১২ জানুয়ারী ১৯৩৪
একরাশ সূর্যকিরণ ছড়িয়ে সহাস্যে উঠেছিলে ফাঁসির মঞ্চে
দৃঢ় প্রত্যয়ী এক মানবাত্মা হয়েছিল মুক্ত
মিশেছিল পরমাত্মায় বীরের প্রত্যয় নিয়ে
কিন্তু রেখে গিয়েছিল এক অনাগত বিস্ফোরণের বারতা
যেমন এক মহাবিস্ফোরণে অনেক বিলিয়ন বছর আগে
সৃষ্টি হয়েছিল মহাবিশ্বের

তুমি পুনর্জন্মে বিশ্বাসী ছিলে কিনা জানা নেই
শুধু জেনেছি সব স্বপ্ন পূরণের আগেই ঠিক আমারি বয়সে
পরেছিলে জ্বান্তার করাল গ্রাসে
তুমি, প্রীতিলতা, কানাইলাল কলম-কালি ছেড়ে
হাতে নিয়েছেলে আগ্নেয়াস্ত্র, লাল বর্ণে লিখেছো বিদ্রোহের দিনলিপি

তোমার আত্মবিসর্জনের আটটি দশক অতিক্রান্ত হয়েছে
এসেছে জ্বান্তার পর জ্বান্তা, কেড়ে নিয়েছে এ মাটির লক্ষ সুর্য সৈনিককে
তোমার প্রানের বাংলা অজস্রবার করেছে রক্তস্নান
তারপরও পূরণ হয়নি তোমার সুললিত স্বপ্নেরা

আজ এতোটা বছর পর অকস্মাৎ
আমার সমগ্র চেতনা জুড়ে তোমার উপস্থিতি অনুভব করছি
আমার প্রিয়তম শিক্ষার্থীরা যখন আমাকে 'মাস্টার দা' সম্বোধন করলো
আমি রন্ধ্রে রন্ধ্রে উপলব্ধি করলাম তোমাকে
আমি এখন আমার যাবতীয় কলুষতা, অবহেলা আর নিষ্ক্রিয়তাকে
ফাঁসির মঞ্চে উঠাবো, তোমার চেতনায় শুদ্ধ হবো বলে

তোমার সব অপুর্নাঙ্গ স্বপ্নের বাস্তবায়ন চাই আমি
প্রয়োজনে বিপ্লবী থেকে আততায়ী হবো
হাতে তুলে নেবো আধুনিকতম মারনাস্ত্র
আত্মশুদ্ধির আর মাত্র কয়েকটি প্রহর বাকি
আমি বিশুদ্ধ বাঙালি স্বত্ত্বার সুর্য সেন হবো

'হৃদয়ে আমার সূর্য সেনের
নিভৃত বসবাস
এ মাটির সব শত্রুর আমি
করব সর্বনাশ'