সেদিন ছিল আটই ফাল্গুন, একুশে ফেব্রুয়ারী -
রোদ ঝলমল কৃষ্ণচূড়া লাল ,শিমুল-তমাল,কাঁঠালীচাঁপা অম্লান
বৌকথা কউ অভিমানী সুর কোকিলের কুহুকুহু তান ,
বকুল -শেফালি বিছানো মেঠোপথ প্রণয় সরেস বসন্ত বাহার ।
নতুন খেজুরের গুড়ে কাউনের ক্ষীর সুবাস ছড়ায় গ্রামময় ,
দাওয়ায় বসে অনুপমা মা গোধূলির কণে দেখা আলোয় নকশী আঁকে –
“পাল্কী চড়ে লাজুক নয়না প্রিয় আদরিনী "পানু"! কাহারবা তালে নাচে
সারথীর দল ;সূর্যের আলোকিত আভায় দিগ্বিজয়ী খোকা তাঁর।”
সুখাশার গুঞ্জনে মা গীত ধরে আনমনে-
"হলুদ বাটো মেহেদী বাটো- বাটো ফুলের মৌ "!

হঠাৎ ধূসর মেঘের ছোয়ায় নীল বিষণ্ণতার মলাট দুরন্ত ভাবনায় ,
অশুভ চিৎকারে ডেকে ওঠে ডাহুকের ক্ষণ
দুরুদুরু কাঁপে হিম হিন্দোল মন !
"বালাই সাঁট !আদরের ধন আসবে ফিরে একটু পরেই,
বাক্সবন্দী করে শাড়ী-গহনা আর বিয়ের সারোয়ানি নিয়ে !"

অশ্রু ঝরে মায়ের চোখে কাঁপে বুক বজ্রাঘাতে
ঠিক তখনই রক্ত অন্তরীপ অলিগলি রাজপথে !

মায়ের মুখের ভাষা কেন দেবে খোকা ছেড়ে ?
রক্ত থাকতে গায়ে অ -আ ,ক -খ কে নেবে বল কেড়ে ?
বর্ণমালা মায়ের সুরেলা কুঁড়ি স্বর্গ সোপান পাওয়া
তোঁর বুলি ছাড়া জননী গো আত্মবিস্মৃত হওয়া !
সাথে আছে তোঁর দোয়া কে বল আমায় থামায় ?
দানবের দল বুঝেছিল বুঝি পারবে না দমাতে আমায় !

বুলেটের ঝঞ্ঝা সেদিন লিখে চলে কাপুরুষতার রুদ্র ইতিহাস-
মাথার ঘুলি থেকে মগজ পাখা মেলে ভাসায় আগুনের ফুল্কি বাতাস ,
জ্বলে উঠে সারা বাংলা স্বকীয় অগ্নিদাহে , মায়েরই ভাষার মাহাত্বে !

প্রথম শহীদ তোঁর ছেলে মাগো ঘুমিয়ে আছে আজিমপু্রে
তুই ফুল দিয়ে যাস নোনা জলে প্রতিটা আরাধনার সিক্ত প্রভাতে
ধন্য আমার জনম মাগো তোঁকে অহন্কৃত করে ।
মাগো , তুঁই দেখ চেয়ে বিজয়ের সানাই বাজে সুরে সুরে -
শুকায়নি অন্ধকারে আগুন ঝরা রক্তের মহাসাগরী
আজ আর তোঁর একার নয় একুশে ফেব্রুয়ারী
সগর্বে , সৃষ্টি মহীয়ান প্রজ্বলিত বিশ্ব দরবারে !