মা !
আজ অশ্রু জ্বলে এ কাব্য লিখছি !
যেথায় পৃথিবী অনায়াসে রয়েছে সুখের দোলায় ,
সেথায় রয়েছি আমি নতশিরে অপূর্ণ পুরে,
আর আড়ালে তাকিয়ে দেখছি ।
ঐ মায়ের আঁচল তলে যবে দেখি তাদের হাসি ,
মনে হয় তারা কত পূর্ণতা, কতই সচ্ছলতা
সে বেদনায় নীরবে নীরবে কাঁদছি ।
জানিনারে মা !
কেন আমি পৃথিবীর কাছে হয়েছি অভাগা ।
সেই বেদনার কাছে বহুবার ভিক্ষা মেগেছি,
অশ্রুর কাছে অজস্র পূজা দিয়েছি ,
তাহারা কেহও সুরহার হদিস দেয়নি এই অবেলারে
তাই বাতায়ন খুলে লোকালয় দূরে তোমার কবরটা বারবার দেখছি ।
না জানি মা!
এত অল্প বয়সে কজনে হারিয়েছে মায়ের স্নেহের আঁচল ,
তবে সে দিনের সে করুন মুহূর্ত , আমি প্রতিটি নিশিতে শিউরে উঠি ।
আর নিভৃত বনে আপন মনে ডাকছি ।
গগনের ঘন কালো মেঘ যেন,
পৃথিবীতে অনাবিত বর্ষণ জড়িয়েছে তোমার শেষ নিঃশ্বাসের চিৎকারে ,
মরণাপন্ন ,মূমুর্ষতায়, মৃত্যু শয্যার পূর্বে ,
তুমি বারবার আমার হস্ত ধরে বলেছিলে ,
খোকা --- ?
আমায় ঘরে নিয়ে চল ,
আমার ছোট্ট ছোট্ট বাছুরগুলোকে একটু দেখি ।
অবুঝ মন , ভেবেছিলাম তুমি ভাল হয়ে যাবে ,
কে জানে---- ?
সে দূরারোগ্য ক্যান্সার মৃত্যু তোমার ধাওয়া করেছে ।
শুধু তুমিই জেনেছ মা !
আজ তোমার পৃথিবীর শেষ দিন ।
তাই বারংবার আঁখির পাপড়ি খুলে আমার মুখ পানে তাকিয়ে ছিলে ,
আর দুচোখ বেয়ে অশ্রু জড়িয়ে না বলা কথা বলেছিলে ।
অবধিই যখন ধীরে ধীরে মুখের বাণী রুদ্ধ হয়ে গেল ,
আমার সমস্ত অঙ্গ, পতঙ্গ, শিরা, উপশিরা, পৃথিবী হতে বিচ্যুত হয়েছিল ।
জীবনের সে প্রথম সে তোমার মৃত্যু দেখেছি আমার নিজ চোখে
সে হতে হ্রদয়ের মাঝে পাথর বেঁধে বেঁচে আছি পৃথিবীর বুকে ।
তাই অশ্রু জ্বলে এ কাব্য লিখেছি ।