লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ডিসেম্বর ১৯৮৭
গল্প/কবিতা: ৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftস্বাধীনতা (মার্চ ২০১১)

যুদ্ধদিনের স্মৃতিগাঁথা; মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর
স্বাধীনতা

সংখ্যা

সন্দীপন বসু মুন্না

comment ১৫  favorite ১  import_contacts ২,৭৬৯
৩৯ বছর হল দেশ স্বাধীন হয়েছে। যুদ্ধের বারুদপোড়া গন্ধ, বধ্যভুমির গলিত লাশ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদেও বীরত্বেও কোন চিহ্ন দেখার সুযোগ হয়নি এ প্রজন্মেও তরুনদের। ঢাকার সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ধরে রেখেছে যুদ্ধদিনের সেইসব স্মৃতিচিহ্নকে। আপনিও দেখে আসতে পারেন ৭১ এর উত্তাল কিছু ঘটনাপ্রবাহের বাস্তব চিত্র। মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ঘুরে , সন্দীপন বসু মুন্না ।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ছিমছাম ছোট্ট একটি তিনতলা বাড়ি। দেখতে সাদামাটা হলেও বাঙ্গালি জাতির কাছে এই বাড়িটির আকর্ষণ চুম্বকের চেয়েও শক্তিশালী। বাঙালির ঐতিহ্য, বীরত্ব, সংগ্রাম আর ত্যাগের সাক্ষ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে দীপ্ত চেতনায়।
‘সত্যেও মুখোমুখি হোন , ইতিহাসকে জানুন’ মুলমন্ত্রকে সামনে রেখে ২২ মার্চ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর। বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণ এবং ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়গত বিভেদেও নামে নৃশংসতার শিকার সব মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর। মুক্তি ও স্বাধীনতার স্পৃহায় দৃড়প্রতিজ্ঞ মানুষই যে পারে সব বাধা বিপত্তি দুর করে এগিয়ে যেতে তারই পরিচয় মেলে ধরেছে এই মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর। সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সংগ্রামে অকুতোভয় জনগণের বিপুল আত্মদান ও মুক্তির স্বপ্নকে বহন করে চলছে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ।
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ট্রাস্ট জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা। এখানে স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, বই, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র, তথ্য, স্মৃতি সংরক্ষণসহ মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় অর্জন। এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও দলিলপত্রাদি সযত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যা দেশে নতুন প্রজন্ম পূর্ব পুরুষদের সংগ্রাম এবং দেশের জন্য তাদের মহৎ আত্মত্যাগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে। দেশ ও জাতি সম্পর্কে তাদের চেতনাকে শাণিত করার প্রয়াস পাবে।
জাদুঘরের প্রবেশ পথেই রয়েছে শিখা চিরন্তন। এ শিখা জ্বলছে পৃথিবীর সেই সব মানবদের উদ্দেশে যারা আত্মোৎসর্গ করেছেন স্বাধীনতার জন্য। এ শিখা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পৌঁছে দেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। এছাড়াও প্রবেশপথে প্রদর্শিত হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডাঃ ফজলে রাব্বি-ও ব্যাবহৃত গাড়িটি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বাঙালির অতীত, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস উপস্থাপিত হয়েছে ছয়টি গ্যালারির মাধ্যমে।
প্রথম গ্যালারি
এই গ্যালারিতে বাংলার অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা থেকে স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের সংগ্রামের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আছে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার রেপ্লিকা, প্রাচীন আমলের যুদ্ধাস্ত্র, ঢাল বর্মসহ বিভিন্ন দুর্গ ও নকশার প্রতিকৃতি। এছাড়াও এখানে সংরক্ষিত আছে মহৎ বাঙালি অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের একটি মূর্তি। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে বিক্রমপুর পরগনার বজ্রযোগিনী গ্রামে রাজা কল্যাণ শ্রী ও রাণী প্রভাবতীর মধ্যমপুত্র চন্দ্রগর্ভ জন্মগ্রহণ করেন। ভিক্ষু হওয়ার পর তার নাম হয় অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। ভারতবর্ষে বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার ও দন্তপুরী, সামপুরী ও বিক্রমশীল বিহারে অধ্যাপনা ও পরিচালনা করার সময় তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে অতীশ দীপঙ্কর দেহভস্ম ও রচিত গ্রন্থের পান্ডুলিপি চীন থেকে ঢাকায় ধর্মরাজিক বিহারে আনা হয়। সেই পান্ডুলিপির একটি সংরক্ষিত আছে জাদুঘরে।
দ্বিতীয় গ্যালরি
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের দ্বিতীয় গ্যালারিটি সাজানো হয়েছে মূলত পাকিস্থানি শাসনামল থেকে শুরু করে ৭০-এর সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ইতিহাসের পথপরিক্রমাকে কেন্দ্র করে । এখানে এলে দেখতে পাবেন তৎকালীন পত্রপত্রিকা, পাকিস্থান আমলের শাসন শোষণের বিভিন্ন দলিলপত্র এবং বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রথমধাপের বেশকিছু দুর্লভ ফটোগ্রাফ।
তৃতীয় গ্যালারি
তৃতীয় গ্যালারির প্রদর্শনী সূচিত হয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রামের ডাক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ, ১৯৭১ এর উদাত্ত আহ্বানের ছবি ও ঘেষণাপত্রের দ্বারা। এর মাধ্যমে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে জনতার অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এখানে ২৫ মার্চ কালরাত্রি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার উপস্থাপন রয়েছে। এছাড়া ছবি, পেপার কাটিং এবং অন্যান্য তথ্যাদির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধেও প্রাক্কআলে তৎকালীন ছাত্র জনতার গণআন্দোলন, পাকিস্থানী হানাদারদেও নৃশংসতা ও গণহত্যা , লাখ লাখ শরণার্থীর দুর্গতির চিত্রও রয়েছে। তাদের ভারতে আশ্রয় গ্রহণ এবং শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবর্ণনীয় দুর্দশার চিত্রও প্রতিফলিত হয়েছে।
১৭ এপ্রিল অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেরও দুর্লভ কয়েকটি ফটোগ্রাফও স্থান পেয়েছে এখানে। সিঁড়ি বেয়ে উপরতলায় উঠার সময় দর্শকরা মুক্তিযুদ্ধের সূচনাকালীন কিছু ছবি দেখতে পারবেন। এর মধ্যে আছে মুক্তিযোদ্ধাদের সদস্যভুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক প্রতিরোধের অনেক ছবি ; যা যুদ্ধদিনের প্রথমাংশের স্মৃতি বহন করে। পাকবাহিনীর সংগঠিত নৃশংস গণহত্যাযজ্ঞের প্রমাণাদি বারান্দায় বিভিন্ন পেপার কাটিং এর মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে।
চতুর্থ গ্যালারি
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের চতুর্থ গ্যালারিতে আছে অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিসভা ও প্রশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনিসপত্র ও দলিলাদি ও যুদ্ধকালীন বিভিন্ন দুর্লভ ফটোগ্রাফ। কয়েকজন বিশিষ্ট বাঙালির ব্যবহৃত জিনিস। এরা পাকবাহিনীর দ্বারা নৃশংসভাবে নিহত হয়েছেন। রয়েছে এসব নিহত মুক্তিযোদ্ধার ব্যাবহৃত নানাবিধ বস্তুসামগ্রীসহ বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডারদের ব্যবহৃত সামগ্রী।
চতুর্থ থেকে পঞ্চম গ্যালারিতে যেতে একটি ব্যালকনি। ব্যালকনিতে আছে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত বাংলাদেশের বিশাল মানচিত্র। সেক্টর কমান্ডার এবং আঞ্চলিক বাহিনীর প্রধান যোদ্ধাদের ছবি সম্বলিত বিস্তারিত বিতরণ দেয়া হয়েছে। এখানে রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পতাকা, যা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। আরও আছে তৎকালীন দেশী বিদেশী পত্র-পত্রিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বাধীনতার সপক্ষে প্রচারিত পুস্তিকা ও প্রচারণার দলিল, কিছু দুর্লভ ফটোগ্রাফ এবং ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী কৃত ভাষ্কর্য ‘অন্ধকারের উৎস হতে’।

পঞ্চম গ্যালারি
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের সর্ববৃহৎ এই কক্ষ মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবদানের সাক্ষ্য বহন করে। এ গ্যালারিতে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকহানাদারদের ব্যাবহৃত অস্ত্রের এক বিপুল প্রদর্শনী। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাবহৃত এলএমজি , রাইফেল পিস্তল , এন্টি ট্যাংক মাইন, পাকিস্থানি ঘাঁটি থেকে প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর উচ্চতর অফিসারের পদক, মর্টার শেল, ট্যাংক বিধ্বংসী রাইফেল, পাকিস্থানীদের পরিত্যাক্ত অস্ত্রশস্ত্র বেশ সুশৃংখলভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এই গ্যালারিতে।

জর্জ হ্যারিসনের কনসার্ট ফর বাংলাদেশের পোস্টার এবং কনসার্টে রবি শংকর, বব ডিল্যান, রিঙ্গো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রিস্টনের গাওয়া গানের রেকর্ড, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সহায়তায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানবতাবাদী বিভিন্ন শিল্পী যেমন : লি ব্রেনন, পেটি থমাস, জন ব্রাউন, জিমি সেফটন, রুমা গুহঠাকুরতা, গ্ল্যান্জ জ্যাকসন, নরমা উইনস্টনের গাওয়া গানের অডিও ক্যাসেট সংরক্ষিত আছে এখানে। আরও আছে আছে তৎকালীন বিশ্বখ্যাত পত্রিকা নিউজ উইক এর বাংলাদেশ নিয়ে করা প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি। এছাড়াও রয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার অনুষ্ঠানের পান্ডুলিপি, শিল্পীদের নাম, স্বাধীন বাংলা বেতার কাজে ব্যাবহৃত ট্রান্সমিটারটি , নৌকমান্ডো, বিমান বাহিনী, নারী সমাজ, বৈদেশিক সমর্থন বিশেষ করে ভারতীয় জনসাধারণের সমর্থনের প্রতিবিম্ব যা এক কথায় বাংলাদেশের গণজাগরণের প্রতিচ্ছবি।
ষষ্ঠ গ্যালারি
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের সর্বশেষ এই কক্ষটিতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আপামর জনসাধারণ ও বুদ্ধিজীবি, ভারতীয় বাহিনীর ব্যাপক অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের নিদর্শন। ষষ্ঠ গ্যালারিতে রক্ষিত মিরপুর মুসলিমবাজার ও জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে উদ্ধার করা কঙ্কাল, শহীদদের ব্যাবহৃত বস্তুসামগ্রী, পত্র, ডায়রী , নোটবুক, পরাজিত পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্রসম্ভারের নমুনা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির রাষ্ট্রীয় দলিল, বিশ্বখ্যাত ন্যাশনাল জিওগ্রাফি পত্রিকার আলোকচিত্রী জিল ডুরাসের ক্যামেরায় ধর্ষিতা বাংলাদেশের প্রতীক এক রমণীর ছবি, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি ও তাদের যুদ্ধের বিবরণী ও রায়েরবাজার বধ্যভুমিতে পড়ে থাকা বুদ্ধিজীবিদের লাশের আলোকচিত্র। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সর্বশেষ এই কক্ষে এসে দর্শক একাত্তরের পরম ত্যাগ ও বেদনার দংশন অনুভব করবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে হারানো দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের চিত্র এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও রয়েছে যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্বে আমাদের সাথে ভারতীয় বাহিনীর ব্যাপক অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের পরিচয়। সবশেষে রয়েছে আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনীসহ পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র এবং তাদের কাপুরুষোচিত জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞের নিদর্শন। ১৯৯৯ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে মিরপুর ১২নং সেকশনের ডি ব্লকে নূরী মসজিদ সংলগ্ন মুসলিম বাজার বধ্যভূমির একটি পরিত্যক্ত কুয়া থেকে মাথার খুলিসহ পাঁচ শতাধিক হাড় উদ্ধার করা হয়। একই বছর মিরপুর ১০নং সেকশনের ডি ব্লকের ১নং এভিনিউতে জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে ৭০টি মাথার খুলি এবং ৫৩৯২টি ছোট-বড় হাড় পাওয়া যায়। এসব হাড় এ গ্যালারিতে রাখা আছে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বেশিরভাগ স্মৃতিচিহ্ন দিয়েছেন শহীদদের স্ত্রী কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ। শহীদ ড. আলীম চৌধুরীর ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে দান করেছেন তার স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। রোকাইয়া হাসিনা তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শহীদ রাশিদুল হাসানের ব্যবহৃত কলম সীল, স্যুট ও আলোকচিত্র জাদুঘরে জমা দেন। শহীদ ডাক্তার আতিকুর রহমানের মেয়ে মিমি রহমান তার বাবার ব্যবহৃত একটি কোর্ট ও একটি টুপি জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। এভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সংগৃহীত উপকরণ নিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে বর্তমানে প্রদর্শিত হচ্ছে তৎকালীন এশিয়া টুডে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, আনন্দবাজার, নিউজউইক, সংগ্রামী বাংলা, রণাঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও স্বাধীন বাংলাসহ বিভিন্ন দুর্লভ পত্রপত্রিকা ও পোষ্টারের সংগ্রহ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ডাঃ সুলতান সালাহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক উদ্ভাবিত হ্যান্ডবিল ছাপানোর মেশিন, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ও পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীরযুদ্ধ নকশা; এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পূর্ণাঙ্গ বিবরণী সংরক্ষিত আছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে।
বর্তমানে জাদুঘরে সংগৃহীত স্মারক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪১৭টি। এর মধ্যে ৮০০টি আলোকচিত্র, ৫০৬টি দলিলপত্র, ৫০০টি পত্রিকা কাটিং, ৬৬৫টি অন্যান্য স্মারক। এগুলোর মধ্যে ৩১০ আলোকচিত্র, ৮৪টি দলিলপত্র, ২২৭ পত্রিকার কাটিং এবং ৪৭০টি বিভিন্ন স্মারক গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে। বাকিগুলো সংরক্ষণাগারে সযত্নে রক্ষিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই জাদুঘরটি সম্মানজনক আন্তর্জাতিক জাদুঘর সংস্থা আমেরিকান এসোসিয়েশন অব মিউজিয়ামের সদস্য পদ লাভ করেছে।
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নিজস্ব জায়গা না থাকায় অনেক দুর্লভ জিনিসপত্র প্রদর্শন করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালে আগারগাঁওয়ে ২.৫ বিঘা জমি আট সদস্যের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নিজস্ব ভবন তৈরির কাজ বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে। ভবন নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। আগামী তিন বছরের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে সেগুনবাগিচা থেকে জাদুঘর স্থানান্তর হয়ে যাবে আগারগাঁওয়ে। জাদুঘর সূত্রে জানা যায়, জাদুঘর নির্মাণ তহবিল গঠন প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়া হবে না।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণে সহায়তার জন্য ইতিমধ্যে সর্বসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাত রয়েছে। ৫০ লাখ টাকায় পৃষ্ঠপোষক সদস্য, ১৫ লাখ টাকায় স্থাপনা সদস্য, ৩ লাখ টাকায় উদ্যোক্তা সদস্য, ১ লাখ টাকায় আজীবন সদস্য এবং ১০ হাজার টাকায় জাদুঘরের একটি প্রতীকী ইট ক্রয় করার সুবিধা থাকছে। জাদুঘর ভবন নির্মাণের অর্থ সহায়তা গ্রহণের জন্য ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ’ নামে জনতা ও ব্র্যাক ব্যাংকের সব শাখায় এসটিডি (এসটিডি হিসাব নং : ১৫০১১০১৬৫৮৬৩৭০০১, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড গুলশান-১ শাখা, ঢাকা ও এসটিডি হিসাব নং : ৩৬০০০৪০৮, জনতা ব্যাংক, তোপখানা রোড শাখা, ঢাকা) হিসাব খোলা হয়েছে।
এর বাইরেও যে কেউ সেগুনবাগিচার জাদুঘর কার্যালয়ে এসে সরাসরি অনুদানের টাকা জমা দিতে পারবেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে জানতে হলে , হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করতে হলে আপনাকে আসতেই হবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগ্রহশালার এই পীঠস্থানে। বিজয়ের এই মাসে ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে হলের আমাদেও এই বীরত্বগাঁথা দেখে আসুন। জানুন বাঙালির আত্মত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত মহান মুক্তির ইতিহাস।
ঠিকানা : মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, ৫ সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০, ফোন ঃ ৯৫৫৯০৯১, ফ্যাক্স : ৯৫৫৯০৯২
ই মেইল : mukti@citechco.net
ওয়েবপেইজ : liberationmuseum.org
( প্রতিদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা, রোববার বন্ধ )

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement