর চেয়ে অনেক ভালো ছিল। ঈর্থ বিস্মিত হয়। এ দেশে নাকি বিপুল সংখ্যক মেয়ে শিশু প্রষ্টিটিউটশনের কাজেও নিয়োজিত। কি ভয়াবহ!
দুদিন হলো ঈর্থ পুরোপুরি হাঁটতে শুরু করেছে। মা আবার এখন কড়া আইন জারি করেছেন। যে কদিন দেশে আছে একা কোথাও যেতে পারবে না। মার ধারনা হয়েছেন এ দেশ মরে গেছে । ঢাকা শহর তো আরও বেশী মরা। এ মরা শহর জায়গা ঈর্থের জন্য নয়। একানে বসবাস করা সম্ভবই নয়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হবার পর থেকে তিনি দ্রুত ফিরে যাবার জন্য ঈর্থের বাবাকে নিয়মিতই খোঁচাচ্ছেন।
তারা দেশে আর আছে মাত্র সপ্তাহ খানেক। কত পরিকল্পনা করেছিল ঈর্থ। প্রিয় মাতৃভূমির কত কিছুই নিজ চোখে দেখে যাবে। না কিচ্ছু হলো না। দূরে তো যাওয়া দূরে থাক ঘরের কাছে লেকের পারেই একা যেতে দিচ্ছেন না মা। বাবা বলেছেন যাবার আগে দুদিন কেবল কঙ্বাজারে নিয়ে যাবেন।

আজ ২৫শে মার্চ। পৃথিবীর ইতিহাসে সেই নিকৃষ্টতম জেনোসাইড ঘটিয়েছিল পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এই রাতেই। সে সব ইতিহাস সব পড়া আছে ঈর্থের। কেবল এই দেশে এসে মেলাতে পারে না। সেই নৃশংস অত্যাচারের শিকার বাঙ্গালী জাতি কি ভীষণ সাহসিকতা আর একতার মন্ত্রে মহাগৌরবের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। ভাবলেই ঈর্থের গায়ের লোম শিউরে ওঠে। কিন্তু সেই জাতি এত পিছনে কিভাবে পড়ে থাকল তার মাথায় আসে না। তাকে আরও জানতে হবে। আরও পড়তে হবে। যে ক'টা দিন আছে সে চায় এই ছুটন্ত শহরের মানুষের সাতে আরেকটু মিশতে। সে চায় কাছ থেকে মানুষগুলোর যন্ত্রনা দেখতে। চায় শিশুগুলোর কষ্ট একটু অনুধাবন করতে। কিন্তু বের হতে দিতে মা কিছুতেই রাজী হতে চান না। শেষে কাল শনিবার, স্বাধীনতা দিবস। দুদনি ছুটিতে ঢাকার জ্যাম একটু কমবে। এই সব ভেবে হয়তো অনেক অনুনয় বিনয়ের পর মা পরশ ভাইয়ের সাথে বাইরে যেতে দিতে রাজী হলেন। তাও গাড়ী ছাড়া তো অব্যশই নয়। পরশ চাচীকে আর বলে না ছুটির দিনেই বরং এ শহরে আজকাল জ্যাম বেড়ে যায় বেশী।
আর একদিন পরই স্বাধীনতা দিবস। গাড়ীতে বসে বিজয স্বরণীর দিকে যেতে যেতে স্বাধীনতা দিবস কিভাবে দেশে পালন হয় সে কথা নিয়ে পরশ ভাইয়ের সাথে আলাপ হচ্ছিল ঈর্থের। কিন্তু ঘুরে ফিরে তার মুখে সেই শিশু শ্রমের কথা শুনতেই হচ্ছিল পরশের। ঈর্থ জানতে চাইছিল, স্বাধীনতা দিবসের দিনও কি শিশুদের কাজ করতে হয়? শিশুশ্রম আজও তার মাথা থেকে যায় নি। ভেবে ভেবে নানান সমাধানও বের করা চেষ্টা চালিয়েছে অসুস্থতার ক'দিন। কিন্তু আসলেই এত বড় বড় বিজ্ঞ জনেরাই কিছু পারেনি। সে কি পারবে?
পরশ কি উত্তর দেয়া সমীচিন হবে বুঝতে পারে না। চুপ করে থাকে।
শিশুশ্রমএর বিষয উঠাতেই ঈর্থ একটু নড়েচড়ে বসল। পরশের নিকট ঈর্থ তার এতদিনের নানান ভাবনা ঝরঝর করে বলে গেলো। যার অধিকাংশই এ দেশের মাপকাঠিতে আসতে আরও অনেক অনেক কাল লেগে যাবে কিংবা নাও আসতে পারে সে কাল।
পরশ ঈর্থর মনটা হালকা করতে চাইলো। বললো, তুমি কেবল এ দেশের শিশুদের কষ্ট নিয়েই ভাবছো। ইতিবাচক কিছু নিয়েও ভাবো। পয়সার এক পিঠ দেখে কি সব ধারনা করা যায়? এ দেশের শিশুদেও কীর্তিগাঁথাও কিন্তু কমনা। তুমি জানো আজহারুল ইসলাম রেজু নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। যিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। জানোনা? পড়ে দেখো এমন আরও কত বীর শিশু আজ বড় হয়েছে।
কিন্তু তারপর, তারপর স্বাধীন দেশে আজ তারা নিশ্চয় অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত ভাইয়া, তুমি খোঁজ নিযে দেখো সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আজ কত নিগৃহ জীবন যাপন করছেন। স্বাধীন হয়েছে দেশ কিন্তু মন আমাদের স্বাধীন হয়নি। এইটুকু আমি বুঝে গেছি।
ঠিক বলেছো। চুযাডাঙ্গার সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজু ভাই আজ দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার অভাবে মৃতু্য পথযাত্রী। পত্রিকায় ক'দিন আগেই একটা রিপোর্ট এসেছিল।
সেটাই তো ভাবছি ভাইয়া। পত্রিকায় রিপোর্ট হবে কেনো। বীরদের দেখার দায়িত্বটা তো রাষ্ট্রের বিনা বাক্যব্যয়ে করা উচিৎ ছিল। কিন্তু এখানে সব যেন উল্টো পথে চলছে। এখানে সবাই একে অন্যকে ছাড়িয়ে এক অচেনা শূণ্যর দিকে এগিয়ে যাবার অসুস্থ প্রতিযোগীতায় নেমেছে। কিন্তু কেনো। আচ্ছা ভাইয়া, তোমরা যারা ইয়াং তারা কি এই সবের বিরুদ্ধে বিশেষ করে ঐ শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পার না।
আবারও শিশু! অনেকে সংস্থা আছে। কাজ কিন্তু করছে। ইউনেস্কোর অনেক কার্যক্রমও চলছে। আশা রাখ। কানাডায় বসে দেখতে থাক, ঠিক হবেই। হতেই হবে। চিন্তা করা ভালো। কিন্তু চিন্তা করে করে পাগল হয়ে যেওনা। চলো তোমাকে শাহবাগ নিয়ে যাই। দেখবে ওখানে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরদল ফুলের তোড়া গাঁথছে। বিশাল বিশাল আকৃতির পুষ্প স্তবক তৈরী করছে। কারিগরের অধিকাংশই কিন্তু সেই তোমার শিশুই। তাদের তৈরী সেই সব ফুলের তোড়াই আগামীকাল শোভা পাবে জাতীয় স্মৃতি সৌধের বেদীতে। সভ্য গন্যমান্য ব্যক্তিগণ সেইসব ফুল অর্পণ করে আপন মহিমা প্রদর্শন করবেন কাল। তাদের কীর্তিমাখা চেহারা দেখা যাবে সকল টিভি ক্যামেরায়।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • সকাল  রয়
    সকাল রয় লেখাটা পড়লাম ভালো লাগলো
    প্রত্যুত্তর . ৯ মার্চ, ২০১১
  • নষ্ট কবিতার একটি অংশ ( Nirob Ouhan Masum)
    নষ্ট কবিতার একটি অংশ ( Nirob Ouhan Masum) Good & Thanks for your writing
    প্রত্যুত্তর . ১০ মার্চ, ২০১১
  • মোঃ মামুন মনির
    মোঃ মামুন মনির সত্য কিছু কথা তুলে ধরেছেন। খুব ভালো লাগল।
    প্রত্যুত্তর . ১১ মার্চ, ২০১১
  • অদৃশ্য
    অদৃশ্য খুব সুন্দর লিখেছেন। ভাল লাগল।
    প্রত্যুত্তর . ১১ মার্চ, ২০১১
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ আপনাদের ভালো লাগা আমার পরবর্তী লেখার ভীষণ প্রভাবক হযে থাকলো।
    প্রত্যুত্তর . ১৯ মার্চ, ২০১১
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ মামুন, এই দেশের সত্যগুলো বড় করুন।
    প্রত্যুত্তর . ২১ মার্চ, ২০১১
  • নষ্ট কবিতার একটি অংশ ( Nirob Ouhan Masum)
  • সূর্য
    সূর্য নামের সাথে সাথে যেভাবে তথ্য উপাত্ত এবং প্রমান জড়ো করা হয়েছে এটাকে প্রবন্ধ না বলে গবেষণা বলাই যুক্তিযুক্ত। আমরা বর্তমান ইউরাপ-আমেরিকা দেখে অনেক মন্তব্য করে ফেলি, কিন্তু অতীতে গেলে তাদের দেশেও শিশু শ্রমের ঢের প্রমান মেলে। একটা সভ্যতা গড়তে সবার অংশ গ্রহণ জর...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২২ মার্চ, ২০১১
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ আপনাদের কথা শুনেমনে হচ্ছে গল্প কেবল কল্পনাকে পুঁজি করেই লেখা হবে। গল্প তো বাস্তবতাকে তুলে ধরার জন্যই।
    আমি বাস্তবতাকে পরিহার করে গল্প লেখা ঠিক মনে করি না।
    প্রবন্ধের মধ্যে গল্পের ঢঙ থাকবে না। একানে গল্পকারে কিছু অসামাঞ্জস্য তুলে ধরাই আমার মানস।
    নামটা এ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২২ মার্চ, ২০১১
  • মোঃ শামছুল আরেফিন
    মোঃ শামছুল আরেফিন ভাল লেগেছে অনেক।মুক্তিজুদ্ধের পাশা পাশি শিশু শ্রমের কথা তুলে দরেছেন।অনেক অনেক শুভ কামনা থাকল।
    প্রত্যুত্তর . ১ এপ্রিল, ২০১১

advertisement