নিঝুম দুপুরে ভাত ঘুমের অতল ঘোরে
পুতুল,খেলনাপাতি কেড়ে নেবার ভয় ছিল!
অস্থির কত রাত কাটিয়েছি ভেবে ভেবে
যদি শূন্য থেকে যায় ফুলের ঝাঁপি! তবুও-
কুকুরের ডাক আর ঘোলাটেবলয় ডিঙিয়ে দেখিনি
ঘুম ভাঙানি কুয়াশা ঢাকা মেঘলা ভোর!

কৈশোর বেলা অমাবস্যার গভীর রাতে
ভয়ঙ্কর ছায়াপথে লোমহর্ষক চাদর জড়িয়ে-
জানালার ধারে ঢিপ ঢিপ বুকের স্পন্দনে
বন্ধুদের সাথে যাইনি ভ্রমণে-রাক্ষুসী নদীর পাঁড়টা ঘেঁষে
কালী বাড়ীর শ্মশান ঘাঁটে! রোমাঞ্চ জয়ে সঙ্গীরা যখন
বুনো শেয়ালের কলরবে,ঝি ঝি,ব্যাঙের কর্কশ স্বরে-
অন্ধকারের গান শুনে নেয় খোলা মাঠের কবর স্থানে !

দানব যখন মায়ের বুকে রক্ত হোলির দাপট দেখায়
বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়ে উল্লাস করে কাপুরুষতায়
মেঘ গর্জনে ভীতু আমি অস্ত্র হাতে তাদের তাড়াই!
মাকে নিয়ে গর্ব করে রোদ বৃষ্টি জলে ভিজি
শৈশব কৈশোর ঝিনুক ভরে ডুব সাঁতারে কানামাছি
চক্রান্তকারী,মুখোশধারী সঙ্গী নিত্য ভয় আগ্রাসী!

ঝরাপাতা দিন ফুরিয়ে শিকড় মাঝে পচন ধরে
হিসেব কষে অপরাজিত জড়িয়ে যাই গোধূলি জালে
দেখি আমি যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে ঠায় দাঁড়িয়ে আঁধার ঘরে!
গুমরে কাঁদি ভেবে ভেবে ভয়ার্ত এক আর্তনাদে
রক্ত ধুয়ে সর্বনাশে আনাড়ি সুখ নষ্টালাপে।
ঘুণ পোকারা সাথেই ছিল লুকোচুরির ধ্বংসালয়ে
সহন জ্বরে চুপসে মরি লুপ্ত হবার বীভৎস ভয়ে।